স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হওয়ার ক্ষেত্রে কবি নির্মলেন্দু গুণ কি শার্ষিণার পীরের চেয়েও বেশী অযোগ্য পিনাকি বাবু?




নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তিকে ট্রল করতে গিয়ে দেখলাম উনার বিখ্যাত কবিতা “ স্বাধীনতা ,এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো?” র প্রসঙ্গটি টেনে আনলেন এদেশের একমাত্র ফেসবুকীয় বুদ্ধিজীবী ,আমার পরম পূজ্য , যুক্তিবিদ্যার সাইক্লোন, ছাগুবাদের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর মহামান্য পিনাকি ভট্টাচার্য্য। তাতে লাইক পড়েছে হাজারখানেক, কমেন্ট শতের কাছাকাছি। গুণদার স্বাধীনতা পুদক প্রাপ্তি নিয়ে অনুলাইনে অনেক হাস্যরসাত্মক স্ট্যাটের ছড়াছড়ি থাকলেও , কোন স্ট্যাটাসেই তাঁর কবিতা তুলে প্রশ্ন উত্থাপন বা ট্রল করা হয়নি। গুণদাকে ট্রল করার জন্য এই কবিতাটি বেছে নেয়ার তাহলে কারণ কি?

কবিতাটির কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করলাম,
“শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে,
রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে – জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন।
তখন পলকে দারুন ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা। কে রোধে তাহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূয্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর কবিতাখানি
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

সবাই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে নিয়ে লেখা হয়েছিল এই কালজয়ী কবিতাটি। আর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে নির্মলেন্দু গুণের পদক প্রাপ্তিকে ট্রল করার ছদ্মাবরণে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রাণপুরুষ বংগবন্ধুর সেই অমর ভাষণটিকে ট্রল করে কি সুকৌশলে জামাতীদের হাজারখানেক লাইক কমেন্টের পিঠ চাপড়ানো বাহবা কামিয়ে নিলেন তিনি!!

প্রসঙ্গক্রমে শার্ষিণার পীর সাহেবের কথা মনে পড়ে গেল। ১৯৭১ সালে এই শর্ষীনার পীর ছিলেন মাওলানা আবু জাফর মোঃ সালেহ নামের এক নরপিশাচ। স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্রের অস্টমখন্ডে উল্লেখ আছে, “পীরের বাহিনী কর্তৃক লাঞ্চিত স্বরুপকাঠির বারতী রানী বসুর বর্ণনা অনুযায়ী- ৬ মে পাকিস্তানি বাহিনী স্বরুপকাঠিতে আসে। সেখান থেকে থানা যাবার পথে শর্ষিনার পুল থেকে সাহাপাড়া পর্যন্ত সব বাড়ি-ঘর, দোকানপাটে প্রথমে লুটপাট চালায়। তারপর জালিয়ে দেয় আগুন। ৭দিন ধরে চলে ঐ এলাকার ৩০ টি হিন্দু গ্রামজুড়ে এই বর্বরতা। লুট কৃত সব মালামাল চলে আসতো শর্ষীনা পীরের গুদামে।হিন্দু নারীদের পাকসেনারা ধর্ষন করে নির্বিচারে। পাকবাহিনীর সঙ্গে লুটপাট এ অংশ নেয় শর্ষিনা মাদ্রাসার ছাত্র এবং পীরের অনুসারীরা।পীর সাহেব তখন ঘোষনা করেছিলেন, হিন্দুদের সম্পত্তি গণিমতের মাল, ঐ সম্পদ দখল করা হালাল। স্বরুপকাঠির প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা কেন্দ্র ইন্দরহাটের বড় বড় হিন্দু মহাজনরা ব্যবসা করত। পীরের নির্দেশে বাজারটি মাটিতে মিশে দেয়া হয়। স্বরুপকাঠিতে ‘আট ঘর- কুরিয়ানা’ নামে একটি বিশাল পেয়ারা বাগান আছে। যেটি দেশের সবচেয়ে বড় পেয়ারা বাগান মনে করা হয়। এই পেয়ারা বাগানেছিল মুক্তিযোদ্বাদের শক্ত ঘাটি। পাক ও পীর বাহিনী মিলে গাছ কেটে আগুন জালিয়ে বাগানটি ধবংস করতে চায়। কিন্তু এলাকার বাসীর প্রতিরোধ পুরোপুরি ধবংস করতে পারেনি।যুদ্বের ৯মাস শর্ষিনা পীরের বাড়ি ছিল পাকবাহিনী ও রাজাকারদের দুর্ভেদ্য ঘাটি। সেকানে মাদ্রসার ছাত্রদের প্রশিক্ষন দিয়ে অস্ত্র তুলে দেয়া হতো মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করতে।এমন কি মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন থেকে স্বরুপকাঠি থানা অফিসটি রক্ষার জন্য পীরের বাড়িতে স্হানান্তর করা হয়।যুদ্ধের সময় শর্ষিনা বাহিনীর নির্যাতনে শত শত হিন্দু পরিবার সম্পত্তি ফেলে ভারত অথাবা অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।হিন্দুদের ফেলে রাখা জমি দখল করে নেয় পীর। পরবর্তীতে পীর নানা জালিয়াতির মাধ্যমে জমিগুলি নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। শর্ষিনা মাদ্রাসার মূল একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন স্হাপনা বর্তমানে হিন্দুদের জায়গায়। ”

এই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাঢীকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান ‘জনসেবার’ জন্য এবং ১৯৮৫ সালে এরশাদ শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পদক ‘স্বাধিনতা পদক’ প্রদান করে! কই এটার বিরুদ্ধে তো কখনো এই মহাজ্ঞানীদের স্টেইটাস প্রসব করতে দেখিনি। কল্লার নাকি লাইক কমে যাওয়ার ভয়ে সেটা অবশ্য উনারা নিজেরাই ভালো বলতে পারবেন।

নির্মলেন্দু গুণের স্বাধীনতা পদক দাবীকে নিয়ে পক্ষ বিপক্ষে তর্কবিতর্ক, ট্রল অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত হওয়ার ক্ষেত্রে , তিনি কি শার্ষিণার পীর সাহেবের চেয়েও বেশী অনুপযুক্ত ছিলেন দাদা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *