আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো

আয়াত: আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। সুরা তওবা, ৯; আয়াত ১১১

আয়াত: আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। সুরা তওবা, ৯; আয়াত ১১১

মন্তব্য: অর্থাৎ আল্লাহ তাদেরকে জান্নাতের মূলা দেখিয়ে জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এবং সেই সাথে বিবেক, নি:সন্দেহেই। আর তারা আল্লার রাস্তায় যুদ্ধ করে মারে ও মরে। মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা মারে ও মরে। যারা এই মরা এবং মারাতে নাই তারা মুসলমান হয় কী করে? এ আয়াতের মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে ইয়ুক্বাতিলুনা ফি সাবিলিল্লাহি ফায়াক্বতুলুনা ওয়া ইয়ুক্বতালুন। ‘কতল’ শব্দটি আরবি। এখানে ‘ক্বতল’ তিনবার এসেছে। বলা হচ্ছে, মুসলমানরা ক্বতলের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে(ইয়ুক্বাতিলুনা) আর ক্বাতল করে(ফায়াক্বতুলুনা) এবং নিজে ক্বতল হয়(ইয়ুক্বতালুনা) । আল্লাহর কথাবার্তায় কোনো বক্রতা নাই!

এই আয়াতগুলোর মানসম্মান বাচাতে মুমিনদের যে পরিমাণ গলদঘর্ম হতে দেখি তাতে করুণা হয়। সর্বাগ্রেই তারা চেঁচান এই বলে, এসব আয়াত নাকি এক বিশেষ উদ্দেশ্যে নাজিল হয়েছিল। হ্যা, কোরানের সকল আয়াতই কোনো না কোনো উপলক্ষে নাজিল হয়েছে। কয়েকজন স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থাতেও মুহাম্মদ তার পোষ্যপুত্রের বধুকে বিবাহ জায়েজ করার জন্য সুরা আহযাবের ৩৭ নম্বর আয়াত নাজিল করে নিয়ে এলেন, অথচ অসংখ্য সমস্যার মধ্যে পোষ্যপুত্রের বধূকে বিয়ে করতে না পারা কি কোনো গুরুত্বপুর্ণ বিষয় ছিল? যাই হোক, কোরানের কোনো একটি আয়াত যেকোনো উপলক্ষেই নাজিল হলে ইসলাম মতে এর বিধান কিয়ামত পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে। নাহলে কোরানের বিধান মুহাম্মদের পরেই অকার্যকর হয়ে পড়ত।

আবার কেউ কেউ আছেন আশেপাশের শান্তির আয়াত দেখিয়ে কোরানের শান্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। হ্যা, মুহাম্মদ যখন অসহায় ছিলেন তখন গুটিকয়েক শান্তির আয়াত নাজিল করিয়ে নিয়েছিলেন যা পরে নিজেই খারিজ করে দেন অন্য আয়াত দিয়ে অথবা নিজের কর্মকাণ্ড দিয়ে। যেহেতু কোরানে হত্যার নির্দেশ দেয়া আয়াতগুলো আছে তাই এগুলোকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এসব আয়াত দিয়ে এখনো মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে বিশ্বময়।

আয়াত: আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। সুরা বাকারা, ২: ১৯১

মন্তব্য: এই আয়াতে দয়াময় আল্লাহ পাক কিছু মানুষ সম্পর্কে বলছেন তাদেরকে যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করতে হবে। আশ্চর্য হয়ে পড়ি- তাদেরকে হত্যা কর যেখানে পাও সেখানেই, উক্বতুলুহুম হাইছু ছাক্বিফতুমুহুম (উক্বতুলুহুম মানে হচ্ছে তাদেরকে ক্বতল বা হত্যা করো, উক্বতুলু শব্দটিতে ‘ক্বতল’ ধাতু বা শব্দমূল রয়েছে)। এটা যদি মুহাম্মদ নিজে অথবা কোনো সামরিক প্রধান আদেশ দিতেন তবে একটা ব্যাখ্যা হয়ত ছিল। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক যিনি অসীম জ্ঞানের আর ক্ষমতার অধিকারী, যার দয়াও আবার অসীম এবং সকল মানুষকে তিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন, সেই তিনি কিভাবে এরকম আদেশ দিবেন? অর্থাৎ স্পষ্টত এসব আয়াত চরম যুদ্ধবাজ মহাম্মদ তার সঙ্গীদের নিয়ে তৈরী করেছেন। এ আয়াতের শেষের দিকে ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার নিন্দা করা হচ্ছে। আল্লাহর মতে যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করে ফেলা ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা নয় তাহলে।

আয়াত: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা আত তাওবা, ৯:৫

মন্তব্য: অর্থাৎ নিষিদ্ধ চারটি মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে। এরকম আদেশ শোনলে আল্লাহ পাককে বর্বর ইয়াহিয়া খানের মত মনে হয়। প্রত্যেক ঘাটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাকতে হবে। আর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে যদি কেবল তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে। ইসলামে নাকি জোর জবরদস্তি নেই! এরপরে আল্লাহ পাক কৌতুক করে বলছেন তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আল্লাহ পাকের রসবোধের কোনো তুলনা নেই। নিঃসন্দেহে তিনি চরম রসময়!

আয়াত: তোমরা যুদ্ধ কর(ক্বাতিলু- কতল বা হত্যার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ) আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে। সূরা আত তাওবা, ৯:২৯

মন্তব্য: আহলে কিতাব অর্থাৎ যাদের কাছে কিতাব এসেছিল, ইহুদি-খ্রিস্টান এরা। আল্লাহ পাক কী বীরোচিত কণ্ঠে ইহুদি-খ্রিস্টানদের সাথে যুদ্ধ করার আহবান জানাচ্ছেন! আর করজোড়ে জিযিয়া করের ব্যাপারটা দেখুন।

আয়াত: তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে। অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে তাদেরকে পাকড়াও কর এবং যেখানে পাও হত্যা কর। তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না এবং সাহায্যকারী বানিও না। সূরা নিসা, ৪:৮৯

মন্তব্য: এ আয়াতেও বলা হচ্ছে, যেখানে পাও হত্যা কর। আরবিতে কথাটি পড়ে বারবার শিউরে উঠি – উক্বতুলুহুম হাইছু ওজাত্তুমুহুম। এসব আয়াতের মধ্যে কতটা ঘৃণা আন্তর্নিহিত আছে খেয়াল করে দেখুন। ইসলাম নাকি শান্তির ধর্ম, এ ধর্ম নাকি মানুষ হত্যার কথা বলে না!

আয়াত: তোমাদের উপর যুদ্ধ( ফরয করা হয়েছে(কুতিবা আ’লাইকুমুল ক্বিতালু), অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না। সূরা বাক্কারা, ২:২১৬

মন্তব্য: তার মানে তখনো যুদ্ধবিরোধী, শান্তিপ্রিয় কিছু লোক ছিল যারা যুদ্ধ পছন্দ করত না। কিন্তু আল্লাহপাক তাদেরকে শাসাচ্ছেন! আয়াতে ক্বিতাল শব্দটি লক্ষ্য করুন, এরও শব্দমূল ক্বতল।

আয়াত: আল্লাহর রাহে যুদ্ধ করতে থাকুন, আপনি নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ের যিম্মাদার নন! আর আপনি মুসলমানদেরকে উৎসাহিত করতে থাকুন। শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা। সূরা নিসা, ৪:৮৪

মন্তব্য: শীঘ্রই আল্লাহ কাফেরদের শক্তি-সামর্থ খর্ব করে দেবেন। আর আল্লাহ শক্তি-সামর্থের দিক দিয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং কঠিন শাস্তিদাতা। মহাবিশ্বের মহান স্রষ্টার কী সুন্দর পরিকল্পনা তুচ্ছ মানুষকে কেন্দ্র করে! কী হাস্যকর!

এসব আয়াত থেকে এটা পরিষ্কার যে কোরান আসলেই মানুষের রচনা নয়, এটা কোনো এক আমানুষের রচনা। এ হচ্ছে কোরানের আয়াত! যেন তপ্ত মরুভূমিতে কোনো এক উদ্ভট শুওরের বিকট শিৎকার।

৩ thoughts on “আমরা বলি, বাচো এবং বাচাও; দয়াময় আল্লাহপাক বলেন, মারো এবং মরো

  1. প্রিয় মডারেটর,
    প্রিয় মডারেটর,

    এডিট ও ডিলিট অপশন পাচ্ছি না। কুকিজ ও হিস্ট্রি ডিলিট করার পরেও। আমার লেখা কিছু ব্লগ বিকৃত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে কী করা যায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *