ভাল থাকার প্রক্রিয়া

“চাইলে চলে যেতে পারো, বাঁধা দিবোনা। পেছন থেকে ডাকবোও না” 🙁
কাঁপাকাঁপা হাতে লাইন দুটো লিখে সেন্ড বাটনে ক্লিক করে তাকিয়ে রইলো নুবা। SEEN হবার অপেক্ষা। তার বুকের ভেতর দুরমুশ পেটাচ্ছে কেউ। রিয়াদ যদি “আচ্ছা” বলে দেয়?
রিয়াদ ক্লাসের বেঞ্চের উপর ভাইব্রেশন টের পেলো। বেঞ্চের উপর রাখা ফোনে ম্যাসেজ এসেছে নিশ্চয়ই। স্যারের চোখ বাঁচিয়ে একবার ম্যাসেঞ্জারে নুবার শেষ ম্যাসেজটা দেখে নিলো। তারপর নির্বিকার ভাবে মোবাইলটা পকেটে রেখে আবার ক্লাসে মনোযোগ দিলো সে। এই ম্যাসেজের রিপ্লাই দেবার কিছু নাই।

“চাইলে চলে যেতে পারো, বাঁধা দিবোনা। পেছন থেকে ডাকবোও না” 🙁
কাঁপাকাঁপা হাতে লাইন দুটো লিখে সেন্ড বাটনে ক্লিক করে তাকিয়ে রইলো নুবা। SEEN হবার অপেক্ষা। তার বুকের ভেতর দুরমুশ পেটাচ্ছে কেউ। রিয়াদ যদি “আচ্ছা” বলে দেয়?
রিয়াদ ক্লাসের বেঞ্চের উপর ভাইব্রেশন টের পেলো। বেঞ্চের উপর রাখা ফোনে ম্যাসেজ এসেছে নিশ্চয়ই। স্যারের চোখ বাঁচিয়ে একবার ম্যাসেঞ্জারে নুবার শেষ ম্যাসেজটা দেখে নিলো। তারপর নির্বিকার ভাবে মোবাইলটা পকেটে রেখে আবার ক্লাসে মনোযোগ দিলো সে। এই ম্যাসেজের রিপ্লাই দেবার কিছু নাই।
অথচ বছর দুয়েক আগে এরকম একটা ম্যাসেজ তার ভেতরটা ছিঁড়ে খুড়ে রক্তাক্ত করে দিতো, খাওয়া দাওয়া মাথায় উঠতো। তখন প্রথম ভালোবাসার অনুভুতিটাকে মনে হত জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে কেনা পাতলা একটা কাঁচের শো-পিস। তার উপর একটু আঁচড়ও সহ্য হয়না। প্রতিটা মুহুর্ত কি তীব্র ভাবেই না অনুভুত হত বুকের একদম ভেতরে!!
রিয়াদ তার প্রথম ভালোবাসার প্রতিটা স্মৃতি মনে করতে পারে। মেয়েটা যখন প্রথম বারের মত “i love u” লিখলো, সেই স্ক্রিনশট নিয়ে পিসির ওয়ালপেপার বানিয়ে রেখেছিলো সে। তাদের প্রতিটা ফোনকল সে রেকর্ড করে জমিয়ে রাখতো। “হ্যা” বলার পর প্রথম দেখা হবার দিন রিয়াদের ইচ্ছে করছিলো মাইক নিয়ে সারা দেশ ঘুরে ঘুরে সবাইকে চেঁচিয়ে বলে “দেখো, এই অপরূপা মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে!!” কি ভয়ানক ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েই না সে জয় করেছিলো ভালোবাসাটা!!
এখন? কারও জন্য কোন অনুভূতি কাজ করে না রিয়াদের। তার বুকের ভেতর যেন ভালোবাসা ভরা একটা গ্লাস ছিলো। সে তার জীবনে আসা প্রথম মেয়েটার জন্য পুরো গ্লাস ঢেলে দিয়েছে!! এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
বহু আকাংখিত রিয়াদের জীবনের প্রথম সম্পর্কটার বয়স তিন-চার মাস না হতেই তার প্রেমিকাটা টাল বাহানা শুরু করে। রিয়াদ ধীরে ধীরে বুঝতে পারে ভালোবাসাটা একপাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে। বুকের প্রচুর রক্ত ঝড়িয়ে সে একসময় মেয়েটাকে মুক্তি দেয়।
আর তারপর থেকেই সে একদম বদলে যায়। সে ঠিক করে আর কোন দুঃখ কষ্টকে স্পর্শ করতে দিবে না নিজেকে। তার “ভালো থাকা” টা আর কারো হাতে তুলে দিবে না। জীবনে সে আর কারো জন্য অপেক্ষা করবে না সে, কেউ “চলে যাচ্ছি” “আর কথা বলবো না কিন্তু” এই টাইপের হুমকি দিলে তার খুব হাসি পেয়ে যায়। দে আর সো কিউট!!
এদিকে নুবা, রিয়াদের ম্যাসেজের রিপ্লাইয়ের আশায় বসে থেকে থেকে একসময় বুঝতে পারে যাকে সে “চলে যেতে” বলছে সে হয়তো কখনই তার ছিলোনা। মন থেকে ছেলেটা কখনই ভালোবাসে নি। নুবার প্রথম ভালোবাসাটা একপাক্ষিকই রয়ে গেছে।
চোখের পানিতে # মাখামাখি হতে হতে টের পায় তার ভেতরটা বদলে যাচ্ছে। নাহ, আর কারো জন্য কষ্ট পাবে না সে, ভেতরটা শক্ত করে ফেলবে আজ থেকেই!!
এভাবেই শুরু হয় আরেকজন “রিয়াদ” তৈরী হবার ভয়াবহ চেইন রিয়েকশন প্রক্রিয়া!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *