মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রেতাদের ব্যাংক ডাকাতি ও দেশ প্রেমের নমুনা!

পাকিস্তান আমলে গণতন্ত্রের জন্যে আন্দোলন করা দলটি নিজেরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাই তো একাত্তর পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা মাত্র অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করে দিয়েছিল। শেখ মুজিবের একনায়কতন্ত্রের ফলে বাংলাদেশে শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা তলানিতে পৌঁছে। এছাড়াও ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেলেও, না খেয়ে থাকতে হয়নি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের। প্রথম সরকার গঠন করার আনন্দে চলে অবাধ লুটপাট।


পাকিস্তান আমলে গণতন্ত্রের জন্যে আন্দোলন করা দলটি নিজেরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। তাই তো একাত্তর পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা মাত্র অগণতান্ত্রিক আচরণ শুরু করে দিয়েছিল। শেখ মুজিবের একনায়কতন্ত্রের ফলে বাংলাদেশে শেখ মুজিবের জনপ্রিয়তা তলানিতে পৌঁছে। এছাড়াও ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে অসংখ্য মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেলেও, না খেয়ে থাকতে হয়নি আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের। প্রথম সরকার গঠন করার আনন্দে চলে অবাধ লুটপাট।

নতুন একটি দেশে দুর্ভিক্ষ আসতেই পারে কিন্তু সেই দুর্ভিক্ষে যখন শাসন গোষ্ঠী অবাধ লুটপাট চালায় তখন ধরে নিতে হবে মনুষ্যত্ব বোধ তাদের ভেতর থেকে হারিয়ে গেছে। শেখ মুজিবের ছেলে দুর্ভিক্ষের ত্রাণ বিপণনের দায়িত্ব নিয়ে ব্যর্থ হয়। সারাদেশে চলে নেতাকর্মীদের লুটপাট। রাশিয়ার দুর্ভিক্ষের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবান দিতে গিয়ে এক মন্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে দেখেন: জনগণকে যতোটুকু খাদ্য দেওয়া হতো মন্ত্রীকেও তাই দেওয়া হতো। চারদিন খেতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর অন্যদিকে আমরা দেখি অভাব অনটনের দেশে প্রধান মন্ত্রীর ছেলের বিয়ে হয় পুত্রবধূর সারা শরীরে স্বর্ণ মুড়িয়ে। এখানেই আওয়ামী লীগের লুটেরা চরিত্র ফুটে উঠে। ক্ষমতার দাপটে, দলীয় চাটুকারে জাতীয় সেই বঙ্গবন্ধু থেকে আওয়ামী লীগের শেখ মুজিবে পরিণত হলেন।

বাংলাদেশে প্রথম শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি হয় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের ক্ষমতা আসার পর। ৭৫-এর পর শেখ মুজিবের সাথে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনা জনগণের কাছে বিক্রি করে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসে ৯৬ সালে। অথচ শেখ মুজিব মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মী রাস্তায় একটা শোক মিছিল করার সাহস পায়নি। করবে কী করে? লুটপাট করার পরে সমাজে তো আর তাদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। ৭১-এ সাধারণ মানুষ যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই স্বপ্নের সাথে প্রথম গাদ্দারি করে শেখ মুজিবের সরকার। সেই সরকারে টিকতে পারেননি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদও! ইসলামি ফাউন্ডেশন সৃষ্টি, OIC সম্মেলনে যোগ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে প্রথম আঘাত করেন শেখ মুজিব। ভুট্টোকে জড়িয়ে ধরার সময় ৩০ লাখ শহিদ, দুই লাখের উপর বীরাঙ্গনাদের কথা মনে পড়ল না। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না। মুজিবের আঘাতে ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ নিহত হল জিয়াউর রহমানের হাতে আর ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশের দাফন হয় এরশাদের হাতে রাষ্ট্র ধর্ম করার মধ্য দিয়ে।

এরশাদ যখন রাষ্ট্র ধর্ম করল তখন এরশাদের গৃহপালিত তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ এর বিরোধিতা করেন। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন-সংবিধানে বিসমিল্লাহ লেখা থাকার পর রাষ্ট্র ধর্মের প্রয়োজন নেই আর জামাত এর প্রতিবাদ করে বলেছিল-এরশাদ নিজের স্বার্থে রাষ্ট্র ধর্ম করছে। ২০১৬ সালে এসে তিন দলই রাষ্ট্র ধর্মের পক্ষে আছে। সেই সময় রাষ্ট্র ধর্মের বিরুদ্ধে যারা রিট করেন তাদের মধ্যে আজ ৫ জন বেঁচে আছেন। তাদের মধ্যে বদরুদ্দীন উমর একজন। কোর্টে রাষ্ট্র ধর্ম নিয়ে ফয়সালা হওয়ার আগের দিন বদরুদ্দীন ঔমর তার স্বাভাবিক চরিত্র অনুযায়ী পলটি দেন। বাংলাদেশে এক সময় ধর্ম ছিল স্কুলে ঐচ্ছিক বিষয়, এখন রাষ্ট্রধর্ম রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত।

৯৬-এ শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিল আওয়ামী লীগের অন্যতম ডোনার সালমান এফ রহমান। তার বেক্সিমকো কোম্পানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লুটের ঘটনাও ঘটেছে আওয়ামী লীগের আমলে। ৯৬-এর লুটেরা দানব আজ মহা দানবে পরিণত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশে রিজার্ভ চুরির মতন ঘটনা ঘটেছে। শেয়ার হাজারের চুরির ঘটনায় নিঃস্ব হয়েছে হাজারো সাধারণ বিনিয়োগকারী। কিছুদিন আগে ৯৬-এর শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি মামলার সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে কোর্ট। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে অগ্রিম জামিন নিয়ে নেন সালমান। বর্তমানে কয়েকটি সংবাদ পত্র ও টিভি মিডিয়ার মালিক হওয়ায় ও দাপুটে চোর হওয়ার কারণে কোন মিডিয়া এই সংবাদ প্রচার করেনি। অন্যদিকে সরকারের আশীর্বাদ থাকার কারণে নিরাপদভাবেই মোবাইলের ভিওআইপি ব্যবসা থেকে শুরু করে সব ধরনের রাস্তায় অবাধে লুটপাট যাচ্ছে তারা।

গত সাত বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার ভাগ সরকারের লোকজন পেয়েছে অথবা সরাসরি জড়িত ছিল বলেই কারো কোন বিচার হয়নি। এমনকি কোন কোন অপরাধের বিরুদ্ধে কোন মামলাও করা হয়নি। জনগণকে বোকা ভাবা ভুল। জনগণ সব বোঝে। আর্মি পুলিশের দাপটের কারণে নিজেদের যারা ক্ষমতাবান ভাবছে তারা হয়তো ভুলে গেছে ৭৫এর পর কেউ নিহত প্রেসিডেন্টের জন্যে কোন মিছিলও বের করেনি। রিজার্ভ ব্যাংক চুরির ঘটনায় বিএনপির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। বাংলাদেশের সাধারণ জনতাও মনেও আজ সন্দেহ। শেখ হাসিনার পরবর্তী প্রজন্ম জয় অথবা আওয়ামী লীগের আগামী দিনের সভাপতি জয় হবেন এই জন্যে আঙ্গুল তুলছে কেউ কেউ এটা সত্য। কিন্তু এটাও সত্য প্রধানমন্ত্রী তথ্য উপদেষ্টা জয় আবার এই চুরির চোরদের সরকার গ্রেফতার করছে না। সুতরাং জনগণের মনে প্রশ্ন জাগা, সন্দেহ আসা স্বাভাবিক। যেমনটি-ক্যান্টনমেন্টে ধর্ষণের ঘটনার বিচার না করা প্রমাণ করে এই ধর্ষণের আর্মির লোকজন কিংবা তাদেরই স্বজনরা জড়িত।

যে স্বপ্নকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধে হয়েছিল সেই স্বপ্ন-পূরণের প্রধান অন্তরায় জামাত (ঘোষিত) ও আওয়ামী লীগ (অঘোষিত)। বর্তমান আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে কোন মূল মন্ত্রকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছে? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সামনে রেখে দেশে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। তারা হয়তো ভুলে গেছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে লুটপাটের লাইসেন্স পাওয়া যায় না। ইসলামিক ব্যাংকের টাকা নিয়ে স্বাধীনতা উদযাপন অন্যদিকে সরকারের নেতারা ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ার কিনে নিয়ে ইসলামিক ব্যাংককে যেন জাতীয় করণ না করা হয় তার জন্যে আড়ালে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পনামন্ত্রী নিজের মুখেই তো বলল-ইসলামিক ব্যাংক না থাকলে পথের ভিখারি হয়ে থাকত। এমন কথা বলার পরও আমাদের বিশ্বাস করতে হবে সরকার ইসলামিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে? এই সরকারের এক হাতে মুক্তিযুদ্ধ বিক্রয়ের এজেন্ডা অন্যহাতে ইসলামিক ব্যাংক। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি যেহেতু মানুষের আবেগ ইতিহাস জড়িত সুতরাং আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে যাবে। ক্ষমতার জন্যে তারা মুক্তিযুদ্ধকে ইসলামিকরণ করতে পিছপা হবে না। কারণ আমরা জানি শেখ হাসিনার বেয়াই মন্ত্রী মোশারফ হলেন ফরিদপুর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান শীর্ষস্থানীয় রাজাকার নুরু মিয়ার ছেলে, শেখ সেলিমের বেয়াই মুসা রাজাকার হল সেই ব্যক্তি যে কিনা ৭১ এ ৭০০ ভরি স্বর্ণ লুট করে বড় লোক হয়েছে। এসব চোর ও চোরদের আত্মীয়স্বজনদের থেকে এরপরও একাত্তরের চেতনা আশা করেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *