লোগাঙের রক্তাক্ত ইতিহাস এখনো কাঁদায়।

আপনি জানেন কি?10/4/1992 সালে খাগড়াছরির জেলার লোগাং নামক গ্রামে জুম্ম জাতির উপর অন্যতম বৃহৎ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।কাহিনী সুত্রে-এক আদিবাসী মহিলা গরু চড়াতে গ্রামের অদুরে গিয়েছিল এবং সেখানে তাকে একা পেয়ে দুজন সেটেলার বাঙালী মহিলাটিকে ধর্ষণ করে পরে এক আদিবাসী যুবক বাধা দিতে গিয়ে সেখানে তাকে হত্যা করা হয় এবং দুয়ের সামান্য কোন্দলে সেটেলার বাঙালীরাও আহত হয়।পরে আহত সেটেলার বাঙালীরা প্বার্শবর্তী সেনা ক্যাম্পে বলে দেয় যে শান্তিবাহিনীরা তাদের হত্যার চেষ্টা করেছে।এবং এর জের ধরে সেই একই হায়েনা,সেনা ও সেটেলার বাঙালীরা মিলে পাহাড়ি জনসংখ্যা অধ্যুষিত লোগাংয়ে গুচ্ছগ্রামে একযোগে হামলা চলায়।এতে দুই হাজারের অধিক পাহাড়ি নিহত হয়।প্রায় 800 পাহাড়ির বাড়িঘর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাত করে।হাজার হাজার পাহাড়িকে শরণার্থী হতে হয় প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে। ঘটনাটি শান্তি চুক্তির বছর পাঁচেক আগের ঘটনা।পাহাড় তখন দারুন অশান্ত,যুদ্ধ-বিক্ষুব্দ।জন সংহতি সমিতির সাবেক গেরিলা গ্রুপ শান্তিবাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ লেগেই আছে।অন্যদিকে পাহাড়িদের নিজেদের চিরচেনা পাহাড়ে দিনের পর দিন বহিরাগত বাঙালী সেটেলারদের প্রবেশের দখলে পড়ে নিজের বাস্তুভিটা।হয়ে ওঠে আরও বেদনাদায়ক ইতিহাস।এর প্রেক্ষিতে স্থাপন হয় সেটেলার বাঙালীর বসবাস।এবং ওই সেটেলারদের স্থাপনের ফলে ধর্ষিত হয় নিরীহ জুম্ম নারী।তাতে বাধা দিতে গিয়ে নির্মম মৃত্যুর শিকার হন এক পাহাড়ি যুবক।পরে সেটেলার হায়েনারা সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হলে প্বার্শবর্তী ক্যাম্প অভিযোগ করে যে শান্তিবাহিনীরা তাদেরকে হত্যার চেষ্টা করেছে।এরই জেরে 10 শে এপ্রিল পানছরির লোগাং নামক পাহাড়ি গ্রামে সেনাবাহিনী,ভিডিপি,আনসার ও সেটেলাররা একযোগে আক্রমণ চালায়।নিরস্ত্র হত দরিদ্র সাধারণ পাহাড়িদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নির্বিচারে গুলি করা হয়।সেটেলারদের দায়ের আঘাতে প্রাণ যায় অনেকের।সেই হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া দেখা মিলে এক দরিদ্র পাহাড়ি লোকের সাথে।লোকটিকে এখনো ক্লান্তি আর অজানা এক অনুভুতি ঘিরে রাখে।সেই লোকটি ঢক ঢক করে পানি খায় আর ভীতকন্ঠে তার চোখের সামনে ঘটিয়ে যাওয়া নিজের পরিবারের স্বজনদের কান্নার ইতিহাস বলে থাকে।পরে আরেক ভাগ্যবান ব্যক্তির সাথে দেখা মিলে তিনিও ওই হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ।তিনিও বলেন সামান্য এক গ্রামের কোন্দলকে উপলক্ষ করে সেটেলার ও নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন একসঙ্গে কেরোসিন দিয়ে আগুন ধরায় লোগাং গ্রামে।নিরাপত্তা বাহিনীর লোকজন গুলি চালায়,আর সেটেলাররা কসাইয়ের মতো কুপিয়ে কাটে নিরপরাধ পাহাড়িদের।প্রাণে বেঁচে যাওয়া লোকটির চোখের সামনে কুপিয়ে খুন করা হয় তার স্ত্রী ও এক শিশুকে।কোন রকম গহীন জঙ্গলে শিশু দুটিকে নিয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণে রক্ষা পান।এরকম আরও অনেক গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান মেলে।এদের মধ্যে এক কিশোরও রয়েছে,যার মা বাবা ,ভাই বোন সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে থেকে দুর থেকে সে প্রত্যক্ষ করে এই বেদনাদায়ক নৃশংশ দৃশ্য। বলাবাহুল্য যে সেই সময়টি ছিল পাহাড়িদের এক খুশির সময়।কারণ,পাহাড়ের এতিহ্যবাহী উৎসব বিজু তখন খুব কাছাকাছি আসছিল। অথচ,সেই উৎসব মুখরিত জনপদে হঠাৎ নেমে আসে কালোছায়া।রক্তে রঞ্জিত হয় পাহাড়ের সবুজ ভুমি। সেই উৎসবকে বিলীন করে দেয় শাসকগোষ্ঠী দানবরা।পাহাড়,অরণ্য,নিসর্গ ভুমিতে সেবছর কোন বিঝু উৎসব পালন করা হয়নি।লোগাঙের শোকে সেই বছর পাহাড়িরা বিঝু বর্জন করেছিল।

১ thought on “লোগাঙের রক্তাক্ত ইতিহাস এখনো কাঁদায়।

  1. শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে
    শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হোক। সেটেলার বাঙ্গালী মুক্ত পাহাড় অঞ্চল প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *