মুহাম্মদ আসলে খৃষ্টান ধর্ম অনুসরন করার কথাই বলে গেছেন

মুহাম্মদ তার ইসলাম প্রচারের নামে আসলে খৃষ্টান ধর্ম অনুসরন করার কথাই বলে গেছেন। কিন্তু মুসলমানেরা তার সেই বার্তাকে ঠিকমত আত্মস্থ না করে বা উপলব্ধি করতে না পেরে, নিজেদের মধ্যে বহু তরিকা সৃষ্টি করে অত:পর মারামারি কাটাকাটি করে নিজেরা মরছে , অন্যদেরকে মারছে আর দুনিয়াটাকে একটা দোজখে পরিনত করছে। কেন মুহাম্মদ খৃষ্টান ধর্ম পালনের কথা বলে গেছেন , সেটা এবার ব্যখ্যা করা যাক।

ধর্ম পালনের মূল উদ্দেশ্য , ইহজগতে শান্তিপূর্ন জীবনযাপন করে , পরজগতে যেন বেহেস্ত বা স্বর্গে যাওয়া যায়। যদি আমরা যীশু খৃষ্টের শিক্ষা দেখি , তাহলে দেখব , তিনি সম্পূর্নই শান্তির বানী প্রচার করে গেছেন। তিনি নিজে কখনই হাতে অস্ত্র তুলে নেন নি , কাউকে অস্ত্র হাতে নেয়ার জন্যে উপদেশও দেন নি। তবে আত্মরক্ষার জন্যে দরকারে অস্ত্র রাখার কথা বলে গেছেন। তিনি এমন কি শত্রুদেরও ভালবাসতে বলেছেন। তাছাড়া তিনি সব চাইতে গুরুত্বপূর্ন যে কথা তিনি বলেছেন , সেটা হলো – যে কেউ যীশুকে ত্রাণকর্তা হিসাবে মেনে নেবে , সে অবশ্যই মৃত্যুর পর ঈশ্বরের রাজ্যে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ যীশু নিজে স্বয়ং মানুষকে উদ্ধার করার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। ধার্মিক মানুষ মাত্রেই এই নিশ্চয়তা চায়। তারা চায় এমন শিক্ষা অনুসরন করতে , যা তাদেরকে পাশ করার নিশ্চয়তা দেবে। ঠিক সেই কারনেই , মুহাম্মদ বার বার তার কোরানে বলেছেন :

সুরা মায়দা-৫: ৪৬-৪৭ইঞ্জিলের অধিকারীদের উচিত, আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন। তদানুযায়ী ফয়সালা করা। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করে না, তারাই পাপাচারী। : আমি তাদের পেছনে মরিয়ম তনয় ঈসাকে প্রেরণ করেছি। তিনি পূর্ববর্তী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন। আমি তাঁকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। এটি পূর্ববতী গ্রন্থ তওরাতের সত্যায়ন করে পথ প্রদর্শন করে এবং এটি খোদাভীরুদের জন্যে হেদায়েত উপদেশ বানী।

কেমন উপদেশ বানী সেটা এবার একটু ইঞ্জিল গ্রন্থ থেকে দেখা যাক :

যোহন-১৪:৬: আমিই পথ , আমিই সত্য এবং আমিই জীবন। আমার মাধ্যম ছাড়া কেউ আমার পিতা ঈশ্বরের নিকটে পৌছতে পারে না।

এই কথা বলে যীশু নিজেই নিজেকে আবার ঈশ্বর বলে দাবী করছেন , যেমন :

যোহন-১৪
7 তোমরা যদি সত্যি আমাকে জেনেছ, তবে পিতাকেও জানতে পেরেছ৷ আর এখন থেকে তোমরা তাঁকে জেনেছ ও তাঁকে দেখেছ৷’ 8 ফিলিপ যীশুকে বললেন, ‘প্রভু, আপনি পিতাকে আমাদের দেখান, তাহলেই যথেষ্ট হবে৷’ 9 যীশু তাঁকে বললেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রয়েছি; আর ফিলিপ, তোমরা এখনও আমায় চিনলে না? য়ে কেউ আমায় দেখেছে সে পিতাকে দেখেছে৷ তোমরা কি করে বলছ, ‘পিতাকে আমাদের দেখান?

অর্থাৎ এবার যীশু প্রকাশ্যেই তিনি ও তার পিতা ঈশ্বর যে একই ব্যাক্তিত্ব সেটাই দৃঢ়তার সাথে ঘোষনা করছেন। শুধু এটাই নয়, এর পরে কি দৃঢ়তার সাথে যীশু বলছেন –

যোহন-১৪: ১৪: তোমরা যদি আমার নামে আমার কাছে কিছু চাও, আমি তা পূর্ণ করব৷

একমাত্র স্বয়ং ঈশ্বর ছাড়া এ ধরনের কথা কে বলতে পারে ?একমাত্র ঈশ্বর ছাড়া কি কেউ কারও মনোবাঞ্ছা পূর্ন করতে পারে ?

যীশুর ইঞ্জিল নিয়ে কেন এত কথা বলছি ? বলছি একারনেই যে , খোদ মুহাম্মদের সময়কালে খৃষ্টানরা যে ইঞ্জিল শরিফ নিয়ে ঘুরে বেড়াত আর খৃষ্টান ধর্ম প্রচার করত , সেই ইঞ্জিল কিতাবে এইসব ঘটনার কথাই লেখা ছিল। মুহাম্মদের জন্মেরও প্রায় ২৫০ বছর আগে ইঞ্জিল শরিফ পূর্নাঙ্গ কিতাবাকারের রূপ নেয় , যা বর্তমানে আমরা দেখি। মুহাম্মদের আমলে আরবে খৃষ্টান পাদ্রীরা এই ইঞ্জিল কিতাবই মুহাম্মদকে দেখাত , আর মুহাম্মদও এই ইঞ্জিল কিতাব দেখেই কোরানে উক্ত আয়াত ৫:৪৬-৪৭ নাজিল করেছিলেন। তার অর্থ মুহাম্মদ যীশুর এইসব বানীর কথা সম্যক অবগত হয়েই বলেছেন , লোকজন যেন ইঞ্জিল কিতাবের বানীই অনুসরন করে, কারন সেগুলো স্বয়ং ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা হেদায়েতের বানী।

কিন্তু কেন মুহাম্মদ ইঞ্জীল কিতাবকে অনুসরন করতে বলছেন ? সেটাও বলা আছে কোরানে –

সুরা আল আহকাফ- ৪৬:৯: বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।

অর্থাৎ মুহাম্মদের কোনই ক্ষমতা নাই , এমন কি তিনি নিজেও জানেন না , পরকালে সেই বিচার দিনে ঈশ্বর তার সাথে কিরূপ আচরন করবে। অর্থাৎ নিজেই নিশ্চিত না যে তিনি বেহেস্তে যেতে পারবেন কি না। অথচ সেখানে যীশু নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে , যে কেউ তাকে ত্রাণকর্তা রূপে গ্রহন করবে , তাকেই তিনি বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন। যে কোন মানুষের মনোবাঞ্ছা পুরন করার পূর্ন ক্ষমতা তার আছে। যার সোজা অর্থ – যীশুর কাছে মুহাম্মদ বড়ই অসহায়। এমন কি স্বয়ং যীশুই সেই বিচার দিনে মুহাম্মদের বিচার করবেন , কারন ইঞ্জিল কিতাবের বয়ান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে , যীশুই স্বয়ং মানুষ রূপধারী ঈশ্বর। ঈশ্বর , ঈশ্বরের পূত্র যীশু ও পবিত্র আত্মা বিষয়ক আলোচনা এখানে করা হবে না , কারন সেটা এক ভিন্ন বিষয়। অন্য কোন নিবন্ধে সেটা আলাপ করা যাবে , আর দেখা যাবে ঈশ্বর , ঈশ্বরের পূত্র যীশু ও পবিত্র আত্মা এদের মধ্যে কোনই তফাৎ নেই। তারা এক। মুহাম্মদ সেটা জানতেন , আর জানতেন বলেই আকার ইঙ্গিতে কোরানে সেটা প্রকাশ করে দিয়েছেন। কিন্তু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মুমিন বান্দারা তাদের বিবেক ও বুদ্ধিকে ভোতা করে ফেলেছে। তারা আরবি কোরান তোতাপাখির মত পড়ে কিন্তু অর্থ জানে না , আর ইঞ্জিল শরিফ তো হারাম জ্ঞান করে সেটা স্পর্শও করে না। অথচ কোরানই বলছে তাদেরকে ইঞ্জিল শরিফ পাঠ করতে। কিন্তু বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মুমিন , সেসবের ধার ধারে না।

এই যখন সার্বিক অবস্থা , তখন গোটা দুনিয়ার মুমিন বান্দারা যে আসলে শয়তানের কবলে পড়েছে , সেটা কি বুঝতে আর বাকী আছে ? শয়তানের কবলে পড়ে , তারা নানা দল উপদল গঠন করে , সকল রকম সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে নিজেদের জীবন নস্ট করছে , আর সাথে সাথে বাকীদের জীবনও নষ্ট করার মহা শয়তানীতে লিপ্ত। শয়তান তাদের মস্তিস্ককে দখল করে , গোটা দুনিয়ায় একটা শয়তানের রাজত্ব কায়েমের পায়তারা করছে। শয়তানের কবল থেকে মুমিনেরা যদি বাচতে চায়, তাহলে এখনই তাদেরকে যীশুর শিক্ষা অনুসরন করা আবশ্যক , তাহলেই তারা রক্ষা পেতে পারে , অন্যথায় ,তাদের ওপর গজব নেমে আসতে আর বাকী নেই।

৫ thoughts on “মুহাম্মদ আসলে খৃষ্টান ধর্ম অনুসরন করার কথাই বলে গেছেন

  1. মুহাম্মদ আসলে খৃষ্টান ধর্ম

    মুহাম্মদ আসলে খৃষ্টান ধর্ম অনুসরন করার কথাই বলে গেছেন

    নাস্তিকতা ছেড়ে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহন করলেন আবার কবে থেকে? অবশ্য নাস্তিকতার চাইতে খৃষ্টান বেটার। আর যাই হোক তারা তো আহলে কিতাব।

  2. কোরান যা বলেছে , সেটাই প্রকাশ
    কোরান যা বলেছে , সেটাই প্রকাশ করলাম মাত্র, আমার আবার খৃষ্টান ধর্ম গ্রহনের কথা আসছে কোথা থেকে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *