ধর্ষণ ও পুরুষ উপাখ্যান

পুরুষ কেন ধর্ষণ করে? এই উত্তর জানতে হলে জানতে হবে কেন তারা ইভটিজিং করে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সিরিয়াস ইভটিজারদের মাঝে জরিপ করে দেখেছি ৯৮% এর কোন রকম যৌন অভিজ্ঞতা নেই। তাদের কাছে নারীদেহ এক চরম ফ্যান্টাসির নাম। নীল ছবির (পর্ণ মুভি) সহজলভ্যতায় তারা বিশ্বাস করে সব সত্যি যেমন টিভিতে রেসলিং খেলাকে সত্যি মনে করে। মনিটর বা টিভির পর্দায় বা বইয়ের পাতা কে তারা বেদবাক্য বা কোরানের আয়াত মনে করে। যা অবশ্যই সত্যি (?)। এটা থেকে তারা নিজেদের কল্পনায় চিন্তা করতে থাকে নারীর কল্পিত দেহ । স্তন, পয়োঃধর, যোনি, স্থুল পশ্চাৎদেশ। এর পরিণাম বাড়তে বাড়তে ঘটে যায় ধর্ষণের বহিঃপ্রকাশ। নিজেদের মাঝে এই ফ্যান্টাসির শূণ্যতাকে পূরণ করতে ছুঁটে আসে অসৎ চিন্তার ঝড়।

এছাড়াও পছন্দের কোন নারীকে কাছে ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় ধর্ষণ সিলমোহরের। জীবনে ব্যর্থ পুরুষরাও খুঁজে ফেরে যে কোন শিকার যাকে ব্যর্থ করে নিজের প্রতিশোধের স্বাদ ঘোলে মিটাবে। অসহায় নারী পেলে হামলে পড়ে হায়েনার মতই। কিন্তু এরা কখনোই বিপর্যস্ত কোন নারীর পাশে দাঁড়াবে না।মুখে সাধুতার মুখোশ এটে শুধু ধর্মের বানী আওড়াবে। পৃথিবীর কোন ধর্ম কোন দিন কোন ধর্ষণের অনুমতি দেয়নি। কোন নৈতিকতার স্মারকে ধর্ষণ কোন সিদ্ধ শব্দ নয়।

জনসম্মুখে যদি এদের যৌনাচার বা সেক্স করতে দেয়া হয় এদের ১০০%ই অস্মীকার করবে। কারণ এদের পৌরুষত্ব খুবই ঠুণকো। স্থায়ীত্বের অভাব বড় প্রবল । বীর্যের অধিকারী তারা হতে পারে কিন্তু কোন ভাবেই শৌর্যের নয়।নিজেদের পরিবার আর নিজেদের সম্মানের প্রতি তারা খুবই উদ্বিগ্ন। অন্যের মা, বোন, স্ত্রী, কন্যার প্রতি না। তারা হয়ত জানে না ধর্ষণ শুধু নারীদেরই না পুরুষদেরও করা যায়। তারা জানে না বেশ্যা শুধু নারীরা না পুরুষ বেশ্যা বলেও একটা শব্দ আছে।

নারীকে ধর্ষণের পর সে বেঁচে যায় বা তাকে হত্যা করা না হলে সে টিকে থাকে । কিন্তু পুরুষ ধর্ষিত হলে মারতে হয় না সে এমনেই মরে যায়।

যুগে যুগে ইয়াসমিন-তনুরা আমাদের লজ্জ্বা দিয়ে যায়। তবুও আমাদের লজ্জা হয় না। আমরা নির্লজ্জের মত থাকি। কারণ আমরা পুরুষ আর লজ্জা নারীর ভূষণ। সমাজ এটাই আমাদের শিখায় ছোট থেকে।

আমরা পুরুষ। আমরা প্যারাবোলা (অর্ধবৃত্তাকার) আকৃতিতে প্রসাব করতে পারি। কারণ আমাদের আছে শিশ্ন। ধর্ষনের মারনাস্ত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *