মুহাম্মদ কি মানব জাতির জন্য সেরা আদর্শ: হজরত মুহাম্মদের যৌন অনৈতিকতা

আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগের সুদূর মক্কায় জন্ম নেয়া একজন মানুষের প্রতি কোনো রাগ বা অভিমান থাকতে পারে না। কিন্তু যেহেতু আজও তার আদর্শ বাস্তবায়নের নামে আমাদেরকে হত্যার মিশনে নেমেছে তারই কিছু অন্ধ অনুসারী তখন এগুলো বিশ্লেষণ জরুরী হয়ে পড়েছে। কোরান ও হাদিস থেকে হুবহু তুলে দেব উপযুক্ত রেফারেন্স সহ। প্রথমেই আমরা হাদিসটি পড়ি-

আনাছ ইবনে মালিক ও কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত: তারা বলেন, নবি (সাঃ) দিনে বা রাতে পর্যায়ক্রমে (মধ্যবর্তি ফরজ গোসল ছাড়া) ১১ জন বিবির সঙ্গে সঙ্গম করতেন। (৯ জন বিবাহ সুত্রে ও ২ জন শরিয়তী স্বত্বাধিকার সুত্রের)

কাতাদা বলেন, আমি আনাছকে (রাঃ) জিজ্ঞাসা করলাম, হযরতের কি এতই শক্তি ছিল? তিনি বললেন,আমাদের মধ্যে এই কথা প্রসিদ্ধ ছিল যে, রাছুলাল্লাহর ৩০ জন পুরুষের শক্তি আল্লাহর তরফ থেকে প্রাপ্ত ছিলেন।

[দ্র: বোখারী, ১ম খণ্ড, আজিজুল হক, হাদিছ নং-১৯০, হামিদিয়া লাইব্রেরী]

বইটি কিনতে পাবেন বাজারে, শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক অনূদিত, হাদিস নং ১৯০ স্মরণ রাইখেন, পিডিএফ ফাইলের সাথে পৃষ্টা নম্বর মিলবে না। কিছু কিছু অনুবাদে হাদিস নম্বর ভিন্ন হবে, খুঁজে নিতে হবে।

এই হাদিসটি পাবেন বুখারি শরিফের বাংলা অনুবাদের এই অংশ থেকে- (পৃষ্টা ১৯৪, হাদিস নম্বর ১৯০)

লিংক, ক্লিক করেন

আর ইংরেজি অনূবাদে হাদিসটি পাবেন -Volume 1, Book 5, Number 268 তে।

লিংক

আর সম্পূর্ণ বুখারির অনুবাদ ডাউনলোড করতে হলে এই লিংকে ক্লিক করেন।

আরেকটি হাদিস দেই

عن أنس، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم طاف ذات يوم على نسائه في غسل واحد

One day the Messenger of Allah (ﷺ) went to have intercourse with (all) his wives with a single bath.(Ahmad Hasan’s translation of Sunan Abū Dāwūd, Hadith 218 >New Delhi: Kitab Bhavan, 1990)

হজরত মুহাম্মদ নাকি সর্ব-কালের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ, তিনি সিরাজাম মুনিরা বা জ্বলন্ত প্রদীপ (মুহাম্মদ কে সিরাজাম মুনিরা বলা হয়েছে আল-কোরানে, কী সুন্দর উপাধি উপর থেকে নামিয়ে নিয়েছেন!)। যিনি মানব জাতির জন্য আদর্শ হবেন তার ১১ বিবি থাকবে কেন? এ কোন ধরণের আদর্শ? মুহাম্মদের ৯ বা ১১ জন স্ত্রী থাকাই তাকে প্রতারক বলে প্রমাণ করে দেয়, আর কিছুর প্রয়োজন নেই, ভাল করে ভেবে দেখেন। আর সহিহ হাদিস মতে উনি তো ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করেছেন আর ৯ বছর বয়সেই আসল ইসলামি কারবার শুরু করে দিয়েছেন (বর্তমানে কোনো সভ্য সমাজেই এটা গ্রহণ করার প্রশ্নই উঠে না ও একে শিশু ধর্ষনের অপরাধ বলা হয়, আর উপরে বর্ণিত ১১ বিবির ঘটনা তো আছেই)। এটাও কি আধুনিক কালে মুমিন মুসলমানের জন্য অনুসরণযোগ্য?

দেখেন-

Muslim (8:3309)

Book 008, Number 3309:

‘A’isha (Allah be pleased with her) reported: Allah’s Messenger (may peace be upon him) married me when I was six years old, and I was admitted to his house at the age of nine.

আরো দেখেন

Volume 5, Book 58, Number 234:

Narrated Aisha:The Prophet engaged me when I was a girl of six (years). …Unexpectedly Allah’s Apostle came to me in the forenoon and my mother handed me over to him, and at that time I was a girl of nine years of age.

অর্থাৎ ছয় বছর বয়সে বিয়ে করে নয় বছর বয়সে পুরোদমে দাম্পত্য জীবন শুরু করে দেন।

অনেকে দাবি করেন মুহাম্মদের একসাথে চারটির বেশি স্ত্রী ছিল না। উপরের হাদিসগুলো দেখলেন, এবার এই হাদিসটি পড়েন-

লিংক

Volume 7, Book 62, Number 142:

Narrated Anas bin Malik:

The Prophet used to pass by (have sexual relation with) all his wives in one night, and at that time he had nine wives.

মুহাম্মদের স্ত্রী ও রক্ষিতাদের একটা তালিকা এখানে

Timeline of marriages (The vertical lines in the graph indicate, in chronological order, the start of prophethood, the Hijra, and the Battle of Badr)

এখন ইসলামকে বলা হয় complete code of life, পরিপূর্ণ জীবন বিধান। আচ্ছা, তাহলে এবার বলেন, ইসলাম অনুসারে মেয়েকে সর্বনিম্ন কত বৎসর বয়সে বিয়ে দেয়ার অনুমোদন আছে? আর, মেয়ের অনুমতি এক্ষেত্রে নেয়া হয় কিনা? আর মেয়ের বয়স যদি ৬ বছর হয় তবে অনুমতি নিবেন কিভাবে? আর এটা কিসের অনুমতি? এটা কোন ধরণের নারী অধিকার? নারী অধিকার কি এভাবেই ইসলামে স্বীকৃত?

আরেকটি প্রশ্ন, মুহাম্মদের আদর্শ যদি সর্বোত্তম আদর্শ তবে তিনি এতগুলো বিয়ে করলেন কেন? অনেকে নবীজিকে বাচানোর জন্য আজগুবী যুক্তি হাজির করেন- মেয়েগুলো নাকি অসহায় ছিল!! আচ্ছা বাবা, মেয়েগুলো অসহায় হলে তো মুহাম্মদ তার সাহাবীদের কাছে তাদের বিয়ে দিলে পারতেন ।যখন মুহাম্মদ হবেন সবার জন্য আদর্শ তখন তাকে তো এ কাজটা ইন্দ্রিয় ভোগ-বিলাসী বলে প্রমাণ করে দিল না? আমরা সবাই কি অন্তত মুহাম্মদের চেয়ে অধিক চরিত্রবান নই? আমাদের কারো ইচ্ছা হয় না এক ডজন বিয়ে করার, ছয় বছরের মেয়েকে দেখলে বরং পিতৃত্ববোধ জেগে উঠে।

যিনি সবার জন্য আদর্শ হবেন তার চরিত্র রক্ষার্থে মুমিনরা যখন বিশাল একখান ত্যানা প্যাঁচায় তখন নবীজি আমাদের কাছে পুরোপুরি একটা জীবন্ত-কৌতুক হয়ে উঠেন। সাফিয়া বিনতে হুয়াইকে নবী বিয়ে করেন যুদ্ধের ময়দানে যেখানে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল। যার স্বামী ও আত্মীয় স্বজনকে কিছু আগে হত্যা করা হয়েছিল সে কি বিয়ের অনুমতি দেবে? স্পষ্টত স্বাধীন অনুমতির তোয়াক্কা না করে, জোর-জবরদস্তি করেই মুহাম্মদ সাফিয়াকে বিয়েতে বাধ্য করেছেন (রেফারেনস সহ বিস্তারিত দেখুন এই লিংকে)। আরেকটি তথ্য, ইসলামে দাস ব্যবস্থা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য এবং দাসী ধর্ষণ বৈধ। এ ধর্ম আধুনিক কালে ঠিকে থাকবে কিভাবে?

আমরা জানি, মুহাম্মদের একটি পালক পূত্র ছিল যার নাম জায়েদ। তাকে ডাকা হত জায়েদ বিন মুহাম্মদ। তখনকার যুগে পালক পূত্রকে নিজ পূত্রের মর্যাদা দেয়া হত। সমস্যার বিষয় হল, জায়েদ বিয়ে করেছিলেন জয়নব নামক এক রুপসীকে। এই রুপসীকে দেখে হজরতের অনুভূতি তীব্র আকার ধারণ করল। তিনি বুদ্ধি করে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর ব্যবস্থা করেন। পরে মুহাম্মদ জয়নবকে বিয়ে করলে ছি ছি রব পড়িয়া যায়। নিজেকে রক্ষা করার জন্য এবার মুহাম্মদ আয়াত নাজিল করালেন-

“আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর জায়েদ যখন জয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পুষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে”। (সূরা আহযাব, ৩৩:৩৭)

এ আয়াত থেকে জানতে পারলাম, মুমিন-মুসলমানরা তদের পালক পুত্রের স্ত্রী বিয়ে করতে পারছে না তা আল্লার নিকট অনেক বড় সমস্যা!! আরেকটা বিষয় বুঝলাম না। কোরান ও হাদিস অনুসারে জয়নব নিজেই মুহাম্মদকে বিয়ে করার জন্য উতাল হয়ে উঠলে জায়েদ তাকে তালাক দিয়ে দেন। জয়নব যদি ঠিকই মুহাম্মদকে বিয়ে করার জন্য উতাল হয়ে উঠলেন তবে মুহাম্মদ কেন জয়নবকে স্বামীর প্রতি সৎ থাকার নির্দেশ দিলেন না বা দোজখের ভয় দেখালেন না বা এরকম অনাচার বন্ধ করার জন্য আয়াত নাজিল করালেন না বা জয়নবের অন্য কারো সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করলেন না বরং জয়নবকে বিয়ে করে নিজেকে বাচানোর জন্য মহান একটা আয়াত নাজিল করালেন?? ভণ্ডামির একটা সীমা থাকা কি দরকার ছিল না? বলাবাহুল্য, এই সময় মুহাম্মদের একাধিক স্ত্রী থাকলেও জায়েদের আর কোনো স্ত্রী ছিল না। ঘটনাটির রসাল বিবরণ পাবেন খোঁজলে।

মুহাম্মদের এ অপকর্মের ফলে মুসলমান সমাজে অসহায় শিশুদের দায়িত্ব্ব নেয়া বা লালন পালন করার মহৎ কর্মকে বিশেষভাবে নিরুৎসাহিত করা হল। কারণ মুসলমান সমাজে একজন মহিলা তার পালক পুত্রের সাথে পর্দা রক্ষা করতে হবে সে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর, আর একজন পুরুষও তার পালিত মেয়ের কাছে পর্দা রক্ষা করতে হবে সে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর- কারণ পালক পুত্র ও মাতা এবং পালিত কন্যা ও পিতার মধ্যে বিয়ে মুহাম্মদের ঐ কর্মের দ্বারা বৈধ হয়ে গেল। সূতরাং মুসলিম সমাজে পালক পুত্র বা কন্যার সাথে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখা খুবই কষ্টকর একটা ব্যাপার। ইতিমধ্যে ইরানের পার্লামেন্টে একটি বিল প্রকাশিত হয়েছে যাতে একটি মেয়েকে ১৩ বছর বয়সে তার পালক পিতা বিয়ে করতে পারেন। লিংক

উপরে পালক পুত্রের স্ত্রীকে ছলে-বলে-কৌশলে, আয়াত নাজিল করিয়ে বিয়ে করার কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। আসলে বিবাহের ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ছিলেন সম্পূর্ণ ভারসাম্যহীন। নিজ কন্যা ফাতেমাকে বিয়ে দিয়েছেন চাচাত ভাই আলীর কাছে। হজরত আলী মুহাম্মদের আপন চাচা আবু তালিবের সন্তান।

এবার নিচের আয়াতটি পড়ে তাজ্জব বনে যান –

“হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি, যাদেরকে আল্লাহ্ আপনার করায়ত্ব করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে,নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল,দয়ালু”।(৩৩:৫০)

এখন নিচের হাদিসটি দেখেন –

লিংক

Sahih al-Bukhari Book 60 Hadith 311

English

Narrated Aisha:

I used to look down upon those ladies who had given themselves to Allah’s Apostle and I used to say, “Can a lady give herself (to a man)?” But when Allah revealed: “You (O Muhammad) can postpone (the turn of) whom you will of them (your wives), and you may receive any of them whom you will; and there is no blame on you if you invite one whose turn you have set aside (temporarily).’ (33.51) I said (to the Prophet), “I feel that your Lord hastens in fulfilling your wishes and desires.”

এ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে মুহাম্মদ ছিলেন আপাদমস্তক ভণ্ড এবং তার আদর্শ সর্বকালের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে না। তিনি নবি বা রসুল ছিলেন না এবং কোরানে যেহেতু তাকে সর্বোত্তম আদর্শ বলে ঘোষণা করেছে তাই কোরানও আল্লাহর বাণী নয় বরং তা মুহাম্মদ ও তার নিজের লোকদের রচনা।

আরেকটি লেখার লিংক দিচ্ছি
আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো

২৯ thoughts on “মুহাম্মদ কি মানব জাতির জন্য সেরা আদর্শ: হজরত মুহাম্মদের যৌন অনৈতিকতা

  1. এসবের জন্যে মুহাম্মদের কোন
    এসবের জন্যে মুহাম্মদের কোন দায় নেই। তিনি যাই করুন না কেন আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক করেছেন। , তাই সব দায় আল্লাহর , মুহাম্মদ নির্দোষ।

    1. ধন্যবাদ দুলাল ভাই। এজন্য
      ধন্যবাদ দুলাল ভাই। এজন্য আমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি অন্ধ বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে আসবে ততই মঙ্গল।

    2. সেটার সাথে আমরা আশা করি
      সেটার সাথে আমরা আশা করি নাস্তিকতা আর মুক্তচিন্তার নামে লিভ টুগেদার, বহুগামিতা, প্রকাশ্যে সেক্স, অনিয়ন্ত্রিত সমকাম, ন্যুডিজম, উগ্রতা ও ভন্ডামি ইত্যাদি থেকে নাস্তিকরা বের হয়ে আসবে।

    1. এমনিতে না, অন্ধকার দূর করতে
      এমনিতে না, অন্ধকার দূর করতে গেলে অন্ধকারের প্রাণীরা বাইরে বেরিয়ে এসে হামলে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। একদিনের নয় হাজার বছরের অন্ধকার।

  2. বা বা। আমাদের নবী নিজের বিয়ে
    বা বা। আমাদের নবী নিজের বিয়ে করা বউদের সাথে সেক্স করলে সেটা দোষ! আল্লার আদেশে ৯বছরের আয়েশাকে বিয়ে করলে সেটা দোষ! (যে আয়েশা ২০০০ হাজারের অধিক হাদীস বর্ননা করেছেন; কোরানের আয়াতের তাফসীর করেছেন আর অসংখ্য মানুষকে ইসলাম ধর্ম শিক্ষা দিয়েছেন)! কুরায়শদের উপর বানিজ্য অবরোধ করে তাদের কাফেলা আক্রমন করলে দোষ (যে কুরায়শরা নবীকে হত্যা করতে চেয়েছিল আর মক্কা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল)!! আর আপনারা অগনিত নারীর সাথে বিয়ে না করে লিভ টুগেদার করবেন, সেটা অনৈতিক বা দোষের নয়; প্রকাশ্যে রাস্তা ঘাটে নারীকে চুমু খাবার জন্য ফেসবুক ইভেণ্ট খুলবেন সেটা দোষের নয়! অস্ত্র-মদ-পর্ন শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে টাকা কামাই করবেন সেটা দোষের নয়!! সমকামিতার পক্ষে সাফাই গেয়ে এইডস এর মহামারী বাধাবেন সেটা খারাপ নয়। বাহ এই না হলে মুক্তচিন্তা!!!

  3. মুহাম্মদের চাইতে আপনারা যারা
    মুহাম্মদের চাইতে আপনারা যারা নিজেদের মুক্তমনা দাবী করেন, তাদের যৌন জীবন আরো প্রশ্নবিদ্ধ। মুহাম্মদ রাতের বেলায় নিজের বউয়ের সাথে যৌন সংগম করলে সেটা অনৈতিক হবে কেন? মুহাম্মদের তো বেশ কয়েকটা বুড়ি, বিধবা আর তালাকপ্রাপ্ত বউ ছিল।

    আপনারা একদিকে লিভটুগেদার, প্রকাশ্য যৌনতা, সমকাম, পরকীয়া চর্চা ইত্যাদি সমর্থন করবনে আবার মুহাম্মদ নিজের বউয়ের সাথে সেক্স করলে ছি ছি করবেন। ব্যাপারটা কেমন পরস্পর বিরোধী হয়ে গেল না!

    ১৪০০ বছর আগের মুহাম্মদকে খারাপ বলার চাইতে নিজের চারিত্রিক দূর্বলতার দিকে দৃষ্টি দেয়াটা বেশী জরুরী মনে হয় আমার কাছে।

    1. যারা তথাকথিত নাস্তিক তারা
      যারা তথাকথিত নাস্তিক তারা আসলে সবাই মুহাম্মদকেই আদর্শ মানে। আর এ জন্যেই প্রতিটা নাস্তিক লুচ্চামি বদমাইশি ইত্যাদি করে বেড়ায়। বস্তুত , নাস্তিকদের চাইতে বেশী কেউ ভালবাসে না মোহাম্মদকে।

    2. আমরা নাস্তিকরা নিজেদেরকে কারো
      আমরা নাস্তিকরা নিজেদেরকে কারো জন্য আদর্শ বলে দাবি করিনা। কিন্তু মুহাম্মদ নিজেকে সর্বকালের জন্য আদর্শ বলে দাবি করে গেছেন আর তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কেউ করতেছে আত্মঘাতী বোমা হামলা, কেউ হাতে নিছে চাপাতি।

      একই রকম ভাবে অনেকে বলেন, অন্য অনেকে অল্প বয়সী মেয়ে বিয়ে করেছেন। কিন্তু কেউ তো আর নিজেদের নবী রসুল বা আল্লার সাথে ডাইরেক্ট কানেকশান আছে বলে দাবি করেন নি।

  4. সুন্দর লিখসেন। বাট আরো ভাল
    সুন্দর লিখসেন। বাট আরো ভাল করে জেনে লেখা উচিত ছিলো

    হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) একাধিক বিয়ে করেছিলেন, এটা অবশ্যই সত্য। কিন্তু যে বিষয়টা সুক্ষ্মভাবে এড়িয়ে গেলেন সেটা হলো উনার স্ত্রীদের কাউকেই তিনি জোর করে বিবাহ করেননি। সব স্ত্রী’রাই মোহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে এসে বিবাহ করার ইচ্ছা জ্ঞাপন করেন। মোহাম্মদ (সাঃ):কাউকেই নিরাশ করেননি।

    আর আয়েশা (রাঃ) ছিলেন আবু বকর (রাঃ) এর মেয়ে। আবু বকর (রাঃ) ই মোহাম্মদ (সাঃ) কে অনুরোধ করেন ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করতে।

    তিনি ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করলেও তাকে ঘরে তুলে নেননি। তিন বৎসর পর উপযুক্ত হলে ঘরে তুলে নেন

    তৎকালীন আরবের মেয়েরা ৯-১০ বছরেই দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে বিয়ের উপযুক্ত হতো যা বর্তমান যুগে অসম্ভব। ইসলাম কোন বয়সের নির্দিষ্টতা দেয়নি বিয়ের ব্যাপারে। দৈহিক ও মানসিক ভাবে ছেলে ও মেয়ে উপযুক্ত হলেই তারপরে বিয়ের কথা বলা হয়েছ্র

    1. অতি ইমানে জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ
      অতি ইমানে জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। ছয় বছর বয়সে মুহাম্মদ যখন বিয়ে করেন তখন আয়েশার কাছ থেকে কিরকম অনুমতি নিয়েছিলেন? শুধু বাবাই অনুমতি দিলে চলবে?

      সাফিয়া বিনতে হুয়াইকে নবী বিয়ে করেন যুদ্ধের ময়দানে যেখানে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল। যার স্বামী ও আত্মীয় স্বজনকে কিছু আগে হত্যা করা হয়েছিল সে কি বিয়ের অনুমতি দেবে? আরেকটি তথ্য, ইসলামে দাস ব্যবস্থা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য এবং দাসী ধর্ষণ বৈধ। এ ধর্ম আধুনিক কালে ঠিকে থাকবে কিভাবে?

      একটা মিথ্যা ধর্ম আর কতকাল বিশ্বাস করে চলবেন? মাথা খাটান।

    2. @অনাহুত আগন্তুকতিনি ৬ বছরের
      @অনাহুত আগন্তুক

      তিনি ৬ বছরের আয়েশাকে বিয়ে করলেও তাকে ঘরে তুলে নেননি। তিন বৎসর পর উপযুক্ত হলে ঘরে তুলে নেন

      ভাই ৯ বছরে কি একটা মেয়ে বিয়ের জন্য উপযুক্ত হতে পারে? তাহলে আপনি কোথায় আছেন? নিজের দিকে একটু তাকান।

  5. আরে মিয়া যতই চাপাবাজি করে
    আরে মিয়া যতই চাপাবাজি করে আয়েশার বিয়ারে নবীকে নির্দোষ দাবী করেন না কেন লাভ নাই হাদীসই প্রমান করে যে নবী স্বইচ্ছায় কচি মেয়ের লোভে তাকে বিয়ে করেছিলেন
    উর্সা হতে বর্নিত- আল্লাহর নবী আবু বকরকে তার কন্যা আয়শাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন।আবু বকর বললেন- কিন্তু আমি তো তোমার ভাই হই। নবী বললেন-তুমি তো আমার ধর্ম সম্পর্কিত ভাই, তাই আয়শাকে বিয়ে করাতে আমার কোন বাধা নেই। সহি বুখারী, ০৭:১৮

  6. মুহাম্মদ সা এর আদর্শ ত্যাগ
    মুহাম্মদ সা এর আদর্শ ত্যাগ করা মানেই তো মুক্তমনা আদর্শ গ্রহন করা। আর মুক্তমনা আদর্শ গ্রহন করা মানেই তো সমকাম, পরকিয়া, প্রকাশ্য যৌনতা, মদ-গাজা সহ যাবতীয় অনৈতিক আচরনে অভ্যস্ত হওয়া আর সমর্থন যানান। নাকি বলেন বেহুলার ভেলা।

  7. বোধাই বেহুলার ভেলা বলে কি?
    বোধাই বেহুলার ভেলা বলে কি? রুশদির কমেন্টেসে বলে, নিজেদেরেকে আদর্শ বলে দাবি করিনা!!! বেহুলা যে উপরে সাগরেদ দুলাল বোধাইর কমেন্টেসে আলো থেকে অন্ধকারে নেওয়ার উদ্দেশ্যে সকলকে কাজ করার জন্য আহব্বান করলো সেইটা দেখি নিচে আইসা ভুইলা গেছে। বোধাই, নিজেরে যদি অনুকরনীয় মনে না করিস তা হলে মানুষকে ডাকিস কেন আর মানুষ তোকে ফলো করব কেন? মানুষ অনুকরনীয় মানুষকেই ফলো করে, এই দর্শন আশাকরি বোঝানোর জন্য ডিকশনারী খুইলা বসত হইব না।

    যৌন জীবন নিয়ে তোমাদের তো বেজায় সুরসুরি হবে, এইটাই স্বাভাবিক এর বাইরে যে আরও হাজার-হাজার ঘটনা আছে তার দু’চারটা কইরা দেখাও, তাইলে লোকেরা আহাম্মদকে রেখে তোমাদের ডাক শুনবে। যেমন চাদকে দ্বিখন্ডিত কইরা দেখাও, এক রাইতে কোন যান্ত্রীক বাহন ব্যাতীত মক্কা থেকে মসজিদুল আকসা হয়ে মক্কায় ফিরে এসে দেখাও। আর এই সবেই যদি তোমাদের চুলকায় তবে একখান কোরানুল করিমের সম লেইখা দেখাও যে খানা অন্তত: লাখ দশেক লোক মানে, হাজার বিশেক পুরাটা মুখস্ত করে। দেখি তোমরা কত পার?

    এইসকল বোধাইরদল তো আবু জেহেলের লেন্দারও অধম। আবু জেহেলই ইসলাম বুঝে নাই…// আর এই সকল!!!!!!!

    1. মুমিনরা নিজেদের ভেড়ার পালের
      মুমিনরা নিজেদের ভেড়ার পালের মত মনে করে। সামনে কেউ থাকবে আর সবাই তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবে। খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে আর ভাল কাজ করতে হলে কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে হবে এমন নয়। ঘিলু খাটাতে হবে একটু ভাল করে। কোনো একজন মানুষকে সর্ব ব্যাপারে আদর্শ বলে বিশ্বাস করা বিপদ জনক।

      দেড় হাজার বছর আগের একজন হিংস্র মানুষ আধুনিক কালের মানুষদেরকেও প্রতারিত করছে, এটা অসহ্য ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার বঠে।

  8. তোরা যাকে নিয়ে লিখসিস তাঁর
    তোরা যাকে নিয়ে লিখসিস তাঁর পায়ের ধুলার যোগ্য না তোরা । তাঁর সম্পর্কে ভালো জেনে তার পর লেখা উচিত ছিল। তাঁকে সৃষ্টি না করলে কিছুই সৃষ্টি হতো না । এসব লেখা বন্ধ করা হক ।

  9. মানে মুক্তমনারা অনৈতিক আচারণে
    মানে মুক্তমনারা অনৈতিক আচারণে অভ্যস্ত! আপনার সমস্যা কোথায়? যার জীবনের প্রতিটি দিক অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল সেই ব্যক্তির জীবনের মধ্যে আপনারা আদর্শ খুঁজে বেড়ান। ঘিলুটা কাজে লাগান, কত প্রতারিত হবেন?

  10. পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার
    পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন ,সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।

    1. কলমের মাধ্যমে শিক্ষা আল্লাহ
      কলমের মাধ্যমে শিক্ষা আল্লাহ দেন না সেটা মানুষ মানুষকে দেয়। মানুষ জমাট রপক্তপিণ্ড থেকে হয় না, এটা গর্ভপাত দেখে তখনকার সময় তৈরী হওয়া ভুল ধারণা। আল্লাহ কোনো বিচারে দয়ালু নন, যিনি মানুষকে পোড়ানোর জন্য আগুনের আয়োজন করেন তিনি দয়ালু হবেন কিভাবে? এই লেখার নিচে আরেকটি লেখার লিংক দিছি, পড়ে নিতে পারেন।

  11. মুক্তমনা হইলেই যে শুধু
    মুক্তমনা হইলেই যে শুধু ইসলামের বিপক্ষে লিখতে হবে তা কেন? বিতর্কিত অারো অনেক ধর্ম অছে….. যৌন বিষয় ছাড়া অন্য অারো বিষয় অাছে……টার্গেট শুধু ইসলাম অার যৌনতা কেন? অাসুন সকলে বিতর্ক পরিহার করি।

    1. মুহাম্মদের ধর্মীয় জীবনে
      মুহাম্মদের ধর্মীয় জীবনে যৌনতাগুলোকে ধার্মিকরা অস্বীকার করার কারনে যৌনতা নিয়ে লেখা হচ্ছে। মুহাম্মদকে জোর করে মহাপুরুষ বা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বানানোর প্রচেষ্টার কারনে মুহাম্মদের জীবনের কালো অধ্যায়গুলো নিয়ে আলোচনা করা উচিত। পৃথিবীর সব মুক্তমনারা তাদের পৈতৃকসূত্রে প্রাপ্ত ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাবাসীদের পৈতৃক ধর্ম ইসলাম বলেই ইসলাম নিয়ে আলোচনা করে। অন্যদেশগুলোর মুক্তচিন্তকরা তাদের পৈতৃকসূত্রেপ্রাপ্ত ধর্ম নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশের কট্টর ধার্মিকরা যদি খ্রিস্টান ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ হত্যা করত, তাহলে সবাই হয়ত খ্রিস্টানধর্ম নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করত।

      বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা মুক্তমানুষদের নৈতিক দায়িত্ব।

  12. You guys are not know the
    You guys are not know the reason behind, Read the bellows in Bangla , Quoted
    সাধারণ মুসলিমের মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই ঘুরপাক খায়, তা হলো – রাসূলুল্লাহ ﷺ এতগুলো বিয়ে করতে গিয়েছিলেন কেন? সাধারণ মুসলিম পুরুষ না ৪টার বেশী বিয়ে করতে পারে না? উনি তাহলে ১১টা বিয়ে করলেন কেন? –বর্তমান সময় যখন অনলাইনে ও অফলাইনে নাস্তিকতা ও ইসলাম-বিদ্বেষ চরম আকার ধারণ করেছে তখন সাধারণ মুসলিমের জন্য এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা জরুরী হয়ে পড়েছে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আছে এবং এই লেখায় আমি সেই উত্তর দিব। কিন্তু সেই উত্তরে যাওয়ার আগে ছোট্ট একটা ভূমিকার অবতারণা করতে হচ্ছে।
    উত্তর বুঝার প্রি-রিকুইসিট জ্ঞান:
    আমাদের উপমহাদেশে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে নিয়ে লেখা কিছু বইতে, এবং বিভিন্ন আলেমরা তাদের লেকচারে তাঁকে নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি রকমের কথা বলে থাকেন। যেমন – রাসূলুল্লাহ ﷺ নূরের তৈরী, তাঁকে সৃষ্টি না করা হলে কিছুই সৃষ্টি হত না, তিনি সকল প্রকার মানবিক ও জৈবিক চাহিদার উর্ধ্বে ছিলেন – ইত্যাদি। এই কথাগুলো ভুল। অবশ্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ সব মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং তিনি নিষ্পাপ, কিন্তু একথাও মনে রাখতে হবে তিনি আমাদের মতই রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, যাকে তাঁর ঈমান ও আমলের কারণে আল্লাহ্‌ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।
    বলুন, “আমি তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। যার উপর প্রত্যাদেশহয়েছে যে তোমাদের উপাস্যএকমাত্র আল্লাহ্, তাই তাঁরই পথ অবলম্বনকরো এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো”। (সূরাফুসসিলাত ৪১:৬)
    আমাদের মধ্যে যেমন আশা-আকাংক্ষা, দু:খ-কষ্ট, অস্থিরতা-রাগ আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মধ্যেও এর সবই উপস্থিত ছিল। তাঁর সাথে আমাদের পার্থক্য হলো তিনি এগুলোকে নিজের নিয়ন্ত্রণের রাখতে পারতেন, আমরা কখনো পারি, কখনো পারি না। আমাদের মধ্যে যেমন কামনা-বাসনা আছে, স্বাভাবিকভাবে মানুষ হিসাবে তাঁর মধ্যেও এগুলো ছিল। আমরা যেমন সুন্দরের প্রতি আকৃষ্ট হই, তিনিও সুন্দরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করতেন। আমাদের সাথে তাঁর পার্থক্য হলো – আমরা আমাদের বাসনা পূরণের জন্য আল্লাহর ﷻ দেয়া সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি, যার দিকে তাকানো উচিত নয় তার দিকে তাকাই, যার সাথে সম্পর্ক করা আল্লাহর ﷻ বিধানের বাইরে তার সাথেও সম্পর্ক করি। কিন্তু, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর চাহিদা পূরণের জন্য কখনোই আল্লাহর ﷻ দেয়া সীমাকে লঙ্ঘন করেননি, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ﷻ হুকুম মেনে চলেছেন।
    রাসূলুল্লাহ ﷺ (বা যে কোন মানুষের) যে কোন কাজ সম্পর্কে আমাদের আপত্তি থাকবে না যদি তা নিচের দুইটা (both) বিষয়কে মেনে চলে –
    এক – যদি তা আল্লাহর ﷻ দেয়া সীমার মধ্যে থাকে। অর্থাৎ, আল্লাহ্‌ যদি কোন কিছুকে হালাল করে থাকেন তাহলে সেটা করলে দোষের কিছু নেই।
    দুই – যদি কাজটি ঐ সমাজে গ্রহণযোগ্য হয়ে থাকে। (নামাজ,রোজা তথা ইবাদতের ক্ষেত্রে এই ২য় শর্তটি পূরণ হওয়া জরুরি নয়, কিন্তু পার্থিব কাজ যেমন বিয়ে, যুদ্ধ ইত্যাদির (worldly affairs) ক্ষেত্রে এই শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ)
    উদাহরণস্বরূপ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বহুবিবাহের কথা ধরা যাক। আমরা জানি – রাসূলুল্লাহ ﷺ বহু বিবাহ করেছেন – এটার অনুমতি আল্লাহর ﷻ কাছ থেকেও আছে, আবার তৎকালীন সমাজেও এটা গ্রহণযোগ্য প্র্যাক্টিস ছিল – কাজেই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বহুবিবাহ নিয়ে কোন মুসলিমের আপত্তি থাকবে না। আবার বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় সাধারণভাবে বহু বিবাহ গ্রহণযোগ্য নয়। কাজেই কোন মুসলিম যদি সক্ষমতা থাকার পরেও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে বহুবিবাহ না করে – তাহলেও আমরা বলব সে ঠিক করেছে। অন্যদিকে, পশ্চিমা বিশ্বে সমকামিতা একটি গ্রহণযোগ্য আচরণ, কিন্তু একজন মুসলিম হিসাবে আমরা এই আচরণের পক্ষে নই কারণ এটা আল্লাহর ﷻ দেয়া সীমার বাইরে।
    এখানে বলে রাখা ভাল যে, ইসলামিক আইন যদিও কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা’ (Consensus) ও কিয়াসের (Analogy) উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, কিন্তু এর প্রয়োগ আরো কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যার মধ্যে আছে – মাসলাহা মুরসালা (Consideration of Public Welfare/জনতার বৃহত্তর স্বার্থ) ও উরফ (Social norm /সামাজিক রীতি)।
    উপরের প্রি-রিকুইসিট জ্ঞানকে মাথায় রেখে এবার আসুন সরাসরি প্রশ্নে চলে যাওয়া যাক।

    প্রশ্ন – ইসলামের যেখানে ১জন পুরুষের জন্য ৪জন স্ত্রী রাখার অনুমতি আছে, সেখানেমুহাম্মাদ ﷺকিভাবে ১১টা বিয়ে করলেন? তাঁর বৈবাহিক জীবন কি অস্বাভাবিক নয়?
    রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ১১জন স্ত্রী ছিল, যার মধ্যে ৯ জন একসাথে স্ত্রী হিসাবে ছিল (বাকী ২ জনের মৃত্যু হয়েছিল)। তাঁর স্ত্রীদেরকে আমরা সম্মানের সাথে উম্মাহাতুল মু’মিনীন (ঈমানদারদের মাতা) বলে থাকি।
    যদিও একজন মুসলিমের জন্য চারজনের বেশী স্ত্রী রাখার অনুমতি নেই, কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ কে আল্লাহ্‌ চার এর বেশী স্ত্রী রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। আর এই অনুমতি দেয়া হয়েছে নিচের আয়াতের মাধ্যমে।
    হে নবী, আমি আপনার জন্য বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীদেরকে যাদের আপনিদেনমোহর দিয়েছেন …আর কোন ঈমানদার নারী নবীর কাছে নিবেদনকরলে আর নবী তাকে বিয়ে করতে চাইলে সে বৈধ।আর এ শুধু আপনারইজন্য, বাকী মুমিনদের জন্য নয়। [সূরা আহযাব ৩৩:৫০]
    কিন্তু প্রশ্ন হলো এই সুবিধা রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেয়ার কারণ কি? আসুন এর কয়েকটা কারণ দেখা যাক –
    রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শারিয়াহ কিছুটা ভিন্ন ছিল
    রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শারিয়াহর কিছু অংশ সাধারণ মুসলিমদের থেকে ভিন্ন ছিল। এই ভিন্ন শারিয়াহ তাকে সুবিধা কিছু দিয়েছিল, কিন্তু দায়িত্ব দিয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশী। যেমন – রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্য প্রতিরাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ওয়াজিব ছিল, একবার যুদ্ধের সরঞ্জাম পড়ে ফেলার পর যুদ্ধে না যাওয়া তাঁর জন্য হারাম ছিল, দান গ্রহণ করা তাঁর জন্য হারাম ছিল, মৃত্যুর সময় পরিবারের জন্য একটা পয়সা সম্পদ রেখে যাওয়াও তাঁর জন্য হারাম ছিল, এমন কি আজ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বংশধরের কেউ যতই দরিদ্র হোক না কেন যাকাত নিতে পারবে না। এত কঠিন কঠিন নিয়মের বিপরীতে আল্লাহ্‌ তাঁকে খুব অল্প কিছু বিধানে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তার মধ্যে একটি হলো চারটির বেশী স্ত্রী রাখার অনুমতি।
    রাসূলুল্লাহ ﷺ চাইলে আরো বেশী বিয়ে করতে পারতেন
    রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর যৌবনের প্রাইম টাইম একজন মাত্র স্ত্রীর সাথেই কাটিয়েছিলেন – ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর একজন মাত্র স্ত্রী ছিল। অথচ বহুবিবাহ করা আরব সমাজে একটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল এবং তিনি চাইলেই তখন একাধিক বিয়ে করতে পারতেন। আমাদের সমাজে যেমন বিয়ের সময় ছেলেদের যোগ্যতা দেখা হয় – তার পড়াশুনা, চাকরি-বাকরি, আয়-রোজগার দেখা হয়, তৎকালীন আরব সমাজে বিয়ের সময় একটা ছেলে বা মেয়ের একটা বৈশিষ্ট্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন ছিল – তা হলো বংশমর্যাদা। রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন আরবের সবচাইতে সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশের সবচাইতে সম্মানিত ও লিজেন্ডারি ব্যক্তিত্ব আব্দুল মুত্তালিব এর সবচেয়ে প্রিয় নাতি। তাই তিনি চাইলে যৌবনে ও নবুয়তির আগে ১০-১২টা বিয়ে করা তার জন্য কোন ব্যাপারই ছিল না, কিন্তু তা তিনি করেন নি।
    সেই সমাজে বিয়ে ছিল ঐক্য প্রতিষ্ঠার একটি অন্যতম উপায়
    বর্তমানে আমরা যে সমাজে বাস করি তাতে বিয়ের উদ্দেশ্য একটাই থাকে – সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী একটা ছেলে / মেয়েকে তার জীবনসঙ্গীর সাথে মিলিয়ে দেয়া। কিন্তু, আরব সমাজে “রাষ্ট্র” বলে কিছু ছিল না এবং এক গোত্রের সাথে আরেক গোত্রের ঝগড়া-যুদ্ধ লেগেই থাকত। সেকালে সামাজিকভাবে সুরক্ষিত থাকার একমাত্র উপায় ছিল গোত্রবদ্ধ হয়ে চলা, তাই সেই সমাজে বিয়ের আরেকটি অন্যতম কারণ ছিল অন্য পরিবার বা অন্য গোত্রের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করা। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ যেহেতু আরবদের ৩ হাজার বছরের পুরনো রীতি-নীতিকে পরিবর্তন করে মাত্র ২৩ বছরে সম্পূর্ণ নতুন রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ইসলামের প্রবর্তন করছিলেন, কাজেই এটা তার জন্য খুব জরুরী ছিল যে তিনি বিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন গোত্রের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করবেন। এই দিক থেকে চিন্তা করলে, বহুবিবাহের অনুমতি রাসূল্ললাহর ﷺ জন্য কোন সুবিধা ছিল না, বরং ছিল এক মহা দায়িত্ব।
    নিচে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীদের তালিকা ও বিয়ের মূল কারণ উল্লেখ করা হল।

    স্ত্রীর নাম বিয়ের মূল কারণ বিয়ের সাল মন্তব্য
    ১ খাদিজাবিনতে খুয়াইলিদ (রা) সাধারণ সামাজিক বিয়ে নবুয়তের ১০ম বছর খাদিজার প্রস্তাবে দুই পরিবারের সম্মতিতে সাধারণ বিয়ে। এটা ছিল খাদিজার ৩য় বিয়ে।খাদিজা জীবিত থাকতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আর কোন স্ত্রী গ্রহণ করেননি। খাদিজার মৃত্যুর সময় রাসূলুল্লাহ ﷺর বয়স ছিল ৫০ বছর। তাঁরা দীর্ঘ ২৫ বছর সংসার করেছিলেন।
    ২ সাওদাবিনতে জাম’আ (রা) সাধারণ সামাজিক বিয়ে নবুয়তের ১০ম বছর রাসূলুল্লাহ ﷺর খালা খাওলা এর পরামর্শে দুই পরিবারের সম্মতিতে সাধারণ বিয়ে।
    ৩ আইশা (রা) বিনতে আবু বকর (রা) সাধারণ সামাজিক বিয়ে ও বন্ধু আবু বকর (রা) এর সাথে পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন।এছাড়াও এতে আল্লাহর ﷻ পরোক্ষ নির্দেশ ছিল। (বুখারি) বিয়ের প্রতিশ্রুতি: নবুয়তের ১১ তম বছর।একসাথে বসবাস শুরু: ১ম হিজরী রাসূলুল্লাহ ﷺর খালা খাওলা এর পরামর্শে দুই পরিবারের সম্মতিতে সাধারণ বিয়ে।আইশা জিনিয়াস ছিলেন। তিনি কুরআন, হাদিস, ইসলামি আইন, প্রাচীন কবিতা ও বংশ-জ্ঞান (Geneology) এ এক্সপার্ট ছিলেন। অন্যতম সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী। তিনি রাসূলুল্লাহর ﷺ একমাত্র কুমারী স্ত্রী।
    ৪ হাফসা (রা) বিনতে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) বন্ধু উমার(রা) এর সাথে পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপন ৩য় হিজরী এটা হাফসার দ্বিতীয় বিয়ে। আগের বিয়ে তিনি ১১ বছর বয়সে করেছিলেন।
    ৫ যাইনাব বিনতে খুযাইমা (রা) যাইনাবের দানশীলতার পুরষ্কার ও উত্তরের নাজদি অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক স্থাপন ৪র্থ হিজরী এটা ছিল তাঁর তৃতীয় বিয়ে। যাইনাব তাঁর দানশীলতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে তাঁর স্বামী শহিদ হওয়ার পর এরকম মহান নারীর জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺই ছিলেন একমাত্র যোগ্য স্বামী। বিয়ের ৮ মাস পর তিনি ইন্তেকাল করেন।
    ৬ উম্মে সালামা(রা)অন্য নাম: হিন্দ বিনতে আবু উমাইয়া উম্মে সালামার ঈমান ও আমলের পুরষ্কার ৫ম হিজরী এটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর স্বামী উহুদের যুদ্ধের আঘাতে শহীদ হন। মৃত্যুর সময় তাঁর স্বামী দু’আ করেছিলেন তিনি যেন তার চাইতেও ভালো একজনকে স্বামী হিসাবে পান। আল্লাহ্‌ সেই দু’আ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাধ্যমে কবুল করেন। উম্মে সালামা বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন।
    ৭ যাইনাববিনতে জাহশ (রা) আল্লাহর ﷻ নির্দেশ (সূরা আহযাব:৩৭) ও পালক পুত্র যে নিজের পুত্র নয় এই ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা ৫ম হিজরী এটা তাঁর ২য় বিয়ে। যাইনাব কুরাইশি ছিলেন ও রাসূলুল্লাহর ﷺ ফুপাত বোন ছিলেন। আরব সমাজে, কাযিনদের মধ্যে বিয়ে হওয়া খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার ছিল। আনাস(রা) বলেন – রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি কোরআনের কোন আয়াত লুকাতেন তাহলে যাইনাবের সাথে বিয়ের আয়াতটাকেই লুকাতে চাইতেন (বুখারী)। – শুধু আল্লাহর ﷻ হুকুম পালনের জন্যই রাসূলুল্লাহ ﷺ এই বিয়েটা করেন।
    ৮ যুয়াইরিয়াহবিনতে আল-হারিস (রা) বানুল মুস্তালিকের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন ৫ম হিজরী এটা তাঁর ২য় বিয়ে। তিনি ছিলেন বানুল মুস্তালিক গোত্রপ্রধানের মেয়ে। যুয়াইরিয়াকে যুদ্ধবন্দি হিসাবে গ্রহণ করার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে মুক্ত করেন এবং বিয়ে করেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন। শত শত সাহাবী যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি করে দেন। এই বিয়ের ফলে সম্পূর্ন বানুল মুস্তালিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
    ৯ উম্মে হাবিবাবিনতে আবু সুফিয়ান (রা)অন্য নাম: রামলা কুরাইশদের মধ্য থেকে শত্রুভাব অপসারণ ৭ম হিজরী এটা তাঁর ২য় বিয়ে। তৎকালীন মুশরিক কুরাইশদের অবিসংবাদিত নেতা আবু সুফিয়ানের মেয়ে। কুরাইশদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে উম্মে হাবিবা আবিসিনিয়ায় চলে যান যেখানে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়, পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে অনেক মুশরিকের মধ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও ইসলামের প্রতি ভালবাসা তৈরীতে সাহায্য করে।
    ১০ সাফিয়াবিনতে হুয়াই (রা) ইহুদীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ৭ম হিজরী এটা তাঁর ২য় বিয়ে। তিনি ছিলেন ইহুদীদের বনু নাদির গোত্রের নেতার মেয়ে। তিনি প্রথম থেকেই বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মকে পছন্দ করতেন। খন্দকের যুদ্ধে তাঁকে যুদ্ধবন্দি হিসাবে গ্রহণ করা হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে মুক্তি দেন ও বিয়ে করেন। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ যুদ্ধবন্দি মুক্তিতে উৎসাহ দেন ও এটাও প্রমাণ করেন – ইহুদীদের প্রতি মুসলিমদের কোন জাতিগত বিদ্বেষ নেই।
    ১১ মাইমুনাহবিনতে আল-হারিস(রা)ইসলাম-পূর্ব নাম: বাররাহ চাচা আব্বাসের অনুরোধে ও কুরাইশদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ৮ম হিজরী এটা তাঁর ২য় বিয়ে। হুদায়বিয়ার সন্ধির পরের বছর রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন উমরা করতে মক্কা আসেন তখন চাচা আব্বাস (রা) তাঁকে অনুরোধ করেন মাইমুনাকে বিয়ে করতে। এই বিয়ের পর রাসূল্ললাহ মক্কার কুরাইশদেরকে (যারা তখনও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি) তাঁর ওয়ালিমায় দাওয়াত দেন ও এভাবে তাদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নের চেষ্টা করেন।

    উপরের তথ্য থেকে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর বিয়েগুলো যে সব কারণে করেছিলেন তার মধ্যে আছে – স্বাভাবিক সামাজিক কারণ, কোন বন্ধুর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করণ, কোন গোত্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন, অথবা যে গুণবতী নারীর স্বামী শহীদ হয়েছে তাঁকে সম্মানিত করার জন্য। আর এই বিয়েগুলোর ক্ষেত্রে সেই নারীর সৌন্দর্যও যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে আকর্ষণ করে থাকে তাতে দোষের কিছু নেই। একজন পুরুষ তো তাকেই বিয়ে করতে চাইবে যাকে তার সুন্দর লাগে – এটাই তো স্বাভাবিক বায়োলজিকাল ব্যাপার।
    রাসূলুল্লাহ ﷺ জোর করে কাউকে বিয়ে করেন নাই
    রাসূলুল্লাহ ﷺ কখনোই জোর করে কাউকে বিয়ে করেননি। তিনি ﷺ যাদেরকে বিয়ে করেছেন তাঁরা প্রত্যেকেই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। যে তাঁর স্ত্রী হতে চায়নি, তাকে তিনি বিয়ে করেননি।
    সাহিহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে আমরা একটি ঘটনা জানি যেখানে উমাইমাহ বিনতে শাহরিল নামক এক মহিলা প্রাথমিকভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রী হতে সম্মতি জানায়। কিন্তু, বিয়ের রাতে সেই মহিলা তার মত পরিবর্তন করে ও স্ত্রী হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। রাসূলুল্লাহ ﷺকে দেখে সে বলে উঠে – “আমি আপনার থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি”। জবাবে রাসূলুল্লাহ ﷺবলেন – “তুমি সবচাইতে বড়র কাছেই আশ্রয় চেয়েছ। যাও, তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাও।” এভাবে করে বিয়ে কনসুমেট (স্বামী-স্ত্রী হিসাবে একসাথে থাকা) করার আগেই রাসূলুল্লাহ উমাইমাহকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন। অন্য কিছু বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ কে অপদস্থ করার জন্য কাফেররা মহিলাটাকে দিয়ে এরকম করিয়েছিল। ইতিহাসের বইগুলোতে এরকমও পাওয়া যায় যে এই মহিলা তার বাকী জীবন রাসূলুল্লার বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আফসোস করতে করতে কাটিয়েছিল।
    রাসূলুল্লাহ ﷺ জোর করে কোন স্ত্রীকে ধরে রাখেন নাই
    রাসূলুল্লাহ ﷺ তো জোর করে কাউকে বিয়ে করেন নাই, জোর করে কাউকে বিয়ের পরে ধরেও রাখেন নাই। বরং, তাঁর যে কোন স্ত্রী চাইলেই তাঁকে ছেড়ে চলে যেতে পারতেন।
    হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে বলুন, “তোমরা যদি পার্থিব জীবনেরভোগ ও বিলাসিতা কামনাকর, তবে এসো, আমি তোমাদেরকে ভোগবিলাসেরব্যবস্থা করে দেই আর তোমাদেরকে ভদ্রতারসাথে বিদায় দেই। আর তোমরাযদি আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও পরকাল চাও, তবে তোমাদের মধ্যে যারাসৎ কর্মকরে আল্লাহ্ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন”। (সূরা আহযাব৩৩:২৮–২৯)
    হাদিস থেকে আমরা বরং দেখি, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর স্ত্রীরা তাঁর কাছে ডিভোর্স তো চানই নি বরং প্রত্যেকেই যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন প্রশংসা করেছিলেন যে স্বামী হিসাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ কতটা মহৎ ছিলেন।
    ইসলাম প্রতিষ্ঠার পর তিনি আর বিয়ে করেন নাই
    আমরা লক্ষ্য করলে দেখব যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ৭টি বিয়েই হয়েছে ৩য় থেকে ৮ম হিজরীর সময়। এটা ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনের সবচেয়ে আন্দোলিত সময়, যখন মুসলিমরা বিভিন্ন গোত্রের সাথে যুদ্ধে যাচ্ছে, আবার বিভিন্ন গোত্রের সাথে শান্তিচুক্তি করছে। কাজেই, এই সময় এই বিয়েগুলো ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের অংশ বিশেষ। তিনি যদি নারীলোভীই হয়ে থাকবেন তাহলে তো এর আগে-পরেও তাঁর অনেক বিয়ে করার কথা ছিল। শুধু তাই না, রাসূলুল্লাহ ﷺ বেঁচেছিলেন ১১ হিজরী পর্যন্ত। কিন্তু, ৭ম হিজরির হুদায়বিয়ার সন্ধি ও হুনাইনের যুদ্ধে বিজয়ের পরে আরব ভূখন্ডে মুসলিমদের একচ্ছত্র আধিপত্য সময়ের ব্যাপারে হয়ে দাঁড়ায় – আল্লাহ্‌ নিজেই সূরা ফাতহ তে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে “পরিষ্কার বিজয়” হিসাবে উল্লেখ করেছেন। আর তাই আমরা দেখতে পাই, ৯ম-১১তম হিজরীতে রাসূলুল্লাহ ﷺ গোত্রভিত্তিক সম্পর্ক উন্নয়নে আর কোন বিয়েও করেননি। তিনি যদি আসলেই শুধু নিজের চাহিদায় বিয়ে করে থাকতেন তাহলে তিনি ঐ শেষের ২ বছরেও বিয়ে করা করা থামাতেন না।
    তথ্য সূত্র:
    ১) শেইখ ইয়াসির কাযীর সীরাহ লেকচার
    ২) ড. সাল্লাবির সীরাহ বই
    ৩) শেইখ সাফিউর রাহমান মুবারাকপুরীর সীরাহ বই
    ৪) দি কোড অফ স্কলারস – শেইখ ইয়াসির বিরজাস

  13. পড়লাম। ৫৭ ধারার কারণে মন্তব্য
    পড়লাম। ৫৭ ধারার কারণে মন্তব্য করবো না

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *