মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনিতিকরা শিশু-কিশোরদের জন্য ভয়ানক হয়ে দাড়িয়েছে

মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকরা শিশু-কিশোরদের জন্য ভয়ানক হয়ে দাড়িয়েছে

মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকরা নিজেদের দলে নিজ স্থানকে উন্নত পর্যায়ে নিতে ও অবস্থান কে আরো সুসঙ্ঘটিত করার জন্য কি না করে। সাধারণত দলের নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাদেরকেই টাকা দিয়ে জনবল উপস্থাপনের গুরু দায়ীত্ব প্রদান করে।
বিভিন্ন ঘরোয়া মিটিং এ মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকদের কে দলের নেতারা একটি জিনিষই বেশী জোর দিয়ে বোঝায় সেটা হল জনবল তৈরী করতে।

মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকরা শিশু-কিশোরদের জন্য ভয়ানক হয়ে দাড়িয়েছে

মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকরা নিজেদের দলে নিজ স্থানকে উন্নত পর্যায়ে নিতে ও অবস্থান কে আরো সুসঙ্ঘটিত করার জন্য কি না করে। সাধারণত দলের নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচীতে তাদেরকেই টাকা দিয়ে জনবল উপস্থাপনের গুরু দায়ীত্ব প্রদান করে।
বিভিন্ন ঘরোয়া মিটিং এ মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনীতিকদের কে দলের নেতারা একটি জিনিষই বেশী জোর দিয়ে বোঝায় সেটা হল জনবল তৈরী করতে।
আর নেতাদের মন কারতে, চোখে পরার অথবা সাংগাঠনিক পদ প্রাপ্তির জন্য এই রাজনীতিকরা তখন বিভিন্ন কর্মসুচীতে বিভিন্ন ভাবে জনবল নিয়ে আসার চেষ্টা করে। এরফলে এরা কোনো বয়সের কথা চিন্তা না করেই এলাকার শিশু কিশোরদেরকে যারা রাজনীতি সম্পর্কে অবগত না, তাদের কে বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচীতে নিয়ে যায় এমনকি হরতালে পিকেটিং এর মিছিল বা বিভিন্ন সহিংসতার সময় তাদের না বুঝিয়েই তাদেরকে ব্যবহার করা। এই ক্ষেত্রে দারিদ্র শিশুর কিশোরাদেরই বেশী ব্যবহার হতে দেখা যায়। এমনিতেই কিশোরদেরকে অল্পতে সন্তুষ্টি করা যায় এই জন্যই এই পর্যায়ের রাজনীতিকরা তাদের কে সহযেই ব্যবহার করে থাকে।
ছাত্র রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যাবে যে মাঠ পর্যায়ের অনেক রাজনীতিকরা কোন প্রকারের রাজনীতি না বুঝেই ক্ষমতার প্রলভোনে পরে রাজনীতি করতে শুরু করে। এবং এরা বেশীর ভাগই কলেজে ইন্টার পড়ুয়া ছাত্র বা এই বয়সের হয়ে থাকে। তাদের যখন ক্ষমতার জন্য কলেজ ছাড়াও স্থানীয় কেন্দ্রের মেম্বার হয়ে পদাকাংখী হয় তখন তারা তাদের উপরের রাজনীতিকদের খুশি করার জন্য বা চোখে পরার অথবা সাংগাঠনিক পদ প্রাপ্তির জন্য তারা জনবল যোগার করে। তারা তাদের নিজ এলাকার বা পরিচিত ছোটদেরকে যাদের বয়স ৮-১৫ বছর বিভিন্ন কর্মসুচীতে কখনো এক প্রকারের প্রলোভন অথবা জোড় খাটিয়ে নিয়ে যায়। এতে করে একই কিশোররা কখোনো ক্ষমতাসীন দল আবার কখনো বিরোধীদলের কর্মসুচীতে যোগ দেয়। এবং কখনো সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধের মধ্যে ঢুকে পরে।
এদের মধ্যে ঝড়ে পরা কিশোরদের সংখ্যা থাকে বেশী। যারা হত দরিদ্র ঝড়ে পরা কিশোর তাদের কে একটুতেই সন্তুষ্টি করা যায়। এবং এরা সহিংসতায় থাকতেও পরোয়া করেনা।
এরফলে ছাত্র রাজনীতিতে ছাত্র ছাড়া ঝড়ে পরা যুবকদের ই বেশী দেখা যায়।

একটি ঘটনা বলা যাকঃ
হরতালের আগের (২২.০৪.১৩) দিনের ১টি ঘটনা!!
স্থানঃ রাজশাহীর হাতেম খান সবজি পাড়া এলাকা।

হরতালের আগের দিন সন্ধ্যায় বিএনপির মিছিল শেষে ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের ৮-১০ জনের একটি গ্রুপ নিজ এলাকার দিকে ফিরবে। এমন সময় ওই গ্রুপেরই এক জন অন্যদের উদ্দেশ্যে মুখ খারাপ করে এবং বলে- “আর মিছিলে অ্যাসব না।” এমন সময় মিছিলে অংশগ্রহণ করা একই বয়সের আর একটি গ্রুপের একজন ছেলের এই কথা টি কানে যাওয়ায় সে ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্য গ্রুপের ছেলেটিকে বলে- ” কি বললি বে, তুই আসবিনা আসবিনা মুখ খারাপ করে চিল্লাছিস ক্যান??”
১ম জন- আমিতো আমার ফ্রেন্ড দের কে বুলেছি তো তুই চিল্লাছিস ক্যান। টাকা ঠিক মত না দিলে আসব ক্যান। সেদিন শিবিরের মিছিলে গেছিলাম টাকাও দিছে মাল ও দিছে আবার ভাইয়েরা খাওয়ায়ছে কিন্তু আজকে আমাদের কে ৫০ টাকা করে দিবে বলে সালারা …….(ব্যপক মুখ খারাপ করে) …. … সবাই কে মোট ৫০ টাকা দিছে। তো বাল ছিরতে আসব নাকি।

২য় জন- আবার সালা চুতমারানি, ভাই দের কে গ্যাল দিছিস।

১মজন- গ্যাল দিবো নাতো গুদ মারানীদের ধোন চুষে দিব নাকি??
২য় জন – কি বললি??

দিয়েই এলোপাতারি কিল ঘুষি শুরু। বেধে গেলো সংঘাত দুই গ্রুপের মধ্যে।
১ম জনের এলাকা একটু দূরে হউয়ায় বেধরক মার খেল ১ম গ্রুপের ছেলেরা।
অতঃপর পালিয়ে গেল।
কিছুক্ষন পর ওরা আরো ছেলেপেলে ও দেশিয় অস্ত্র, ককটেল নিয়ে হাজির ঠিক হাতেম খান গোরস্থানের দিকে।
অপজিট এলাকার ভেতরে ঢুকে মারবে এই রকম ১টা পরিস্থিতি।
অবস্থা বুঝতে পেরে অপজিটরাও ইট নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করে।
এমন সময় একজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেরে চলেযায়, পরে পিছে তাকিয়ে দেখে তার দলের ছেলেরা অনেক পিছে। তখন বুঝতে পারে যে তার জীবন হয়ত বিপন্ন হতে যাচ্ছে ইটের আঘাতে।তার সামনে অনেক জন ইট নিয়ে ইট ছুড়ছে।জানের ভয় না করে সে অস্ত্র চালাতে শুরু করে। অপজ়িট দল ভয়ে আর সামনে আগায় না। তখন সুযোগ পেয়ে পালিয়ে আসে। এসে দেখে ততক্ষনে তার শরিরে রক্ত ঝড়ছে।
অতঃপর আবার দুপক্ষের মধ্যে আবার ইটের ঝড় শুরু হয়। তারা কখন কোন স্লোগান দিচ্ছে তা ঠিক নাই। কখনো শিবিরের “নারায়ে তাকবীর/ আল্লাহু আকবর” আবার কখনো বিএনপির বিভিন্ন স্লোগান।
এই সময় পুলিশ ও র‌্যাব আসলে, ফাকা গুলি ছুড়ে। পুলিশকে দেখে ওরা আবার স্লোগান দেয় “জয় বাংলা” !!!!
কিছুক্ষনের মধ্যে উক্ত স্থান ফাকা করে দেয় পুলিশ।
পরদিন প্রথম জনের পক্ষ বিভিন্ন ভাবে জানতে পারে যে অপজিট দল নাকি তাদের এলাকায় মারার জন্য আসবে তাই তারা আবার আজও (২৩.০৪.১৩ )তারা সঙ্ঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হউয়ার চেষ্টা করে।

(এই ঘটনাটি ১জন ঝরে পরা বালকের কাছে থেকে শোনা যে এই ঘটনার সাথে পুরোপুরি ভাবে সম্পৃক্ত এবং সাথে ১ জন প্রত্যক্ষদর্শিও ছিলো যিনিও ঘটনার বর্ণনা দেন। উক্ত এলাকার ১ দোকানে চা পান করতে গিয়ে, বালকের বিশাল ক্ষত দেখে জিজ্ঞেস করলে ঘটনাটি বর্ণনা করে )
……………..
এই ঘটনার দিকে তাকালে দেখা যাবে
** গ্রুপ গুলোকে স্থানীয় বড় ভাইয়েরা টাকার প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
** যাদের উদ্দেশ্য ছিলো বড় একটা জমায়েত দেওয়া এবং নেতাদের চোখে পরা, যা নিজেদের ই স্বার্থ।
** তাদের কথা শুনেই বোঝা যায় যে,তারা সকল রাজনীতিক দলেরই কর্মসুচীতে অংসগ্রহণ করে। তাই কখনো তারা বিএনপি, কখনো আওয়ামিলীগ, কখনো বা জামায়াত।
** তারা কোন কারন ছাড়াই সঙ্ঘাতে জড়িয়েছে।
** তারা ক্ষমতার (ইগো) জন্য অস্ত্রও ধড়ছে।
** ঘটনার বালকের কাছে শুনতে পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ে তাদের কে ককটেল দেওয়া হয়েছে পিকেটিং এর জন্য। কিন্তু বেশ কয়েকটা তারা সংরক্ষন করে রেখে দিয়েছে। যা অন্য সময়ে কাজে লাগবে বলে সে বলেছে।
তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কি কাজে লাগবে???তখন বলে এই যে আমাদের সাথে এইরকম মারামারি লাগলে। আমরা ফাটাতে পারব। সে পড়াশোনা করে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে বলে,এই বছর ৮ এ উঠতাম কিন্তু এইবার আর স্কুলে ভর্তি হইনি। তাকে তার বাসা কোথায় জিজ্ঞেস করা হলে সে একটু ভয় পেয়ে চলে যায়।

*** তাহলে কি দেখা যাচ্ছে। বড় রাজনীতিকরাই এমনিতে প্রভাব ও স্বার্থ এর জন্য কাজ করেনা এভাবেই নিচ থেকে শিখে শিখেই উপরে উঠে একি কাজ করে।
*** আর এই ধরনের শিশু কখনো বড় মাপের রাজনীতিক হয়না। এরা বেশীর ভাগই গ্রাম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। এবং বেশীর ভাগই ব্যবহারিত হচ্ছে।
*** আর এখন এই শিশুগুলোকে হরতালে পিকেটিং এ বেশী ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের একটি বড় অংশ জাতির সম্পদ না হয়ে বোঝা হয়ে তৈরী হচ্ছে।

৪ thoughts on “মাঠ পর্যায়ের সাংগাঠনিক পদহীন রাজনিতিকরা শিশু-কিশোরদের জন্য ভয়ানক হয়ে দাড়িয়েছে

  1. এই হচ্ছে আমাদের নোংরা
    এই হচ্ছে আমাদের নোংরা রাজনীতির চিত্র। কি বলব? কাকে বলব? বললেই বলবে- ব্লগাররা বেশী বুঝে। অথচ দেশে হাজারে হাজারে এনিজিও আছে সংগঠন আছে যারা মানবাধিকার এবং শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে। এসব ব্যাপারে তারা মুখে কুলুপ এঁটে থাকে। মূলধারার মিডিয়াতেও এসব থাকে উপেক্ষিত। অথচ এই শিশু কিশোরই দেশের ভবিষ্যৎ।

    অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় তুলে ধরেছেন। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আমাদের লিখে আর কি হবে ভাই,
      আমাদের লিখে আর কি হবে ভাই, আমাদের কথা কয়জন শোনে ব্লগের মাঝেই সীমাবদ্ধ যখনই বাইরে প্রকাশ পায় তখনই আমরা তো ধর্ম পালন করেও নাস্তিক। কতিপয় ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতিটা ক্ষেত্র ধরাসয়ী। তারা এই শিশুদের কেউ ব্রেন ওয়াস করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে একটু ও কার্পন্য করেনা। মাঝে মাঝে নিজেকে বড় অভাগা মনে হয় এই কুৎ্সিত চরিত্র গুলা দেখে।

      ধ্ন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *