বিশাল নির্মাণযজ্ঞে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের সেতু পদ্মার কাজ

স্বপ্নের সেতু পদ্মার কাজ প্রবল গতিতে এগিয়ে চলছে। বিশাল এই নির্মাণযজ্ঞে চিত্র পাল্টাচ্ছে নিত্য। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এই সেতুর ৩টি স্প্যান তৈরি হয়ে গেছে। স্প্যানগুলো তৈরি হচ্ছে চীনে। আগামী নভেম্বর নাগাদ স্প্যান তিনটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছবে। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে এই তিন স্প্যান বসবে জাজিরা প্রান্তের ৩৯, ৩৮ ও ৩৭ নাম্বার পিলারে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী গড়ে প্রায় ৩৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশ। প্রতিটি স্প্যানের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। স্প্যান বড় হওয়ার কারণে রিইনফোর্সড কংক্রিট দিয়ে তৈরি না করে ওজন কমাতে এই সেতুটির মূল অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে স্টিল দিয়ে। তীব্র বায়ুপ্রবাহ ও ভূমিকম্পজনিত ধাক্কা মোকাবেলায় বেছে নেয়া হয়েছে ওয়ারেন ট্রাস ফর্ম। মাওয়া প্রান্তের মতো জাজিরা প্রান্তেও এখন চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। পদ্মাজুড়ে কর্মযজ্ঞ ছাড়াও তীরের কাজও চলছে সমান তালে। দু’পারের এ্যাপ্রোচ এবং সার্ভিস এরিয়া-২ এর অগ্রগতি প্রায় ৭০ শতাংশ। ৩৭ নাম্বার পিলারের মঞ্চ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। ২-৪ দিনের মধ্যেই পাইল স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এদিকে জাজিরা প্রান্তে ৩৯ নাম্বার পিলারে ৩টি পাইল ৭০ মিটার গভীরে স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে ৬ ও ৭ নাম্বার পিলারেও অনুরূপ ৩টি করে ৬টি পাইল নদীর তলদেশের ৭০ মিটার গভীর পর্যন্ত স্থাপন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে ৯টি পাইল স্থাপন হয়েছে। এর ওপর প্রতিটিতে আরও প্রায় ৫০ মিটার করে স্থাপন করা হবে। তখনই প্রতিটি পিলারের বাকি ৩টি করে পাইল ড্রাইভ করা যাবে। সেতুর ৪২টি পিলারের জন্য মোট দু’টি ট্রায়াল পাইল এবং ১০টি টেস্টিং পাইল স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। দু’টি ট্রায়াল পাইল এবং ৬টি টেস্টিং পাইল স্থাপন হয়েছে। বাকি ৪টি টেস্টিং পাইল পর্যায়ক্রমে স্থান করা হবে। পদ্মা সেতু শুধু সড়ক সেতু নয়। একই সঙ্গে এই সেতুর ওপর দিয়ে যাবে ট্রেন। এছাড়াও যাবে গ্যাস পাইপ লাইন এবং বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন। দুই তলা ব্রিজের ওপর দিয়ে যাবে গাড়ি আর সেতুর নিচের লেভেলে থাকবে ট্রেন লাইন। শুধু দক্ষিন অঞ্চল নয় এই সেতু বদলে দেবে বাংলাদেশের ভাগ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *