হিজাব কিংবা বোরকা; ধর্ষণ থেকে নারীদের রেহাই নেই

হিজাব পরুক আর বোরকা; নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই যেখানে নারীরা নিরাপদ নয়, সেখানে পথেপ্রান্তে অনিরাপদবোধ করা অস্বাভাবিক নয়। ধর্ষক পোশাক দেখে ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় না। ধর্ষণে সমাজ ধর্ষিতার শালীনতার সংজ্ঞা খোঁজে অথচ ধর্ষকের অশালীনতা চোখে পড়ে না। সমাজের বড় একটি অংশ মূলত ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রকাশ্যে বললে যতসব সমস্যা তাই ইনিয়ে বিনিয়ে পরোক্ষভাবে ধর্ষকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।


হিজাব পরুক আর বোরকা; নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই যেখানে নারীরা নিরাপদ নয়, সেখানে পথেপ্রান্তে অনিরাপদবোধ করা অস্বাভাবিক নয়। ধর্ষক পোশাক দেখে ধর্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় না। ধর্ষণে সমাজ ধর্ষিতার শালীনতার সংজ্ঞা খোঁজে অথচ ধর্ষকের অশালীনতা চোখে পড়ে না। সমাজের বড় একটি অংশ মূলত ধর্ষণের পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রকাশ্যে বললে যতসব সমস্যা তাই ইনিয়ে বিনিয়ে পরোক্ষভাবে ধর্ষকের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে।

একটা নারী কতটা সতর্ক হলে ধর্ষণ থেকে রেহাই পাবে? হিজাব পরলে রেহাই পাবে? বোরকা পরলে রেহাই পাবে? বাড়ির ভেতর বন্দি থাকলে রেহাই পাবে? এমনই যদি হয় তাহলে সৌদি আরবে ধর্ষণ হয় কীভাবে? পাকিস্তানে নারী ধর্ষিত হয় কীভাবে? আফগানিস্তান, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, বাঙলাদেশের নারীরা এত ধর্ষিত হয় কীভাবে? বাড়ির মধ্যে থাকলে আত্মীয় দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তেমনই ড্রাইভার দ্বারা শিক্ষক দ্বারা, সহপাঠীর দ্বারা, বাসের কন্ট্রাটরের দ্বারা, রাস্তায় পথচারী দ্বারা, ড্রাইভার দ্বারা, বন্ধুবান্ধবের দ্বারা, পিতার দ্বারা, ভাইয়ের দ্বারা, প্রতিবেশীর দ্বারা যৌন হয়রানীর শিকার হয়।

নারীরা কালো কাপড়ে সারা শরীর ঢেকে রাখলেও ধর্ষিত হবে, পূর্বেও ঘটেছে, আগামীতেও হবে। যতদিন না পর্যন্ত ধর্ষকের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ধর্ষণে নারীর দোষ, নারীর শালীনতা তারাই খোঁজে-যারা শয়নে স্বপনে ধর্ষণের উন্মাদনায় উদ্বেলিত হয়। নারীর পোশাক নিয়ে তারাই প্রশ্ন তোলে যারা বিকৃত যৌনাচারে, অসুস্থ মানসিকতায়, পৈশাচিক নির্যাতনে সুখিবোধ করে।

সমাজে এই চিন্তাধারার মানুষের সংখ্যা বেশি। ছোটকাল থেকে নিজ পরিবারের নারী সদস্যের প্রতি যেরূপ বিরূপ কিংবা বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ দেখেছে এবং সমাজ যেভাবে নারীদের খাওয়ার বস্তু, পণ্য সামগ্রী হিসেবে করে রেখেছে তাতে যৌন বিকারগ্রস্থ হওয়াটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। উন্নত দেশে অসুস্থ, বিকৃত চিন্তাধারার মানুষদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থায় থাকলেও দরিদ্র উন্নয়নশীল মুসলমানপ্রধান দেশগুলোতে এমন কিছু নেই।

বাঙলাদেশে প্রতিদিনই গড়ে চার-পাঁচজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিত্সাব নিতে আসছেন৷ আর প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই হিসাব শুধু যারা ওসিসিতে চিকিত্সাি নিতে আসেন তাদের৷ ওসিসি’র মতে, সাধারণত ধর্ষণের শিকার ১৮-১৯ বছর বয়সী মেয়েরা৷ উন্নত দেশগুলোর গবেষণায় সত্যতা মেলে, নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু মুসলমান প্রধানদেশগুলোতে লোকলজ্জায় ভয়ে অনেকেই যৌন নিপীড়ন, যৌন নির্যাতন, ধর্ষণেও মুখ বুজে আজীবন অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যায়। ২০১১ সালে সারা দেশে ৬২০ জন, ২০১২ সালে ৮৩৬ জন, ২০১৩ সালে ৭১৯ জন, ২০১৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৪৩১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়৷ অথচ বিচার শব্দটি কুসংস্কারে পরিণত হয়েছে।

বাস্তব হচ্ছে, ধর্ষণ থেকে নারীদের রেহাই নেই। যৌন বিকারগ্রস্থ পুরুষ ধর্ষণ করবে, জোর খাটাবেই, হিজাব পরুক আর বোরকা, পুরুষ ধর্ষণকে বৈধ ঘোষণা করার জন্য অজস্র অযৌক্তিক যুক্তি উপস্থাপন করবেই। সমাজ চুম্বনে অশ্লীলতা খুঁজে পায়, ধর্ষণে বীরত্বের জয়গান গায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *