আতর আলীর ভাবনা

ফার্মেসীর দোকানে গিয়ে এলার্জির ট্যাবলেট কিনে আতর আলী। ইলিশ চিংড়ি এবং গোমাংস একসঙ্গে ভক্ষন যোগ হয়েছে। বান্ধবীর বাসায় দাওয়াত ছিলো। বান্ধবী বড় আহ্লাদি মুখ করে দু’টুকরো ইলিশ একগাদা মাঝারি সাইজের চিংড়ি এবং আধ কেজি পরিমান গোমাংস খাইয়ে ছেড়েছে। আতর আলী চিৎকার করেছে, ওরে মেরে ফেলবি নাকি? ঘরে আমার বৌ নাই, যোগ হয় নাই। জানোস না?

বান্ধবী স্বর্ণা হাসতে হাসতে বলেছে, ঠেলার নাম ঠাকুরবাপ। যৌবন ফাল পারলেই বৌ নিজ গরজে প্রাপ্তি যোগ হবে।

আতর আলী কথা বাড়ায়নি। ঠোঁটকাটা স্বর্ণার সাথে কথায় জেতা তার পক্ষে সম্ভব না।

ট্যাবলেটের দাম মিটাতে গিয়ে নজর কাড়লো লেস-সমৃদ্ধ বক্ষবন্ধনীতে আবৃত পিনন্নোত স্তনের এক লাস্যময়ীর ছবি। বাতাসে উড়ছে সুন্দরীর চুল। কানে লম্বা দুল, রক্তিম ঠোঁট-কি যে আহ্বান সেখানে। ছবির পাশে গাঢ় লাল কালিতে ইংরেজিতে লেখা,

‘ROSE
Luxury
condom’.

একলা পুরুষ বেকুবের মত দাম জিগ্যেস করে বসলো অবলীলায়। তরুণ সেলসম্যান সহজ চটপটে জবাবে বল্লো, বিশ টাকা।

বিশের মধ্যে হয়তো বিষ লুকিয়ে থাকে। সেই বিষ নির্বিষ করতে আতর আলী খামাখাই কিনে ফেল্লো এক প্যাকেট। ছোট সেই বিষের প্যাকেট পকেটস্থ করে দোকান ছেড়ে বাইরে আসতে ভিতরকার আতর আলী সুধালো, আতর, কাহিনী কি রে বেডা?

আতর আলী লজ্জা পায়। খুকখুক করে কাশে।

-ও বেডা, বিয়া-শাদি ছাড়া কন্ডোম লইয়া তুই কিতা করবি?

আতর আলী এবার হাসে, মিটমিট করে। রাস্তার পাশে সেলুন। দাঁড়িয়ে সেলুনের প্রশস্ত আয়নায় ভান করে মুখ টিপে হেসে দেখে তাকে কেমন দেখায়। ‘ও আতর, কথা কস না কেরে? কন্ডোম লইয়া তুই কিতা করবি?’ ভিতরের আতর আলীর প্রশ্নের জবাব এই আতর আলী দেয় না। আবারো মুখ টিপে হেসে দেখে নিজেকে। এলোমেলো চুল ঠিক করে। লম্বা লম্বা পা ফেলে চলে আসে বাসস্টান্ডে।

বেশীক্ষণ দাঁড়াতে হয় না আতর আলীর। বিআরটিসির এসি বাস ফাও ট্রিপে নেমেছে। প্রতি সন্ধ্যায় গ্যাস নিতে যায় কাঁচপুর। কমিশন খাওয়া সিএনজি স্টেশনে যেতে বের হয় লাল রঙা বাহারি বাসগুলো। কিঞ্চিৎ শক্ত আবার অনেকটা নরম এমন সিটে বসে আতর আলী ভাবে, আমি শালা কন্ডোম ক্যান কিনলাম? বিবাহ যোগ ছাড়া এই কন্ডোম লইয়া আমি কি করিবো? এই প্যাকেটে কয়টা কন্ডোম আছে? নিঃসঙ্গ শালিকের মত একটা না জোড়া কবুতের মত দুইটা? ভাবতে ভাবতে আতর আলী জ্যাকেটের পকেটে হাত ঢুকায়। ঘষে ঘষে নাড়াচাড়া করে। চট করে বের করে দেখে দোকানী ছোকড়া ছোট্ট সাদা প্যাকেট দিয়ে মুড়িয়ে স্ট্রাবলিং করে দিয়েছে।
প্যাকেট খোলতেই পিছনের ভদ্রলোক লদলদে হাসি দিয়ে বলে, ভাইজান, নয়া বিবাহ, তর সইছেনা?

আতর আলী লজ্জা পায়। বড় লাজুক মুখে মুখ টিপে হাসে।
পিছনের ভদ্রলোক আফসোসের সুরে বলে, এক বছর ভাইজান। তারপর খাইবেন আর ঘুমাইবেন। না ঘটির হবেন না ঘাটের। খাট পুরানা হৈবো, আর বৌ হইবো সমু কুস্তিগীর!

জায়গার জিনিস জায়গায় সেঁধিয়ে আতর আলী বাসের জানালা দিয়ে বাহিরে তাকায়। সন্ধ্যার আধার দেখে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। গুনগুন করে গায় সাঁইজির গান, সময় গেলে সাধন হবে না!

বাসায় ফিরে আতর আলী প্যাকেট ছিড়ে দেখে তিনটে কন্ডোম ক্লোন শিশুর মত চেয়ে আছে ড্যাবড্যাব করে। মনে মনে বলে, প্রতিরাতে যদি এমন এক প্যাকেট কায়দা মত নিখুঁত ইনসুইং আকারে শেষ করতে পারি তবে আমি শালা কার্যক্ষম পুরুষ।

ভাবনা দূর হয়।

আতর আলী বিছানায় শোয়ে একা একা হাসে পাগলের হাসি!

১ thought on “আতর আলীর ভাবনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *