তনু হত্যার রহস্য উদঘাটন ও ধর্মান্ধদের অপপ্রচার !!

সময়ে অসময়ে ধর্ষণের ঘটনা ইদানিং বেশী শোনা যায় বাংলাদেশে | ধর্ষণের ঘটনা আগেও যথেষ্টই ঘটতো তবে তার সংবাদ আমাদের পর্যন্ত পৌছাত কম | কিন্তু এখন ইন্টারনেট-ফেসবুক ব্যবহারের প্রসারতার কারণে ছোট থেকে বড় সবই আমাদের পর্যন্ত পৌছায় | এটা অবশ্যই ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের একটি ভাল এবং কাম্য দিক |


সময়ে অসময়ে ধর্ষণের ঘটনা ইদানিং বেশী শোনা যায় বাংলাদেশে | ধর্ষণের ঘটনা আগেও যথেষ্টই ঘটতো তবে তার সংবাদ আমাদের পর্যন্ত পৌছাত কম | কিন্তু এখন ইন্টারনেট-ফেসবুক ব্যবহারের প্রসারতার কারণে ছোট থেকে বড় সবই আমাদের পর্যন্ত পৌছায় | এটা অবশ্যই ইন্টারনেট ভিত্তিক যোগাযোগের একটি ভাল এবং কাম্য দিক |

বর্তমানের একটি ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা বেশ ব্যাপকভাবে বাংলাদেশের মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে | শুধু মুখেই নয় ইন্টারনেট ভিত্তিক অন্যতম যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও মানুষের এ নিয়ে লিখালিখির শেষ নেই | চারিদিকে সবারই এক কথা অপরাধীদের সাজা চাই , বিচার চাই | আসলে খুন , ধর্ষণ পৃথকভাবে কিংবা একত্রে সবসময়ই সব ক্ষেত্রেই ভীষণ জঘন্যতম এবং ভয়ানক শাস্তিযোগ্য অপরাধ | যদিও বাংলাদেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ খুনের ঘটনা ঘটে যা নিয়ে সবাই মিলে এত হৈ চৈ কিংবা বিচারের জন্য তেমন কোন কিছুই করে না , তবু এবার ধর্ষণ অতঃপর খুনের বিচার চাইতে যে সবাই বেশ তৎপরতা দেখাচ্ছে তার জন্য সাধুবাদ জানাই | কিন্তু পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ও লক্ষ করছি যে একগুচ্ছ ইসলামিক এবং জামাতী সাইট ও পেইজে পাবলিককে বেশ হারে বোঝানো হচ্ছে যে এসব ধর্ষণের মত জঘন্যতম ঘটনার জন্য দায়ী মুক্তমনা , নাস্তিক , স্যাকুলার কিংবা নারী অধিকার সচেতন মানুষগণ | মুক্তমনাদের নারী অধিকার সচেতনতার কারণে নাকি অশ্রীল পোশাক কিংবা উশৃঙ্খলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে সমাজে যার ফলাফল এসব ধর্ষণের ঘটনা | তা বেশ যত দোষ নন্দ ঘোষ | মানুষের অধিকার আদায়ে কথা বললে আমরা সব থেকে নিকৃষ্ট ! তবে হ্যা যারা মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করতে চায় , তারা নিজেরাই খারাপ কাজ করে আমাদের মত অধিকার সচেতনদের ঘাড়ে দোষ চাপাবে এটাই স্বাভাবিক | শত হলেও ধর্মান্ধ বলে কথা !

যাহোক এবার মূল ঘটনায় আসি | কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে গত রবিবারে ধর্ষণের পর হত্যা করে একদল নরপিশাচ | তার লাশ পাওয়া যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের আবাসিক এলাকার এক কালভার্টের পাশে | এখন পর্যন্ত পুলিশ অপরাধীদের চিন্হিত করতে পারে নি | চারিদিকে বেশ কৌতুহলের সৃষ্টি হচ্ছে ঘটনাটিকে ঘিরে | তাই চলুন এই ঘটনা ভিত্তিক কিছু হিসেব মিলিয়ে নেই | দেখি কিছু বোঝা যায় কী না |

*** ঘটনার দিন সন্ধায় তনু টিউশনি করাতে যায় সেনানিবাসের ভিতরেই এক বাসায় | পড়ানো শেষ করে সেখান থেকে ৭টায় বের হয় এবং রাত দশটার দিকে খুজতে খুজতে তার লাশও পাওয়া যায় সেনানিবাসের ভিতর | মধ্যের তিন ঘণ্টায় তাকে ধর্ষণ এবং হত্যা করে লাশ সেনানিবাসের বাইরে থেকে নিশ্চই ভিতরে এনে ফেলে যাওয়া সম্ভব না | কারণ প্রথমত এত অল্প সময়ে এই ধরণের কাজ অসম্ভব | তার উপর আবার সেনানিবাসের ভিতরে লাশ বাইরে থেকে এনে ফেলে যাওয়া আরও সম্ভব নয় | যেখানে একটা সাধারণ মানুষকে সেনানিবাসের ভিতরে প্রবেশ করতে গেলে কোথায় যাবে , কি কাজে যাবে এতকিছু ইন্টারভিউ দিতে হয় , সেখানে একটি মানুষের লাশ কী করে বাইরে থেকে প্রবেশ করানো যেতে পারে ? তার মানে পুরো ঘটনাটি সেনানিবাসের ভিতরে ঘটেছে |

*** সেনানিবাসের ভিতরে উচ্চমানের সিকিউরিটি , সিসিক্যামেরা থাকা সত্বেও এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল , অথচ কেউ কিছু টের পেল না ! এমনকি এখন পর্যন্ত এই ঘটনার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোন দায়ভার কিংবা ব্যবস্থা নিচ্ছে না | যেখানে তারা চাইলে পুরো দেশে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটিয়ে দিতে পারে , সেখানে সেনাবাহিনীর চুপ করে থাকা কী প্রকাশ করে ? নাকি তারা নিজেদের প্রেস্টিজ বাচাতে চুপ করে আছে ? তাহলে বাহিনীর প্রেস্টিজ রক্ষার্থে যে নিজেদের কোন কর্মীর দোষ তারা লুকোচ্ছে না তারই বা কী নিশ্চয়তা আছে ?
আর একটা কথা , যারা নিজেদের বাসস্থানেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না , তারা দেশের নিরাপত্তা কতটা রক্ষা করতে পারবে সেটাও বেশ ভাবার বিষয় |

*** তনুর লাশের মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে ধর্ষণকারীরা প্রটেকশন নিয়ে ধর্ষণ করেছে | অর্থাৎ তারা আইনী এ বিষয় সম্পর্কে জানতো যে প্রটেকশন ছাড়া ধর্ষণ করলে ধরা পরে যেতে হবে | এবার কী ধর্ষণকারীদের মাঝে একটু একটু আইন সম্পর্কে জ্ঞাত বা সামরিক লোকজনের গন্ধ পাচ্ছেন ? এবার একটু ভাবুন তো প্রটেকশন নিয়ে ধর্ষণ কী হুট করে কারও পোশাক দেখে উত্তেজিত হয়ে করা যায় ? এর জন্য প্রয়োজন কড়া নজরদারি এবং পূর্ব পরিকল্পনা | তনুর নিজের বাসা সেনানিবাসের ভিতরে এবং টিউশনি করায় সেনানিবাসের ভিতরে | তাই সে কখন টিউশনি করিয়ে বের হয় এবং একা ফেরে তার উপর নিশ্চই সেনানিবাস বহির্ভূত একটি বাইরের মানুষ নজর রাখতে পারবে না | এছাড়া তনুর ভাইয়ের কাছ থেকে তথ্য মেলে যে তার বোনকে কোন সৈনিক বিরক্ত করত |

সুতরাং এ সব কিছুর ভিত্তিতেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে এই জঘন্যতম কাজটির পিছনে রয়েছে সেনাবাহিনীরই কিছু কুলাঙ্গার সেনাসদস্য যাদের বাচাতেই সেনাবাহিনী আজ নিশ্চুপ |

এবার জামাতীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা না বললেই নয় | এই যে তনু নামক মেয়েটা ধর্ষিত এবং খুন হল , তার জন্য দায়ী কী তার পোশাক ? তনু যথেষ্টই একজন হেজাফী নারী ছিল যার প্রমাণ তার ফেসবুক একাউন্টের ছবিগুলো | হ্যা এখন জামাতীরা বলবেন হেজাফ মানেই সুশীল নয় , অনেকে হেজাফ অশ্রীল করেও পরে | এমন বক্তাদের জন্য তনুর হেজাফ সহ পূর্ণ ছবি দিলাম | দেখে আশা করি বুঝতে পেরেছেন যে তার হেজাফ ও পোশাকের মাঝে কোন অশ্রীলতা ছিল না | এখন প্রশ্ন হল এমন হেজাফ পরে শৃঙ্খল জীবনযাপন করার পরও কেন তাকে ধর্ষণের শীকার হতে হলো ? তার পোশাক পরিধানের মাঝে এমন কী আকর্ষণীয়তা সে রেখেছিল , যার জন্য তাকে ধর্ষণের শীকার হতে হলো ? আপনারা তো এত ধার্মিক মানব , সৎ মানব তাহলে হেজাফী জানার পরও কেন একটি মৃত মেয়ের ধর্ষণের দায় তার নিজের অশ্লীল পোশাক বলে মিথ্যে দোষ দিচ্ছেন ? আপনাদের কী মনে হয় না হেজাফী এবং পর্দাশীল হওয়া সত্বেও মৃত্যুর পর তার নামে এসব অশ্লীলতার মিথ্যে দোষ চাপিয়ে আপনারা তাকে পুনরায় ধর্ষণ করছেন ?

শুনুন মশাই ধর্ষণের জন্য যে পোশাক নয় মানসিকতা দায়ী , তা আপনাদের মত ধর্মান্ধদের বোধগম্য নয় | ধর্ষণের জন্য পোশাক না মানসিকতা দায়ী , তা আরব দেশগুলো যেখানে নারীরা পর্দা করে চলে, সেখানকার ধর্ষণের খবর শুনলেই বোঝা যায় | শুনুন হে মহাজ্ঞানীগণ , ধর্ষণ আপনারাই করেন , হত্যা আপনারাই করেন আবার দোষ অন্যের ঘাড়ে আপনারাই চাপান , আমরা না |

আপনারা শুধু নিলজ্জের মত দোষ চাপিয়ে দিয়েই উদ্ধার | কিন্তু কাল যদি বিচারের দাবিতে লেখার মাধ্যমে যুদ্ধ করতে হয় , তো আমরাই করি | শাহাবাগ চত্তরে , রাস্তাঘাটে যদি বিচারের আশায় দিনের পর দিন মিছিল ধর্মঘট করতে হয় , তো আমরাই করি , আপনারা না |

আমরা মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করি | সেই সব অধিকার , যেগুলো নানা টালবাহানা কিংবা ভয় ভীতি প্রদর্শন করে আপনারাই কেড়ে নেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *