ধর্ষণকারীদের এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জারজসন্তান’ ঘোষণা করতে হবে। আর আমাদের বোন ‘তনু’রা কেন বারবার ধর্ষিত হবে?

ধর্ষণকারীদের এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জারজসন্তান’ ঘোষণা করতে হবে। আর আমাদের বোন ‘তনু’রা কেন বারবার ধর্ষিত হবে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

আর কত ধর্ষণের কথা শোনা যায়? আর কত ধর্ষণের শিরোনামপাঠ করা যায়? প্রতিদিন ‘দৈনিক পত্রিকা’ খুললেই আমাদের সবার আগেভাগে চোখে পড়ে অমুক জায়গায়-তমুক জায়গায় শিশু, নাবালিকা, বালিকা, কিশোরী, তরুণী, যুবতী, মাঝবয়সী, এমনকি বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে এবং হয়েছে। শুধু তাই নয়, এইভাবে ধর্ষণপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আর কত ধর্ষণের কথা এভাবে পড়া যায়? আর কত ধর্ষণের খবর শোনা যায়? আর কত এভাবে চলতে পারে? রাষ্ট্র আর কত এসব মুখবুজে সহ্য করবে?

ধর্ষণকারীদের এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জারজসন্তান’ ঘোষণা করতে হবে। আর আমাদের বোন ‘তনু’রা কেন বারবার ধর্ষিত হবে?
সাইয়িদ রফিকুল হক

আর কত ধর্ষণের কথা শোনা যায়? আর কত ধর্ষণের শিরোনামপাঠ করা যায়? প্রতিদিন ‘দৈনিক পত্রিকা’ খুললেই আমাদের সবার আগেভাগে চোখে পড়ে অমুক জায়গায়-তমুক জায়গায় শিশু, নাবালিকা, বালিকা, কিশোরী, তরুণী, যুবতী, মাঝবয়সী, এমনকি বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে এবং হয়েছে। শুধু তাই নয়, এইভাবে ধর্ষণপ্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আর কত ধর্ষণের কথা এভাবে পড়া যায়? আর কত ধর্ষণের খবর শোনা যায়? আর কত এভাবে চলতে পারে? রাষ্ট্র আর কত এসব মুখবুজে সহ্য করবে?
আমরা আর ধর্ষণের খবর শুনতে চাই না। আমরা আর ধর্ষণের করুণকাহিনীপাঠ করতে চাই না। আমরা এভাবে আর-কোনো ধর্ষিতার মর্মন্তুদ-ছবি দেখতে চাই না। আমরা এবার মুক্তি চাই। আমরা এবার স্বস্তি চাই। আর রাষ্ট্রীয়ভাবে এর থেকে পরিত্রাণ চাই।

ধর্ষণকারীদের স্পর্ধা আজকাল খুব বেড়ে গেছে। কারণ, দেশে এইমুহূর্তে ধর্ষণকারীদের কোনো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। আর নামকাওয়াস্তে একটা শাস্তির বিধান হয়তো রাখা হয়েছে। আর ধর্ষণকারীদের বিচার করতে-করতে বছরের-পর-বছর পার করে দেওয়া হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, দশ-বছর-ধরে মামলা চালিয়ে ধর্ষণকারীর শাস্তি হচ্ছে: মাত্র ‘চোদ্দো-বছরের’ কিংবা ‘আঠারো-বছরের’ কারাদণ্ড! আজ পর্যন্ত দেখতে পাইনি এই দেশে ধর্ষণের জন্য কাউকে ‘প্রাণদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে। এতে ধর্ষণকারীদের বুকের পাটা দিনের-পর-দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে। তাই, ধর্ষণকারী-জারজসন্তানরা ক্রমশঃ আরও বেপরোয়া-উগ্র-হিংস্র-পশু হয়ে উঠছে। আর তারা ইদানীং বনের ভয়াবহ পশু হয়ে কিংবা বনের পশুকে হার-মানিয়ে হাতের কাছে ‘মা-বোন’ যাকে পাচ্ছে তাকেই ধর্ষণ করছে। কিন্তু এভাবে তো আমাদের আজকের এই সমাজ চলতে পারে না।

১৯৭১ সালে ৩০লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে এই রাষ্ট্র স্বাধীনতালাভ করেছে। ৩০লক্ষ মানুষ জীবন দিয়েছে। এটি চাট্টিখানি কথা নয়। আর এতোবড় আত্মত্যাগ এই পৃথিবীর বুকে আর-কোনো জাতির নেই। এই জাতি সবসময় ত্যাগস্বীকার করতে জানে। আবার এই জাতিরই কিছুসংখ্যক কুলাঙ্গার জাতির সমস্ত অর্জনগুলোকে সবসময় ভূলুণ্ঠিত করার অপচেষ্টায় নিয়োজিত। এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: ধর্ষণকারী-জারজসন্তান। এদের জন্য জনজীবনে শান্তি ও স্বস্তি দুইই নির্বাপিত হয়েছে। কিন্তু এদের সংখ্যা আর কত? গুটিকতক ‘জারজসন্তানে’র জন্য আজ আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে পারি না। আমাদের একযোগে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। আর এক্ষেত্রে রাষ্ট্রযন্ত্রকে সবার আগে তার কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করতে হবে। সমাজে-রাষ্ট্রে ধর্ষণকারীদের আর একচুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া যাবে না। এদের কারণে আমরা সভ্যতার আলো ছেড়ে পাশবিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছি। কিন্তু আর নয়। আর কত এভাবে চলবে? এবার আমাদের সভ্যতার মুখ দেখতে হবে।

আজকাল ‘দুই-তিন-বছরের’ শিশু পর্যন্ত ধর্ষিত হচ্ছে। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না মাতৃসম মা-বোন, আর বৃদ্ধা দাদী-নানী! এই লজ্জা আমরা রাখবো কোথায়? বাংলার আনাচে-কানাচে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা অহরহ ধর্ষিত হচ্ছে, আর ধর্ষিত হচ্ছে শান্ত-স্নিগ্ধ গৃহবধূটি। আজ এই ধর্ষণের শিকার প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। আর এভাবে পশুদের দ্বারা ধর্ষিত হয়ে লজ্জাশরমে মেয়েটি ‘গলায় দড়ি দিয়ে’ কিংবা ‘বিষপানে’ আত্মহত্যা করছে। অতিসম্প্রতি হিংস্র-মাংসাশী-জারজপশু ধর্ষণকারীদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে আমার বোন ‘সোহাগী জাহান তনু’। হ্যাঁ, সে আমার বোন। সে একজন বাঙালি-নারী। আর আমি একজন বাঙালি-পুরুষ। আমরা তো ভাই-বোন। আমার বোনের ধর্ষণের খবর শুনে চোখে জল এসে গেল। মনে খুব কষ্ট। আমার আর-একটি বোন অকালে ঝরে গেল ধর্ষণকারী-জারজদের উন্মত্ত-পাশবিকতায়। এর কি কোনো বিচার হবে? না, হবে না। এর কোনো বিচার হবে না। আর কোনো বিচার হলেও তা হবে দায়সারাভাবে বা নামকাওয়াস্তে! এই লোকদেখানো ও প্রহসনমূলক বিচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এই দেশে ধর্ষণকারী-জারজসন্তানদের ফাঁসি কেন দেওয়া হচ্ছে না, তা আমার জানা নেই। হয়তো সবারই জানা নেই! আর ধর্ষণকারীরা কার আত্মীয়? আর ধর্ষণকারীরা কার এমন দরদীস্বজন ও দরদীসন্তান যে এইসব ধর্ষণকারী-জারজসন্তানদের সরাসরি ‘ফাঁসি’ না-দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে আরও কোনো তনুকে ধর্ষণশেষে হত্যা করার জন্য। আমার বোন তনুতো স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক ছিল। আর সে ছিল শিক্ষিতা আর মার্জিতা, আর রুচিসম্পন্না। তবুও তাকে ধর্ষিত হতে হলো! আর ধর্ষণের পরে ধর্ষণকারী-জারজসন্তানরা নির্মমভাবে তার মাথাটা থেঁতলে দিয়েছে! কী পৈশাচিক অপকর্ম! আর কী জঘন্য মানবতাবিরোধী-অপকর্ম! এরা কতোটা বীভৎস! আর কত ভয়ংকর জারজসন্তান! আর তার কী অপরাধ ছিল? আমার বোনটি টিউশনীশেষে রাতে বাসায় ফিরছিলো। আর পশুরা তাকে অমনি আক্রমণ করেছে। আমার ভাবতে অবাক লাগছে, এই জায়গাটি কুমিল্লা-ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মধ্যে! আর এমন একটি কথিত-নিরাপদ জায়গায় সে পিশাচদের দ্বারা বারবার ধর্ষিত হয়েছে। এই সমাজে জারজসন্তানদের এখন এতোটাই স্পর্ধা!
আমার বোনটিকে ধর্ষণের পরে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতে আমার চোখ দুটি বারবার জলে ভরে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন অগণিত-ধর্ষণের কথা শুনে আমি বারবার ব্যথিত হই, আর লজ্জায়, ঘৃণায়, ক্ষোভে জ্বলতে-জ্বলতে বারুদ হয়ে বসে থাকি। এবার আমাদের ফেটে পড়ার সময় এসেছে। আর কত বোনকে এভাবে ধর্ষিত হতে দেখবো? আমার আর কত বোনের সুন্দর মুখটি লম্পট ও ধর্ষক জারজসন্তানদের ভোগের সামগ্রী হবে? আর এর আগে ধর্ষিত হয়েছে আমার বোন: সিমি, রিমি, মিমিসহ অসংখ্য নারী!
আমার বোনটি ছিল নিরপরাধ। তবুও তাকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো? আর একদল জারজসন্তানের দ্বারা সে কেন ধর্ষিত হবে! সমাজে জারজসন্তানের প্রয়োজন? নাকি সতীসাধ্বীর প্রয়োজন? এর জবাব দেওয়ার মতো আশেপাশে কেউ কি আছে? এই সমাজ এর কি কোনো জবাব দিতে পারবে? আর কোনোদিন এর জবাব দেওয়ার মতো ক্ষমতা কারও কি হবে?

আজ দেখতে পাচ্ছি: নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে: ঘরে-বাইরে, পথে-ঘাটে বাসে-ট্রেনে, টেম্পুতে, সিএনজিতে! কিংবা অন্য আরও-কোনো যানবাহনে। কোথাও কি আজ আমরা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারবো না? শুধু লোকদেখানো ‘ফাঁকাবুলি’ দিয়ে মানুষের মনজয় করা যায় না। মানুষের মনজয় করতে হলে মানুষের মনে আসন-পেতে বসতে হয়। আর মানুষ যাকে আপনমনে আসন-পেতে বসতে দেয় তাকেই ভালোবাসে। আর…।
এই ভালোবাসাহীন সমাজব্যবস্থায় এখন লম্পটের আর লাম্পট্যের ছড়াছড়ি। আর চারদিকে লম্পটগুলো বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবুও ধর্ষণকারীপশুদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি-ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এখন থেকে ধর্ষণকারীদের সুখের সামান্য ‘জেল-জরিমানা’ চাই না। এবার থেকে সকল ধর্ষণকারীর একমাত্র ও ন্যূনতম শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই। এক্ষেত্রে ‘ফাঁসি’ বা ‘মৃত্যুদণ্ডের’ কোনো বিকল্প নাই। ধর্ষণকারীরা আমাদের এই সমাজ-রাষ্ট্রের আত্মস্বীকৃত-জারজসন্তান। আর এই ধর্ষণকারী-জারজসন্তানরাও মানবতাবিরোধী-অপরাধী। এদের বিরুদ্ধে ‘স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করে অতিদ্রুত এদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এদের আর আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়ে লাভ নেই। আর রাষ্ট্রীয়ভাবে এবার এদের নিধন করতে হবে।

১৯৭১ সালে নারীধর্ষণ করতো পাকিস্তানীহানাদার-নরপশুরা। ওরা ছিল মানুষ-নামের কুকুর। ওরা ছিল বেজন্মা। আর এখন যারা স্বাধীন-বাংলাদেশে এভাবে ‘নারীধর্ষণ’ করছে তারা পাকিস্তানের জারজসন্তান। এবার এই ধর্ষণকারীজারজশক্তিকে নির্মূল করতে হবে। আর তাই, রাষ্ট্রকে সাহসীভূমিকাপালন করতে হবে। আর দেশের ধর্ষণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সরাসরি ‘জারজসন্তান’ ঘোষণা করতে হবে। আর কালবিলম্ব নয়। আর এই ধর্ষণকারীজারজশক্তির মূলোৎপাটন ঘটিয়ে বিশ্বের বুকে আমাদের ‘সভ্যমানুষ’ হিসাবে পরিচয় দিতে হবে—তার আগে কখনও নয়।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *