জাতীয় কাউন্সিলে দেশ কী পেল?

জাতীয় কাউন্সিলে কী পেল বিএনপি? কাউন্সিলের পরদিন সারাদেশে দলটির নেতাকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সকলের মধ্যেই ছিল এই প্রশ্নটি। সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত দলটি আবার ‘ঘুরে দাঁড়াতে’ কিছুটা হলেও ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করে নতুন কমিটি গঠন করবে বলে মনে করেছিল দলের নেতা কর্মীরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় কাউন্সিলে অন্তত দলের মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটি নির্বাচন হতে পারে বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। এবারের কাউন্সিলে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে দল পরিচালনার অবসান ঘটবে বলে সারাদেশ থেকে আশা করে এসেছিলেন কাউন্সিলররা। কাউন্সিলররা আশা করেছিলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার বিষয়টি জোরদার হবে। চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে বলা হলো, নতুন কমিটি গঠনের সকল দায়িত্ব চেয়ারপারসনকে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের নতুন ভিশনের সঙ্গে এ অগণতান্ত্রিক চর্চা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এবারের কাউন্সিলেও বিগত পঞ্চম কাউন্সিলের মতোই মহাসচিবসহ দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে চেয়ারপারসনের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করাকে ইতিবাচক নয়। অবশ্য কাউন্সিলে দলের চেয়ারপারসন এর বক্তব্যে সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আলোচনার উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে ‘ভিশন-২০৩০’ ঘোষণাকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ রাজনীতির গুণগত মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে চেয়ারপারসনকে নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্ব অর্পণ ও ঘোষিত ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে রুদ্ধদ্বার কাউন্সিলে ‘আওয়ামীলীগ ছাড়া নির্বাচন হবে’ বলে বিএনপি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা কি অর্থ বহন করে? পাশাপাশি ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়ন করতে ক্ষমতায় যাওয়ার ‘রোডম্যাপ’ অর্থাৎ নির্বাচন আদায়ের প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট না করায় প্রশ্ন তুলেছেন নেতাকর্মীরা। এ মুহূর্তে নির্বাচন আদায় করে ক্ষমতায় যাওয়ার ব্যাপারে দলের সুনির্দিষ্ট ‘রূপরেখা’ দেওয়া উচিত ছিল। কোন সালের নির্বাচনের জন্য বিএনপির এই ‘ভিশন’ তাও পরিষ্কার করেননি নেত্রী। বিভিন্ন কারনে জাতীয় কাউন্সিলে বিএনপির মনোবল বাড়ানোর জায়গায় আরও কমিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *