বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য সমাজে অপরাধী তৈরি করে….

আমাদের সমাজ পুঁজিবাদী সমাজ। যেখানে ব্যক্তি মালিকানা এবং ব্যক্তিগত মূনাফা এই সমাজের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতি ঠিক বুর্জোয়া সংস্কৃতি নয়। এখানে পুঁজিবাদ এসেছে তার রেনেসাসের অনেক পরে ফলে পুঁজিবাদী অর্থনীতির বিকাশ ঘটলেও অষ্টাদশ শতাব্দীর ইউরোপের রেডিক্যাল বাক স্বাধীনতা এবং বুর্জোয়া মানবতাবাদ এখানে বিকাশ লাভ করেনি। এখানে বুর্জোয়া ব্যবস্থার যাত্রা করেছে যখন পুঁজিবাদ প্রতিক্রিয়াশীল। তাই আমাদের সমাজে পুরাতন সামন্তীয় সংস্কৃতি ভাবগতভাবে পুরোমাত্রায় আমাদের ব্যক্তি মানসে বিরাজ করে। তাই যথই আমরা পোশাক পরিচ্ছেদ বা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আধুনিক হইনা কেন ভাবগত চিন্তা জগতে আমরা মধ্যযুগীয় গোরা মৌলবাদী। যারা মূনাফার স্বাদ পেতে চায় কিন্তু নিজেদের পুরাতন চেতনাকে হারাতে চায় না। তাই আমরা দ্বিমুখী।

যে কোন সমাজের অর্থনীতি বিকাশের সাথে যদি তার সংস্কৃতি এবং শিক্ষা বিকশিত না হয় তবে সেই সমাজ সব সময় চিন্তার ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকে। আমরাও সামাজিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে। আগে সামন্তীয় সমাজে আমাদের সামাজিক পারিবারিক এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধ এর কারনে আমরা অপরাধ করতে ভয় পেতাম; যা এক ধরনের নৈতিকতার চর্চা হত। এখন আর সে নৈতিকতা ও নেই। এখন এসেছে ভোগবাদী ব্যক্তি মূনাফার যুগ। ফলে কি করছি আমরা? নিজেকে ভোগবাদের উপর সপে দিয়ে আধুনিক হতে চাইছি। যেখানে ব্যক্তিমানসে পর্ণোগ্রাফি, জুয়াখেলা, সুদ খাওয়া, চাঁদাবাজি করা, ঘুষ খাওয়া এগুলো পুঁজিবাদী সমাজের উপাদান যা আমরা ভালভাবেই রপ্ত করেছি।তার বাইরে গিয়ে অন্যকে সহযোগিতা বা মানুষের প্রতি ভালবাসা এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ব্যক্তি সম্পতি বৃদ্ধি করতে হলে অন্যের শ্রম শোষন করতে হবে। তা হল সাধারণ নিয়ম।আধুনিক পুঁজিবাদী উৎপাদন হল সামাজিক উৎপাদন যা যৌথ শ্রমের উপর নির্ভর করে গড়ে উঠে। যেমন কৃষক কাঁচামাল উৎপাদন করে, পরিবহন শ্রমিক নিয়ে আসে, কারখানায় শ্রমিকরা পণ্য বানায় তারপর আবার শ্রমিকরা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়। তাই সামাজিক শ্রম ছাড়া বৃহৎ উৎপাদন অকল্পনীয়। এজন্য ব্যক্তিগত মালিকানা হল শোষন যা মানবিক চোখে অন্যায়।

এবার আসি সমাজ নারীপুরুষ উভয় মিলেই। নারী ছাড়া যেমন আমরা চলতে পারি না তেমনি পুরুষ ছাড়া নারীর অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। এই যে ব্যক্তি সম্পত্তি বা সম্পত্তিজাত মানসিকতা পুরুষকে নারী থেকে শ্রেষ্ঠ ভাবতে শেখায়। কারন সমাজে বেশিরভাগ পুরুষ সম্পত্তির মালিকানা। তাই সে মনে করে তার অধীনে বাকি সবাই থাকবে, নারীও। তাই স্বভাবতই সে নারীকে তার ভোগ্যপণ্য মনে করে। এজন্য সে চায় জোড়পূর্বক নারীর কাছ থেকে তার সুবিধা আদায় করতে। তারপর সামন্তীয় চিন্তা এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধ পুরুষতন্তের পক্ষে কাজ করে।তাই পুরুষ সর্বেসর্বা।

ভাংতে হবে ব্যক্তি মালিকানা! সংস্কৃতির পরিবর্তন করতে হবে। বদলাতে হবে মানসিকতা। তা একমাত্র সম্ভব সাম্যবাদী ব্যবস্থায়। না হলে অপরাধী এবং ধর্ষক থেকে এ সমাজ কখনওই মুক্তি পাবে না।

৩ thoughts on “বিদ্যমান সামাজিক বৈষম্য সমাজে অপরাধী তৈরি করে….

  1. আমাদের সমাজ পুঁজিবাদী নয়, এটা
    আমাদের সমাজ পুঁজিবাদী নয়, এটা আধা সমাজতান্রিক একটা বিকৃত সমাজ। অনেক পুঁজিবাদী সমাজে ন্যায়বিচার আছে, ইচ্ছামত শোষণ করা যায় না।

  2. আমাদের অর্থনীতি ও পুঁজিবাদী।
    আমাদের অর্থনীতি ও পুঁজিবাদী। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে যে সামন্ততান্ত্রিক শাসন এখনো আছে। তাদের অর্থনীতি পুঁজিবাদী। তবে আমাদের এখানে বুর্জোয়া গণতন্ত্র যা তাও নেই।এটা হল হরিলুটের রাজনীতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *