স্বাধীনতাদিবসের কবিতা: পিতা আমাদের পথ দেখাও

পিতা আমাদের পথ দেখাও
সাইয়িদ রফিকুল হক

পিতা, তোমাকে আমরা ভালোবাসতে জানি না,
পিতা, তোমাকে আমরা মর্যাদা দিতে জানি না,
পিতা, আমরা এখনও দেশকে ভালোবাসতে শিখিনি।
আর শুধু মার্চ এলেই ক্ষণিকের জন্য উত্তেজিত হয়ে উঠি,
আর আমরা সার্চ করি শখের ইতিহাস!
আর আমরা আজও জানি না—
এই মার্চে তোমার জন্ম,
আর এই মার্চেই তোমার হাতে জন্মেছে বাংলাদেশ,
আর তোমার হাতেই গড়ে উঠেছিলো
বাংলাদেশের সবুজ-বিপ্লবের সূচনা।
আর তুমি সামান্য কয়দিনে যা দিয়ে গিয়েছো
আজও তা কেউ দিতে পারেনি,
তবুও আমরা তোমাকে ভালোবাসি না।

পিতা, আমরা তোমার মতো হতে পারিনি,
তোমার মতো করে ভালোবাসতে পারি না কাউকে,

পিতা আমাদের পথ দেখাও
সাইয়িদ রফিকুল হক

পিতা, তোমাকে আমরা ভালোবাসতে জানি না,
পিতা, তোমাকে আমরা মর্যাদা দিতে জানি না,
পিতা, আমরা এখনও দেশকে ভালোবাসতে শিখিনি।
আর শুধু মার্চ এলেই ক্ষণিকের জন্য উত্তেজিত হয়ে উঠি,
আর আমরা সার্চ করি শখের ইতিহাস!
আর আমরা আজও জানি না—
এই মার্চে তোমার জন্ম,
আর এই মার্চেই তোমার হাতে জন্মেছে বাংলাদেশ,
আর তোমার হাতেই গড়ে উঠেছিলো
বাংলাদেশের সবুজ-বিপ্লবের সূচনা।
আর তুমি সামান্য কয়দিনে যা দিয়ে গিয়েছো
আজও তা কেউ দিতে পারেনি,
তবুও আমরা তোমাকে ভালোবাসি না।

পিতা, আমরা তোমার মতো হতে পারিনি,
তোমার মতো করে ভালোবাসতে পারি না কাউকে,
আর এই দেশের মানুষকে আপন ভাবতে পারি না,
তুমি দেশ আর মানুষকে ভালোবেসে জেল খেটেছো
তা-ও দিনের-পর-দিন, বছরের-পর-বছর,
তবুও তুমি দেশের মানুষকে বুঝতে দাওনি কোনো কষ্ট,
আর আমরা আজ তোমার নাম-ভাঙ্গিয়ে চাই শুধু স্বার্থ!
পিতা, তোমার ভালোবাসার মানুষকে আমরা এখন মারছি
সাপ-বিচ্ছু-ইঁদুর মনে করে—আর খুব নিষ্ঠুরভাবে।

পিতা, আমাদের মধ্যে অনেকের এখনও ভালো লাগে
সেই পাকিস্তান! একাত্তরে আমরা যাকে কবর দিয়েছি,
আর অনেকে এতো পাগল আর এতো ছাগল!
কী বলবো তোমাকে পিতা,
তুমি তো সবই জানো,
এখনও একদল পাপী পাকিস্তান-কায়েমের জন্য
দিনরাত শুধু স্বপ্ন আর স্বপ্ন দেখছে,
আর তারা দামি-দামি খাবার খেয়ে
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে আছে,
এরা এতোটাই পাপী, এখনও তারা নিজের হাতে
পাকিস্তানের পতাকা তাদের গালে-চোখে-মুখে আঁকে!
আর-একদল সোনালি রোদের মতো সুন্দর-তরুণী
পাকিস্তানী-খেলোয়াড়দের দেখলে
নদীর জলের মতো বারবার শুধু উছলে ওঠে।
আর এরাও লোকদেখানোর জন্য ফুল হাতে ছুটে যায়
বিশেষ দিবসগুলোতে কোনো একটা স্মৃতিসৌধে,
এরা নিজেদের প্রমাণ করতে চায় এদেশের নাগরিক বলে!
পিতা, এখন আমাদের মধ্যে যাদের বিবেক আছে
তারা লজ্জায় মরে যাই!
আর শুধু বারবার-প্রতিদিন লজ্জায় কুঁকড়ে যাই।

পিতা, তোমার দেশে এখন জন্মেছে অনেক আগাছা,
সঙ্গে আছে আরও কত পরগাছা,
আর সবখানে আগাছার পাহাড় জমে গেছে যেন!
আর এই দেশে জন্মেছে কিছু জারজ-কামজ-ক্ষেত্রজ!
এরা এখন সহোদর-সম আমাদের বোনদের
ধর্ষণের কাজে ব্যস্ত, এরা সম্পূর্ণ জারজ!
পিতা, এই কুলাঙ্গারদের আমরা এখনও মারতে পারিনি,
আর আমরা এখনও এদের সমূলে বিনাশ করতে পারিনি,
আর আমরা এখন বুঝি চিরস্থায়ী কাপুরুষ হওয়ার পথে।

পিতা, আমরা বুঝি পথ হারিয়ে ফেলেছি,
এখন কে দেখাবে আমাদের পথ?
তুমিই একজন পথপ্রদর্শক আমাদের জন্য ঠিক করে দাও
আর এখনই ঠিক করে দাও, পিতা!
আমরা আবার জেগে উঠতে চাই একাত্তরের চেতনায়,
আর আমরা আমাদের নির্বাচিত-নেতার নির্দেশে সমাজ-রাষ্ট্র থেকে
চিরতরে নির্মূল করে ফেলবো সর্বস্তরের ধর্ষক,
শোষক, জারজ, কামজ, ক্ষেত্রজদের।
পিতা, আমাদের জন্য একজন পথপ্রদর্শক পাঠিয়ে দাও,
আমরা আর সইতে পারছি না, আর কত সহ্য করবো?
এখানে প্রতিদিন আমাদের এখন হারাতে হচ্ছে মাতা-ভগ্নীকে,
শিশু, কিশোর, তরুণ, তরুণী, আর কত তরতাজা যুবককে!
আরও হারাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত পিতৃসম নিষ্পাপ-পুরুষদের,
আমরা আরও হারিয়েছি ডজনখানেক সাহসীযুবককে,
যারা ছিল সমাজের মেধাবীসন্তান।
আর কত আমাদের হারাতে হবে, পিতা?
পিতা, এবার আমাদের পথ দেখাও,
আর আমাদের চিরতরে জেগে ওঠার সুযোগ করে দাও।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *