বাউবি-বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বাউবি জন্ম যার ১৯৯২ এ। হাটিহাটি পা পা করে পেরুলো ২৪টি বছর। শুনেছিলাম বাউবির আবির্ভাব হয়েছিল। মূলত কর্মজীবি ছাত্র-ছাত্রী, গৃহিনী বা ঝড়ে পরা কিছু সংখক অন্য ছাত্রছাত্রীর জন্যই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রথম অবস্থায় ধারনা ছিল, সত্যিকারর্থে এটাই ছিল যে বাউবিতে পড়লেই পাশ করাযায়। ফেল করার কোন অপশন নাই। যার কারনে একটু এদিকসেদিক হলেই যেকোন ছাত্রছাত্রীরা বাউবিতে ভর্তীর জন্য ছুটে বেড়াতো। যদিও সেই সময়টা এখোনো বিদ্যমান। তবে বাউবির পড়াশোনা করাবার সিস্টেম এখন আগের চেয়ে আরো উন্নত আরো প্রগতিশীল। জেনারেল লাইনের পড়ারাশোনার মতোই এটি এখন প্রতিষ্ঠিত। তবে এখানে কথা আছে ভিন্ন।

আমরা তো যাতে বাঙ্গালি। তাই কোন কাজ করতে গেলে কোন না কোন জায়গায় খূঁত অবশ্যই থেকেই যাবে । এবং বাউবির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আমাদের সকল সরকারী কর্মকর্তাদের অভ্যাস সেই আগের মতোনই আছে। বাউবিতে আপনি ভর্তি হতে তা সে যে শ্রেনীতেই হোক না কেন। আপনাকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে ভর্তী হওয়া থেকে শুরু করে যে শ্রেনীতে আপনি ভর্তী হলেন সেই শ্যেনীতে ক্লাস শুরু হওয়া পর্যন্ত। চট্টগ্রামের অবস্থার কথাই বলি। বাউবির অফিসে গেলে সরকারী কর্মকর্তারা শরীরে অন্যরকম বাতাস লাগিয়ে বেড়ায়। শিক্ষার্থীদের কথার বা প্রশ্নের কোন দামই যেন নেই তাদের কাছে। ভর্তি হতে গেলে, বই সংগ্রহ করতে গেলে, এমন আরো বিভিন্ন বিষয় শিক্ষার্থীরা জানার জন্য গেলে অনেক অনেক সময় কর্মকর্তাদের নিজ জায়গায়ই পাওয়া যায় না। কথা জিজ্ঞেস করলে আশানুরুপ উত্তর পেতে ৩৬৫ দিন সময় লাগার মতোন অবস্থা হয়ে যায়। মনে হয় শুধু সরকারের কাজ করার জন্যই তাদের বেতন দিয়ে রাখা হয়েছে। যে কারনে এই বাউবি প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের কোন দামই নেই ঐসব কর্মকর্তাদের কাছে। তার উপর ভর্তির সময়, ক্লাস শুরুর সময় ভর্তী ফির তালিকা, কখন ক্লাস শুরু হবে কিভাবে এবং কখন বই হাতে আসবে এ সম্পর্কে কোন তর্থই যেন সময় দিতে মন চায়না তাদের। কেন তাদের এ রকম অনিহা। এর উত্তর কি দিতে পারবেন খোদ মহামান্য রাষ্ট্রপতি যিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। হয়তো বা তার কাছেও এই রুট লেভেলের সংবাদ পৌছায় না আমলা তান্ত্রীক জটিলতার কারনে। বিবিএস ১ম বর্ষ ভর্তী হওয়ার সময় তথ্য পাওয়া যায় এক রকম আর ১ম বর্ষ পরীক্ষা শেষ হতে না হতে ২য় বর্ষের ভর্তীর তথ্য পাল্টে যায়। শর্ষের মধ্যে ভূত মনে হচ্ছে তবে দেখা যাচ্ছে না। এক ছাত্রের কথা: ভাই ১মবর্ষে ভর্তী হওয়ার সময় বোর্ডে লেখা দেখেছিলাম বিবিএস ২য় বর্ষ ভর্তী জন্য ২৯৭৫ টাকা দিতে হবে। এখন দেখছি সেটা পরিবর্তণ হয়ে গিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে। বুঝতে পারছিনা কি করবো। এই ব্যাপারটা অনেকেই জানে না। কিভাবেই বা জানবে জানতে গেলে সময় মতোন বাউবির কর্মকর্তাদের সিটে পাওয়া যায় না। আবার ফোন করলে ফোন রিসিভ হয় না। সঠিক সময়ে বই পাওয়া যায় না। আজ ০৮ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ বাউবির চট্টগ্রাম অফিস ঘেড়াও কর্মসূচী পালন করেছে এসএসসি শিক্ষার্থীরা। কি জন্য এই আন্দোলন? কেন এই আন্দোলন? শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা কি? এ বিষয়ে পরে আবার লিখব আজ আর না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *