ধর্ষণের কারণসমূহ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে

একাত্তর সালে দুই লাখ ধর্ষিতার কথা স্মরণ করে আজকের লেখা শুরু করছি। এটা কোন সাহিত্য নয় বা কোন দলিলও নয় যে আপনাকে মানতেই হবে। এটা একটি সুচিন্তিত মতামত।

আপনি যদি কোন রোগের চিকিৎসা করতে চান তবে প্রথমে জানতে হবে রোগটা কারণ কি। কারণ না জানলে বারবার ওষধ দিয়েও হয়তো “প্রতিরোধ” হবেনা রোগটি।

ধর্ষণ আমাদের সমাজের বর্তমানের অন্যতম বড় একটি রোগ যাকে সমাজের ব্রেইন ক্যানসার নামেও আখ্যায়িত করা যায়। এর কারণসমুহকে প্রথমত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটা ভাগকে আবার চারটি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত করে পরিপূর্ণতা দেয়া হয়েছে। আসুন শুরু করি :

ধর্ষণের কারণসমূহ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

১) #পারিবারিক কারণ :

একাত্তর সালে দুই লাখ ধর্ষিতার কথা স্মরণ করে আজকের লেখা শুরু করছি। এটা কোন সাহিত্য নয় বা কোন দলিলও নয় যে আপনাকে মানতেই হবে। এটা একটি সুচিন্তিত মতামত।

আপনি যদি কোন রোগের চিকিৎসা করতে চান তবে প্রথমে জানতে হবে রোগটা কারণ কি। কারণ না জানলে বারবার ওষধ দিয়েও হয়তো “প্রতিরোধ” হবেনা রোগটি।

ধর্ষণ আমাদের সমাজের বর্তমানের অন্যতম বড় একটি রোগ যাকে সমাজের ব্রেইন ক্যানসার নামেও আখ্যায়িত করা যায়। এর কারণসমুহকে প্রথমত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটা ভাগকে আবার চারটি স্বতন্ত্র ভাগে বিভক্ত করে পরিপূর্ণতা দেয়া হয়েছে। আসুন শুরু করি :

ধর্ষণের কারণসমূহ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

১) #পারিবারিক কারণ :

পরিবারের কারণে একজন মানুষ ম্যাজিস্ট্রেট ও হতে পারে আবার ডাকাত ও হতে পারে। কথায় আছে,”জন্ম হউক যথাতথা কর্ম হউক ভালো”। কিন্তু যথাতথা মানে যদি ডাস্টবিন হয় তবু রাজি আছি তবে খারাপ পরিবার হলে ভালো কর্ম চিন্তা করাটাও পাপের মত।

ক) মূল্যবোধ শিক্ষা না দেয়া : প্রথম পারিবারিক কারণটা খুব স্বাভাবিক ও স্বতন্ত্র। মূল্যবোধ নেই যখন তখন আপনি মানুষটাই আর নেই। আপনার আর ছাগলের ভিতরে পার্থক্য হলো আপনার মূল্যবোধ আছে তার নেই। তাই সকল ধরণের মূল্যবোধ শিক্ষার আতুরঘর হল পরিবার। এখানে ছেলে,মেয়ে,বৃহন্নলা নির্বিশেষে কথাটা প্রযোজ্য।

খ)পারিবারিকভাবে অন্যায়কে মেনে নেয়া : যখন কোন পরিবার তার সদস্যের করা অন্যায়কে প্ররোচনা দেয়, তাকে ভালো সাজানোর বা তাকে শাস্তি না দিয়ে উল্টা বাঁচানোর চেষ্টা চালায় তখন স্বাভাবিকভাবে সেই পরিবারের একটি ছেলে ভাবতেই পারে যে সে ধর্ষণ করলে তার পরিবার তাকে বাঁচাবে। ফলে তার অপরাধপ্রবণতা বাড়ে ও মানসিক ভারসাম্য বিকারগ্রস্ত হয়। মেয়েদের ক্ষেত্রে অবৈধ সম্পর্ক তৈরীতে সাহস জোগায় এবং রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে যা সমাজের জন্য একটা অভিশাপ।

৩) ক্ষমতার অপব্যবহার ও আত্মকেন্দ্রিকতা : যখন কোন পরিবারে জন্মের পর একটি শিশু বুঝতে পারে সে যাই করুক তাকে কেউ কিছু বলছে না বা বলবেও না, তখন তার সাহস দুঃসাহসে রুপ নেয় এবং তার যৌবন ধর্ষণের দিকে মনোযোগ দেয়। এক্ষেত্রে সরকারী মদদুষ্ট পরিবারসমূহ বিশেষ সুবিধা ও আত্মকেন্দ্রিকতা দেখায় এবং এই সুযোগে সেখানে খুব ভালোভাবে ধর্ষক গড়ে উঠতে পারে।

৪) পারিবারিক সুসম্পর্ক না থাকা : মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিভিন্ন পারিবারিক কারণে তাদের মা বা অন্যান্য বড় সদস্যদের সাথে ভালো বোঝাপড়া থাকেনা। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভুল হয় এবং ভুল পথে পা বাড়ায়। ছেলেরাও এর শিকার। তারা ভুল পথে পা বাড়ানোর কয়েক বছর পর যখন তার বাবা মা জানে বিষয়টা তখন তাদের খুববেশি করার কিছু থাকেনা।

২) #সামাজিক ও পরিবেশগত কারণ :
সামাজিক ও পরিবেশগত কারণের ভিতরে বর্তমানে রাজনৈতিক কারণটি অন্যতম। কারণ যতগুলো কারণ এখানে দেখানো হবে তার সবকটার পিছনেই থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের লোভ বা সুযোগ।

ক)বন্ধুবান্ধবের সংস্পর্শে উৎসাহিত হওয়া : বাবা-মার কাছে বিষয়টা স্পষ্ট না হলেও বন্ধুবান্ধব যদি কারো ভালো হয় তবে সে কোনদিন ধর্ষক হতে পারে না। তার পরিবেশই তাকে তা হতে দেবে না। কিন্তু বন্ধু নির্বাচনে ভুলই এক্ষেত্রে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বড় বড় ভুল সিদ্ধান্তে পা বাড়ায় বন্ধুদের প্ররোচনায় পরে। যার ফল শুধু সেই পায়, তার বুদ্ধিদাতা বন্ধুকে ফল ভোগ করতে হয়না। মেয়েদের ক্ষেত্রেও বান্ধবীরা একই ভুমিকা পালন করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কলহ,অন্তঃদ্বন্দ্ব,একাধিক প্রেম, অবৈধ দৈহিক সম্পর্কের কারণ হয় বন্ধুরা।

খ) সিনেমা,নাটক,পর্ণ,চটি ইত্যাদি দ্বারা উৎসাহিত হওয়া : স্পেড কে স্পেড বলবার সময় এসে গেছে। এখনকার সিনেমার হালকা সেক্সি ডায়ালোগ,নাটকের অভদ্র সংলাপ,পর্ণ, চটি ইত্যাদি সর্বদিক দিয়ে ছেলে মেয়ে উভয়কেই অবৈধ সম্পর্কে দিয়ে ঠেলে দেয়। যার ফলে সাইবার সেক্স বৃদ্ধি পায় এবং সেক্সের সঙ্গি খুঁজে না পেলে তখন ধর্ষণই হয় একমাত্র উপায়। আবার মেয়েদের ক্ষেত্রে বরশির টোপ দিয়ে অনেকসময় কেড়ে নেয়াতে প্রতিশোধ স্পৃহা থেকে ধর্ষণের সৃষ্টি হয়।

৩) রাজনৈতিক কারণ : অনেক সময়ই নিজের রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় অাছে বা নিজের অমুক তমুকের বড়াইয়ে অনেক ছেলে ধর্ষণ না করলে ইজ্জত থাকবেনা টাইপ হয়ে যায়। রাজনৈতিক ছত্রছায়া পেয়ে দুঃসাহস দেখাতে বা হিরো বনে যেতে অনেকক্ষেত্রে ধর্ষণ সংঘটিত হয়।

৪)মেয়েদের খাদ্যবস্তা ভাবা : নিজের মা – বোন কে ছাড়া সকল মেয়েকে খাবারের মত চোখে দেখাটা অনেকটা ধর্ষণের অন্যতম কারণ। তারা মেয়ে মানেই একগাদা চর্বি ভেবে নিয়ে বড় হওয়াতে ধর্ষণ আর শারীরিক মিলনের ভিতরে তারা কোন পার্থক্য খুঁজে পায়না। ফলে তাদের এসব বিষয়ে সাহসের চেয়ে বেশি কাজ করে আকাঙ্খা।

৩)#মেয়েদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি :

পরিশেষে ফিরে আসতে হলো ধর্ষিতার দোষ ধরতে(!) কিন্তু সবার আগে বলে নেই,যে ধর্ষিতা হলো,তার কোন দোষই আর দোষ থাকেনা। ধর্ষণের কোন এক্সকিউজ চলেনা। কিন্তু ধর্ষিতা হবার আগে কিন্তু তার দোষ থাকতেই পারে। সেটাই এখানে তুলে ধরা হল:

ক)নিজেকে মানুষ না ভেবে মেয়েমানুষ ভাবা : একটা সামগ্রিক প্রশ্ন আমার থেকেই যায়। কখনো কোন ছেলেকে তো দেখলাম না সালোয়ার বা ওড়না পরে স্টাইল করতে। তাহলে মেয়েরা কেন ছেলেদের পোশাক পরে নিজেদের শ্রেষ্ট করবার চেষ্টা করে? তারা তো এমনিতেই শ্রেষ্ঠ। তাদের মধ্যে ছেলেদের অনুকরণের বিষয়টার দ্বারাই তারা বারবার প্রমাণ করে যে মেন্টালিটিতে তারা নিজেদের মানুষ না,মেয়ে মানুষই ভাবে! মেয়েদের ও ছেলেদের শারীরিক গঠন আলাদা। প্রাকৃতিকভাবে মেয়েদের গঠনের কারণে তাদের পোশাক ছেলেদের চেয়ে ভিন্নতর। এটার কারণে তারা কখনোি ছোট বলে গণ্য হতে পারেনা। এটা প্রাকৃতিক। কিন্তু শুধু পোশাক না,সকল ক্ষেত্রেই যখন মেয়েরা ছেলেদের কপি করে তখনই বিভেদটা আসবে। ফলে ছেলেরাও তাদের ভিন্ন ভাবছে। এটা ধর্ষণের পরোক্ষ একটি কারণ।

খ) নিজেকে অতিরিক্ত প্রদর্শন : সৌন্দর্যের চেয়ে আরেকটু বেশি নিজেকে প্রদর্শন করতে আজকাল মেয়েরা অনেকক্ষেত্রেই পাশ্চাত্যের ভালো সংস্কৃতিকে ছেড়ে অপসংস্কৃতিকে গ্রহণ করছে। তারা ছেলেদের আকর্ষণ করবার একটা হীন খেলায় যেন মেতে ওঠে। “ওর চেয়ে আমার দিকে বেশি ছেলে তাকায়, আমার পিছনে বেশি ছেলে ঘোরে” – এই মানসিকতা প্রত্যক্ষভাবে ধর্ষণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে মেয়েদের। এই হীন প্রচেষ্টার কারণে না চাইলেও অনেকরকম বাজে রকম পরিস্থিতে পরতে হয়ে থাকে মেয়েদের। এমনি কিছু মেয়ের কারণে ভদ্র মেয়েদেরও সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে ইদানিং। যা একটি বড় সামাজিক সমস্যা এবং এটার সৃষ্টিতে কিছু মেয়েদের ভুল অনস্বীকার্য।

৩) একাধিক প্রেম : মেয়ে বলে শুধু নয় যে কারো জীবনে একসাথে একাধিক প্রেমে জড়ানো সাংঘাতিক খারাপ একটি সমস্যা। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে বিষয়টা একটু বিপদজনক হয়ে দাঁড়ায়। রেশারেশি থেকে পরে শোধ নিতে সেই মেয়েকে ধর্ষণ করাটা অনেকটা যুক্তিযুক্ত ভেবে নেয় ছেলেটা। যা কখনোই কাম্য না কিন্তু তাই বাস্তব। ফলে এটার জন্য বলা চলে অনেক সংখ্যক ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছে। যেহুতু সামাজিক অবস্থান নড়বড়ে তাই ভুলেও মেয়েদের এরকম কাজ করা অনুচিত। অতিরিক্ত বিপদ কাটাতে দরকার হলে যেকোন পদক্ষেপ নেয়াটাই বুদ্ধিমান মানুষের কাজ।

ঘ)আরেকটু সাবধানতা দরকার: আমার নিজের বোন নেই। তবু আমার দেশের সকল মেয়ের প্রতি আমার আকুল প্রার্থনা,”অবশ্যই এরকম বিপদ ঘটবার আগে একটু হলেও আপনারা বুঝতে পারবেন ৯৯% ক্ষেত্রে।কারণ হঠাৎ এসব কমই হয়। এই বুঝতে পারাটাকে দাম দিন বোনেরা। যদি মনে হয় এই রাস্তায় গেলে বিপদ ঘটবে তবে আগে বিপদ আগে দূর করুন পরে রাস্তা দিয়ে হাটুন। কারণ একটি দুর্ঘটনা আপনার সারাজীবনের কান্না হোক তা আমরা চাইনা। আর এটাও সত্যি যে আমি বা আপনি বললেও সরকার,প্রশাসন একবারে ঝাঁপিয়ে পরে এসবের মূল বের করবেনা। আর বললেই ওই পশুরা মানুষও হবেনা। তাই সাবধানতা অবশ্যই কাম্য।”

অবশেষে স্তিমিত একটি জোর করে দেয়া হাসি হেসে বলছি,” ধর্ষণ একটি অপসংস্কৃতি যা সতীদাহ প্রথার চেয়েও মারাত্মক এবং ধর্ষণ একটি অপরাধ যা সিরিয়াল কিলিং এর চেয়েও ভয়াবহ।” তাই আসুন নিজের অবস্থানে অন্তঃত দাঁড়িয়ে চোখ খুলে দেখি আশেপাশে কেউ এরকম বিপথে যাচ্ছে কিনা! যদি যায় তবে তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতেই হবে। আপনি একজনকে ফিরান, আমরাও দশজনকে ফিরাব। দেশ জাগবেই,জাতি জাগবেই শুধু আপনার অপেক্ষায় আছে। আপনি,আমি আমরাই তো জাতি। তাই আসুন প্রতিকার নয়,গড়ে তুলি প্রতিরোধ। প্রতিবাদের আগুন জ্বলুক প্রত্যেক অন্তরে। অন্তরে অন্তরে দূর্গ গড়ে তোলো।

আমরা জাগলে…
#জাতি_জাগবেই

১ thought on “ধর্ষণের কারণসমূহ : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে

  1. মানুষ পশু হচ্ছে।
    মানুষ পশু হচ্ছে। পাশবিকতাবৃদ্ধি পাচ্ছে। পশুপ্রবৃত্তিই ধর্ষণের মূল কারণ।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *