সমকামিতা ও ইসলামিক বিগগ্যান।

সমকামিতা ইংরেজিতে Homosexuality যার দারা সমলিঙ্গে প্রতি যৌন আকর্ষন বুঝায়।সমলিঙ্গের প্রতি স্নেহ বা প্রনয় ঘটিত কারনে গড়ে উঠা যৌন সম্পর্ককে সমকামিতা বোঝায়।সমকামিতার ইংরেজী প্রতিশব্দ হোমসেক্সুয়ালিটি গ্রিক হোম এবিং সেক্সাস ল্যাটিন শব্দ হতে এসেছে।হোম অর্থ সহধর্মী বা একই ধরনের আর সেক্সাস অর্থ যৌন।

সমকামিতা উভকামিতা এবং বিপরীতকামিতার মত একটি স্বাভাবিক যৌনতা।ব্যক্তির মনে সমকামিতা কি ভাবে আসে তা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানি মনে করেন হরমনগত,জীন গত।কিছু কিছু বিজ্ঞানির মতদ এটা পরিবেশগতও।তবে নারী পুরুষের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ভাবে সমকামী হওয়ার সম্ভবনা শুন্য।মুলত জীনগত এবং হরমনের প্রভাবেই সমকামী হয়।বিজ্ঞানিরা চেষ্টা করেছেন সমকামিতার কারন খোজার।জীনগত,হরমনগত বিশেষ করে ভ্রুনের পরিবর্তনের ফলে মস্তিষ্কের যে গঠনগত পরিবর্তনের কারনে ডান হাতি বা বাহাতি হয় ঠিক সে রকম পরিবর্তনেই সমকামী হয়।মানুষের মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস নামের একটি অংগ রয়েছে।যা মানুষের যৌন প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রন করে। সিমন লিভের শরীরবৃত্তীয় গবেষণা থেকে জানা গেছে এই হাইপোথ্যালমাসের interstitial nucleus of the anterior hypothalamus, বা সংক্ষেপে INAH3 অংশটি সমাকামিদের ক্ষেত্রে আকারে অনেক ভিন্ন হয়। আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ডিন হ্যামারের সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে। ডিন হ্যামার তার গবেষণায় আমাদের ক্রোমোজমের যে অংশটি (Xq28) সমকামিতা ত্বরান্বিত করে তা শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন। এছারাও আরো বিভিন্ন গবেষণায় মনস্তাত্বিক নানা অবস্থার সাথে পিটুইটরি, থাইরয়েড, প্যারা-থাইরয়েড, থাইমাস, এড্রিনাল সহ বিভিন্ন গ্রন্থির সম্পর্ক আবিস্কৃত হয়।

২০০৮ সালে এক গবেষনা পত্রে প্রকাশ হয় যে সমকামীতার জন্য দায়ী জীন সনাক্ত করা হয়েছে।আর এই সমকামী জীন বিবর্তনের ধারায় বিপরীতকামিদের প্রজননে কোন ভাবে সহায়তা করে।শুধু যে সমকামী মানুষের ভিতর তা নয় জীবজগতেও সমকামী প্রচুর।

জীববিজ্ঞানি ব্রুস ব্যাগমিল তার ‘বায়োলজিক্যাল এক্সুবারেন্স: এনিম্যাল হোমসেক্সুয়ালিটি এন্ড ন্যাচারাল ডাইভার্সিটি’ বইতে প্রায় পাঁচশ প্রজাতির প্রাণীর নাম উল্লেখ করেছেন যাদের ভিতর সমকামিতা আছে।সামগ্রিকভাবে প্রাণীজগতে ১৫০০ মত প্রজাতি পাওয়া যায় যাদের ভিতর সমকামিতা বিদ্যমান।বিজ্ঞানিরা মনে করে সমকামিতা একটি স্বাভাবিক যৌনাচারন।যা প্রাণীজগতে স্তন্যপায়ী কিটপতঙ্গ এমনকি পাখিদের মাঝেও দেখা যায়।
_________________________________
এবার আলোচনা করি মহা বিজ্ঞানময় গ্রন্থ কোরান নিয়ে আর এর দারা পরিচালিত ধর্ম ইসলাম নিয়ে।ইসলাম ধর্মে সমকামী খারাপ প্রবনতা,বিকৃতমস্তিষ্কের কাজ।কোরানে স্পষ্ট বলা আছে এ সম্পর্কে-
“এবং আমি লূতকে প্রেরণ করেছি। যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ, যা তোমাদের পূর্বে সারা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।” (আরাফঃ ৮১-৮২)
কোরানে সমকামী সীমা অতিক্রম করেছে আর সবে বড় কথা আল্লা সমকামী বলতে বোধ হয় শুধু পুরুষদের বুঝেছে।এই সীমা অতিক্রমকারিদের শাস্তির বিধান করে গেছেন নবী মোহাম্মাদ।
“কাউকে সকমাম করতে দেখলে উভয় সমকামীদের হত্যা করবে।”(আবু দাউদ ৪৪৬২,তিরমিযী ১৪৫৬)
এছাড়া ইবনু মাজাহ ২৬১০,রায়হাক্কী/শু’আবুল ইমান ৫৩৮৯ হাদিসে সমকামীদের হত্যা করার কথা বলা আছে।আগুনে পুরিয়ে হত্যা করতে হবে।
বিজ্ঞানময় ধর্মের প্রবক্তা আল্লা/নবী কি এই যৌন বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল? একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কে অস্বাভাবিক প্রচার করে হত্যা করার বৈধতা দিয়ে কোরানকে বিজ্ঞানময় করার অপচেষ্টা।যদি কোরান কোন আলৌকিক সত্যার লেখা হত তাহলে কি যৌনতার এই স্বাভাবিক প্রকৃয়ার কথা জানত না।এ থেকেই কুরানিক বিগগ্যান আর কোরান নবীর লেখা তা ভালভাবেই প্রমান হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *