কেন আমি জান্নাতে যেতে চাইনা?

জান্নাত, বেহেস্ত, স্বর্গ যে নামেই বলিনা কেন শুনলেই চোখের তারায় ভাসতে থাকে সুখের এক অবয়ব। গুটি কয়েক জন ছাড়া সবাই ছুটছে এর পেচনে। একে পাওয়ার জন্য লোভী হয়ে উঠছে, খুনি হয়ে উঠছে, ঘৃনা করছে অন্য ধর্মের লোকদের, হানাহানি-খুনোখুনিতে দূষিত করে তুলছে পৃথিবীকে। আমি তাদের দলে নই, যেতে চাইনা ওখানে।

জান্নাতে অনেক অনেক সুখ থাকবে, শান্তি থাকবে, সেটা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত। কোরানে আছে, যেখানে থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছ, কাঁদি কাঁদি কলা, ছায়া দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, আর থাকবে প্রবাহমান পানি, পর্যাপ্ত ফলমূল।
সূরাঃ আল ওয়াকেয়াহ।


জান্নাত, বেহেস্ত, স্বর্গ যে নামেই বলিনা কেন শুনলেই চোখের তারায় ভাসতে থাকে সুখের এক অবয়ব। গুটি কয়েক জন ছাড়া সবাই ছুটছে এর পেচনে। একে পাওয়ার জন্য লোভী হয়ে উঠছে, খুনি হয়ে উঠছে, ঘৃনা করছে অন্য ধর্মের লোকদের, হানাহানি-খুনোখুনিতে দূষিত করে তুলছে পৃথিবীকে। আমি তাদের দলে নই, যেতে চাইনা ওখানে।

জান্নাতে অনেক অনেক সুখ থাকবে, শান্তি থাকবে, সেটা হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত। কোরানে আছে, যেখানে থাকবে কাঁটা বিহীন বরই গাছ, কাঁদি কাঁদি কলা, ছায়া দূর-দূরান্ত পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে, আর থাকবে প্রবাহমান পানি, পর্যাপ্ত ফলমূল।
সূরাঃ আল ওয়াকেয়াহ।

কিন্তু এ বাঙলায় এসবের জন্য কোন প্রকার কষ্ট করতে হয়না। এটা আকাঙ্খিতও ছিলনা কোন কালে। কিন্তু জান্নাতে ধান ক্ষেত, পাকা ধানের ঘ্রান, মাটির সুগন্ধ, সর্ষে ক্ষেত, কাশবন কোনটাই নাই।
জান্নাতের নদী বা নহর গুলোতে কি সাঁতার কাটা যাবে, কাদায় মাখামাখি হয়ে মাছ ধরতে পারবো, চিত্ হয়ে কাদায় শুয়ে নিজের অবয়ব তৈরী করতে পারবো, স্রোতের মধ্যে নির্জীব থেকে স্রোতের টানে ভেসে বেড়াতে পারবো, স্রোতের টানে জমাট বাঁধা কচুরী পানায় লাফিয়ে পড়া যাবে?
জান্নাতের ঐ প্রবাহমান নদী কি তৈরী হবে কোন চূড়া থেকে বয়ে আসা ঝর্না থেকে, ঐ পাহাড়ে কি বৃষ্টি হয়, ঝর্নার জলে কি আমি জলকেলি করতে পারবো, জান্নাতের নদীকি আমার ফেনী নদীর চাইতেও সুন্দর, প্রবাহমান, নদীগুলোতে কি দিনে দুবার জোয়ার ভাটা হবে? তবে কেন যাবো ঐ জান্নাতে?

গৃহস্তের ঘরে জন্ম আমার। কাঁদি কাঁদি কলা, বরই, আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, নারিকেল, সুপারী, আতা, জামরূল, কামরাঙ্গা, কমলা, বাতাবী লেবু কোন কিছুরই অভাব নেই। এসব ফলের প্রতিও আমার লোভ নেই। গাছ যেহেতু আছে গাছের ছায়ারও অভাব হয়না কোথাও। ঐ ছায়া এতো আকাঙ্খিত নয় আমার কাছে।
জান্নাতে ঘাস থাকবেনা, সবুজ নরম ঘাস। থাকবেনা ঘাসের চূড়ায় জমে থাকা শিশিরকণা। সারা রাত টুপ টুপ করে ঝরবে, সকালের রোদে মুক্তোর মতো জ্বলজ্বল করবে। শিশির ছাড়া, ঘাস ছাড়া কিভাবে কাটাবো অনন্ত জীবন?

অবশ্য জান্নাতে আমার সাথে আরো অনেক লোক থাকবে। কিছু অন্ধ, কিছু ভন্ড, খুনীরাও থাকবে সেখানে। ঐ অন্ধদের কাছে জ্ঞানের আলো কখনো পৌছায়নি, তারা দেখেনি পৃথিবীর সৌন্দর্য, কখনো তাদের মনে প্রশ্ন জাগেনি, শত অসামজস্যতার মাঝেও সন্ধেহ করেনি কোন বিষয়ে, বিশ্বাস করে গেছে ভন্ডদের গাল গল্পে। ভন্ডরা আজীবনই ভন্ড। মানুষকে তারা আলোর কথা বলে নিক্ষেপ করেছে অন্ধকারে। নানা রকম চটূল কথায় মানূষকে খুনি বানিয়েছে, ভীতু বানিয়েছে, করে তুলেছে লোভী।
আর খুনিরা জীবনকে চিনেনি, ভালবাসেনি আল্লাহু আকবার বলে হত্যা করেছে নিরস্ত্র, অসহায় মানুষকে। ভন্ডদের কথায় জিহাদের নামে ধ্বংশ করে ফেলছে পৃথিবীকে। ঠান্ডা মাথার খুনিদের সাথে অনন্ত জীবন কে কাটাতে চায় বলুন?

জান্নাতের সংখ্যা ৮ টি। যার ধন সম্পদ (নেকি) যত বেশী সে তত বেশী সুবিধা ভোগ করবে আর যার কম সে পাবে কম। জান্নাতে এমন পূঁজিবাদী প্রথা কেন? আমার নেকি বেশী হলে যাবো জান্নাতুল ফেরদাউসে আর কম বলে আমার বন্ধুটির জায়গা হবে জান্নাতুল ইল্লিয়্যুনে। হিন্দু বন্ধুটিরতো কোন জায়গাই হবেনা। বন্ধু ছাড়া জান্নাতে গিয়া কাম নাই।

আমার মায়ের পায়ের নিচে আমার জান্নাত হলেও সে মায়ের জান্নাতে যাওয়া সুগম নয়। কারণ বেশীর ভাগ নারীই জাহান্নামে যাবে। যার গর্ভে জন্মেছি, অন্য কাউকে ডাকার আগে তাকে ডেকেছি, যন্ত্রনায় চিত্কার করে তাকে ডেকেছি, তাকে ছাড়া ঘুমাতে পারিনি অনেক বছর সেই মা জান্নাতে যেতে পারবেনা। গেলেও সে মায়ের পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে। সরাবান তাহুরায় মাতাল আর ৭২টা বেশ্যার সাথে সহবত কারী ছেলের মা বলে পরিচয় দিতে কে চাইবে বলুন? আমি জেনে-শুনেতো মাকে এমন লজ্জাকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারিনা!

প্রকৃতিক জিনিস ভালবাসেনা এমন লোক পাওয়াটা দুস্কর। সারা জীবন শহরে কাটালেও শেষ বয়সে গ্রামে ফিরে যায় প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার জন্য। কিন্তু জান্নাতের অনেক জিনিসই কৃত্তিম- গাছের কান্ড সোনার তৈরী, ইট গুলোও সোনার তৈরী, যে তাবু থাকবে সেটা মোমের, যে ঘোড়ায় সওয়ার হবে সেটাও প্রাকৃতিক ঘোড়া নয় এমনকি রমনীরাও প্রকৃতিক নয়।
সুখ আপেক্ষিক। প্রতিটা মানুষের সুখের মাত্রা আলাদা, চাহিদা আলাদা, আলাদা সুখের ধরণ। কিন্তু জান্নাতিদের সকলের সুখ একই রকম হবে, তা কি করে সম্ভব?
আর দুঃখ না থাকলে সুখের মাত্রা কিভাবে পরিমাপ করা হবে? আবেগহীন, বিবেকহীন, দুঃখহীন চিরন্তন জান্নাতের সুখ আমার সইবেনা।

একটা কথা আছে, ভোগে সুখ নাই ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। শুধু ভোগ বিলাস করলে হবেনা তার সাথে পর্যাপ্ত ত্যাগও করতে হবে। যতই সুস্বাদু খাবার খাননা কেন বজ্য ত্যাগ না করলে আপনি স্বস্থিতে থাকতে পারবেন না। মল ত্যাগ না করার যে কষ্ট সেটা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে। আর যাদের কোষ্টকাঠিন্য তাদের কষ্টের সীমা নাই। জান্নাতি কোষ্টকাঠিন্য রোগী হবার কি প্রয়োজন আমার?
মল না হলে বীর্যও হওয়ার কথা নয়, বীর্য স্থলন যদি না হয় এ সহবতের কি মানে? এ কষ্টকর অভিজ্ঞতা আমি নিতে চাইনা।

কোন ভাবে যদি অতীতে ফিরে যাওয়া যেতো তাহলে আমি ফিরে যেতাম আমার শৈশবে যেটা আমি খুব মিস্ করি। জান্নাতেও আমি সেই সুযোগ পাবোনা, দাঁড়ী-গোঁফ-লোম ছাড়া একটা তাগড়া যুবক হিসেবেই আমি পদার্পন করবো। তো কি লাভ আমার জান্নাতে গিয়ে?

আমার প্রেমিকা+সন্তানের জননী তার জান্নাতে যাওয়া যতোনা কষ্টকর জান্নাতে বসবাস করা তার পক্ষে আরো অধিক কষ্টের। আমাকে অন্নেক ভালবাসে, কখনো হারাতে চায়না, ছাড়তে চায়না। অন্য কিছু করাতো দূরে থাক তার কোন আত্বীয়ার সাথে হেসে কথা বললেও সে রাগ করে, বকাদেয়। সে কিভাবে সহ্য করবে আমার অন্য নারী গমন? এটা থেকে সে দূরে সরে আসতে চাইলেও পারবেনা কারণ তাকেই ঐ হুরদের সর্দারনী করে দেয়া হবে। কি ভয়াবহ রকমের সুখ জান্নাতে! যাকে এত্তো এত্তো ভালবাসি তার অসুখী মুখটা দেখার জন্যই কি আমাকে জান্নাতে যেতে হবে?

আমি চাঁদ ভালবাসি, জোসনা ভালবাসি, ফুল-পাখী ভালবাসি, ঘাস ফড়িং ভালবাসি, প্রজাপতি ভালবাসি, দোয়েলের শিস কিংবা কোকিলের কুহু কুহু ভালবাসি, জোনাকি ভালবাসি, বৃষ্টিতে ভিজতে ভালবাসি, ভাত ভালবাসি, মাছ ভালবাসি, পড়তে ভালবাসি, গাইতে ভালবাসি, শুনতে ভালবাসি, প্রিয়তমার চুলের ঘ্রান ভালবাসি, তার চোখে চোখ রেখে কুটুর কুটুর কথা বলতে ভালবাসি।
আল্লার তৈরী জান্নাতে আমার এসব কিছুই করা হয়ে উঠবেনা। আমি জান্নাতে গিয়ে কি মুড়ি খাবো?

৩ thoughts on “কেন আমি জান্নাতে যেতে চাইনা?

  1. জান্নাতে যাবার পুর্বশর্ত
    জান্নাতে যাবার পুর্বশর্ত হচ্ছে শততা; ন্যায়পরায়নতা অভ্যাস করা আর মদ-জুয়া-গাজা-পরকীয়া থেকে সর্বাগ্রে বিরত থাকা, অবৈধ প্রেম; বাধাহীন যৌনতা থেকে নিজেকে দূরে রাখা।

    বলা বাহূল্য মদ-জুয়া-পরকীয়া-অবাধ যৌনতা এগুলো মুক্তচিন্তার মানুষদের কাছে আদৌ অনৈতিক বলে বিবেচিত নয়।

    একজন অন্ধ যখন বলে আমি ফুল দেখতে চাইনা – এ ব্যাপারটা যেমন হাস্যকর। তেমনি আপনারা যখন বলেন জান্নাতে যেতে চাইনা- ঠিক তেমনই হাস্যকর।

    1. ‘বলা বাহূল্য
      ‘বলা বাহূল্য মদ-জুয়া-পরকীয়া-অবাধ
      যৌনতা এগুলো মুক্তচিন্তার
      মানুষদের কাছে আদৌ অনৈতিক বলে
      বিবেচিত নয়।’ কোথায় পেলেন এই ইনফরমেশন? নাকি এইটাই আপনার স্টকে থাকা একমাত্র মন্তব্য, কুমিরের খাজকাটা ল্যাজের মত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *