কোরান হাদিসে কি কোথাও বলেছে ব্রাসেলস এয়ারপোর্টে বোমা ফাটাও ?

এই আজকে কিছুক্ষন আগে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এয়ারপোর্টে জিহাদীরা বোমা ফাটিয়েছে, জানা গেছে ৩১ জন মারা গেছে, বহু আহত। এক মুমিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই পাল্টা প্রশ্ন করল – কোরান হাদিসে কি কোথাও বোমা ফাটানোর কথা বলেছে ?
তার পাল্টা প্রশ্ন শুনে আমি তো বেয়াক্কল বনে গেলাম। আসলেই তো কোরান বা হাদিসের কোথাও তো বলে নি যে – তোমরা ইসলামের নামে বোমা ফাটাও। ভাগ্যিস নবী মুহাম্মদের সময় বোমা ছিল না , তাই কোরান হাদিসে বোমার কথা হয়ত বলে নি। তয় তখন বোমা যদি থাকত , তাহলে হয়ত মুমিন হয়ত প্রশ্ন করত – ব্রাসেলসে বোমা ফাটানোর কথা কি কোরান-হাদিসে বলেছে ?


এই আজকে কিছুক্ষন আগে বেলজিয়ামের ব্রাসেলস এয়ারপোর্টে জিহাদীরা বোমা ফাটিয়েছে, জানা গেছে ৩১ জন মারা গেছে, বহু আহত। এক মুমিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই পাল্টা প্রশ্ন করল – কোরান হাদিসে কি কোথাও বোমা ফাটানোর কথা বলেছে ?
তার পাল্টা প্রশ্ন শুনে আমি তো বেয়াক্কল বনে গেলাম। আসলেই তো কোরান বা হাদিসের কোথাও তো বলে নি যে – তোমরা ইসলামের নামে বোমা ফাটাও। ভাগ্যিস নবী মুহাম্মদের সময় বোমা ছিল না , তাই কোরান হাদিসে বোমার কথা হয়ত বলে নি। তয় তখন বোমা যদি থাকত , তাহলে হয়ত মুমিন হয়ত প্রশ্ন করত – ব্রাসেলসে বোমা ফাটানোর কথা কি কোরান-হাদিসে বলেছে ?

বলা বাহুল্য, এটাই হলো মুমিনিয় যুক্তি। ইসলামের নামে এই যে আই এস , তালেবান , আল কায়েদা, বোকো হারাম, জে এম বি ইত্যাদিরা নির্বিচারে অমুসলিমদেরকে হত্যা করছে , যেখানেই পারছে , তাদের নারীদেরকে ধরে নিয়ে যৌনদাসী হিসাবে ধর্ষন করছে , বিক্রি করছে – এসব মুমিনেরা সাথে সাথেই বলছে – ইসলামের কি কোথাও বলা আছে অমুসলিমদেরকে হত্যা কর ? নারী বন্দি করে ধর্ষন কর ?

এখন যদি কোরান হাদিস থেকে দেখান হয় যে , কোরান হাদিস আসলেই কাফের মুশরিকদেরকে হত্যা করতে বলেছে যেমন –

সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তখনই মুমিনেরা শুরু করবে চিৎকার , বলবে , উক্ত আয়াতের প্রেক্ষাপট জানা লাগবে। তারপরেই উক্ত আয়াতের সঠিক অর্থ ভাল করে জানা যাবে। অথচ এই একই মুমিন কিছু আগেই দাবী করে বলবে , কোরানের কোথাও কাফেরদের হত্যার কথা বলে নি। এবার যদি প্রেক্ষাপট বলা হয় , যেমন উক্ত ৯:৫ আয়াতের প্রেক্ষাপট হলো : মুহাম্মদ মক্কা বিজয়ের এক বছর পর আবু বকরকে হজ্জ করতে পাঠায়। তখনও মক্কার অমুসলিমদেরকে কাবা ঘরে তাওয়াফ করতে সুযোগ দেয়া হতো। আবু বকরকে পাঠিয়েই মুহাম্মদ সুরা তাওবার উক্ত আয়াত নাজিল করে আলীকে পাঠায় , উক্ত আয়াত জন সমক্ষে পড়ে শুনানোর জন্যে । উদ্দেশ্য একটাই অত:পর কোন অমুসলিম কাবা ঘর তাওয়াফ করতে পারবে না , আর যারা তখনও অমুসলিম আছে , তারা যদি অতি সত্ত্বর ইসলাম গ্রহন না করে , তাহলে তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করা হবে। দুনিয়ার সকল বিখ্যাত তাফসিরকার, ইসলামের ইতিহাসেই উক্ত প্রেক্ষাপট লেখা আছে। উক্ত আয়াতের ব্যখ্যা স্বরূপ বহু সহিহ হাদিস বিদ্যমান যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০:
আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১:
আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩২:
আবু বকর ইবনআবু শায়বা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) ও জাবির (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, লোকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি ।বাকি অংশআবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে ইবন মুসায়্যাব-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরুপ ।আবু বকর ইবনআবু শায়বা ও মুহাম্মাদ ইবন মুসান্না (র)……জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, এ কথার স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে আমি আদিষ্ট হয়েছি ।আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই,– এ কথা স্বীকার করলে তারা আমার থেকে তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে ।

অর্থাৎ সোজা কথায় , ইসলাম যদি কেউ গ্রহন না করে , তাহলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে চিরকালীন যুদ্ধ ঘোষনা জারি আছে। আর যুদ্ধ করতে গিয়ে নিশ্চিতভাবেই কেউ চুম্বা খায় না। হত্যা, খুন , গনহত্যা এসবই করে। হয়ত কিছুকাল পর কিছু লোক আবিস্কার করতে পারে , যে কোরানে যেখানে জিহাদের কথা বলা হয়েছে , জিহাদের প্রকৃত অর্থ আসলে যুদ্ধ না , বরং চুম্বা খাওয়া বা আলিঙ্গন করা। তবে আমাদেরকে সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

জিহাদ বা যুদ্ধের কথাই যখন আসল , তখন সেটা নানা ভাবে হতে পারে। সৈন্য সংখ্যা বেশী হলে সরাসরি আক্রমন করে দখল , আর সৈন্য সংখ্যা কম হলে ওৎ পেতে থেকে হঠাৎ করে আক্রমন করা যেতে পারে। আমাদের নবী ঠিক এরকম ভাবেই মদিনার পাশ দিয়ে চলে যাওয়া বানিজ্য কাফেলায় আক্রমন করে , বনিকদেরকে হত্যা করতেন ও অত:পর তাদের মালামাল গনিমতের মাল হিসাবে সংগ্রহ করতেন। তিনি নিজে সেই লুন্ঠিত দ্রব্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ নিজে নিতেন তার ডজনের বেশী স্ত্রী ও দাসী সম্বলিত বিশাল পরিবারের ভরন পোষনের জন্যে। পশ্চিমা দেশে অতি সামান্য মুসলমান বাস করে , কিন্তু তাদের ইমানী জোশ খোদ মুসলিম দেশে বাসকারী মুসলমানদের চাইতে অনেক বেশী। তারা সর্বদাই জিহাদে যোগ দেয়ার জন্যে প্রস্তুত। তাই সময় সুযোগ বুঝে তারা গুপ্তভাবে আক্রমন হানে। উদ্দেশ্য একটাই , সেটা হলো অমুসলিমদের মনের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করা। তাহলেই একদিন তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিনস্ট হবে , তাদের দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে ,. আর তখনই তারা সবাই ইসলামের পতাকাতলে আসবে।

এই যে সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলাম প্রচারের বিষয়, এটা খোদ আমাদের নবীরই শিক্ষা , কিভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে হবে , সেটা কোরানেই বলা আছে ,

সুরা আনফাল- ৮: ১২: যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

এই আয়াতের সুন্দর ব্যখ্যা আছে হাদিসে :

সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০:
ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। একবার আমি নিদ্রায় ছিলাম, এমতাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডার সমূহের চাবি আমার হাতে অর্পণ করা হয়। আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) তো চলে গেছেন আর তোমরা তা বের করছ।

শত্রুর মনের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেই প্রকৃত মুসলমানরা অমুসলিমদেরকে ইসলাম গ্রহনে বাধ্য করবে। বলা বাহুল্য, ইসলামে মুসলমানদের কাছে সকল অমুসলিমই শত্রু হিসাবে গণ্য। আর তাই দুনিয়ার সকল অমুসলিমই হলো মুসলমানদের কাছে শত্রু। ঠিক সেই কারনেই , অমুসলিম দেশে গিয়ে যতই মুসলমানরা বাস করুক , তাদের দেশের খেয়ে পরে ভাল জীবন যাপন করেও , মুসলমানরা কখনই সেই অমুসলিম দেশকে ভালবাসতে পারে না, আপন করে নিতে পারে না , বরং সেই দেশ ও দেশের সকল অমুসলিমদেরকেই তারা শত্রু মনে করে। যার বহি:প্রকাশ ঘটায়, নানা রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে। আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে , যা বলা বাহুল্য আমাদের নবীর শিক্ষা।

সুতরাং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ইসলাম প্রচার হলো কোরান হাদিসের বিধান। যা হলো পবিত্র জিহাদ। এই জিহাদে অংশগ্রহন করাই হলো প্রতিটি মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।

মুহাম্মদের আমলে তরবারী বর্শা ইত্যাদি অস্ত্র ছিল। তাই সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হতো তরবারি দিয়ে , তরবারি দিয়ে মানুষের ধড় থেকে মাথা আলাদা করার মাধ্যমে। বর্তমানে তরবারী বা বর্শা আর ব্যবহার হয় না যুদ্ধে। পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় বন্দুক , গুলি, বোমা , বিমান , ক্ষেপনাস্ত্র ইত্যাদি। কোরান হাদিস বলেছে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে । অর্থাৎ এখানে সন্ত্রাস সৃষ্টিটাই হলো আসল। সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে গেলে যা যা দরকার তার সব কিছুই ব্যবহার করা যাবে। মূল উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাস সৃষ্টি করে অমুসলিমদের মনের মধ্যে ভয় ত্রাসের সৃষ্টি করা , যাতে পরে তারা বাধ্য হয় ইসলাম গ্রহন করতে। এক বিংশ শতাব্দির প্রকৃত খাটি ইমানদার বান্দারা অমুসলিমদের মনে ত্রাস সৃষ্টির জন্যে বন্দুক , বোমা , এমন কি প্যসেঞ্জার বিমানও ব্যবহার করে থাকে। এই যেমনটা কিছুকাল আগে প্যারিসের এক নাইট ক্লাবে জিহাদীরা গুলি করে ১৩০ জনকে হত্যা করল, ক্যালিফোর্নিয়ায় হত্যা করল ১৪ জন , আর আজকে ব্রাসেলসের বিমান বন্দরে বোমা মেরে হত্যা করেছে ১০ জনের মত। বলা বাহুল্য , এ ধরনের প্রতিটা আক্রমনই কাফের মুশরেকদের মনে ত্রাসের সঞ্চার করছে। তাই আশা করা যায়, অতি সত্ত্বরই তারা দলে দলে ইসলামের পতাকাতলে আসবে।

এখন কেউ যদি প্রশ্ন – কোরান হাদিসে কি বোমা হামলার কথা বলেছে ? বন্দুক দিয়ে গুলি করে হত্যা করার কথা বলেছে ? তাহলে এই ধরনের ব্যাক্তি কি আসলে মুসলমান নাকি মুনাফিক ?

১৯ thoughts on “কোরান হাদিসে কি কোথাও বলেছে ব্রাসেলস এয়ারপোর্টে বোমা ফাটাও ?

  1. আসলে মুসলমানরা বড় ধরনের
    আসলে মুসলমানরা বড় ধরনের পশ্চিমা সন্ত্রাসের স্বীকার। পশ্চিমা সন্ত্রাসের মাত্রা আইসিস, আল-কায়দার সন্ত্রাসের চাইতেও মারাত্নক। মুসলামরা সন্ত্রাসী হয় কোরান পড়ে নয়, বরং শয়তান পশ্চিমাদের বড় বড় রাষ্ট্রিয় সন্ত্রাস তাদেরকে ছোট ছোট সন্ত্রাসী বানায়।

    এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপ ইরাক, আফগানস্থান, সিরিয়া, লিবিয়ায় কত লক্ষ লক্ষ সাধারন নারী-পুরুষ-শিশু হত্যা করেছে তার খবর কে রাখে। একের এক মুসলিম দেশ তছ-নছ করেছে। ইরাক,সিরিয়া,ইয়েমেন,লিবিয়া এগুলো অনেক উন্নত ছিল।তাদেরকে তছনছ করা হয়েছে। নীচের ছবিতে দেখা যাচ্ছে পশ্চিমা সন্ত্রাসের কিছু নমুনা–

    অন্যদিকে আরেক সন্ত্রাসী ইসরায়েল, প্যালেস্টাইনিদের দেশ দখল করে তাদের উপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন পশ্চিমা মদদে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে কিভাবে মুসলামদের ভূমি দখল চলছে–

    যদি পশ্চিমা সন্ত্রাশ আর বর্বরতা থামান না যায়, তাহলে ছোট মাত্রার মুসলিম সন্ত্রাসও থামান যাবে না কিছুতেই।

    1. ওদের এসব কর্মকান্ড হলো
      ওদের এসব কর্মকান্ড হলো সাম্রাজ্যবাদীতা। তাদের এইসব কর্মকান্ডকে কোন সুস্থ লোক সমর্থন করে না। দুনিয়ার অধিকাংশ লোকই এদের কর্মকান্ডকে ঘৃনা করে , সমালোচনা করে। আপনি যদি ইসলামকে এদের কর্মকান্ডের সাথে তুলনা করেন , তাহলে ইসলাম হয়ে যাবে ওদের কর্মকান্ডের মতই একটা বর্বর সংস্কৃতি। সেটা বোধ হয় না বুঝেই এভাবে ইসলামের সাথে ওদের কর্মকান্ডের তুলনা করেছেন।

    2. তুমি অধম , তাই বলিয়া আমি
      তুমি অধম , তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? মুসলমান নামধারীরা ও যদি নিরপরাধ নর নারী নির্বিচারে বোমা মেরে হত্যা করে , তাহলে মুসলিম আর অমুসলিমে পার্থক্য থাকল কোথায়?

    3. সাম্রাজ্যবাদীদের এসব
      সাম্রাজ্যবাদীদের এসব কর্মকান্ডকে দেখিয়ে ইসলামিস্টদের ধর্মীয় সাম্রাজ্য বিস্তারের সন্ত্রাসবাদীতাকে কি সমর্থন করছেন? তাহলে এত লুকোচুরির দরকার কি? সরাসরি বলেন ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তারে এসব কর্মকান্ড ঠিক আছে। আমরা যেমন বলছি এরা কোরান হাদিস মেনেই সন্ত্রাসী কাজ করছে। পৃথিবীতে যারাই সাম্রাজ্য বিস্তারে সন্ত্রাসবাদের দ্বারস্ত হয়েছে সবাই মানবতার শত্রু। সেটা আল কোরানপন্থী সন্ত্রাসী হোক, কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার সভ্য নামধারী অসভ্যরা হোক।

      ইসলামের বাত্তিটা নিভে যাওয়ার সময় হয়েছে বলেই এমন দপদপ করে জ্বলতেছে। ইউরোপ আমেরিকার প্রয়োজন নাই, ইসলামের বারোটা ধার্মিকরাই বাজাবে।

  2. সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর

    সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    কোরানের এই আয়াতটি নাযীল হয়েছিল নবম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর। মক্কার মুশরিকরা উলংগ হয়ে কাবা ঘর তাওয়াফ করত এবং মুর্তি পূজাও চালিয়ে যেত। সেই সাথে তারা বারবার মুসলামদের সাথে চুক্তি ভংগ করছিল। তাই তারা ছিল ইসলাম আর মুসলিমদের জন্য ছিল মারাত্নক হুমকী সরুপ। সূরা তওবায় মুশরিকদের চার মাসের সময় প্রদান করা হয় এবং ঘোষণা করা হয় মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের জন্য। কিন্তু আবার ৬ নম্বর আয়াতেই আল্লাহ কত সুন্দর করে বলেছেন–

    আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না। [সুরা তাওবা: ৬]

    অর্থাত কোন মুশরিক মুসলামদের সাথে যুদ্ধ না করে তাদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাদেরকে হত্যা তো করাই যাবে বা বরং আস্রয় দিতে হবে এবং নিরাপদ স্থানে পৌছে দিতে হবে। কত সুন্দর নর্দেশ। এটাই হচ্ছে ইসলাম।

    1. ঠিক তাই , আমরা ইমানদার
      ঠিক তাই , আমরা ইমানদার মুসলমানরা সুযোগ পেলেই অমুসলিমদেরকে শুধু ইসলাম গ্রহন না করার কারনে আক্রমন করে হত্যা করব , কেউ যদি তখন আত্মসমর্পন করে প্রান ভিক্ষা চায় ,তখন তাকে দয়া করব। ইহাই হলো ইসলামের মাহাত্ম।

      1. আমরা ইমানদার মুসলমানরা সুযোগ

        আমরা ইমানদার মুসলমানরা সুযোগ পেলেই অমুসলিমদেরকে শুধু ইসলাম গ্রহন না করার কারনে আক্রমন করে হত্যা করব

        ,

        হা হা। অমুসলিমদের হত্যা করতে হবে এমন কোন বিধান ইসলামে নেই। তবে মুসলিম দেশে বসবাসরত অমুসলিমরা মুসলিম দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যাবস্থা নেয়া হবে। তবে তার আগে তাদেরকে যথেষ্ট সময় আর সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে, ঠিক যেমনটি দেয়া হয়েছিল মক্কার মুশরিকদেরকে।

        1. কোরান বা হাদিস থেকে
          কোরান বা হাদিস থেকে সুনির্দিষ্ট ও পরিস্কার উদ্ধৃতি দিলেও মুমিন পাকাল মাছের মত সরে যায়। আবার অত্যন্ত অস্পষ্ট কোরানের বানীকে নিজেদের মত অর্থ করে তার মধ্য থেকে বিগ ব্যাং সহ ছোট ব্যাং সবাই আবিস্কার করে। তবে সভ্য দুনিয়াতে সভ্য মানুষকে ফাকি দিতে হবে কিভাবে সেটাও কোরান বলেছে , অর্থাৎ যেখানে ইসলামের সত্যিকার কথা বললে বিপদের সম্ভাবনা সেখানে সব কিছু লুকিয়ে বলতে হবে ,. ভবিষ্যতে সুযোগের আশায় , যেমন :

          সুরা আল ইমরান -৩: ২৮: মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।

          1. তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ

            তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন।

            হ্যা এটা হচ্ছে টিকে থাকার স্ট্র্যাটিজি। মুসলমানদেরকে বিভিন্ন প্রয়োজনে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে হবে। আর অমুসলিম দেশে বসবাস করলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই নানান ধরনের সভ্য সমাজের নামে চলতে থাকা অসভ্য আচরনে মুসলমানরা আক্রান্ত হতে পারে। তাই মুসলিমদেরকে সেখানে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেটার শিক্ষা আল্লাহ কোরানে দিয়েছেন।

          2. ঠিক তাই , এটা হলো টিকে থাকার
            ঠিক তাই , এটা হলো টিকে থাকার কৌশল। যখন সংখ্যায় মুসলমানরা কম থাকবে অথবা পরিস্থিতি বেগতিক , তখন বলতে হবে ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। আর পরিস্থিতি যখন অনুকুলে তখন আই এস , তালেবান বা আল কায়েদার মত জিহাদ কায়েম করতে হবে। মেরে কেটে সব সাফ করে দিতে হবে। কৌশল হিসাবে অতুলনীয় অবশ্যই।

        2. অমুসলিমদের হত্যা করা হবে না
          অমুসলিমদের হত্যা করা হবে না যদি না তারা বিরোধতা করে। এদেরকে জিজিয়া দিতে হবে। কিন্তু কোনো মুসলিম ধর্মত্যাগ করলে হত্যা করে ফেলতে হবে যেমন আজ সকালে একজনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।

          এটা পড়েন আর শিহরিত হন জেনে আপনার ধর্ম কতটা বর্বর
          http://www.thereligionofpeace.com/pages/quran/apostasy.aspx

  3. আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও
    আর তাদেরকে হত্যাকর যেখানে পাও সেখানেই এবং তাদেরকে বের করে দাও সেখান থেকে যেখান থেকে তারা বের করেছে তোমাদেরকে। বস্তুতঃ ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা হত্যার চেয়েও কঠিন অপরাধ। ২: ১৯১

    এই আয়াতে দয়াময় আল্লাহ পাক কিছু মানুষ সম্পর্কে বলছেন তাদেরকে যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করতে হবে। এটা যদি মুহাম্মদ নিজে অথবা কোনো সামরিক প্রধান আদেশ দিতেন তবে একটা ব্যাখ্যা হয়ত ছিল। কিন্তু সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক যিনি অসীম জ্ঞানের আর ক্ষমতার অধিকারী, যার দয়াও আবার অসীম তিনি কিভাবে এরকম আদেশ দিবেন? অর্থাৎ স্পষ্টত এসব আয়াত মহাম্মদ তার সঙ্গীদের নিয়ে তৈরী করেছেন। এ আয়াতের শেষের দিকে ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামার নিন্দা করা হচ্ছে। আল্লাহর মতে যেখানে পাওয়া যায় সেখানেই হত্যা করে ফেলা ফেতনা ফ্যাসাদ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা নয় তাহলে।

    অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা আত তাওবা -৯:৫ (মদিনায় অবতীর্ণ)

    অর্থাৎ নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই হত্যা করতে হবে। এরকম আদেশ শোনলে আল্লাহ পাককে বর্বর ইয়াহিয়া খানের মত মনে হয়। প্রত্যেক ঘাটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাকতে হবে। আর তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে যদি কেবল তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে। ইসলামে নাকি জোর জবরদস্তি নেই! এরপরের আয়াতে আল্লাহ পাক কৌতুক করে বলছেন তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আল্লাহ পাকের রসবোধের কোনো তুলনা নেই। নি:সন্দেহে তিনি চরম রসময়!

    1. সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর

      সুরা তাওবা – ৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

      কোরানের এই আয়াতটি নাযীল হয়েছিল নবম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের পর। মক্কার মুশরিকরা উলংগ হয়ে কাবা ঘর তাওয়াফ করত এবং মুর্তি পূজাও চালিয়ে যেত। সেই সাথে তারা বারবার মুসলামদের সাথে চুক্তি ভংগ করছিল। তাই তারা ছিল ইসলাম আর মুসলিমদের জন্য ছিল মারাত্নক হুমকী সরুপ। সূরা তওবায় মুশরিকদের চার মাসের সময় প্রদান করা হয় এবং ঘোষণা করা হয় মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের জন্য। কিন্তু আবার ৬ নম্বর আয়াতেই আল্লাহ কত সুন্দর করে বলেছেন–

      আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না। [সুরা তাওবা: ৬]

      অর্থাত কোন মুশরিক মুসলামদের সাথে যুদ্ধ না করে তাদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে, তাদেরকে হত্যা তো করাই যাবে বা বরং আস্রয় দিতে হবে এবং নিরাপদ স্থানে পৌছে দিতে হবে। কত সুন্দর নর্দেশ। এটাই হচ্ছে ইসলাম।

      1. এটা হচ্ছে আপনাদের সমস্যা। অতি
        এটা হচ্ছে আপনাদের সমস্যা। অতি ইমানে ঘিলু বলতে আর কিছু থাকে না। আগের আয়াতে হত্যা করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দেয়া হল। হত্যা করে ফেলার পর আবার কিসের আশ্রয়?

        বলতে পারেন এ আয়াত সবকালের জন্য প্রজোয্য নয়, নির্দিষ্ট উপলক্ষ্যে এসেছে। তাহলে সম্পূর্ণ কোরানই একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বরাদ্ধ হয়ে যাবে। আর এ ধরণের হিংস্রতাপূর্ণ আয়াত রচনা করার জন্য মুহাম্মদের মত হিংস্র চরিত্রের একজন মানুষের দরকার, আল্লাহর নয়। যে মহাবিশ্ব বানিয়ে ফেলে সে এ ধরণের আয়াত পাঠাবে কেন? আর কতকাল এসব মিথ্যার ফেরী করে বেড়াবেন?

        1. এটা হচ্ছে আপনাদের সমস্যা। অতি

          এটা হচ্ছে আপনাদের সমস্যা। অতি ইমানে ঘিলু বলতে আর কিছু থাকে না। আগের আয়াতে হত্যা করার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দেয়া হল। হত্যা করে ফেলার পর আবার কিসের আশ্রয়?

          আপনাদের সমস্যাটা আরও বেশী। কেন জানেন? আপনারা ইসলাম শেখেন মুক্তমনা নামক ব্লগ থেকে, আর সেখানে যা লিখ আহয় সেটা পড়েই লাফিয়ে ঊঠেন আর এখানে ওখানে কপি-পেস্ট করে লিখতে থাকেন।

          বলতে পারেন এ আয়াত সবকালের জন্য প্রজোয্য নয়, নির্দিষ্ট উপলক্ষ্যে এসেছে। তাহলে সম্পূর্ণ কোরানই একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বরাদ্ধ হয়ে যাবে।

          কবিতার একটা লাইনই একটা আস্ত কবিতা? নাকি পুরা কবিতা আসল আর পুর্ন বক্তব্য উপস্থাপন করে?

          আপনি দয়া করে সুরা তওবা পড়ে দেখুন, সেখানে মুসলমানদের সাথে মুশরিকদের আচরন কিরকম ছিল সেটা স্পশট করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের আচরনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাথে ততকালিন সময়ে যুদ্ধ করাটা কিছুতেই অন্যায় হিসেবে বিবেচিত নয়।
          নীচে সূরা তওবার লিংক দেয়া হল–

          http://habibur.com/quran/9/

          1. সুরা তাওবা নাজিল হয়
            সুরা তাওবা নাজিল হয় মুহাম্মদের মক্কা বিজয়ের এক বছর পর। তখন মক্কা তো বটেই আশ পাশের সব গোত্র মুহাম্মদের করতলগত। কেউ তার বিরোধিতা করার সাহস পায় নি। সুরা তাওবার কোথাও বলা হয় নি মুশরিকরা মুহাম্মদের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র করছিল বা তাকে আক্রমন করতে যাচ্ছিল। অর্থাৎ সম্পূর্ন শান্তির সময়ই মুহাম্মদ সুরা তাওবা নাজিল করে। উদ্দেশ্য একটাই । তা হলো – মুহাম্মদ তখন মক্কা মদিনার সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী, আর তাই মক্কা মদিনা তো বটেই তার আশপাশের সবাইকে হয় ইসলাম কবুল করতে হবে , না হয় মরতে হবে। সেটাই সুন্দরভাবে বলা হয়েছে ৯:৫ নং আয়াতে। শুধুমাত্র ইহুদি খৃষ্টানদের জন্যে একটা অপশন খোলা ছিল , সেটা হলো তারা যদি জিজিয়া কর দেয় তাহলে তারা দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক হিসাবে মুহাম্মদের রাজ্যে বাস করতে পারবে , যেটা বলা আছে ৯:২৯ নং আয়াতে।

            আপনার একটা যায়গায় ভুল হচ্ছে। যারা এখানে ইসলাম নিয়ে লেখা লেখি করে , তারা কিন্তু আপনার চাইতেও বেশী কোরান হাদিস চর্চা করেছে। সেটাই আপনি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

          2. সম্পুর্ন শান্তির সময় সূরা
            সম্পুর্ন শান্তির সময় সূরা তওবা নাযীল হয়েছিল, এ কথা কি মুশরেকরা আপনাকে এস এম এস করে জানিয়েছে, না আপনি টাইম মেশিনে চড়ে মক্কা থেকে ঘুরে এসেছিলেন?
            সূরা তওবা থেকে পরিষ্কার যে মুশরেকদের সাথে মুসলিমদের সহবস্থান আর সম্ভব ছিল না। বরং তারা ছিল মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য মারাত্নক হুমকী। নানান ধরনের ফন্দি- ফিকির আর বদমাশীতে তারা অভ্যস্থ ছিল। তাছাড়া কাবা ঘড়ের চারদিকে উলংগ হয়ে তাওয়াফ করার রীতিও বন্ধ করার প্রয়োজন ছিল। তাই সূরা তাওবা নাযীল হয়।

          3. টাইম মেশিনে আমি না , আপনিই
            টাইম মেশিনে আমি না , আপনিই মনে হয় চড়ে চৌদ্দ শ বছর আগের মক্কাতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন , না হলে একেবারে নিশ্চিত করে সব বলছেন , কোন সূত্র ছাড়া , মনে হয় সব কিছু আপনি চাক্ষুষ দেখেছেন। তাহলে সুরা তাওবার ১ নং আয়াত থেকে শুরু করুন :

            ৯:১: সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।

            কি কারনে সম্পর্কচ্ছেদ করা হলো ? কোন কারন আছে ? না , নাই । তাহলে ?হ্যা কারন আছে , আর সেটা হলো , মুহাম্মদ এখন মক্কা মদিনা ও তার আশপাশে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। তাই তার দরকার নেই আর কারো সাথে সম্পর্ক রাখার। সে কারনেই এক তরফাভাবে সম্পকচ্ছেদ করছে। এ থেকে কি বোঝা যায় না যে , মুশরিকরা আসলে কোনই ষড়যন্ত্র পাকাচ্ছিল না ? তা ছাড়া সেই সম্পর্কটাই বা কি ? সেটা কি জানা আছে ? মনে হয় নাই। তাহলে শুনুন। মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ লোক দেখান উদারতা দেখিয়েছিল মক্কাবাসীদের প্রতি , কারন তার দরকার ছিল মক্কাবাসীদেরকে , তাই মাত্র ১০ জনকে হত্যা করে বাকী সবাইকে আর কিছুই বলে নি। সেটাকেই আপনারা মুহাম্মদের মহান উদারতা বলে প্রচার করেন। মুহাম্মদ সেই দশজন ছাড়া বাকী কাউকে হত্যা করে নি , তার কারন , তারা তো সবাই ছিল কোন না কোন ভাবে তারই আত্মীয় জ্ঞাতি গোষ্ঠি। তাদেরকে হত্যা করলে তিনি কাদেরকে নিয়ে রাজত্ব করবেন ? একই সাথে মুহাম্মদ তার সেই মুশরিক আত্মীয়দেরকে কাবা ঘরে তাওয়াফ করতেও তখন নিষেধ করেন নি। এই যে নিষেধ করেন নি , মৌখিক একটা সম্মতি ছিল , এটাই সেই সম্পর্ক। এই সম্পর্ক এক তরফাভাবে ছেদ করে মুহাম্মদ পরেই বলছেন :

            ৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

            অর্থাৎ সম্পূর্ন বিনা কারনে মুহাম্মদ এবার চুড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন , তোমরা মুশরিকরা , হয় ইসলাম গ্রহন কর , না হয় খুন হওয়ার জন্যে প্রস্তুত হও। সেটা কিন্তু আয়াতেই বলেছে। মুহাম্মদ জানতেন ,. এখন তার সেই আত্মীয় স্বজন যারা তখনও মুশরিক ছিল , তাদের ইসলাম গ্রহন ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আর কোরানের এই বিধানই চিরকালীন বিধান , যাকে বলা হয় চিরকালীন জিহাদ। এই আয়াতই , কোরানের পূর্বেকার সকল শান্তির আয়াতকে বাতিল করে দেয়। সুতরাং আপনারা যারা পূর্বেকার মুহাম্মদের বলা শান্তির আয়াত বলে যান তোতা পাখির মত , তারা আসলে মুনাফিক , আপনারা কোরানের নিজস্ব মনগড়া ব্যখ্যা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। কিন্তু এভাবে বিভ্রান্ত করার দিন আসলে যে শেষ হয়ে গেছে , সেটা বুঝতে পারছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *