মানুষ হত্যা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধর্মীয় মৌলবাদীগোষ্ঠী

কয়েক মাস আগে ভারতে এক মুসলমান পরিবারকে গরুর মাংস কেনার অপরাধে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখা গেছে, সেই পরিবারটি গরুর মাংস কিনে নি। অপপ্রচার চালিয়ে উন্মাদনায় হত্যা করা হয়েছে। ঠিক সেইভাবে বাঙলাদেশেও অপপ্রচার চালিয়ে দশকের পর দশক হিন্দু পরিবারদের হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে ফেলা, জমিদখল, দেশত্যাগে বাধ্য করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধর্মের আগুনে জালিয়ে মারে নিরাপরাদ মানুষদের।

লাভ কী হয় মানুষ মেরে? ধর্মের কী কোন উপকার হয়? একদল মূর্তি পূজা করে দেখে অন্যদল হাস্যরসে মেতে উঠে। উন্মাদনায় মূর্তি ভেঙে স্রষ্টার সান্নিধ্য পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকে। অন্যদলও অদৃশ্য স্রষ্টার জিকির দেখে হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকে। আক্রমণ করে ভেঙে ফেলে কখনো মসজিদ, কখনো জ্বালিয়ে দেয় সম্পূর্ণ পরিবারকে। আগুনে পুড়িয়ে কীভাবে স্রষ্টার খেদমত করা হয়? মানুষের মাঝে বিভেদ করেছে ধর্ম। এবং সেই ধর্মের উন্মাদনায় পৃথিবী হয়েছে রক্তাক্ত।

বাঙলাদেশে যেমন সংখ্যালঘু, অবিশ্বাসীদের হত্যা করার জন্য অসংখ্য জঙ্গিবাহিনী প্রস্তুত আছে; ঠিক তেমনই ভারতেও হিন্দু মৌলবাদীরা একটি বাহিনী গঠন করে ফেলেছে। তারা বলেছে, যখন আইএস তাদের দেশে আক্রমণ চালাবে তারা চুপ থাকবে না। মুসলমানদের হত্যা করবে। সেই যুদ্ধে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে। হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন স্ববিমান ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যর ঘাজিয়াবাদ জেলায় কয়েকটি স্থানে ট্রেনিং দিচ্ছে। বাঙলাদেশে যেমন মাদ্রাসার ছোট ছোট্ট কমল বাচ্চাদের মনে বিধর্মীদের প্রতি বিদ্বেষপোষণ করানো হয়; ঠিক তেমনই Saffron Army ৮ বছর বয়সী বাচ্চাদের শেখাচ্ছে, মুসলমানদের কাছ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

কিন্তু ঘটনা হচ্ছে, এমন একটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা কী জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে, আইএস ২০২০ সালের মধ্যে ভারতকে দখল করার যে ঘোষণা দিয়েছে তার প্রেক্ষিতে এই সংগঠনটি খুবই জরুরি। আমাদের কার্যক্রম কারো চোখে ভুল লাগতেই পারে কিন্তু মুসলমানরা যখন শুধু নিজেদেরই প্রাধান্য দিয়ে সব কিছুকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা দেয় তখন তো সাধারণ মুসলমান কোন প্রতিবাদ করে না। অর্থাৎ, মুসলমানরা যে ভুল করছে, সেই ভুলকে এই হিন্দু মৌলবাদীরাও প্রাধান্য দিয়ে আরেকটি ভুল করতে যাচ্ছে।

মানুষ হত্যা করে কীভাবে ধর্ম প্রতিষ্ঠা হয়? একটি ভুলকে প্রাধান্য দিয়ে আরেকটি ভুলকে প্রশ্রয় দেয়া কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়? পৃথিবী হোক মানুষের। ধর্ম থাকুক ব্যক্তিগত।

১ thought on “মানুষ হত্যা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ধর্মীয় মৌলবাদীগোষ্ঠী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *