হতচ্ছাড়া কথন ০১

জেলের মধ্যে বিষন্ন সময় কাটছে ঠগ্রুল ইসলামের। মন মেজাজ ভালো না খুব একটা, হরতালে খুব একটা মুক্তির চিঁড়া ভিজতেছে না। যতই দিন গড়াচ্ছে মনে হচ্ছে “ইসলামাবাদ দূর কাবুল হনুজ অস্তঃ”। কারারক্ষী এসে জানালো বৈকালিক হন্টনের সময় হয়ে গেছে। সেলের পাশেই মোটামুটি একটা খোলা জায়গা, পাশেও দেখলেন অনেকেই হাঁটছে গুটুরগুটুর গল্প করতে করতে। কতকাল গল্প করেন না তিনি ভাবতে ভাবতে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, আজ অনেক গরম তাই না? কয়েদি ঘাড় নাড়িয়ে উত্তর দিল, কিছুটা। সেইসাথে দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালো ” এই গরম যুদ্ধাপরাধীদের বাচানোর একটা ষড়যন্ত্র”।

ঠগ্রুল ইসলাম কিছুটা চমকে ইউরেকা পাওয়ার ভংগিতে বললেন, ” এই গরম আল্লাহর নেয়ামত, গরম আরো বেশী পড়ুক”।

কয়েদি মেজাজ খারাপ করে জিজ্ঞেস করল “কেন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হবে?’ আমরা শান্তি চাই, ঠাণ্ডা চাই”

“কি বলেন? সাঈদীর মতন একজন ইসলামের সেবক’কে জালেমদের হাত থেকে বাঁচাতে চান না?”

“সাঈদী আবার ইসলামের সেবক হইলো কেমনে, ও খাঙ্কির বাচ্চাতো ৭১ এ মানুষ হত্যা, মানুষের ঘর বাড়ি লুটপাট, আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যেত, নিজেও ধর্ষন করতো”।

ঠগ্রুল ইসলামের ভারী মেজাজ খারাপ হইলো। কোন বাল ৭১ এ কি করছে না এই নিয়া এইসব বখে যাওয়া পোলাপান বসে আছে। তারপরেও মেজাজ শান্ত করে বললেন, “আপনি কি জানেন, সাঈদী একই সাথে একজন এস্ট্রোনেট এবং জীব বিজ্ঞানী। ও এক মাত্র নভোচারী যাকে চাঁদ থেকে পৃথিবীর হাজার হাজার মানুষ সরাসরি খালি চোখে দেখেছে। উনি পৃথিবীর ৯ম আশ্চর্য যিনি আবিষ্কার করেছেন পেংগুইন উড়ে, ডিম দেয় এবং হাগু শেষ করে বরফ ডলে ডলে শৌচকার্য সম্পাদন করে। তিনি পৃথিবীর নবমাশ্চর্য”।

কয়েদি হাসতে হাসতে বলল- “এই সব আপনি কই পাইছেন? এইগুলান কি সম্ভব নাকি?

ঠগ্রুল ইসলাম আশ্চর্য হয়ে বললেন, “কেন সাঈদীর ওয়াজ আপনি দেখেন নাই? উনি নিজ মুখে সেদিন হাজার হাজার মানুষকে বলেছিলেন। পেংগুইন দেখতে নাকি অনেক সুন্দর কোর্ট পরা সৌদি প্রিন্সের মতন মাশাল্লাহ।

“আচ্ছা এই আলাপ বাদ, নবমাশচার্য না হয় সাঈদী, কিন্তু অষ্টম’টা কে?”

ঠগ্রুল জ্বালাময়ী ভংগিতে বললেন, ” জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখার ভারপ্রাপ্ত বেগানা নারী সংস্থার সভাপতি আপোষহীন নেত্রী এক কালের ক্যাটরিনা কাঈফ বেগম গুলাপী।”

” বেগানা নারীর সামনে আপনারা পরপুরুষ গেলে গুনাহ হয় না? ইসলাম তখন কোথায় থাকে?

” তুমি একটা বোকা ছেলে, অশিক্ষিত। অশিক্ষিত বলেই জেলে এসেছো, নইলে এখন অফিসের ঠাণ্ডা হাওয়া খাইতা। গরম পড়ছে বইলা দীর্ঘশ্বাস ফেলতা না। শুনো বোকা ছেলে, কুড়িতেই বুড়ি, আমাদের ম্যাডামের সেই হিসাবে ডেট এক্সপায়ার্ড হয়ে গেছে, তিনি এখন কিংবদন্তী, তাকে দেখা জায়েজ আছে।”

“এই জন্যই আপনি টুগ্রুল ইসলাম হতে পেরেছেন, হয়েছেন ডেট এক্সপায়ার্ড মালের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। ” ফোড়ন কেটে উঠল কয়েদি।

খেপে গিয়ে শরীর ঝাঁকাতে লাগলেন টুগ্রুল, চশমাটা নাকের ডগা বেয়ে পড়ে যাচ্ছিল, পতন কোনমতে ঠেকিয়ে বললেন, ” জেলখানায় ভালো মানুষ আসে না, তুমি নিশ্চয়ই চুরির মামলা খাইচো, নাইলে ডাকাতি কইরা এইখানে আসছো। বেয়াদপ ছেলেপেলে। ”

“আমি লিখালিখির জন্য ধরা খাইছি”

“তাইলেতো তুমি আরো ঘাগু মাল, ব্যাংকের চেক লিখতা নাকি?”

“নাহ ইন্টারনেটে লিখতাম”।

” প্রধানমন্ত্রীরে গাইল দিছিলা নাকি তাইলে? কবে যেন শুনছিলাম, কে একজন গাইল দিয়া ধরা খাইছে। সেইটা তুমি নাকি? চোখমুখ চকচক করে বললেন ঠগ্রুল ইসলাম।

“আরে নাহ, আমি ব্লগার।”

“তাই তো বলি তুমি এত বেদ্দপ কেন। কত করে বলছিলাম মঞ্চ ফঞ্চ বাদ দিয়া বাড়িতে গিয়ে লঞ্চ চালানো শিখুক। বেগম গুলাপী ক্ষমতায় আসলে দেশ উন্নয়নের জোয়ারে ভাসবে। লঞ্চ চালানি না শিখলে সেই জোয়ারে বাঁচবি কি করে। ‘

“জনাব ঠগ্রুল আপনি এইখানে এসেছেন- এই দেশের স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির সাথে আঁতাত করে, মানুষের গাড়িতে আগুন দিয়ে, মানুষ খুন করে। আমি এসেছি তাদের সাথে লড়াই করে, রাজাকারমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য লেখালেখি করে গ্রেপ্তার হয়ে।”

“তোমরা আমাদের দলে যোগ দাও। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিএনপি শাখায় আছে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। যিনি একজন হিন্দু হয়েও ভালোবেসে শিবির করেছেন। এর চাইতে অসাম্প্রদায়িক দল তোমরা আর কই পাবে।” আহলাদ করতে করতে বললেন জনাব ঠগ্রুল।

কয়েদি উত্তর দিল- ” টেন পার্সেন্টে বিশ্বাস করি না, আমরা হতচ্ছাড়ারা একশভাগ খাটি বাংলাদেশী।”

১১ thoughts on “হতচ্ছাড়া কথন ০১

  1. “সাঈদী আবার ইসলামের সেবক হইলো

    “সাঈদী আবার ইসলামের সেবক হইলো কেমনে, ও খাঙ্কির বাচ্চাতো ৭১ এ মানুষ হত্যা, মানুষের ঘর বাড়ি লুটপাট, আমাদের মা-বোনদের পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যেত, নিজেও ধর্ষন করতো”।

    সাইদী সাবের কলিজু আপনারে পাইল্যে……চমৎকার লিখেছেন।আরো আসবে নাকী?অপেক্ষায় রইলাম।

  2. চমৎকার স্যাটায়ার। আশাকরি
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    চমৎকার স্যাটায়ার। আশাকরি নিয়মিত লিখবেন। ইস্টিশনে একজন চমৎকার স্যাটায়ার ব্লগার আমরা পাচ্ছি বলেই মনে হচ্ছে।

  3. লেখাটা ভালো লাগছে। অফুরন্ত
    লেখাটা ভালো লাগছে। অফুরন্ত হাসির খোরাক দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি অলস মানুষ পোষ্ট পড়েই ভাগি, কিন্তু আপনাকে কমেন্ট না দিয়ে পারলাম না। আশা করি চালিয়ে যাবেন। :থাম্বসআপ:

  4. চমৎকার স্যটায়ার। পড়ে খুব মজা
    চমৎকার স্যটায়ার। পড়ে খুব মজা পেলাম। আশা করি এইরকম লেখা আরো পাবো। শুভেচ্ছা রইল।

Leave a Reply to ফজলে রাব্বি ইফরান Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *