কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪: ফেরেশতার ডানা, জিবরাইলের ডানা

কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪: ফেরেশতার ডানা, জিবরাইলের ডানা

সবজান্তা মহান আল্লাহ পাকের কাছ থেকে বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে নবি-রসুলগণের নিকট চুপিচুপি পৌছে দেন জিবরাইল। আল্লাহর বার্তা বলে কথা, সেগুলো খুব দ্রুত পৌছে দিতে হবে। তাই জিবরাইলের দরকার ডানা। যত বেশি ডানা তত দ্রুত পৌঁছাবে। কিন্তু পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে একশ’ কিলো মিটার উপরে মানে কার্মান লাইনের উপরে বিমান চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখান থেকেই আমরা মহাশূন্যের শুরু বলে ধরে নেই। পৃথিবী থেকে বাইরে বায়ুশূন্য স্থানে যেতে প্রয়োজন হয় রকেট। বিমান চালানোর সময় তা বায়ুর উপর নির্ভরশীল থাকে। অপরদিকে পাখিদের কথা ভাবুন, তারা বায়ুর উপর ভর দিয়ে ভেসে থাকে, চলাফেরা করে। বায়ুশূন্য স্থানে পাখি উড়া অসম্ভব, বিমান চালানো অসম্ভব। এগুলো দেড় হাজার বছর আগে মুহাম্মদ জানার কথা নয়। তিনি নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন পৃথিবী থেকে উর্ধ্বে আল্লাহ পাকের সিংহাসন পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণ বায়ু আছে, তাই অনেক গুলো ডানা নিয়ে জিবরাইল দ্রুত সংবাদ বহন করতে পারবেন।

যাই হোক, সর্বজ্ঞানের উৎস ও বিজ্ঞানময় কিতাব আল-কোরানে ফেরেশতাদের ডানা সম্পর্কে কী আছে আগে দেখি

‘‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা এবং ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক-তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম।’’ (ফাতির, আয়াত ৩৫)

আয়াতে বিনোদনের অভাব নাই। প্রথমেই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। এ কথা আল্লাপাক বাববার নিজে স্মরণ করেন আবার আমাদেরকেও স্মরণ করিয়ে দেন যাতে তার সাথে অন্য কাউকে শরিক করে না দেই। আমরা যদি অন্য কাউকে তার সাথে শরিক করে ফেলি তবে তার অপরিসীম মান-সম্মানের আর কী অবশিষ্ট থাকলো? আলহামদুলিল্লাহি ফাত্বিরিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। হামদ মানে প্রশংসা, ফাত্বির মানে স্রষ্টা, সামাওউয়াত মানে আকাশ আর আরদ মানে পৃথিবী। এ আয়াত বেশ সরল, সহজেই বুঝা যায়।

আল্লাহ পাক বলেছেন, তিনি ফেরেশতাগণকে করেছেন বার্তাবাহক-তারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখাবিশিষ্ট। তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম। ‘ইন্নাল্লাহা আ’লা কুল্লি সাইইন ক্বাদির’ বা ‘নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সক্ষম’ কথাটি থেকে আর এর আগের কথা ‘তিনি সৃষ্টি মধ্যে যা ইচ্ছা যোগ করেন’ থেকে এটাই বুঝা যায় যে আল্লাপাক ইচ্ছা করলে আরো ডানা সংযোজন করে দিতে পারেন যাতে তার পেয়াদা ফেরেশতারা আরো দ্রুত তার আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারেন। হাহ হাহ হা। নিশ্চয়ই তিনি মহাজ্ঞানী।

আবার আল্লাহ পাক পরাক্রমশালী হওয়া স্বত্ত্বেও কেন তার ফেরেশতাদের প্রয়োজন হয় সেটা নিয়ে আরজ আলী মাতুব্বর প্রশ্ন তুলেছিলেন। মুহাম্মদ আল্লাহকে কল্পনা করেছেন মহারাজা হিসাবে, তার তো আরশ বা সিংহাসন লাগবে, পেয়াদা লাগবেই। ডিজিটাল আইডিয়া মুহাম্মদের থাকার কথা না। সেসময় বেশ শক্তিশালী বিভিন্ন রাজার অস্তিত্ব ছিল বিশ্বব্যাপী। এগুলো দেখে তিনি নিজের কল্পনায় সাজিয়ে নিয়েছেন পৌত্তলিকদের ঈশ্বর আল্লাহকে।

জিবরাইল মুহাম্মদের কাছে বার্তা নিয়ে আসতেন। এটা আল্লাহ ও মুহাম্মদ দুই জনের কাছেই অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তাই কল্পনার গরুকে গাছে তুলে দিতে হবে। আমরা বুখারি শরীফের হাদিস দেখি

‘‘মুহাম্মদ জিবরাইলকে দেখেছেন ৬০০ ডানাবিশিষ্ট অবস্থায়’’ সহীহ বুখারি, ৪:৫৪:৪৫৫, লিংক

পেয়ে গেলেন তাহলে ৬০০ ডানার জিবরাইল। এগুলো দিয়ে তিনি আরশ থেকে পৃথিবী অবধি দাপিয়ে বেড়াতেন নিশ্চয়ই। সুভানাল্যাহ!

নিশ্চয় আল্লাহ পাক তোমাদের জন্য কোরানকে করেছেন বিনোদনময়। আর প্রেরণ করেছেন এক মহানবী যিনি হাদিসকে করেছেন আবেদনময়। সকল প্রশংসা তারই।

২ thoughts on “কোরানের বাণী, কেন এত ফানি? পর্ব ৪: ফেরেশতার ডানা, জিবরাইলের ডানা

  1. আল্লাহ মহান। আর তিনি
    আল্লাহ মহান। আর তিনি অমর-অব্যয়-অক্ষয় ও চিরস্থায়ী। আপনার বিশ্বাস না হলে আপনি নিশ্চুপ থাকুন। তাই বলে মহান স্রষ্টাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা অশোভন এবং গুনাহের কাজ। আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করুন। আমীন।

  2. স্পেস শ্যাটল চেনেন? দেখেছেন
    স্পেস শ্যাটল চেনেন? দেখেছেন কখনও? স্পেস শ্যাটলের দুটো ডানা থাকে। স্পেস শ্যাটলতো মহাশুন্যে চলে তাহলে এর পাখা থাকার দরকার কী? দরকার আছে। স্পেস শ্যাটল এমন ভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে করে তা পৃথিবী ও মহাশুন্য দু জায়গায়ই ভেসে বেড়াতে পারে। ঠিক যেমন জিবরাইল কিংবা অন্য ফেরেস্তাদের এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে করে তারা পৃথিবী ও মহাশুন্য দুই জায়গায়ই ভেসে বেড়াতে পারে। আশা করি আপনার আহাম্মকী যুক্তি তর্ক এবার খ্যামা দিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *