ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার

এই দেশে যেমন মুসলিম বাস করে তেমনি হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রীস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও বাস করে।ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন জাতি বাস করে এই দেশে।এই দেশ বিভিন্ন জাতির দেশ।সকল বর্ণের আমাদের বাংলাদেশ। আমরা জানি যে, আমাদের রাষ্ট্রের মুলনীতি চারটি। 1 .আল্লার উপর পুর্ণআস্থা ও বিশ্বাস করা(5ম সংশোধনীতে “ধর্মনিরপেক্ষ “পরিবর্তে উক্ত নীতিটি গৃহীত হয়েছিল)।2.জাতীয়তাবাদ 3.গণতন্ত্র 4.সমাজতন্ত্র(5ম সংশোধনীতে “সমাজতন্ত্রের” পরিবর্তে “অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার অর্থে এই নীতিটি গৃহীত হয়েছিল)। এটুকুও জানি যে , বাংলাদেশের সংবিধানের শুরুতে “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম”আছে এবং ওই কথাটি দিয়ে সংবিধান শুরু হয়।তাহলে এখন যদি কোন হিন্দু,বৌদ্ধ ,খ্রীস্টান বা অন্য নিধর্মী ব্যাক্তি সংবিধান পড়ে তাহলে উনাকেও বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করতে হবে।অথচ,এই দেশে শুধু মুসলিম বাস করে না,বাস করে অন্য ধর্মের মানুষও।এমনকি সংসদেও মুসলিম ছাড়া অন্য ধর্মের সাংসদ রয়েছে।যা আজ তাদেরও বিসমিল্লাহ বলে সংসদ শুরু করতে হচ্ছে।আলাদা আলাদা জাতির আলাদা ইশ্বরের বিশ্বাস।তাহলে অন্য ধর্মের মানুষ কিভাবে আল্লাহর উপর পুর্ণ আস্থা রাখতে পারবে?তারা কিভাবে আল্লাকে বিশ্বাস করতে পারবে? কেন অন্য ইশ্বরের বিশ্বাসী মানষগুলোকে জোর করে আল্লাহর উপর বিশ্বাস চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে? এটা রাষ্ট্রের অন্যায় নয় কি? রাষ্ট্রের অন্যতম মুল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা যেখানে সকল নাগরিক ও জাতির জন্য আইনের শাসন,মৌলিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক,সামাজিক সাম্য,স্বাধীনতা ও সুবিচার সুনিশ্চিত করা। আদৌ কি পেয়েছি সেই অধিকারগুলো? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র ধর্ম হচ্ছে ইসলাম।অথচ,এই রাষ্ট্রটি একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ বলে পরিচয় দেয়।তাহলে,ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশে কিভাবে শুধু রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম হতে পারে? এটি কখনো বোধগম্য হয় না। তাই রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না।নির্দিষ্ট রাষ্ট্র ধর্ম বাদ দিয়ে সকল ধর্মকে মর্যাদা দিন।এবং গণতন্ত্র রক্ষার্থে রাষ্ট্র ধর্ম বাতিল করা কোন অশুদ্ধ নয়। ধর্ম যার যার,রাষ্ট্র সবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *