ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল ; কোন পথে এগুচ্ছে বাঙলাদেশ ?

বাঙলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রধর্মের স্বপক্ষে রায় দিয়েছে এবং রাষ্ট্রকে একটি ধর্মের ছায়া তলে নিয়ে এসেছে । এখন মূল কথা হল , যেখানে বাঙলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির অন্যতম একটি মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা হওয়ার পরে সাংবিধানিকভাবে সাংঘষিক রাষ্ট্রধর্মকে আদালত বহাল রাখলো সেখানে আদালত কি সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখেছে ? কিংবা আদালত কি নিরপেক্ষ থেকে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখেছে নাকি সরকারের কথায় রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখেছে ? যেখানে সংবিধানের মূলনীতির একটি হল , ধর্মনিরপেক্ষতা সেখানে বলা-ই যায় সংবিধানের সাথে সাংঘষিক রাষ্ট্রধর্ম আদালত সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রেখে ও নিরপেক্ষ থেকে বহাল রাখে নি ।

বাঙলাদেশের সংবিধানের চারটি মূলনীতির অন্যতম একটি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা । যা বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের সময়েই যুক্ত করা হয়েছিল । অথচ এরশাদ সরকারের আমলে অর্থাত্‍ বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়নের কয়েক বছর পর রাষ্ট্রধর্ম নামক সংবিধানের একটি অবাঞ্ছিত অংশ যুক্ত করা হয় । অথচ রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি অর্থাত্‍ ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি সংবিধান ও রাষ্ট্রের সাথে সাংঘষিক রাষ্ট্রধর্ম নামক অবাঞ্ছিত অংশটি সর্বোচ্চ আদালত কোন যুক্তি দ্বারা বহাল রাখলেন !

বাঙলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ট জনগোষ্ঠী মুসলিম । অর্থাত্‍ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রে একটা ধর্ম রাখতেই হবে এবং রাখাও হল । এখন কথা হচ্ছে , রাষ্ট্রের যদি ধর্ম থাকে তবে তা কেন আদালত স্বীকার করে না । কেননা , আদালত কখনই কাল্পনিক কোন বস্তু বা বিষয়ে বিশ্বাস করে না । আর ধর্ম যেহেতু একটি কাল্পনিক বিষয় সেহেতু আদালত অবশ্যই ধর্মে বিশ্বাস রাখে । কিন্তু কেন বাঙলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে রাষ্ট্রধর্মকে সংবিধানের অন্যতম মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতার পাশে রাখা হল ?

অনেক ধার্মিক অর্থাত্‍ মুসলিমই একটা যুক্তি দ্বারা রাষ্ট্রধর্মের পক্ষে রায় দিয়েছে । যুক্তিটা এরকম , রাষ্ট্রের যদি ভাষা থাকে তবে ধর্ম কেন নয় ? এখন কথা হচ্ছে , ধর্ম ও ভাষা একে অপরের পরিপূক নয় । ভাষা মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ সাথে রাষ্ট্রেরও বটে । কেননা , রাষ্ট্রের কাজকর্ম সম্পাদনের জন্য ভাষা প্রয়োজন , ধর্ম নয় । সেহেতু রাষ্ট্রের কাজকর্মের সুবিধার জন্য একটি পরিচিত ও প্রচলিত ভাষাকে রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারণ করা আবশ্যক । কিন্তু ধর্ম কোন ভাবেই অর্থাত্‍ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের কোন কাজকর্মের জন্যেই প্রয়োজনীয় নয় । ধর্ম ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় । অতএব বাঙলাদেশ নামক রাষ্ট্রে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রেখে আদালতের রায়কে ভণ্ডামিই বলা বাহুল্য ।

সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম একটি মূলনীতি ধর্মনিরপেক্ষতা । সংবিধানেই স্পষ্ট আছে সংবিধানের চার মূলনীতি রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে । অথচ রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা পালনকারী অর্থাত্‍ সংবিধানের চার মূলনীতির অন্যতম একটি মূলনীতিকে কটাক্ষ করে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মকে স্থান দেয়াটা কি কোন রাজনৈতিক ব্যবসায় নয় ! বাঙলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ । যারা নিজেদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী দল দাবি করেন । অথচ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসীরা থাকার পরেও সংবিধানে রাষ্ট্রধর্মের অবস্থান থাকার ফলে আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি কিছুটা সন্দেহ এসেই যায় । রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম । ক্ষমতার টিকে থাকতে অবশ্যই ধর্মের তোষামোদ করা জরুরি ! আর আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মের তোষামোদ করতে গিয়ে বাঙলাদেশের স্বাধীনতাকে ধর্মের দ্বারা “গণধর্ষন” করাচ্ছে আর অপরদিকে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন করে চপেটাঘাত করছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ।

ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম আজ এক বিছানার সঙ্গী । যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে রাষ্ট্রধর্মের সংঘর্ষ সেখানে বাঙলাদেশ নামক রাষ্ট্রে ক্ষমতার বাজারে ধর্মের ব্যবসা রমরমা করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে “গণধর্ষন” করে যাচ্ছে রাষ্ট্রধর্ম । অসাম্প্রদায়িকতার বুলি আঁউড়ে রাষ্ট্রের স্বাধীনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সরকার । এক কথায় বলা যায় সংবিধানকে দুঁচে দিচ্ছে সরকার রাষ্ট্রধর্ম দ্বারা । তাই এখন প্রশ্ন জাগে , ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রধর্ম বহাল ; কোন পথে এগুচ্ছে বাঙলাদেশ ?

৩ thoughts on “ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল ; কোন পথে এগুচ্ছে বাঙলাদেশ ?

  1. কি সব বাল লেখো? এডি ছাইড়া
    কি সব বাল লেখো? এডি ছাইড়া দিয়া সার্কাসে গিয়া ডুগডুগি বাজাওগা। তোমাগের গুরু নুর নবী দুলালরে সাথে নিও। অয় বইসা বইসা হাতে তালি দিবো। বাংলাদেশে আর ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতার জায়গা নাই। এডি ইস্রাইল আর আম্রিকার ষড়যন্ত্র।

  2. সামরিক সরকারের ভুলসিদ্ধান্ত
    সামরিক সরকারের ভুলসিদ্ধান্ত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। তাছাড়া, একশ্রেণীর মানুষের সেন্টিমেন্টও তো দেখতে হবে।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

  3. সামরিক সরকারের ভুলসিদ্ধান্ত
    সামরিক সরকারের ভুলসিদ্ধান্ত বয়ে বেড়াতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। তাছাড়া, একশ্রেণীর মানুষের সেন্টিমেন্টও তো দেখতে হবে।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *