পর্ণ বন্ধ নয় বরং যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি

‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ মুন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম চলতি সপ্তাহেই দেশের সব পর্ণ সাইট বন্ধের ঘোষনা দেয়।তার ফেসবুক পেজে এম এ আমিন খান নামের এক ব্যক্তি কম্নেন্ট এ পর্ণ আসক্তির কারনে যুব সমাজ তথ্য প্রযুক্তির সুফল পাবে না বললে তার জবাবে তারানা হালিম পর্ণ বন্ধের কথা বলে এবং আমিন এ ঘোষনা শোনার পর তার জন্য ১০ রাকাত নামাজ পরার মানত করে।’
কমবেশি সবাই পর্ণ দেখে।কিন্তু তারানা হালিম এবং ঐ কম্মেন্ট কারী ব্যক্তি পর্ণের কি কুফল পেল তা বুঝেতে পারলাম না।পর্ণ আর সেক্স সম্পর্কে দেশে কিছু মিথ প্রচলিত আছে।পর্ণ দেখলে যুব সমাজের নৈতিকতারর অবক্ষয় হবে বা হস্তমৈথুন করলে স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাবে এ মন বহু মিথ আছে।তাহলে পর্ণ দেখলে কি সত্যই যুব সমাজের নৈতিকতার অবক্ষয় হবে?
এ সম্পর্কে কানাডার মল্ট্রি ইউনিভার্সিটির প্রফেসার দুই বছর গবেশনা করে বলেন-

‘সব পুরুষ মানুষই পর্ণ ছবি দেখে এবং বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্কের যা কোন ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না।’

পর্ণ দেখলে যে মানুষ অপরাধ প্রবন হয়ে ওঠে এক কথার সাথেও তিনি দ্বিমত পোষন করেন।এমন কি পর্ণ ছবি দেখলে যা সেটা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবে সে কথাও তিনি বাতিল করে দিয়ে বলেন-

”Men make a distinction between their real lives and sexual fantasies”.

পর্ণ দেখার সাথে অপরাধ প্রবনতার আশংকা করা ভুল।এবং এ ধরনের চিন্তা করে পর্ণ সাইট বন্ধ করাও ভুল।বরং এটা অপরাধ কমায়।যে সব দেশে পর্ণ দেখায় স্বাধীনতা আছে সে সব দেশে নারী নির্যাতন কম।ডেনমার্কে ১৯৬৯ সালে পর্ণের উপর থেকে সকল বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়।পরে ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত উপাত্ত ডাটা থেকে জানা যায় নারী নির্যাতন কমেছে।৩০ লক্ষ থেকে কমে ৫ লাক্ষে চলে আসে।পর্ণ দেখার ফলে অপরাধ না বেড়ে উল্টো কমে গেছে।
এবার আসি পর্ণ দেখার আসক্তি।হস্তমৈথুন,পর্ণ দেখা এটা স্বাভাবিক যৌনতারই অংশ।১৯৭২ সালে আমেরিকান মেডিক্যাল কমিউনিটি হস্তমৈথুনকে স্বাভাবিক যৌনাচারন হিসাবে ঘোষনা দেয়।
এ সম্পর্কে আলফ্রেড কিনসের বলেন

*পরিমিত মাত্রায় হস্তমৈথুন ভাল।
*২৫ বছর পর দৈনিক হস্তমৈথুন ক্ষতিরকারন নয়।
*আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
*হস্তমৈথুন সেক্সের কৌশল শেখায়।
*তৃপ্তিকর যৌন পদ্ধতি।
*মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুন খারাপ।

এমনকি হস্তমৈথুন হতাসা কাটায়।সুতরাং হস্তমৈথুন ধর্মিও মতে নিষিদ্ধ হলেও এটা স্বাস্থের জন্য খারাপ না।

আমাদের দেশে বয়সসন্ধি কালে ছেলে মেয়ে রা যৌন শিক্ষা সঠিক ভাবে পায় না।রসময়গুপ্ত চটি বই আর অনলাইনে চটি পেজ থেকেই এদের যৌন শিক্ষা।যে কারনে এরা এক ধরনের সেক্স ফ্যান্টাসিতে ভোগে।যদি তারানা হালিম বলে এটাই আসক্তি তাহলে পর্ণ বন্ধ কেন?বন্ধ করুন রসময়গুপ্ত,চটি বই।
পরিশেষে একটা কথাই বলা যায় পর্ণ সাইট বন্ধ না করে যৌনশিক্ষা পাঠ্যপুস্তকে বাধ্যতা মুলক করুন।

২ thoughts on “পর্ণ বন্ধ নয় বরং যৌন শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা জরুরি

  1. ‘সব পুরুষ মানুষই পর্ণ ছবি

    ‘সব পুরুষ মানুষই পর্ণ ছবি দেখে এবং বিপরীত লিঙ্গের সাথে সম্পর্কের যা কোন ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে না।’

    তাহলে তো বেশ ভালই হল। এক কাজ করুন আপনার নিজের বোন আর মাকে নিয়ে পর্ণগ্রাফী বানান। আপনার নিজের বোন আর মায়ের সাথে পুরুষদের সেক্সের দৃশ্য আপনি আর আপনার বন্ধু-বান্ধব মিলে উপভোগ করুন। তারপর উনুভূতিটা কেমন হল, সেটি আমাদেরকে পোস্টের আকারে যানান। মনে রাখবেন যেসব নারীদের নগ্ন শরীর দেখে যৌন সুখ লাভ করছেন তারা কার না কার মা অথবা বোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *