পাহাড়ের ফুল বিজু, চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ

পাহাড়ের ফুল বিজু,চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ ।
প্রথমেই বলে রাখি আমি রাঙ্গামাটির ছেলে।
ফুল বিজুর দিনের মানে হচ্ছে বসন্তের ফুল দিয়ে ঘর সাজানো।এর আগে যা যা করা হয় তা হচ্ছে ,ঘরকে বছরের শেষ বারের মত পরিস্কার করা ।পুরনো বছরের অনেক কিছুই বদলে দিয়ে নতুন করে সাজানো হয় ।হিন্দু বাড়িতে জাঁক দেয়া হয়।
বসন্তের বিভিন্ন ফুল দিয়ে ঘরের সবকিছুই সাজানো হয়।আগে একসময় ফুল নিজেরাই সংগ্রহ করতাম । এখন কালের পরিবর্তনে ফুল কিনে আনা হয় ।কিনে আনার মধ্যে নিজেরা সংগ্রহ করার আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায় না ।
আগে ফুল সংগ্রহ করার জন্য দল বেঁধে খুব ভোরে পায়ে হেঁটে বা গাড়ি নিয়ে কত জায়গায় যেতাম ।এখন আর সে দিন নেই ।
চৈত্র সংক্রান্তির পাঁচন ।পাঁচন জিনিষটার সাথে আশা করি সবাই পরিচিত ।
এই পাঁচন দিয়ে পুরনো বছরকে বিদাই জানানো হয় ।
চৈত্র সংক্রান্তির আরও কিছু জিনিষ ছিল যা আজ বিলুপ্তির পথে ।
নারু ,আটকড়াই ,খই মিটাই ।এখন আর কেউ এইসবের ঝামেলা করতে চাই না ।
আমি নিজেও কিন্তু ছোটকাল থেকে এইসব জিনিষ মুখে নিতাম না ।
দেখে আনন্দ পেতাম।এখন এইসব শুধু স্মৃতি ।খুব মিস করি সবসময় ।এই সময়গুলোতে আমি কখনো রাঙ্গামাটির বাইরে থাকতে চাইনা ।
কিন্তু বাধ্য হয়ে বাইরে থাকতে হয় অনেক সময় ।দুইটা কারণ ।এক হালখাতা আর গার্লফ্রেন্ড।বাবা চাপিয়ে দিত হালখাতার ভার আর গার্লফ্রেন্ডের প্যারা ।এই দুই প্যারা নিয়ে পহেলা বৈশাখের দিনটা চিটাগং কাটাতে হত ।
আমাদের পহেলা বৈশাখ মানে পান্তা ইলিশ না ।আমাদের বর্ষবরণ হয় বিভিন্নি মিষ্টান্ন দিয়ে । আর বাড়িতে বিভিন্ন রান্নার আয়োজনতো থাকতোই ।
তারপর হচ্ছে সাংগ্রাই । এই সাংগ্রাই এর সাথে অনেকেই পরিচিত নয় । সাংগ্রাই এর মূল আকর্ষণ হচ্ছে “পানি খেলা“ ।এইটা মূলত মারমা সম্প্রদায়ের হলেও এইটা আমদের জন্য সার্বজনীন ।এইটা কখনো মিস করতাম না ।যে প্রান্তেই হোকনা কেন চলে যেতাম ।পানি খেলাতে সাধারনত নিয়মমাফিক পানি মারামারি নিয়ে একটা প্রতিযোগিতা থাকত ।আর আয়োজনের চারপাশ জুড়ে ছেলে-মেয়ে যে যাকে ইচ্ছে ঢেলে দিচ্ছে পানি । ওদিন সমগ্র জেলা জুড়ে এই পানির আমেজ থাকে ।কাউকে কিছু বলার জো নেই ।রাস্তাই হাঁটলেও গাঁয়ে পানি পরতে পারে ।পানি খেলাই যেতে যেতে কতবার ভিজতাম আর গাঁ শুকিয়ে যেত তার হিসেব নেই ।সবার হাতে হাতে একটা পানির বোতল থাকত ।পানি মার যাকে খুশি ।সারাদিন হইছই করে সন্ধ্যাই ঘরে ফেরা । আমার স্মৃতিতে সবচেয়ে স্মরণীয় হচ্ছে রাজস্থলীর পানিখেলা ।অদ্ভুত সেই রাস্তাই বাইকের অভিজ্ঞতা ।
এই হচ্ছে আমার পহেলা বৈশাখ । পান্তা-ইলিশের চেয়ে হাজার গুন ভাল বলতেই হবে । আবার গার্লফ্রেন্ডের জন্য পান্তা-ইলিশ বৈশাখও পালন করতে হয়েছে ।

সবার বর্ষবিদাই এবং বর্ষবরন সুন্দরভাবে কাটুক এই কামনা করি ।
ভাল থাকুন,সুস্থ থাকুন ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *