জিহাদ অথবা ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা

রোদ জ্বলা খাঁ খাঁ দুপুর ,আর ঠিক সেই সময় তিব্র পানির পিপাসা পেলে তমিজের মনে পড়ে যায় ভেজা ভেজা একজোড়া ঠোঁটের কথা ,আর সেই সাথে কালো তিব্র গভীর চোখের কথা মনে পড়তেই তমিজ দেখতে পায় সমুখে ভেসে চলে বড় গাঙের তিব্র চকচকে পানি ,আর তমিজের বড় বেশি পিপাসা পেতে থাকে ,পানি অথবা নারী অথবা একটা তিব্র চুমুর । আর তমিজ চারপাশে খাঁ খাঁ শূন্যতার তেজে বড় বেশি বিষন্ন আর কিছুটা বেচাইন হয়ে পড়ে আর তার মনে পড়তে থাকে সালেহার কোমড়ের ভাঁজের কথা , আর শরীরের ক্ষতে একটা নীল মাছি এসে বসলে তার মনে পড়তে থাকে যে পাঁজরের পাশ ঘেঁষে বিঁধে আছে এক টুকরো তীক্ষ্ণ ইস্পাত ।


রোদ জ্বলা খাঁ খাঁ দুপুর ,আর ঠিক সেই সময় তিব্র পানির পিপাসা পেলে তমিজের মনে পড়ে যায় ভেজা ভেজা একজোড়া ঠোঁটের কথা ,আর সেই সাথে কালো তিব্র গভীর চোখের কথা মনে পড়তেই তমিজ দেখতে পায় সমুখে ভেসে চলে বড় গাঙের তিব্র চকচকে পানি ,আর তমিজের বড় বেশি পিপাসা পেতে থাকে ,পানি অথবা নারী অথবা একটা তিব্র চুমুর । আর তমিজ চারপাশে খাঁ খাঁ শূন্যতার তেজে বড় বেশি বিষন্ন আর কিছুটা বেচাইন হয়ে পড়ে আর তার মনে পড়তে থাকে সালেহার কোমড়ের ভাঁজের কথা , আর শরীরের ক্ষতে একটা নীল মাছি এসে বসলে তার মনে পড়তে থাকে যে পাঁজরের পাশ ঘেঁষে বিঁধে আছে এক টুকরো তীক্ষ্ণ ইস্পাত ।

বোমা টা ফাটার মুহূর্তে সে সরে পড়তে চেয়েছিল ,জীবন থেকে নয় পুলিশের নজরের আঁচ থেকে । অথচ এই খাঁ খাঁ রোদের উত্তাপে অনেক দূরে আকাশের সীমানায় কিছু একটা উড়তে দেখে সে ,আর তমিজের মনে পরে বড় মসজিদের গোরা ঈমামের কথা ,তার টকটকে ফর্সা মুখে কুচকুচে দাড়ি একেবারে সাদা চামড়ার বিদেশিদের মত লাগত তাই গ্রামের লোকে তার নাম দিয়েছিল গোরা ঈমাম । তার লাশ তিনদিন পড়ে ছিল বড় গাঙের ধারে ,আর তার বুকের উপর একটা ধুসর শকুন বড় বেশি বিষন্ন ভঙ্গিতে শুষে নিচ্ছিল রোদের ওম অথচ সেই লাশে একটা ঠোকর ও দেয় নি । তমিজের মনে পড়ে যে সালেহার শরীরের তিব্র ভাঁজে সাঁতার কেটে যখন সে বড় বেশি হতক্লান্ত তখনি ডাক এসেছিল তার ,এসেছিল পয়গাম ,গোরা হুজুর কে খতম কর সে ধর্মের দুশমন । ধর্মের কথা শুনে তার উত্থিত শিশ্ন ক্রমশ শীতল হয়ে পড়লেও তার রক্তে জেগেছিল জিহাদের নাচন ,সে জানত দুশমন কে খতম করা ধর্মের আদেশ ,এটাই ধর্ম রক্ষার উপায় । সে যখন গোরা হুজুর কে উপুড় করে চালাচ্ছিল তার তীক্ষ্ণ চাপাতি তখন বোধহয় গোরা হুজুরের মাথায় কোন একটা গোলমাল হয়ে গিয়েছিল সে বারবার কাতর কণ্ঠে একটা অনুরোধ ই করছিল বাবা তোমার মুখটা একটু দেখতাম চাই !

ঠা ঠা হাসিতে কেঁপে কেঁপে ওঠে রৌদ্রের ঝাঁজ ,দূর আকাশে ক্রমশ একটা শকুন নেমে আসতে থাকে ,আর সেইসব দৃশ্যপট কেমন জানি আদিকালের সিনেমার মত কেঁপে কেঁপে ওঠে ।খাঁ খাঁ রৌদ্রের ঝাঁজ শুষে নিতে নিতে তমিজ দেখে তার পাঁজরের বাম পাশে বেশ কয়েকটা নীল মাছি ক্রমাগত কিছু একটা খুটে খায় ,আর তার ঠা ঠা হাসিতে কাঁপিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় চরাচর ,তার রক্তাত্ব ঘায়ের ভেতর হতে চিনচিনে ব্যাথা ছড়িয়ে পরে তার মগজ জুড়ে , আর সে দেখে যে সালেহার শরীর বেয়ে গড়িয়ে নামতে থাকে কতিপয় লাল ,নীল আর হলুদ সাপ আর তাদের লকলকে জিহবা বেয়ে গড়িয়ে পড়ে তরল বিষ, আর সালেহা সেই রাতের মতই তিব্র শীৎকারে ভারী করতে থাকে ঝাঁঝালো রোদ ।

তমিজের গা গুলিয়ে ওঠে আর বমি করতে গিয়ে দেখে যে তার গলা জুড়ে খাঁ খাঁ পিপাসা , সে তিব্র রোদের ঝাঁজে মাঠ জুড়ে দেখে বড় গাঙের ঢেউ । সে যখন বুকে বিদ্ধ তিব্র ইস্পাত নিয়ে ছুটে পালাচ্ছিল তখন সে দেখে যে হাত অথবা পা অথবা মাথা বিহীন কতিপয় রক্তাক্ত লাশ ঘিরে ফেলেছিল তাকে ,আর তাদের ফেলে আসা হাত অথবা পা অথবা মাথা তারা পূরণ করতে চাচ্ছিল তমিজের হাত অথবা পা অথবা মাথা দিয়ে আর তিব্র আতঙ্কে দিশেহারা তমিজ ছুটেছিল তাদের হাত এড়িয়ে ,গত রাতে ধান কাঁটা মাঠের মাঝখানে এই শেয়ালের গর্ত সে খুঁজে পেয়েছে ,সে কিছুতেই দেবেনা তার নিজস্ব হাত অথবা পা অথবা মাথা । সেই সব হাত বিহীন লাশ চেপে ধরেছিল তার গলা , মাথাবিহীন লাশ চেয়ে ছিল তার দিকে তিব্র চোখে আর পা বিহীন সেই মৃত মানুষেরা তাড়া করেছিল তাকে ।

অনেক ধর্মের দুশমন খতম করা তমিজ গতকাল গিয়েছিল শেষ মিশনে , সে জানত মরে গেলে সে পাবে সিমাহীন সুখের বেহেশত যেখানে শুদ্ধ রমনীরা পেলব দেহ এলিয়ে শুয়ে থাকে অথচ সে কিছুতেই সালেহার শরীরের তিব্র স্বাদ ভুলতে পারে না , সে পালাতে চেয়েছিল অথবা ফিরতে চেয়েছিল সালেহার তিব্র স্তনে মুখ রাখার খায়েশে । সে তারপর ছিন্নভিন্ন লাশেদের এড়িয়ে ঢুকে গিয়েছিল আতর আর লোবানের গন্ধে ঢাকা এক প্রার্থনালয়ে ,সেখানে বড় হুজুর তাকে বলেছিল জিহাদের ময়দান থেকে ফিরে আসা বুজদিল , তুমহারা তামান্না শহীদ তুম গাজী নেহি হো সাকতা । তমিজ বোঝে অথবা সে বুঝতেই পারে না সবশেষে তাকে কোরবানির বকরি হতে হয়েছে সে অনেক ধর্মের দুশমন খতম করেছে এবার পালা তার ।

তারপর তমিজ ছুটতে থাকে এবং ছুটতে থাকে ,পথে পথে ছিন্ন ভিন্ন লাশেরা তার পথরোধ করে দাঁড়ায় , হাত বিহীন শরীরে তারা খাঁমচে কিভাবে জানি তমিজের শরীর ক্ষত বিক্ষত করতে থাকে । তমিজ কাউকে ডাকে না , একবারও সে আকাশে তাকায় না ,সে শুধু বিড় বিড় করে জপতে থাকে সালেহার নাম ,সে তমিজ ফিরে যেতে চায় তার নারীর কাছে যার শরীরের গন্ধে মেশক অম্বর কে তুচ্ছ মনে হয় ।ঝাঁ ঝাঁ রোদ কেঁপে কেঁপে নামে আকাশ হতে আর তমিজের ভীষণ পিপাসা পেতে থাকে ,

১ thought on “জিহাদ অথবা ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা

  1. ইস্টিশন মাস্টার এর দৃষ্টি
    ইস্টিশন মাস্টার এর দৃষ্টি আকর্ষন করছি একটু দেখবেন কি ,আমি রুশদী নই অথচ আমাকে রুশদী হিসেবে লগইন দেখাচ্ছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *