বড়ই অনুভুতিপ্রবণ আমরা।

আমরা বিশাল অনুভুতিপ্রবণ,প্রচন্ড ব্যাক্তি পুজারী,ইশ্বর পুজারী।আমাদের সেন্টিমেন্ট এতই প্রখর আমরা পারিনা আমাদের পরম পুজনীয় ইশ্বর কিংবা ব্যাক্তিটির সমালোচনা এক বিন্দু সহ্য করতে।সুযোগ পেলেই চাপাতি,অস্ত্রহাতে সমালোচনাকারীকে খুন করতে উদ্যত হই। মৌলবাদ আমাদের মগজেই।

আমরা এমন জাতি যে খেলার সমর্থন নিয়ে মানুষ খুন করে ফেলি।মানুষের প্রাণ আমাদের কাছে অতি নগণ্য।

ক’দিন আগে চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির হবেন নাকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী হবেন এনিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে বলি হলো এক প্রাণ।

একপেজে “নাজিমুদ্দীন সামাদ – সত্য উন্মোচন” শিরোনামে একটা লিখা পেলাম।https://justpaste.it/shahbaghi_nazim

প্রথমে চোখ আটকে গেলো এখানে:
“শাহবাগী ইসলামবিদ্বেষী ব্লগারদের দ্বারা সংঘটিত নবী সঃ এর অবমাননার প্রতিবাদে ২০১৩ সালের ৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় হেফাযতে ইসলামের ঐতিহাসিক লংমার্চ।
…..২০১৩ এর ৬ এপ্রিলের ঠিক তিন বছর পর, ২০১৬ এর ৬ এপ্রিল ঢাকার সূত্রাপুরে হত্যা করা হয় নাজিমুদ্দীন সামাদ নামে এক যুবককে।”

এরপর “শাহবাগী মুক্তমনা নাজিমুদ্দীনের ভয়ঙ্কর ইসলামবিদ্বেষের নমুনা” একটা প্যারা পেলাম যেখানে লিখা আছে-
“নাজিমুদ্দীন তাঁর ফেসবুক আইডির বিভিন্ন লেখা এবং পোষ্টে ক্রমাগত, মহান আল্লাহ, তাঁর কিতাব, নবী সঃ, এবং ইসলামের বিধিবিধানকে অশ্রাব্য-অশ্লীল ভাষায় আক্রমণ করেছে। এই “মহান” কলমযোদ্ধা শাহবাগী বিপ্লবীর ইসলামবিদ্বেষের কিছু নমুনা পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলঃ
এই অভিশপ্ত নাজিমুদ্দীন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার নাম বিকৃত করেছে।”

নাজিমুদ্দিন সামাদের কতগুলো স্ক্রিনশট আন্ডারলাইন করা আছে তার বেশির ভাগেই দেখলাম “আল্লা ফাক” শব্দটাকেই হাইলাইট করা।

শুধুমাত্র “আল্লা ফাক” শব্দ ফেসবুকে লিখার জন্য একটা মানুষকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করতে হবে?একটা মানুষের জীবন এতই সস্তা!?

অথচ ছোটবেলা থেকেই আমরা দেখে শুনে আসছি নবী অনেক মানবিক ছিলেন। উনার এই বিখ্যাত গল্পটা অনেকেই শুনে থাকবেন-
“গল্পটা মহানবী আর এক ইহুদী বুড়ির গল্প। এক ইহুদী বুড়ি রোজ মহানবীর নামাজে যাবার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো, মহানবী নামাজে সিজদা করার সময় পিঠে উটের নাড়িভুঁড়ি চাপিয়ে দিতো, নানান অত্যাচার করতো, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করতো। কিন্তু মানবদরদী মহানবী তাকে কিছুই বলতেন না। একদিন মহানবী দেখলেন, তার রাস্তায় কাঁটা নেই, তিনি তো হতবাক! নামাজ বাদ দিয়েই দৌড়ে গেলেন বুড়ির বাসায়। গিয়ে দেখেন বুড়ি অসুস্থ। এরপরে মানবতাবাদী মহানবী বুড়ির সেবা শুশ্রূষা করলেন, ভাল করে তুললেন। মহানবীর এই মানবপ্রেম দেখে ইহুদী বুড়ি পরে ইসলাম গ্রহণ করলো।”

এমন আরো অনেক গল্প পাওয়া যায় যেখানে নবীকে মানবিক একজন মানুষ হিসাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো।তাহলে যারা নবীর আদর্শকে বুকে ধারণ করে তারা নবীর মানবিকতায় অনুপ্রাণিত হতে পারেনা?কেনো চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারাতে হবে একজন মানুষের?নবীর মতো আপনাদের ব্যবহারেই তো একজন মানুষের অনুপ্রাণিত হবার কথা! মানুষ খুন করলেই কি কাঙ্ক্ষিত স্বর্গ লাভ করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *