পৃথিবীর শরীর কেমন?

বিস্তারিত লিখার ইচ্ছে আছে, সময় বিশ্বাসঘাতকতা না করলে শীঘ্রই লিখব।

পৃথিবীর উপরিতল একাধিক শক্ত স্তরে বিভক্ত। কোটি কোটি বছর ধরে এগুলি পৃথিবীর উপরিতলে এসে জমা হয়েছে। টেকটনিক প্লেট মূলত পাথর, মাটি, বালি ও জীবাশ্ম দিয়ে তৈরি। টেকটনিক প্লেট ১৫ কিলো মিটার থেকে ২০০ কিলোমিটার পুরু হতে পারে।

পৃথিবীর অভ্যন্তরে থাকা গলিত ম্যাগমা বা লাভার ওপর এগুলো অনেকটা “কোটেড ক্যান্ডির” মত উপরিভাগ শক্ত কোট বা খোলসে আবৃত, ভেতরে জেলি।

একটি কাগজের বিশ্ব-মানচিত্র নিন। ব্লেড বা নাইফ বা কাঁচি দিয়ে পুরো পৃথিবীর বিভিন্ন স্থলভাগগুলা (পড়ুন কন্টিনেন্টস) স্টিকারের মত করে কাটুন। সাত আটটা মেইন পার্ট (কম বেশী আরো ছোট ছোট প্লেট রয়েছ), সবগুলা কাটা শেষ হলে এখন মজা; বাচ্চাদের পাজল খেলার মত দেখবেন একটা কন্টিনেন্ট আরেকটার সাথে ফিট হয়ে যাচ্ছে যাদুর মত। অর্থাৎ, এখন যদি বাংলাদেশের সাথে থাকা ইন্ডিয়ার এবং পাকিস্তানের সীমানা রেখা বরাবর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, হাজার বছর পর তিনটা দেশকে একসাথে আনলে, একটা আরেকটার সাথে ফিট বা ম্যাচ হয়ে যাবে।

আলফ্রেড ওয়েইগনার ১৯১২ সালে বিষয়টি লক্ষ্য করলেও ১৯৬০ সালে এই বিষয়টি সবার ভাবনায় আসে। #কন্টিনেন্টাল_ড্রিফট।
তিনি প্রমাণ হিসেবে দেখান যে, সাউথ আমেরিকা এবং সাউথ আফ্রিকার প্রাণী, ফসিল, মাটি, গাছপালা, পাথর ও পরবতের শ্রেণী ও ধরণ এবং সবচে বড় চমক আকৃতিগত পারস্পরিক সামঞ্জস্যতা প্রমাণ করে এই দুটি ভূখণ্ড কোনদিন একসাথে ছিল।

এরপর ১৯৬০ সালে কেম্ব্রিজ এর ড্রামন্ড মেথিউস এবং ফ্রেড ভাইন ম্যাগ্নেটোমিটারব্যাবহার করে বিভিন্ন কন্টিনেন্ট থেকে সংগৃহীত ম্যাগ্নেটিজ এবং এনোম্যালিস পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা আরও দেখেন যে, শুধু স্থলভাগেই না, সমুদ্রের নিচেও ঘটেসে এই ড্রিফট বা মুভমেন্ট।

টেকটোনিক প্লেট মানে, স্তরে স্তরে পরত পরত অনেক প্লেট। আমাদের ভূপৃষ্ঠও একটা প্লেট। তাই ভূপৃষ্ঠের নিচে আলাদা গুরুত্ব দেয়ার দরকার প্রাথমিকভাবে নেই।

তবে হ্যাঁ। এই ছবিতে যেমনে এক পিস পৃথিবী কাইটা নিসে বর্ননার জন্য, বাস্তবে কেটে ছবি তুলা কি ঠিক হবে?

২ thoughts on “পৃথিবীর শরীর কেমন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *