দুর্নীতিতে বিএনপিকে পেছনে ফেলতে চায় আওয়ামীলীগ

অনেক সাধনার পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনা তার সবচেয়ে কাছের অযোগ্য-পাপেট ব্যক্তিদের মন্ত্রীপরিষদ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছিলেন। তা মূল উদ্দেশ্য ছিল বাধাহীনভাবে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা, জনগণের সেবা বা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন তার উদ্দেশ্য ছিলনা।


অনেক সাধনার পর ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেই শেখ হাসিনা তার সবচেয়ে কাছের অযোগ্য-পাপেট ব্যক্তিদের মন্ত্রীপরিষদ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছিলেন। তা মূল উদ্দেশ্য ছিল বাধাহীনভাবে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা, জনগণের সেবা বা সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন তার উদ্দেশ্য ছিলনা।

হয়তো তিনি তা পেরেছেন, কিন্তু এতো বড় ভুল পদক্ষেপের জন্য তাকে এখনো চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে। সেইসব অযোগ্য-জঘন্য ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়স্বজন ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মে গলা নিমজ্জিত করে আছে। এরা প্রধানমন্ত্রী, দেশের সংবিধান বা কোন আইন, সৃষ্টিকর্তা কাউকে ভয় পায়না।

তাই বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রমাণসহ প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সাধারণত কোন বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। আর দুদক কখনো কখনো আইওয়াশ হিসেবে তদন্ত শুরু করলেও পরবর্তীতে সেইসব রাঘব বোয়ালদের ভালো মানুষের সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়।
বাংলাদেশে ভয়াবহ মাত্রার দুর্নীতি করে দুর্নাম কামিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। কিন্তু সেই সময়ে ও পরবর্তীতে সেনা-শাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়ে যাওয়ায় আওয়ামীলীগের নেতারাও মরীয়া হয়ে উঠেন।

শেখ হাসিনার শখ ছিল কমপক্ষে দুই টার্ম ক্ষমতায় থাকার। সেই কঠিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি দলের নেতা-কর্মী, সেনাবাহিনী-পুলিশ-র‍্যাব ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি সদয় হয়েছেন। মেনে নিচ্ছেন দুর্নীতি-অনিয়ম-খুন-মারামারি। এতে করে ইমেজ যতটুকু নষ্ট হয়েছে তাতে তার বা দলের অন্যান্য নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কিছু আসে যায়না। কারণ এরা এখন টাকা ছাড়া চোখে কিছু দেখছে না। কারণ খারাপ মানুষেরা কখনো অন্যের দৃষ্টিতে নিজেকে দেখে না।

শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, ফার্মার্স ব্যাংকের দুর্নীতি; পদ্মা সেতুতে টাকা খাওয়ার অপচেষ্টা; ফ্লাই ওভার নির্মাণে দুর্নীতি; মহাসড়ক উন্নয়নে দুর্নীতি; ঘুষের বিনিময়ে ইচ্ছাকৃত-ভাবে রেলওয়েকে অবহেলা করা; হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় দুর্নীতি; কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ-রামপাল বিদ্যুৎ-কেন্দ্রে গুরুতর অনিয়ম; সরকারি চাকরী ও পুলিশের নিয়োগ-শান্তিরক্ষী বাহিনীতে পাঠানোর নামে ঘুষ বাণিজ্য; সামরিক ক্রয়ে দুর্নীতি; বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে অনিয়ম, মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের অবদানের সম্মাননা স্মারকে স্বর্ণ চুরি … এরকম হাজারটা ঘটনা জাতির সামনে উঠে এসেছে গত সাত বছরে। সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু ব্যাংক লুটে অর্থের পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা!

আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলছেন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করবেন না।

মাতাল অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন চার হাজার কোটি টাকা বড় কিছু না, দেশের বাজেট লক্ষ কোটি টাকা। যদিও জনগণের আমানতের সেই টাকা হলমার্কের কাছ থেকে এখনো উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। বলেছিলেন প্রকল্প পরিচালক, সচিব-মন্ত্রীদের সাথে বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন তদবিরের জন্য আসতেই পারে। এতে দোষের কি আছে! ঠিকই তো প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন বড় লবিস্টদের সাথে সাক্ষাত করে বিভিন্ন রকম আশ্বাস দেন, সেখানে তার মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে পাড়ার নেতারাও নির্ভয়ে তাই করবে সেটাই স্বাভাবিক। তার সরকার চায় দেশের মানুষ সবাই দুর্নীতিবাজ হয়ে উঠুক, তাহলে আর তাকে বা তার দলকে কেউ গাল দেবেনা।

প্রধানমন্ত্রী নিজে, তার ছেলেমেয়ে ও বোন শেখ রেহানার ছেলেমেদেরকে পরিবারের সদস্য উল্লেখ করে বলেছিলেন তারা কেউ দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। অন্যদিকে শেখ সেলিম-হেলাল, ফজলে নূর তাপসকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন দায় এড়াতেই।তথাপি নামোল্লেখ না করে শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থমন্ত্রনালয়, বিটিআরসি’র কিছু কর্মকর্তা দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও মেয়ের যোগাযোগের ব্যাপারে ইঙ্গিত করেছেন।

বলেছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দিতে কানাডার এসএনসি-লাভালিনের সাথে মধ্যস্থতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের জামাই। জানা গেছে সেই টাকার ভাগ অর্থমন্ত্রী নিজেও পাওয়ার কথা। যে কারণে বিশ্ব ব্যাংকের “ভুয়া দাবীর প্রতিবেদনটি” প্রকাশ করতে সাহস পায়নি সরকার।

এভাবে বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে একদিকে আওয়ামীলীগ নিজে যেমন জনপ্রিয়তা-গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে, তেমনি দুর্নীতি সারাদেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ঢুকে গেছে; সন্ত্রাস-মাদক ব্যবসা বেড়ে গেছে; আর সবচেয়ে ভয়ংকর হলো ধর্মীয় উগ্রপন্থা ও জঙ্গিবাদের দ্রুত বিস্তার ঘটছে।

এত কিছু কিভাবে সামলাবেন শেখ হাসিনা? দুর্নীতির গ্যাংগ্রীন আপনাকেও ছাড়বে না!

২ thoughts on “দুর্নীতিতে বিএনপিকে পেছনে ফেলতে চায় আওয়ামীলীগ

  1. ক্ষমতার এই পর্বে আওয়ামীলীগ
    ক্ষমতার এই পর্বে আওয়ামীলীগ সবক্ষেত্রেই ভজগট পাকিয়ে ফেলছে। দুর্নীতিতে যে কোন সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই খারাপ। বিএনপি আমলের দুর্নীতিকে ছাড়িয়ে গেছে আওয়ামীলীগ। সকলক্ষেত্রে এতটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে যে এখান থেকে আওয়ামীলীগকে বের হওয়া অনেক কষ্টের হবে। পালানোর কোন পথ পাবেনা নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *