এনামুল

এনামুলের বয়স ১৯-২০ বছর হবে। লম্বা , উজ্জল
ফর্সা , মুখে গোঁফহীন হালকা দাড়ি। মাথায় টুপি
,গায়ে পাঞ্জাবী পরে, তার নুরানী চেহারা দেখে
সবাই অবাক হয়ে দেখে, তার মা বাবা ও বেশ
গর্ববোধ করে। নামাজ ,কোরান পাঠে আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। মসজিদে ইমামের ভাষন শুনে কখনো ভক্তিতে কাঁদে, কখনো গায়ের রক্ত গরম হয়ে উঠে।
কয়েকজন বন্ধুও জুটে গেছে,যারা সারাদিন আল্লাহ
রসুলের গল্পে বিভোর। মুস্কিল হয়েছে তার মাকে
নিয়ে, পাশের বাড়ী আশীষ মন্ডলের বৌয়ের কাছে
যাবেই। এনামুল এটা চায় না, বলে, ওই কাফের
দোজখীদের কাছে যাই ও না আন্মা। ওর মা ওর কথা
গ্রাহ্যই করেন না। বলেন, দ্যাখ এনামুল, নিজের
নামাজ কালান নিয়া থাক। কে দোজখী কে জান্নাতী
এডা তকে ভাবতে হবে না। আজ নামাজে ইমাম
সাহেব বেশ জোরে জোরে বলেছেন, কাফেরদের পূজা
টুজা বন্ধ করতে হবে, তাদের বোঝাতে, না বুঝলে যা
করতে হয় করতে হবে, মোটকথা এসব নাপাকী কাম এ দেশে চলবে না। এনামুল সঙ্গীসহ বাড়ী ফেরার পথে
দেখল আশীষ মন্ডলের বাড়ীতে শঙৃখ ঘন্টা বাজিয়ে
পূজো হচ্ছে। ওরা চার বন্ধু সোজা ওদের উঠোনে এসে
দাঁড়াল। একজন চিত্কার করে বলল,এই শালারা এসব পূজা টুজা বন্ধ কর।
আশীষ মন্ডল বাইরে এসে বলল,
কেন বন্ধ করবো? তোমাদের ধর্ম তুমি পালন করো
,আমার ধর্ম আমি। একথা ও কথা বলতে বলতে এনামুলের এক বন্ধু আশীষ মন্ডলের গায়ে জোরে ঘুষি মারে, তার চোখের পাশটা ফুলে লাল হয়ে গেল, টাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেল। এমন সময় আশীষ মন্ডলের ছেলে এসে বাপকে বাঁচাতে এল । এনামুলের গায়ের রক্ত হঠাত্ গরম হয়ে গেল। সে একটা কাঠ নিয়ে ছেলেটার মাথায় মারতে গেল। কিন্ত্ত আশীষ মন্ডলের মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো, এনামুলের কাঠ সোজা তার কপালে আঘাত করলো। হায় ভগবান বলে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলেন। এনামুলরা তাড়াতাড়ি ওখান থেকে কেটে পড়লো। রাত করে বাড়ী ফিরে সে নিজের ঘরে অন্ধকারে বসে থাকলো। রাগের মাথায় আম্মুর বান্ধবীর মাথা ফাটিয়ে দিয়ে তার আফশোষ হচ্ছে। আম্মু ধীর পায়ে ঘরে ঢুকলেন, চিত্কার করে বললেন, তুই খুন করলি? এইসব শিখেছিস কোরান পড়ে? নামাজ পড়ে? আমার বুকে দুধ ছিল না বলে,
যার বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছিস তাকেই তুই খুন
করলি? এনামুল মায়ের পা জড়িয়ে ধরলো, আমি বুঝতে পারি নি, আমাকে ক্ষমা কর আম্মু। এনামুলের মা বুক চাপরে বললেন, দুর হ আমার সামনে থেকে।এনামুল পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে গেল।
{চলবে}

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *