এটা কি প্রধান মন্ত্রীর অজ্ঞতা নাকি রাজনৈতিক অভিনয়?


আজ আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন-

“ধর্ম বিরোধীতা মুক্ত চিন্তা নয়,নুংরামি”

তিনি আরো বলেন-
“আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি নোংরা কথা লেখে, সেটা কেনো আমরা বরদাশত করবো?”
“ফ্যাশন দাঁড়িয়ে গেছে ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখলেই তারা মুক্তচিন্তার ধারক! কিন্তু আমি এখানে কোনও মুক্ত চিন্তা দেখি না। আমি দেখি নোংরামি।’”

“এটা পুরোপুরিই তাদের চরিত্রের দোষ এবং তারা বিকৃত মানসিকতার।”

“একজন মুসলমান হিসেবে আমি প্রতিনিয়ত আমার ধর্মকে অনুসরণ করে চলি। কাজেই সে ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ লিখলে আমি কষ্ট পাই।’”

লিংক:http://www.banglanews24.com/politics/news/481663/%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A7%9F-%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A6%82%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80

এখন কথা হচ্ছে ,মুক্ত চিন্তা কি?

-কোন বিষয়ে মোহাবিষ্ট না হয়ে অর্থাৎ পুর্ব থেকে সঠিক বা বেঠিক না ধরে যুক্তি ও বুদ্ধি,প্রজ্ঞার মাধ্যমে তার সম্পর্কে চিন্তা করাটাই মুক্ত চিন্তা।
প্রাগৈতিহাসিক কাল ধরে মানুষ তার চার পাশের পৃথিবীটাকে নিয়ে ভেবে
এসেছে ,এখনও ভাবছে।আগামী দিনেও ভাববে।এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম।
আজ আমি যেভাবে ভাবি ,আমার পুর্বতনরা সেভাবে ভাবতনা,তার পুর্বতনরা তার মত করে ভাবতনা ,আর আমার ভবিষ্যত প্রজন্মরাও আমার মত ভাববেনা।এটাই চিন্তার বিবর্তন।এই বিবর্তন না হলে তো আমরা এখনও সেই প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকার যুগেই পরে থাকতাম। পৃথিবীর সকল অগ্রগতি থেমে থাকতো বন্য যুগের গুহা মানবের অন্ধকারাচ্ছন্ন গুহা গাত্রে।

খৃষ্টের জন্মের বহু পুর্বে সক্রেটিস প্রথম তথাকথিত চিন্তাধারার বাইরে বেরিয়ে এসে মানুষকে মুক্ত জ্ঞানের আলোক শিখায় উদ্ভাসিত হতে শিখিয়ে ছিলেন। কিন্তু তাকে বাচঁতে দিলনা তার দেশের আবদ্ধ চিন্তার ক্ষমতাশীলরা।
কোপার নিকাস সর্ব প্রথম সুর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারনা দিয়েছিলেন বৈজ্ঞানীক পন্থায় ,কিন্তু বাইবেল বিরোধী বলে তা মেনে নেননি তখনকার ক্ষমতাশীলরা। আগুনে পুরিয়ে মেরে ফেলেছিল তার এক অনুসারী ব্রুনোকে যে কোপার রিকাসের তথ্যকে প্রচার করেছিল।
গ্যালীলীও,লিওনার্দো দ্য ভিন্সি , এদের উপরেও তৎকালিন শাসক গোষ্ঠি অত্যাচার করেছিল,শুধু মাত্র কথিত ,প্রচারিত,ঈশ্বরের বানীর বাইরে মুক্ত ভাবে তাদের মত প্রকাশের জন্য
তথাকথিত ধারনা থেকে বেরিয়ে মুক্ত ভাবে যদি চিন্তা না করত তাহলে আমরা কি এখনও পৃথিবী কেন্দ্রিক সৌরজগৎ নিয়েই পরে থাকতাম না?

এক সময় ডাইনি তকমা দিয়ে হাজার হাজার নারীদের হত্যা করেছে খৃষ্ট ধর্মের প্রাণ পুরুষেরা,।কিছু মুক্তচিন্তকই তো তাদের বুদ্ধি দিয়ে ভুল প্রমান করেছিল সেইসব খৃষ্টান ধর্ম পুত্রদের।

ভারতীয় উপমহাদেশে সতিত্ব রক্ষার নামে মৃত স্বামীর সাথে জীবন্ত পুড়ানো হয়েছে হাজার হাজার নারীদের। আজকের দিনে বসে অনেক সভ্যরা ,এটা ছিল তখনকার হিন্দুদের একটা কুসংস্কার এর সাথে ধর্মের কোন যুগসূত্র নেই বলে হাত ঝেরে ফেলেন ।কিন্তু তখনকার দিনের সভ্যরা তো একেই ধর্ম ও পুন্যের কাজ মনে করত।রামমোহন,বেন্টিকেরা যদি মুক্ত চিন্তা না করত তাহলে এখনও কি আমাদের এই ভয়াবহ,লোমহর্ষক কর্মকান্ড দেখতে হতোৎ না?

কোন নারীর স্বামী যদি মারা যায় তাহলে তাকে সারা জীবন বৈধব্য গ্রহন করতে হবে অর্থাৎ জগতের সমস্ত ভোগ বিলাস তার জন্য বর্জনীয় যদিও পুরুষের বেলায় অন্য কথা।আর এটাই ছিল হিন্দু ধর্মীয় বিধান।বেদ থেকে শুরু করে মনুসংহিতায় এর চরম রুপ পরিলক্ষীত হয়। এখানেও বিদ্যাসাগরের মত মুক্তচিন্তকরা হিন্দু নারীদের এ অভিশাপ থেকে বাচাঁনোর আন্দোলন করেছিলেন।
এক সময় নারীরা রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহন করতে পারতনা,এমন কি তাদের ভোট দেয়ার অধিকার পর্যন্ত ছিলনা। কোন না কোন মুক্তচিন্তক ব্যাক্তির মুক্তচিন্তা থেকেই নারীরা ভোটাধিকার পেল ,এমন কি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থেকে শুরু করে সকল কাজে অংশ গ্রহন করার অধিকার পেল। তা নাহলে বর্তমানের প্রধান মন্ত্রীর অবস্থানও থাকতো কোন রান্না ঘরের নিভৃত কোনে।এমনি হাজারো ইতিহাস দেখানো যাবে।

ধর্মের উৎপত্তি আজকালকার ঘটনা নয়।বন্য যুগেই মুলত ধর্মের বীজ রুপিত হয় তা বহু বিবর্তনের স্রোতে ভেসে ভেসে আজকের পৃথিবীতে এর পদার্পন। আজকের পৃথিবীতে আমরা যে সকল ধর্মগুলোর বিচরন লক্ষ করছি এদেরও উৎপত্তি বহু কাল পুর্বে ।এসকল ধর্মের আচার আচরন বিশ্বাস সবই তখনকার পৃথিবীর পরিবেশ পরিস্থিতি,মানুষের কৃষ্টি কালচারের সাথে সামঞ্জস্য করেই স্থাপিত হয়েছিল।ভৌগলিক সীমারেখা পেরোতে পারেরি কোন ধর্মেরই বিধি-বিধান। সকল ধর্মেই তখনকার ভৌগলিক জীবনাচরনের গন্ধ পাওয়া যায় যা আজকের এই অগ্রবর্তী পৃথিবীর সাথে যতেষ্ট অসামঞ্জস্যপুর্ন । এই ধর্মগুলোকে চর্চা করে আজকের দিনের মুক্ত চিন্তকরা যদি এর অসামঞ্জস্যতা গুলো তুলে ধরতে চান এটা কি তাদের অপরাধ?
যে ধর্ম গ্রন্থগুলো আজকের এসকল ধর্মের ভিত্তিরুপে দন্ডায়মান,এগুলো অধ্যয়ন করলে দেখা যায় কতটুকু মিথ্যা আর ভুলের উপর এদের অবস্থান।প্রতিটি ধর্মগ্রন্থই বাস্তবতা বর্জিত পারস্পরিক সাংঘর্ষিক বক্তব্যে ভরপুর। কোন ব্যাক্তি যদি ধর্মগ্রন্থ গুলোকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে যাচাই করে তার অভিমত তুলে ধরে সেটা কি তার অপরাধ হবে?এটা কি নুংরামি হবে?

যৌক্তিক ভাষায় ধর্মের অসারতা,এগুলোর বাস্তবতা বর্জিত ভুল ও মানুষের মানবিকতা চর্চার ক্ষেত্রে,জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধর্মের অপ্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করে তুলা একজন মুক্ত চিন্তকের নৈতিক দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
আর এ কাজটি করতে যেয়ে যদি কেউ আঘাত প্রাপ্ত হয় তাহলে এর দায় ভার কার? মুক্ত চিন্তকের ?
যদি তাই হয় তাহলে তো এ অপরাধের অপরাধী তাবৎ পৃথিবীর সমস্ত সমাজ সংস্কার,সমস্ত বুদ্ধিজীবি,সমস্ত বিজ্ঞানী। আমাদের আজকের এই সুন্দর পৃথিবীর পুরো মেকানিজম তো তারাই করেছে।তাদের হাত ধরেই তো সুদীর্ঘ্য পরিবর্তনের স্রোতে ভেসে আমরা বর্তমান সভ্য পৃথিবীতে অবস্থান করছি। এই দীর্ঘ্য পথ পারি দিতে যেয়ে প্রতিনিয়ত নতুনদের ভাঙতে হয়েছে পুরোনু নিয়ম নিতিকে।সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পুরাতনের ভগ্নাবশেষের উপর তৈরি হয়েছে নতুন ভাবধারার ইমারত। তাহলে তারাও তো একই অপরাধ করে এসেছে,একই নুংরামি করে এসেছে! তাদের জন্য কি শাস্তির বিধান দিবেন আমাদের প্রধান মন্ত্রী?

সাংবিধানিক ভাবে আমরা গনতান্ত্রিক দেশের নাগরীক। গনতন্ত্রের নিয়মানুসারে এবং আমাদের সংবিধান অনুসারে প্রতিটি নাগরীকের চিন্তার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। কারো মতামত যদি অন্য কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠির প্রচলিত মতের বাইরে চলে যায় তাহলে যৌক্তিক ভাবে অনুরুপ পন্থায় প্রতিবাদ করা উচিৎ। কিন্তু ভিন্ন মতকে দা,ছুরি,চাপতি,বুলেটের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা কি কোন গনতান্ত্রিক পন্থা হতে পারে নাকি কোন মানবীয় সভ্য পন্থা হতে পারে? অথচ আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী পরোক্ষ ভাবে তাদেরই প্ররোচনা দিচ্ছেন ,যারা চাপতির ভাষায় কথা বলে,যারা রক্তের স্রোতে পবিত্র করতে চায় তাদের ধর্মকে। এটাকি রাজনৈতিক পরিভাষা নাকি মানবীকতার সাক্ষ্য?

এ পর্যন্ত যত জন মুক্তচিন্তককে বলি হতে হলো ধর্মের ঝান্ডাধারী অমৃতের সন্তানদের হাতে তাদের একটিরও বিচারের আওতায় আনতে পেরেছে আমাদের প্রধান মন্ত্রী? পারেনি। উল্টো আইন করে তাদের হাতেই শিকল পরাচ্ছেন যারা মানুষকে শুধু মানুষ ভাবতে শেখাচ্ছেন,অন্ধকার দুর করে মানুষকে আলোকিত করতে চাচ্ছেন।
এর মাধ্যমে আমাদের সমাজ,রাষ্ট্র কি মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে এগোচ্ছে না?

পরিশেষে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন-
যে কাজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নুংরামি বললেন ,সে একই কাজ কি মুহাম্মদ নিজেও করে যান নি? ওনি কি নিজ ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষে ইহুদী,খৃষ্টান সহ তখনকার আরবের সকল ধর্মকেই আঘাত করেননি?
ঐসব ধর্মভুক্ত মানুষ কি তাদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত পাননি? এখনকার মুক্তচিন্তকরা তো কলমের মাধ্যমে ধর্মের ভ্রান্তি গুলোকে তুলে ধরেন কিন্তু নবী মুহাম্মদ তো তলোয়ারের ভাষায় কথা বলেছেন ভিন্ন ধর্মালম্বীদের সাথে।
তাহলে একই অপরাধের দায়ে নবী মুহাম্মদকে কেন বলবেন না,আপনার অন্য ধর্মের প্রতি আচরন ছিল “নুংরামি”এবং “আপনার বিকৃত মানসিকতা”?

৮ thoughts on “এটা কি প্রধান মন্ত্রীর অজ্ঞতা নাকি রাজনৈতিক অভিনয়?

    1. সবাই মিলে সকল ধরলে একদিন না
      সবাই মিলে সকল ধরলে একদিন না একদিন আমরা আলোর মুখ দেখবই। পৃথিবীর যত বড় বড় পরিবর্তন হয়েছে কোনটাই একবারে হঠাৎ করে হয়নি। সুতরাং আমি আশাবাদী। ধন্যবাদ!

    2. সবাই মিলে সকল ধরলে একদিন না
      সবাই মিলে সকল ধরলে একদিন না একদিন আমরা আলোর মুখ দেখবই। পৃথিবীর যত বড় বড় পরিবর্তন হয়েছে কোনটাই একবারে হঠাৎ করে হয়নি। সুতরাং আমি আশাবাদী। ধন্যবাদ!

  1. মুহাম্মদ সা ইহুদী- নাসারাদের
    মুহাম্মদ সা ইহুদী- নাসারাদের অনুভূতীতে আঘাত করেছিলেন আল্লাহর আদেশে। তাই সেটি কোন অপরাধ নয়।
    কিন্তু আপনারা মুসলমান্দের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছেন কার আদেশে?? সেটি কি আমাদেরকে একটু বলা যাবে?

    1. আল্লায় যে আদেশ দিছে আপনি কি
      আল্লায় যে আদেশ দিছে আপনি কি দেখছেন? এন কোন প্রমাণ দেখাতে পারবেন? বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ।

      আল্লা সর্বশক্তিমান। তার সৃষ্টি কোন মানবগোষ্টির অনুভুতিকে আঘাত দিতে মুহাম্মদকে নির্দেশ কেন দিতে হবে? মানুষের বিরুদ্ধে মানুষকে লেলিয়ে দেওয়ার নাম কিভাবে মহানুভবতা হতে পারে?

      1. হ্যা কোরান হচ্ছে আল্লাহর
        হ্যা কোরান হচ্ছে আল্লাহর আদেশের প্রমাণ। সেটি আপনি গ্রহন করুন অথবা না করুন। আর তিনি যেহেতু প্রভু তাই তিনি তার ইচ্ছা মত চলবেন; আপনার ইচ্ছা মত নয়।
        আর মহানুভবতার কথা বলছেন! আল্লাহর দুনিয়াতে বসবাস করে; তারই দেয়া জীবন উপভোগ করে তারই বিরুদ্ধচারন করে আপনারা কোন মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন , শুনি!

        1. কোরান যদি আল্লাহর আদেশ হয়
          কোরান যদি আল্লাহর আদেশ হয় তাহলে কোরানের এডিশন কি করে সম্ভব,সংযোজন বিয়োজন কি করে সম্ভব? কোরান যদি আল্লার বানী হয় তাহলে এত ভুল,পারস্পরিক সাংঘর্ষিক বক্তব্যে,বাস্তবতা বর্জিত উক্তিতে ভরপুর কেন?
          ভাষাগত ভুল থেকে শুরু করে তথ্যগত ভুলে পরিপুর্ণ।আর ইতিহাস ঘাটলে কোরানের অবস্থা কেরোসিন।..অবশ্য মুহাম্মদ যেহেতু আল্লার ভুমিকায় ,আর তারই রচনা যেহেতু কোরান সে ক্ষেত্রে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। মানুষ মাত্রই তো ভুল হয়!

  2. আব্দুল্লা ইবনে সাদ নামক জনৈক
    আব্দুল্লা ইবনে সাদ নামক জনৈক ব্যাক্তি আল্লাহ তথা মুহাম্মদের অনেক আয়াত এডিট করে দিয়েছেন, কোরানের ভুল ত্রুটির জন্য কিছু দায়ভার তাকেও দিতে মুসলিমরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *