শেষ চিটি

প্রিয় সুকো,

ভালবাসা নিও। আজ একটি চিটি লিখতেই হচ্ছে ঠিক তোমারই কাছে। রাগ করবে না কথা দাও! তুমি তো জান তুমি রাগ করলে আমি কতটুকু কষ্ট পাই। দুই কি তিন পার হল তোমার -আমার চিন্তিত, জানান্ত আবেগঘন- বিবেকপ্রবন প্রেম পরিচিতি। কতটুকু ভালবাসি ভা বেসেছ তা আর উল্লেখ করে লজ্জিত করতে চাই না। তুমি তো জানই আমি এখনো পর্যন্ত বেকার এক ছাত্রই রয়ে গেলাম, কিন্তু কথা ছিল না। সূচনালগ্নে কথা ছিল একটি কুডে ঘর বাধার, তা বোধহয় আর হবে না। তুমি তো জান তোমার মা- বাবা তোমার বিয়ে দেওয়ার জন্য উটে- পডে লেগেছে, অবশ্য তোমার সুখের কথা চিন্তা করেই বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে। আমি ও চাই আমার ভালবাসার বিনিময়ে হলেও তোমার পরিবারসহ, তোমার ও ইচ্ছা পূরন হোক। একটি কথা মনে পড়ছে, তোমার স্বপ্ন ছিল বড় লোক একটা স্বামী পাওয়া এবং তোমাকে ভরপুর করে রাখার মত একটা পরিবার পাওয়া। এবার পূরন হবে, তাই না? জানি এই সব কথাগুলো আমার সাথে রাগ করেই তুমি বলতে, শুধু আমি বেকার ছিলাম বলে। এই শোন না, তুমি যখন রাগ করতে আমার অনেক হাসি পেত। কেন বল তো? ঐ যে হটাৎ করে আবার তোমার রাগ ভেঙে যেত বলে। কি হাস্যকর না? জানি তুমি সহজে আমাকে ভূলতে পারবে না, এরপর ও সামগ্রিক কথা ভেবে মনে কর আমি তোমার কল্পনায় ছিলাম মাত্র। কিছু করার নেই সুকো, সুখে থেক, চেষ্টা কর। আচ্ছা তুমি যখন সবাইকে কাদিয়ে শ্বশুরগৃহে চলে যাবে তুমি কাদবে না? কেদ না কিন্তু। ওকান থেকে মাঝে মাঝে আমাকে ফোন দিও, কেমন আছি জেন! সুকো জান আমরা চুরি করে ঐ যে রিকশায় করে ঘুরে বেডাতাম আর তুমি কলেজ ফাকি দিয়ে আমার সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দিতে তা আমার সবসময় মনে পডে। ভাবলাম এখন থেকে আমি আর রিকশায় উটব না এবং তোমার কলেজের সামনে ও যাব না, কারন তো জানই আমি কষ্ট সহ্য করতে পারি না। আচ্ছা এইসব কেন বলছি। শোন তোমার বিয়েতে আমি কি গিফট দিব তা বুঝতে পারছি না, যাই হোক আমার ছোট ভাইটির দিয়ে আমি পাটিয়ে দিব। এই একদম কাদবে না কিন্তু! একটা অনুরোধ রইল পারলে রেখ, তোমার মনে আছে আমরা প্লান করেছিলাম আমাদের বিয়ের পরে আমাদের ছেলে মেয়ের নাম কি হবে? এখন তো আর আমার সাথে তোমার বিয়ে হচ্ছে না। তোমার যখন বাচ্চা হবে তোমার স্বামীকে বলে পারলে ঐ নাম গুলো রেখ। হাতটা ব্যথা করছে, আর পারছি না। ভাল করে থেক, খাওয়া-দাওয়া কর এবং নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিও, একদমই চিন্তা করবে না, তুমি যাকে বিয়ে করছ সে খুব ভাল ছেলে, আমি খবর নিয়েছি। আজ নিজেকে বড়ই নির্বোধ, ব্যার্থ মনে হচ্ছে সুকো। ঐ যে বললাম মাঝে মাঝে ফোন দিও। আর এই চিটিটা পড়ে পানিতে ভিজিয়ে ছিড়ে ফেলে দিও। এটা ও তো তোমার আইডিয়া ছিল, কেউ যাতে চিটির লেখাগুলো পড়তে না পারে। উন্নতি এবং সুখ, সাফল্য কামনা করেই শেষ বিদায় নিচ্ছি। ভাল থেক প্রিয়।

ইতি
অভিশপ্ত শিপ্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *