পাকিস্তানী-মদ জায়েজ-হালাল! আর বাঙালির পহেলা বৈশাখের ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ নাজায়েজ-হারাম?

পাকিস্তানী-মদ জায়েজ-হালাল! আর বাঙালির পহেলা বৈশাখের ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ নাজায়েজ-হারাম?
সাইয়িদ রফিকুল হক

এই দেশে আর কত শয়তানী চলবে? জানি, এর সঠিক জবাব কেউই দিতে পারবে না। কারণ, এই দেশে আছে দেশী-বিদেশী হরেক-রকমের শয়তান। আর এদের সবাইকে অনেকেই চিনতে পারবে না। কারণ, এরা বাংলাদেশে বসবাস করবে, বাংলাদেশের সবকিছু ভোগ করবে কিন্তু স্বপ্ন দেখবে আরব, ইরান, তুরান, পাকিস্তান আর আফগানিস্তানের! এদের মতো অমানুষ পৃথিবীর আর-কোনো দেশে নাই। এমনকি আমাদের দেশের মতো এতো ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ পৃথিবীর আর-কোনো দেশে নাই।
১৯৭১ সালে, পাকিস্তানীহায়েনাগোষ্ঠীকে আমরা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করে বাংলাদেশরাষ্ট্রকে স্বাধীন করি। এরপর থেকে আমরা যারা মনে-প্রাণে বাঙালি তাদের একমাত্র স্বপ্ন ও ধ্যান-জ্ঞান হলো: বাংলার সবকিছুকে ভালোবাসা। আমরা এই দেশকে ভালোবাসি। আর তাই, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে থাকি মনের আনন্দে। কিন্তু আমাদের মধ্যে একশ্রেণীর মানুষ-নামধারী মুখচেনা-শয়তান আছে, এরা কখনও বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। কিন্তু তারা এই দেশে বসবাস করে! এরা আমাদের জাতীয় জীবনে আগাছা-পরগাছা-পরজীবী উদ্ভিদের মতো। তাছাড়া, এরা মানুষ নয়—শুধু দেখতে মানুষের মতো। আর এরাই, এই চিহ্নিত-শয়তানগোষ্ঠী সবসময় কুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশরাষ্ট্র ও বাঙালি-জাতির স্বকীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে।

বাংলাদেশবিরোধী ও বাঙালি-জাতির সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচারী এই চিহ্নিত-পাপিষ্ঠগোষ্ঠী সবসময় আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তিমূলে আঘাত হেনে আমাদের দুর্বল করে তুলতে চায়। এরা পাকিস্তানীরক্তের যথার্থ উত্তরসূরী। এরা অতিশয় মূর্খ। এরা বাংলাদেশের ‘জাতীয় উৎসব’ পহেলা বৈশাখকে সবসময় আঘাত করে এদের পাকিস্তানীবাপদের পরম ও চরম আস্থাভাজন হতে চায়। এদের কোনো ধর্ম নাই। এদের কোনো চরিত্র নাই। এদের কোনো মনুষ্যত্ব নাই। এদের কোনো বিবেক নাই। আর এদের নাই কোনো লজ্জাশরম। এরা, ১৯৭১ সালে, তাদের পাকিস্তানীবাপদের পক্ষ নিয়ে আমাদের দেশের দুই-তিন লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানি করেছে। মানুষহত্যা করেছে। গণহত্যা করেছে। আর নিরীহ-বাঙালির ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। আর নির্বিচারে মানুষহত্যার পাশাপাশি অবাধে লুটপাট করেছে। এরা হিন্দুনারীদের অবাধে সম্ভ্রমহানি করেছে। এদের কাছে এখন-তখন আর সবসময় নারীধর্ষণ জায়েজ! কিন্তু বাঙালির প্রাণের উৎসব—বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখের ‘পান্তাভাত’ বা ‘পান্তাইলিশ’ নাজায়েজ-হারাম! এদের ধৃষ্টতার কোনো শেষ নাই। এরা তাই সম্পূর্ণ শয়তানীউদ্দেশ্যে বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলাবৈশাখ ও তার পান্তাইলিশের বিরুদ্ধে শয়তানী-ফতোয়াবাজি করছে। আর তাদের এইসব শয়তানী-কথাবার্তা সম্পূর্ণ মনগড়া, আবোলতাবোল, আজেবাজে, আলতুফালতু ও উদ্দেশ্যমূলক। এরা আমাদের ধর্মের কেউ নয়, কিন্তু এরা আমাদের ধর্মের স্বঘোষিত মোড়ল সেজে জাতির জীবনে ফিতনাফাসাদের সৃষ্টি করতে চায়। আর সেই অসৎউদ্দেশ্যে এরা সবসময় আমাদের দেশে জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত ‘জাতীয় উৎসব’ পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। এদের অস্থিমজ্জা-রক্ত-বংশ-জন্ম সম্পূর্ণ পাকিস্তানী। আর তাই, এদের কাছে সবসময় এদের পাকিস্তানী-ঈমান-আকিদাহ-অনুযায়ী পাকিস্তানীমদ জায়েজ-হালাল! আর পাকিস্তানী সবকিছুই জায়েজ-হালাল। আর তাদের কাছে পাকিস্তানীকায়দায় নারীধর্ষণ আরও বেশি জায়েজ-হালাল! কিন্তু ইদানীং-কালের বাঙালির হালাল-জায়েজ খাবার ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ নাজায়েজ-হারাম! এরা এমনই উন্নতজাতের শয়তান। আসলে, বাঙালির কোনোকিছুই এদের ভালো লাগে না। আর বাঙালি-সংস্কৃতির সবকিছুকে বানচাল করার জন্য এরা সবসময় তাদের পাকিস্তানীশরীয়ত-মোতাবেক নিজেদের মনগড়া শয়তানীফতোয়া দিয়ে থাকে।

কিছুসংখ্যক বাঙালি পহেলা বৈশাখকে আরও বেশি আনন্দঘন করে তোলার জন্য প্রতিবছর বাংলার নববর্ষে ‘পান্তাভাত’ বা ‘পান্তাইলিশে’র প্রচলন করেছেন। এখানে, একশ্রেণীর বাঙালির পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশে’র পক্ষে বলা হচ্ছে না। পান্তাভাত আর পান্তাইলিশ খাওয়া আর না খাওয়া যে-কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার। আর কাউকে জোর করে পান্তাভাত কিংবা পান্তাইলিশ তো আর খাওয়ানো হচ্ছে না। কেউ যদি পান্তাভাত বা পা্ন্তাইলিশ খেয়ে পহেলা বৈশাখে আনন্দ পেয়ে থাকে, তাহলে, কার এমন কী ক্ষতি? আর এসবের একটা গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তাই বলে, পহেলা বৈশাখের পান্তাভাত বা পান্তাইলিশকে একেবারে নাজায়েজ-হারাম ঘোষণা! এরা নিজের মনের মতো করে পাকিস্তানীশরীয়ত-মোতাবেক ফতোয়াবাজি করছে। এটা একশ্রেণীর বাংলাদেশবিরোধীঅপশক্তির সীমাহীন ধৃষ্টতা। ওরা এখন পান্তাভাত বা পান্তাইলিশের সমালোচনার নামে বাঙালির জাতীয় জীবনে সর্বাপেক্ষা বৃহৎ-উৎসব পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। এগুলো সবসময় পূর্বপরিকল্পিত। আর তাই, পবিত্র কুরআন-হাদিসকে পাশ কাটিয়ে এরা নিজেদের মৌলবাদীচেতনার দ্বারা শাণিত হয়ে বাঙালি-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেছে। আর এদের বিরুদ্ধেই মদীয় লেখনী।

বাঙালি-জাতির পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে নিজেদের ধান্দাবাজির ফতোয়াবাজি করার জন্য পবিত্র ইসলাম কাউকে পারমিশন দেয়নি। আর মহান আল্লাহ এজন্য কাউকেই নিযুক্ত করেননি। আর তাই,
এদের এইসব শয়তানী-ফতোয়াবাজির কোনো আইনগত ভিত্তি বা এখতিয়ার নাই। এখানে বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, পবিত্র কুরআন-হাদিসে কোথাও ‘পহেলা বৈশাখ’ কিংবা ‘পহেলা বৈশাখে’র পান্তাভাত বা পান্তাইলিশকে একসেকেন্ডের জন্যও নাজায়েজ-হারাম করা হয়নি। এগুলো দেশের একশ্রেণীর পরের বাড়ি পরের খাওয়া কাটমোল্লাদের শয়তানী-কারসাজি। এরা জাকাত-ফিতরা-সাদকাহ খাওয়া লোক। এরা আমাদের ধর্মের কেউ নয়—কিন্তু এরা আমাদেরই খেয়ে-পরে এখন আমাদের বিরুদ্ধেই এই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। আর পবিত্র ইসলামধর্মের নাম-ভাঙ্গিয়ে ইসলামের অপব্যাখ্যা করে পাকিস্তানের আজ্ঞাবহ হয়ে বাঙালি-জাতির চিরায়ত-আবহমানকালের সংস্কৃতিকে মুছে ফেলতে চায়। এদের ধৃষ্টতা দেখলে যে-কেউ আঁতকে উঠবে। এরা আমাদের দেশে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াচ্ছে। আর এরা কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম-অধ্যুষিত দেশের সংস্কৃতি নিয়ে কিছু বলে না। কারণ, সে-সব দেশ তাদের বাপ হয়। এদের যতো মাথাব্যাথা বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে।
উদাহরণ:

সৌদিআরবে প্রতিবছর হিজরীনববর্ষ উদযাপিত হয় ব্যাপক সমারোহে—গান-বাজনার মাধ্যমে। আর সৌদিআরবে জাতীয় দিবস উদযাপিত হয় আরও ব্যাপকভাবে, মহাসমারোহে। এই দিন সৌদিবাদশাহ, সৌদিযুবরাজ-সহ সর্বস্তরের লোকজন নেচে-গেয়ে, ঢাক-ঢোল বাজিয়ে আনন্দফুর্তি করে থাকে। এইসময় তারা তাদের জাতীয় প্রতীক উন্মুক্ত তলোয়ার নিয়ে নানারকম কসরৎ করে থাকে। কই তখন তো সৌদিআরবের এইসব কাজকর্ম নাজায়েজ-হারাম হয়ে যায় না। সৌদিআরব বুঝি এই কাটমোল্লাশ্রেণীর বাপ হয়! তাই, তারা সৌদিআরবের সবকিছু বিনাবাক্যব্যয়ে ও অবনতমস্তকে মেনে নেয়। আর সৌদিআরব কিন্তু ওদের স্বদেশ নয়! তবুও ওরা সৌদিআরবের সবকিছু ভালোবাসে। কিন্তু বাংলাদেশে বাস করে পহেলা বৈশাখের বিভিন্ন মেলা, রমনাবটমূলের অনুষ্ঠান, বাঙালির হালাল ও জায়েজ খাদ্যখাবার ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ হারাম হয়ে যায়! আর কত শয়তানী করবে ওরা? বাংলাদেশে বসবাস করে যারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসবে না তাদের এখনই এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত। তাছাড়া, ওদের পাকিস্তানীবাপেরা যখন নাচ-গান-সহকারে তাদের বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন করে থাকে তখন তা পাকিস্তানীশরীয়ত-মোতাবেক একেবারে হালাল হয়ে যায়! আসলে, এদের কাছে কোনো যুক্তি নাই। এরা অহেতুক পবিত্র ইসলামধর্মের নাম-ভাঙ্গিয়ে আমাদের ‘জাতীয় উৎসব’ পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে থাকে। ওদের বাংলাদেশের কোনোকিছুই ভালো লাগে না। ওরা বাংলাদেশবিরোধী-চিহ্নিতশয়তান।

দেশে একশ্রেণীর মোল্লা, কাটমোল্লা সবসময় আমাদের পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া ফতোয়াবাজি করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, এই শ্রেণীর শয়তানদের অন্যতম মুখপাত্র হলো: পাকিস্তানপ্রেমিক মাওলানা-লকবধারী জাহেল আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফী। এরা সরাসরি পাকিস্তানের তৈরি। এদের কোনো শিক্ষা, চরিত্র, সততা, ধর্মবোধ ও মনুষ্যত্ববোধ কোনোটাই নেই। এরা শুধু পরের খেয়ে পরজীবী হয়ে এই সমাজে বেঁচে আছে। আর এরা আমাদের সমাজের একশ্রেণীর আগাছা-পরগাছা ও পরজীবী উদ্ভিদ মাত্র। আর এই আগাছা-পরগাছাশ্রেণীকে শক্ত-হাতে একটানে শিকড়সুদ্ধ তুলে ফেলবার ব্যবস্থা করতে হবে।
জাকাত-ফিতরা-সাদকাহ খাওয়া লোকগুলো কখনও ইসলামের বা মুসলমানের আলেম হতে পারে না। এইসব মাওলানা-লকবধারী সস্তা মোল্লা-মৌলোভীরা ইসলামের নামে নিজেদের পাকিস্তানীশরীয়তের পাকিস্তানীশয়তানীই প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানসমূহ এদের কাছে খুব খারাপ লাগে। কারণ, এরা কখনও বাংলাভাষাকে-বাংলাদেশকে ভালোবাসেনি। এদের সমস্ত প্রেম আর সমস্ত ভালোবাসা শুধু পাকিস্তানের জন্য। তাই, এরা জীবনভরে পবিত্র ইসলামধর্মের লোক সেজে (কিন্তু মুসলমান না হয়ে) বাংলাভাষা ও বাংলা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া ও আবোলতাবোল ফতোয়াবাজি করে থাকে। এদের মনে মহান আল্লাহর ভয় বলে কিছু নাই।

আমাদের পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী-অপতৎপরতা চালিয়ে ফতোয়াবাজি করে কারা? আর এদের পরিচয় এখানে একটুখানি তুলে ধরা হলো:

১. ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের চিহ্নিত-দালালগোষ্ঠী;
২. একাত্তরের সর্বস্তরের যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীবংশজাত একদলীয় পাপিষ্ঠসম্প্রদায়;
৩. একশ্রেণীর আলেম-নামধারী জাহেল ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের প্রকৃত-উত্তরসূরী নামক পামরসম্প্রদায়। আসলে, এরা কেউই আলেম-উলামা নয়। এরা শুধুই লেবাসধারী-দুনিয়ালোভী। আর এরা একটুখানি আরবি-জানা লোক মাত্র। আর এদের কারও আলেম হওয়ার সামান্যতম কোনো যোগ্যতা নাই। এরা স্বঘোষিত-আত্মস্বীকৃত আলেম-নামধারী সস্তা-মৌলোভী।
৪. দেড় টাকা—দুই টাকা দামের একশ্রেণীর ইমাম, মোল্লা, মৌলোভী ইত্যাদি। এরা এজিদীয় ধর্মের অনুসারী। আর এদের জীবন কাটছে পরের উচ্ছিষ্ট জাকাত, ফিতরা, সাদকাহ ইত্যাদি খেয়ে। এরা মহান আল্লাহর চেয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার একশ্রেণীর লম্পট সভাপতি-সেক্রেটারিকে বেশি ভয় করে থাকে। আর এরা মনে করে থাকে: মহান আল্লাহ তো এদের মসজিদের চাকরি খাবেন না, কিন্তু মসজিদ-মাদ্রাসার একশ্রেণীর ধান্দাবাজ সভাপতি-সেক্রেটারি যেকোনো সময় তাদের চাকরি খেয়ে ফেলতে পারে। তাই, এরা সজ্ঞানে আল্লাহর চেয়ে মসজিদ-মাদ্রাসার তথাকথিত সভাপতি-সেক্রেটারিকে বেশি ভয় করে থাকে। আর এরা সবসময় পাকিস্তানের দালাল।
৫. বাংলাভাষা ও বাংলাসংস্কৃতিবিরোধী একটি শয়তানচক্র। আর এই শয়তানচক্র ১৯৪৮ সাল থেকে শয়তানের জারজপুত্র জিন্নার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পবিত্র বাংলাভাষাকে নাজায়েজ বলছে, হিন্দুয়ানী বলছে। আর এদের কাছে বাংলাদেশের সবকিছু হিন্দুয়ানী মনে হয়। কিন্তু এরা নিজেরাই সবসময় হারাম-নাজায়েজ। আর আমাদের বাংলাভাষা সবসময় জায়েজ-হালাল।
৬. যারা মানুষ, মানবতা, ইসলাম ও মুসলমানের সবসময়ের জন্য প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শত্রু তারাই এখন পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে নিজেদের মনগড়া-ফতোয়াবাজির মাধ্যমে মাঠে নেমেছে। আর বাইরের কতিপয় শয়তানরাষ্ট্র থেকে এদের জন্য প্রতিনিয়ত অর্থ আসছে। আর সেই হারাম-অর্থে লালিতপালিত হয়ে একশ্রেণীর শয়তান সবসময় বাংলাদেশের খেয়ে-পরে আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরা কেউই ইসলামের কিছু নয়—আর মুসলমানও নয়। এরা পরের খাওয়া একশ্রেণীর দালাল মাত্র।

বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে এই ফতোয়াবাজি নতুন কিছু নয়। কিন্তু যারা এই অপকর্মটি করছে, তারা জেনেশুনে, বুঝেশুনে পাকিস্তানীফর্মুলায় নিয়মিত শয়তানী-বদমাইশী করছে।
অতিসম্প্রতি ‘ওলামালীগ(একাংশ)-নামধারী’ একশ্রেণীর শয়তান বলেছে: ‘পয়লা বৈশাখ পালনে বেহায়াপনা সহ্য করা হবে না।’ ওলামালীগের একাংশের ব্যানারে এর সাধারণ সম্পাদকের পদধারী এক শয়তানপুত্র মাওলানা-লকবধারী কাজী আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী বাংলা-নববর্ষ পহেলা বৈশাখ পালনকে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘অনৈসলামিক’ আখ্যায়িত করেছে। আর এই বেআদব বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বাতিলের দাবিও জানিয়েছে। এদের স্পর্ধার সীমারেখা দিনকে-দিন ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আর এরা বাঙালি-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাঁঝের শূয়রের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে। কিন্তু এরা কারা? এরা আমাদের সমাজের কিংবা রাষ্ট্রের কেউ নয়। এরা এই দেশে কী কারণে আজও বসবাস করছে, তা আমাদের আজ ভেবে দেখতে হবে। আর আমাদের আরও মনে রাখতে হবে: এরা ইসলামের কেউ নয়। কিন্তু এরা সবসময় পবিত্র ইসলামের নাম-ভাঙ্গিয়ে আর ‘গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল’ সেজে পাকিস্তানী-কায়দায় ইসলামের সেবক সাজার নামে অনাবশ্যক ফপর দালালি করছে। এদের এবার রাষ্ট্রীয়-ভাবে দমন করতে হবে।

বর্তমান সরকার প্রজাতন্ত্রের সকল সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিতপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ২০% বৈশাখীভাতা প্রদান করেছেন। এটি জাতির জীবনে বিরাট আশা ও সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আর এর মাধ্যমে জাতি আনন্দের সঙ্গে বাংলা-নববর্ষ উদযাপন করতে পারবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো: যারা পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা পোষণ ও ফতোয়াবাজি করছে তারা কি এই বিশেষভাতা গ্রহণ করবে না? তারা কি এখন এই ভাতা পরিত্যাগ করবে? এগুলো কি তাদের জন্য এখন জায়েজ হবে? বিশেষতঃ যারা এতোদিন আমাদের পহেলা বৈশাখ-পালনকে নাজায়েজ-হারাম ফতোয়া দিয়েছে তাদের কী হবে? চাকরিক্ষেত্রে তাদের বর্ধিত এই ২০% অর্থ কি তারা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিবে? না, কক্ষনো না। এরা এগুলো সবার আগে ভোগ করবে। আর বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে মনের আনন্দে ফতোয়াবাজি করবে।
আমি পহেলা বৈশাখের ‘পান্তাভাত’ বা ‘পান্তাইলিশে’র পক্ষে বা বিপক্ষে নই। এ-কে কেন্দ্র করে যারা মিথ্যা ও শয়তানী ফতোয়াবাজি করছে, শুধু তাদের বিরুদ্ধে। কারণ, এরা সবসময় আমাদের এই জাতি-রাষ্ট্রের চরম শত্রু।
কারও ভালো লাগলে সে ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ খাবে। তাতে কার কী? আর যার এসব ভালো লাগে না, তারা চুপচাপ ঘরে বসে থাকবে। পহেলা বৈশাখ-পালন করা বা না-করাটা এই দেশের মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু এর বিরুদ্ধে কারও কিছু বলার বা শয়তানীফতোয়াবাজি করার আইনগত কোনো অধিকার নাই। আর আমাদের ‘জাতীয় উৎসব’ পহেলা বৈশাখের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে, আর শয়তানীফতোয়াবাজি করলে তা কক্ষনো সহ্য করা হবে না। আর এই দেশে থাকতে হলে সবাইকে ‘বাঙালি’ হয়েই থাকতে হবে। আর তা না পারলে আমাদের দরজা খোলা আছে: তোমরা তোমাদের পিতৃভূমি: পাকিস্তানে-আফগানিস্তানে-লিবিয়ায়-সৌদিআরবে চলে যাও। আর এখনই চলে যাও।

পুনশ্চ: আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে: পহেলা বৈশাখ ছিল, আছে আর থাকবে। এ নিয়ে এই দেশের একশ্রেণীর অবাঞ্ছিত-পামরের দল যতোই ফতোয়াবাজি করুক না কেন, তা বাঙালি-জাতি কখনও মানবে না। তবে এই শয়তানদের নির্মূল করার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে জেগে উঠতে হবে।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
০৮/০৪/২০১৬

২ thoughts on “পাকিস্তানী-মদ জায়েজ-হালাল! আর বাঙালির পহেলা বৈশাখের ‘পান্তাভাত’ কিংবা ‘পান্তাইলিশ’ নাজায়েজ-হারাম?

  1. আপনি যা লিখেছেন তা সস্তা
    আপনি যা লিখেছেন তা সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের একটি পন্থা। বর্তমানে একহাজার টাকা দিয়ে পাঁচ বোতল মদ পাওয়া যায়,কিন্তু পাঁচটি পুর্ন ইলিশ নয়। এর জন্য দায়ী আপনাদের মত কিছু মুক্তচিন্তাধারী শয়তান। যারা উল্টা পাল্টা কিছু জগা খিছুড়ি লিখে জনপ্রিয় হতে চান।জানেন তো মুক্তচিন্তা আর পাগলের চিন্তার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যাই হোক পারলে ইলিশ রপ্তানি /পাচার, মাদক এর বিরুদ্ধে কিছু লিখুন। না কি সিদ্ধি না খাইয়া লিখতে পারেন না?

    1. এই লেখাটি আপনার মতো মূর্খদের
      এই লেখাটি আপনার মতো মূর্খদের জন্য নয়। আর আপনার ভাষা দেখে মনো হলো আপনি কোনো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। এখানে, ইলিশ খাওয়ার পক্ষে বলা হয়নি। যে-সব মুখচেনাশয়তান বাঙালি-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাচ্ছে, এটি তাদের বিরুদ্ধে। আর েএই দেশে যেই বসবাস করতে চায়, তাকে একমাত্র বাঙালি হয়েই থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *