বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ জালিয়াতিঃ কিছু বিস্তারিত আলোচনা এবং আমাদের মাঙ্কি শিফটিং টেন্ডেন্সী

বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ জালিয়াতি একটি থ্রিলার। অসাধারণ পরিকল্পণা আর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছে সঙ্গবদ্ধ গ্রপ। ওরা প্রথমে ভিকটিম সিলেক্ট করে, বাংলাদেশকে কেন বেছে নেয়া হলো এর পেছনে কারণ হতে পারে যে, হয়তো সেই চক্র জানতে পেরেছিলো আমাদের সিস্টেম কিংবা পুরো ব্যবস্থাপনায় কোন ক্রুটি আছে। আবার সিস্টেমে ইন্ট্রুশনের পর প্রথমেই হামলে পড়েনি। বেশ অনেকদিন সকল কার্যক্রম মনিটর করেছে, তথ্য পাচার করেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের সুইফটের মাধ্যমে পেমেন্ট অর্ডারের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো নজরে এনে সেভাবেই পেমেন্ট ইন্সট্রাকশনগুলো সেট করেছে। আর এটা যে খুব সুপরিকল্পিত এবং নিখুঁত একটি কাজ হয়েছে সেটা বোঝা যায় কার্যক্রম শুরুর সময় বেছে নেবার ইউনিক আইডিয়া থেকেও। সময় নির্বাচন করা হয় এভাবেঃ

পেমেন্ট অর্ডারগুলো প্লেস করা হয় বৃহস্পতিবারের মধ্যে।
বাংলাদেশে শুক্র শনি বন্ধ
আমেরিকায় শনি রবি বন্ধ
ফিলিপাইনে শনি রবির সাথে সোমবারও চাইনিজ নিউইয়ারের বন্ধ।

সুইফট নিজেই একটা অথেন্টিকেশন সিস্টেম। এমন না যে কেউ একখানা চেক নিয়ে গেলেন আর সেটা দিয়ে একাউন্টে দেয়া মোবাইল নাম্বারে ফোন করে জিজ্ঞেস করলো আপনেই চেকটা দিয়েছেন কিনা। এখানে আপনি নিজেই বলছেন ওকে টাকা দাও, অলরেডি অথেকটিকেটেড মাধ্যম যা আপনি ছাড়া আর কারও কাছে থাকারই কথা না তা দিয়েই আপনি ইন্সট্রাকশন দিচ্ছেন, সেটা ওরা সন্দেহ ছাড়াই ছেড়ে দেয়ার কথা। তাও ভাল সন্দেহের উদয় হয়েছিল, নাহলে আরও অনেক বেশি অঙ্কের টাকা গায়েবী হয়ে যেতো।

ফেডারেল রিজার্ভে প্রতিদিন যত হাজার হাজার রিকয়েস্ট আসে, সেখানে এই ১-২ কোটি ডলার কোন ব্যাপার না। ১০ কোটি ডলার কিন্তু একদিনের একই সময়ের একটা রিকোয়েস্টে ট্রান্সফার হয়ে যায়না। সুইফট ব্যবহার করার কারণই হলো আন্তঃরাস্ট্রীয় ব্যাঙ্কিং দ্রুততর করা। বিশ্বের নানা রাষ্ট্রের প্রায় ৩৫০০ সংস্থ্যা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এর সাথে যুক্ত। এখানে ফিরতি কনফার্মেশন দেওয়ার পরেই টাকা ছাড়বে এমন কিছু নেই। আইন দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভকে ধরা যাবে না। আইনী পথে যাবার নামে কিছু সরকারী কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমনই নিশ্চিত হবে কেবল। প্রতিদিন বাংলাদেশেরও এমন ছোট খাট অংকের এমন অনেক ফান্ড এদিক সেদিক যেতা পারে, কখনো নাও যেতে পারে। সরাসরি রিকোয়েস্ট গেলে কনফার্মেশন ম্যান্ডেটরী নাকি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেব বাংকে কর্মরত কাউকে। উত্তর হচ্ছে, না। আর এই সামান্য ব্যাপারটা মাল সাহেবও জানেন না, তাই উনি মামলা হামলার কথা বলছেন। রাবিশে ভর্তি মস্তিস্ক দিয়ে উনি কেবল রাবিশ বক্তব্য, আইডিয়া আর ধারণাই প্রসব করতে পারেন। উনার কোন কথার থেকে শিখবারও কিছু নেই, দাম দেবারও কিছু নেই। হি স্পিকস টোটাল রাবিশ…

অনেকে দেখলাম দাবী করছে ফেডারেল রিজার্ভ এ কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করছে? রিকোয়েস্ট গেছে কোথা থেকে? নাকি এই পেমেন্ট রিকোয়েস্ট ফেড নিজেই পাঠিয়েছিল বলে উনারা দাবী করবেন? ফেডের কাজ হচ্ছে পেমেন্ট অর্ডার অথবা ট্রান্সফার রিকোয়েস্ট অথেনটিক নাকি সেটা দেখা। আর যেহেতু অথেকটিক মাধ্যমেই ইন্সট্রাকশন গেছে তাই তারা সেটাই করেছে যা তাদের করার কথা।
আমাদের সিস্টেম থেকে ভুয়া রিকোয়েস্ট গেছে নাকি কিংবা পুরো সিস্টেমও কি ওরাই দেখে দিবে? বুঝে কথা বলেন তো আপনারা?এরপর একই ধরণের অতিরিক্ত ট্রান্সফার অর্ডার দেখে সন্দেহ হলে বাকীগুলা আটকে মেসেজও দিয়েছে যেটা বাঙালি দেখেছে অনেক পরে। কারণ, মাঝখানে যে দুদিন বন্ধ ছিল। কেউ কেউ বলছে ছুটিতে বলে এমন জরুরী কাজে যোগাযোগ করেও পাওয়া যাবে না কেন? কেন সবসময় লোক রাখবেনা ওরা? আমাদের নিজেদের লোকেরা কি ছিল? আমাদের নিজেদের সিস্টেম কি তাহলে জরুরী কিছু নয়? যোগাযোগ করেছো কবে? কন্সপিরেসি থিওরি কপচে কেবলমাত্র ফেডারেল রিজার্ভের উপর দোষ চাপিয়ে লাভ নাই। এরপর এভাবে এভাবেই জামাত, আল কায়েদা, ক্লু ক্যাক্স কান, ব্ল্যাক ফ্রাইডে, শিবসেনার উপর দোষ ট্রান্সফার হতে থাকবে।

চোখে মুখে অনেকে এর তার স্বপ্নের সন্ধান পান আর পশ্চিমা, পাকি, জামাতি ষড়যন্ত্র দেখেন। এইবার ক্ষ্যামা দেন ভাই। জালিয়াতিকে জালিয়াতি হিসেবেই দেখেন। যেইখনে কেঁচোই নাই সেখানে অজগর খুঁজতে যাবেন না। চক্রটা খুব মেধাবী ছিল। তিনদেশের ছুটির হিসাব আর সিস্টেমের দুর্বলতারে ভালই কাজে লাগিয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে মেসেজ প্রিন্ট নেয়ার প্রিন্টার আর ওয়ার্ক স্টেশন ঝামেলা করছে দেখার পরেও আইটির লোকেদের আত্মা উড়ে যায় নাই। কি অসাধারণ নিয়োগ দিয়ে রাখছেন। ডাটা সেন্টার নিয়ে অনেকদিন ধরে কাজ করি, সুইফটের ওয়ার্ক স্টেশনের কোনো ব্যাকআপ নাই শুনে তো আমি স্পীকার হয়ে গিয়েছিলাম। এটা কি করে সম্ভব? পাসওয়ার্ড নাকি লাস্ট চেঞ্জ হয়েছে জানুয়ারিতে। ওরা নিয়মিতভাবে এমন সেন্সিটিভ সিস্টেমের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করার আর রেগুলার লগ চেক করার সাধারণ ব্যাপারগুলাই তো করে নাই। কারা কাজ করে সেখানে? এখানে ঘাপলা হবে না তো উগান্ডায় হবে? উগান্ডার সিস্টেমও নিশ্চয়ই আমাদের থেকে ভাল, নাহলে আমাদের টার্গেট করতো না, করলেও সুবিধা হতো না। যখন আপনার কাছে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ আছে তখন আপনার সিকিউরিটি আর প্রিভেন্টিভ মেজার তো এই লেভেলের আবাল মার্কা হবার কথা না।

দয়া করে সুইফটের সবকিছুর একটা মিরর রাখুক, আইপিএস (ইন্ট্রুশন প্রটেকশন সিস্টেম) অথবা ইউটিএম (ইউনিফাইড থেট ম্যানেজমেন্ট) এর মত এই জমানার বেসিক নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এপ্লায়েন্স গুলোও আছে নাকি কে বলবে? দুইদিন লেগে গেছে বুঝতে, প্রিন্ট বের করবার জন্য প্রিন্টার অন করতে। হোয়্যার ডু উই স্ট্যান্ড? একজন আবার উনার পোস্টে লিখেছেন সুইফটের জন্য টার্মিনালে বসে লম্বা লম্বা ইউনিক্স কোড লিখতে হয়! সুইফটের মত কোন প্যাকেজের কাজ কেউ কমান্ড প্রমটে বসে লম্বা লমা লাইন টাইপ করে করছে ভাবতেই হাসতে হাসতে আমার থ্রি কোয়ার্টার খুইলা উইড়া গিয়া গাছে ঝুইলা তাও গায়েবী হাওয়ায় দোল খাইতে লাগলো!! বিভ্রান্তি এভাবে ছড়াবে না তো কিভাবে ছড়াবে? আসল ব্যাপার হচ্ছে এক যুগ আগের কাজের পরিকল্পণা দুইযুগ পরে করার মত। এদেশে এজন্যই আর কোনো বিমানবন্দর হবে না, মেট্রোরেল ইন্ডিয়াতে দশ বছর আগে চালু হলেও আমরা এখনও শুরুই করিনি। ওদের থেকেও তো আমরা ২০ বছর পিছিয়ে আছি। হোয়্যার ডু উই রিয়েলি স্ট্যান্ড?

আতিউর রহমান ঠিক কাজ করেছিলেন নাকি কাউকে না জানিয়ে এটা তর্কের ব্যাপার। জানালে এর তার প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে এমন হতে পারতো যে, যে কয়টা টাকা ফেরত আসছে সেটাও ফেরত পাওয়া যেতো না। তবে, উনি প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারতেন। একেবারে না জানানোটা ভাল হয় নাই। আতিয়ার সাহেবের সততা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। তবে উনি রাস্ট্রীয় শক্তির সুবিধা নিতে পারতেন। পিএম এর সাথে যেহেতু উনার ডাইরেক্ট এক্সেস আছে উনি তাকে জানিয়ে আরেকটু আগে কিছু করলেও করতে পারতেন। কিন্তু তাহলেও ফলাফল একই থাকত মনে হয়। কারন টাকা ওই অল্প কয়দিনেই গায়েব হয়ে গিয়েছিলো। তবে উনিও কিন্তু ফেডের সাথে আর বার্তা চালাচালি করেননি। কেন? কারণ উনি জানেন তাদের দিয়ে আর কিছু করবার নেই। যা করতে পারবে ফিলিপাইন আর অন্য কোনো ব্যাঙ্কে যদি অর্থ চলে গিয়ে থাকে তবে তারাও কিছু করলেও করতে পারেন।

ব্যক্তিগত একাউন্টে কেন টাকা আসলো এত সেটা দেখবার কাজ নিজ দেশের ব্যাঙ্কের। সেটা ফিলিপাইনের ব্যাঙ্ক করেনি। সেটা সে দেশের আইনেও অপরাধ আর তাই সেটা ধরতে পেরে সর্বোচ্চ লেভেলের তদন্ত কমিটিও করেছে। ফেডের হাত ফিলিপাইন, বাংলাদেশ কিংবা শ্রীলংকার আভ্যন্তরীন ব্যাপারে থাকবার কথা না। শ্রীলঙ্কা ঠিক কাজ করেছে। আবার ফিলিপাইনে জালিয়াতি হয়েছে ভয়ভীতি আর পরিকল্পিত প্রতারণার মাধ্যমেও। দোষ যদি দেখতে হয় তাহলে ব্যক্তি কিংবা চক্র লেভেলে চলে যায়। আলটিমেটলি কোন ব্যাঙ্কেরও দোষ দিতে পারবেন না। ধরেন, বাংলাদেশের কোন ব্যাঙ্কের পুরা শাখার ম্যানেজার এবং বাদবাকী কর্মচারী মিলে কয়েককোটি টাকা নিজ ব্যাঙ্কের ভুয়া চেকের মাধ্যমে ছাড় করে দেশ ছেড়ে ভাগলো। এইখানে দোষ ব্যাঙ্কের হবে না ওই ব্যক্তি বিশেষের হবে? ব্যাপারটা ওইরকমই হয়েছে।

ফেড ব্যাঙ্ক একটূও সহযোগিতা করে নাই এটা ভুল তথ্য। বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক তবে জানলো কি করে? আর কোন তথ্য ওদের মাধ্যমে পেতে গেলে কি কি পেতে পারেন আপনি? ট্রান্সফার রিকোয়েস্ট আর কোথায় আসলেই ট্রান্সফার হয়েছে সেটাই তো?। সেই সাথে সময় আর আনুসাঙ্গিক কিছু ইনফরমেশন। এইগুলা কি জানানো হয়নি? ধরি, ব্যাঙ্ক ১ থেকে ট্রান্সফার হলো ব্যাঙ্ক ২ তে, ২ থেকে ৩ আর ৩ থেকে ৪ এ। ব্যাঙ্ক ২ দেখবে যে একাউন্টে আসছে তা ভ্যালিড কিনা, ১ দেখবে না। ২ এর পাঠানোটা ৩ দেখবে, ৩ এরটা ৪। ফেডের তাহলে ঘাপলাটা কোথায় বলেন দেখি? ৫-৬ দিন পর চিঠি পাঠালেন আরসিবিসি পাঠানো অর্ডার ভুয়া। কিন্তু ওই অর্ডার তো অথেনটিক ছিল। ভুয়া বলছেন, কারণ পাঠানোর কথা ছিল আপনার কিন্তু আপনি না পাঠিয়ে অন্য কেউ পাঠিয়ে দিছে অগোচরে স্বীকৃত মাধ্যমেই। ওরা জানবে কি করে যে ভুয়া ছিল? এমন ট্রান্সফারে টাকা চলে যায় এরপর নির্দিস্ট ব্যাঙ্ক ভেরিফাই করে দেখে টাকা ছাড় করা যাবে নাকি যাবে না। যথাযথ ডকুমেন্ট কিংবা তথ্য না দিলে টাকা ব্যাঙ্ক ছাড়ে না। এখানেই হয়েছে আসল জালিয়াতি। আমিতো যারা এই কাজ করেছে তাদের স্যালুট জানাই নিখুঁত পরিকল্পনার জন্য। ওরা সিস্টেমে আগেই ঢুকে বসে বসে দেখেছে কিভাবে কি হয়, কি হলে আটকানোর চান্স নাই যেহেতু সুইফট অটোমেটেড অথেনটিকেশন প্রসেস। তিন দেশের সরকারী ছুটির ফায়দা নিছে সব ব্যাঙ্কের যেকোন একশন যাতে বাধ্যতামুলকভাবে দেরী করান যায়। এরপর ফিলিপাইনের দুর্বল ব্যবস্থার ফায়দা নিয়েছে। যেখানে টাকা দিয়ে সিস্টেম করা গেছে করেছে, আবার প্রয়োজনে জানের ভয় দেখিয়েছে। কাহিনীতে সব এলিমেন্ট আছে। হলিউডি সিনেমা হয়ে যাবে। দেখবেন ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যানের মতন সিনেমা বের হয়ে গেছে। সেই সুবাদে বাংলাদেশের নাম জানবে সবাই।

আবার বলি, নির্দেশটা যখন আপনিই দিচ্ছেন তখন স্বাভাবিক প্রসিডিউরে আপনাকেই জিজ্ঞেস করবার কথা না যে আপনিই পাঠাচ্ছেন নাকি। অথেনটিকেশনটা যেহেতু অটোমেটেড এবং আপনার হাতেই, তাহলে ২,৪,৫ মিলিয়নের মত সামান্য এমাউন্টের জন্য সন্দেহ না হলে আটকানোর কথা না। যখন সন্দেহ হয়েছে তখনই জানতে চেয়েছে। নাহলে বাকী ৩০ টা রিকোয়েস্টও মিট করে দিত।

কেউ কেউ দেখলাম বলছেন শ্রীলঙ্কার ভুয়া একাউন্টে ইতিহাসের বৃহত্তম এমাউন্ট পাঠানো হয়েছে! ১-২ কোটি ডলার কে আপনার ইতিহাসের বৃহত্তম এমাউন্ট মনে হয়? ইতিহাস কি নিজে বানাচ্ছেন নাকি আপনারা? এই টাকা দেশে আসবে, সময়ের ব্যাপার মাত্র এসব আপনাদের নিশ্চিত করে কে বললো? আতিয়ার সাহেবের বলার কথা না, মাল সাহেবের রাবিশ টাইপের কোন বক্তব্যেই বিশ্বাস করে বসে নাই তো? দুই চারটা মানুষের চাকরি যাবে ফিলিপাইনে, এরপর সব ঠান্ডা। কয়জন ৪-৫ বছর জেল খাটতে পারে বড়জোর, ফিলিপাইনের আইন ব্রিটিশরা বানায় নাই, এত কড়া না। ওই টাকা সম্ভবত কৃষ্ণগহবরেই চলে গেছে। ফেরত আসতে পারে যদি ব্যাঙ্ক দায় নেয়। তবে ব্যক্তির দোষে ব্যাঙ্ককে দায় গ্রহণে ফিলিপাইনের আইন অনুসারে কতটা বাধ্য করা যাবে সেটাও প্রশ্ন। আর এ ব্যাপারে ওরাও ভুক্তভোগী হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় বিশটি দেশ ফিলিপাইনের স্বাভাবিক অর্থ প্রেরণের ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে।

সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ভাবমুর্তি এবং নির্ভরযোগ্যতায় যাতে বেশী বাজে প্রভাব না পরে, সে কারনে তদন্ত হচ্ছে উন্মুক্ত শুনানীর মাধ্যমে, সবাই জানছে। আর আমরা কি করছি? জোহারা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। কারা এভাবে গায়েব করতে পারে সেটা কেউ বোঝে না এমন ভাবার কারণও নেই। কেন এই লুকোচুরি? আমরাও কি এই তদন্তের ব্যাপারে আরেকটু স্বচ্ছতা আর প্রকৃত ঘটনা কি হয়েছিল আর হচ্ছে তা জানবার ধিকার রাখি না? টাকাটা তো শেষ পর্যন্ত আমাদেরই, আমার আপনার সবার…

আবারও বলি, অন্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ফেডের চ্যাটের বালও ছিড়া যাবে না। নিজের ঘাপলা আমরা অন্যের উপর চাপিয়ে না দেই, নিজের সিস্টেম ঠিক করি আগে। এভাবে মাঙ্কি শিফট করতে করতে আমরা যে সংস্কৃতি তৈরী করে ফেলেছি তার ভুক্তভোগী আমরা নিজেরাই এবং আরও ভয়াবহভাবে তার ভুক্তভোগী হবে আমাদের নতুন প্রজন্ম…

২ thoughts on “বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ জালিয়াতিঃ কিছু বিস্তারিত আলোচনা এবং আমাদের মাঙ্কি শিফটিং টেন্ডেন্সী

  1. সংঘবদ্ধ-প্রতারকচক্রকে
    সংঘবদ্ধ-প্রতারকচক্রকে শায়েস্তা করার যোগ্যতা ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে’র থাকতে হবে।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. ঘটনা ঘতে যাবা পর আইনী এবং
      ঘটনা ঘতে যাবা পর আইনী এবং প্রথাগত পদক্ষেপের বাইরে আর কি করবার আছে? ভবিষ্যতটা নিরাপদ করবার জন্য কাজ করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *