কেন সরকার ব্লগার হত্যাকারীদেরকে ধরছে না ?

একটা অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, সরকার ব্লগার হত্যাকারীদেরকে ধরছে না। বরং পাল্টা হিসাবে সরকার প্রধান বা তার মন্ত্রীদেরকে বলতে শোনা যায়, ইসলাম নিয়ে সমালোচনা করা ঠিক না। অর্থাৎ প্রকারান্তরে , সরকার মৌনভাবে বা পরোক্ষভাবে ব্লগার হত্যাকারীদেরকেই সমর্থন করছে।

ইন্টারনেট ও ব্লগারদের কল্যানে , বর্তমানে শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই জানে, খোদ কোরান ও হাদিস বিধান দিয়েছে – যে কেউ নবী মুহাম্মদের সমালোচনা করবে , তার কল্লা কাটা ইমানদার মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদকে যে সমালোচনা করবে , তাকে হত্যা করা হলো ইসলামের বিধান। কিছুকাল আগেও দেখা যেত , কিছু লোক মিন মিন করে বলত – মুহাম্মদের সমালোচনাকারীদেরকে এভাবে হত্যা করার কথা কোরান বা হাদিস কোথাও নেই। সুখের কথা হলো , বর্তমানে এই ধরনের কথা তেমন কেউ আর বলে না। অর্থাৎ সবাই জানে বা জেনে গেছে যে , মুহাম্মদের সমালোচনাকারীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

বর্তমান সরকারের মন্ত্রীসভা ও প্রশাসনে যারা আছে , তাদের প্রায় ৯৫% ই হলো মুসলমান। ইমানদার মুসলমান। ইসলাম তাদের কাছে অন্য সব কিছুর চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ন। তারা ইসলামের জন্যে দরকারে প্রান দিতেও রাজী। আর তারা এতদিনে এটাও জেনে গেছে যে , মুহাম্মদের যে সমালোচনা করবে তার কল্লা কাটা হলো ইসলামের বিধান। সেটা তারা বিশ্বাস করে , মান্যও করে। এর বাইরে কোন কিছু বিশ্বাস করতে তারা অক্ষম। কিন্তু বাংলাদেশ তো বিশ্ব ব্যবস্থার অংশ , দেশের সরকার দাবী করে , তারা গনতান্ত্রিক ও ধর্ম নিরপেক্ষ। সুতরাং আন্তর্জাতিক কিছু বিধি বিধান তো তাদেরকে মান্য করতে হবে, না হলে তো বিদেশী দান খয়রাত মিলবে না , বা পাওয়া যাবে না ব্যবসা বানিজ্যে বিশেষ সুযোগ। বিদেশী দান খয়রাত না পাওয়া গেলে , বা ব্যবসা বানিজ্যে বিশেষ সুযোগ সুবিধা না পাওয়া গেলে , দেশের অর্থনীতির বারটা বাজবে , আর তাতে দেশে দেখা দেবে দুর্ভিক্ষ , মহামারি , আহাজারি। সুতরাং গনতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে নিজেকে গনতান্ত্রিক বা ধর্ম নিরপেক্ষ প্রমান করতে , নানা রকম ধানাই পানাই মার্কা কথা বার্তা বলতে হবে। বলতে হবে , তারা ব্লগার হত্যাকারীদের ধরার জন্যে আদা জল খেয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। কিন্তু বাস্তবে , কাউকেই ধরা হবে না। ধরা যাবে না। কারন সরকারের লোকজন , বা যারা খুনীদেরকে ধরবে , সবাই মুসলমান আর তারা এটাও মানে যে মুহাম্মদের সমালোচনাকারীর শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সুতরাং তারা কিভাবে ব্লগার হত্যাকারীদেরকে ধরতে পারে ? কিন্তু প্রকাশ্যে সেটা স্বীকারও করা যাবে না।

যে কোন সচেতন ব্যাক্তিমাত্রই সরকারের এই ধরি মাছ না ছুই পানি জাতীয় খেলার ধান্ধাবাজী জেনে গেছে।

সুতরাং যতই চিল্লা চিল্লি করা হোক না কেন , ব্লগার হত্যার কোন বিচার হবে না , কারন খুনীরা কেউ কোনদিন ধরা পড়বে না। বরং মনে হচ্ছে , সরকারই যেন জঙ্গিবাদের নামে নিজেদের লোকজন দিয়ে ব্লগার হত্যায় নেমেছে। অথবা খোদ সরকারের লোকজন আস্তে আস্তে জঙ্গি হয়ে উঠছে। আওয়ামী লিগের ব্যানারে সব জে এম বি , তালেবান , আল কায়েদা , আনসার উল্লাহ বাংলা টিম, হিজবুত তাহরির যোগ দিচ্ছে। আওয়ামী লিগই আস্তে আস্তে খাটি সহিহ ইমানদার মুসলমানদের দল জে এম বি বা তালেবানে রূপান্তরিত হচ্ছে।

২ thoughts on “কেন সরকার ব্লগার হত্যাকারীদেরকে ধরছে না ?

  1. ইন্টারনেট ও ব্লগারদের কল্যানে

    ইন্টারনেট ও ব্লগারদের কল্যানে , বর্তমানে শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই জানে, খোদ কোরান ও হাদিস বিধান দিয়েছে – যে কেউ নবী মুহাম্মদের সমালোচনা করবে , তার কল্লা কাটা ইমানদার মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদকে যে সমালোচনা করবে , তাকে হত্যা করা হলো ইসলামের বিধান।

    কই আমি তো কোরান হাদিসের কোথাও এমন বিধান পাই নি। আয়াত নং উল্লেখ করুন।

    আসলে আপনাদের মতো কিছু এসাইলাম সন্ধানীদের গুয়েবলীয় কায়দায় একি মিথ্যা বারে বারে প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাওয়াটাই এই সকল খুনের জন্য দায়ী।

  2. সরকার জানে কোথায় তার মঙ্গল আর
    সরকার জানে কোথায় তার মঙ্গল আর কোথায় অমঙ্গল। ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে চলতে গেলে সরকারকে আর সরকারগীরী করে খেতে হবে না। ন্যায়-নীতি মানুষের ধর্ম, ক্ষমতাবানের ধর্ম ক্ষমতা রক্ষা করা।
    .
    রাজনৈতিক দলগুলো ন্যায়-নীতি-সত্যের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসে না। তারা ক্ষমতার স্বাদ আস্বাদন করে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের সমর্থন পেয়ে। তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের মতামত, রুচি-অভিরুচি, পছন্দকেই তারা অধিকতর গুরুত্ব দিবে এতে অবাক হবার কিছু নাই।
    .
    আপনি যেমন আপনার ভালো বোঝেন, সরকারেরও নিজের ভালোটা বোঝার অধিকার আছে। আপনি আপনার ‘অফিস টু বাসা’ করে জীবন কাটিয়ে দিতে পারলেও, সরকার তা পারে না। তাকে আজ হোক কাল হোক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়তে হবে। আপনি যত বড়ই সুশীল হোন, মুক্তমনা হোন, বিজ্ঞানমনস্ক হোন, আপনার ভোটের যে মূল্য, গ্রামের ভুখা-নাঙ্গা ধর্মভীরু মানুষের ভোটেরও সেই মূল্য। পার্থক্য কেবল সংখ্যায়। সরকারকে হিসাব করতে হয়- আপনার মত একজন প্রগতিশীলের বিপরীতে ওরা সংখ্যায় কত।
    .
    ওদিকের লক্ষ লক্ষ ভোট হাতে রাখতে গিয়ে আপনার মত দু-একজনকে বলি দিতে সরকার এক মিনিটও চিন্তা করবে না। এটাই সংখ্যাগরিষ্ঠ গণতন্ত্রের প্রথম পাঠ। আপনি সেই কবে এই পাঠ শেষ করে এসেছেন, অথচ এমন ভাব করছেন যেন এ হিসাব-নিকাশ আপনার অজানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *