একটি নেগেটিভ ফলাফল মানে আরেকটি ধর্ষণের সুযোগ

“প্রতিদিন তার সামনে আমাকে একটি পিল খেতে হত। সে প্রতি মাসে আমাকে পিলের একটি বাক্স দিত। যখন শেষ হয়ে যেত তখন অন্য আরেকটি দিত। আমাকে যখন একজনের কাছ থেকে অন্যারেকজনের কাছে বিক্রি করা হত, তখন পিলের বাক্সটা আমার সাথে যেত।“- বলছিল এক তরুণী যে শুধু জানত আবার একমাস পরে তার জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাকে যখন কেনা হয়েছিল তখন তাকে দেয়া হয়েছিল চার স্ট্রিপের একবাক্স পিল, যার একটি লাল রঙের।


“প্রতিদিন তার সামনে আমাকে একটি পিল খেতে হত। সে প্রতি মাসে আমাকে পিলের একটি বাক্স দিত। যখন শেষ হয়ে যেত তখন অন্য আরেকটি দিত। আমাকে যখন একজনের কাছ থেকে অন্যারেকজনের কাছে বিক্রি করা হত, তখন পিলের বাক্সটা আমার সাথে যেত।“- বলছিল এক তরুণী যে শুধু জানত আবার একমাস পরে তার জন্মনিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাকে যখন কেনা হয়েছিল তখন তাকে দেয়া হয়েছিল চার স্ট্রিপের একবাক্স পিল, যার একটি লাল রঙের।

ইরাকের দহুক শহর, একটি বন্দী কক্ষ, যেখানে একমাত্র আসবাবপত্র বলতে একটি বিছানা, ১৬ বছরের একটি তরুণী যে জানত আরেকটি সন্ধ্যা মানেই ভয়, কারণ রাত নামলেই তার পরবর্তী ধর্ষণের প্রহর গোণা শুরু হবে। গেল বছর সে ছিল ইসলামিক স্টেটের কাছে একজন যৌনদাসী হয়ে। যে তার দিন পার করেছে, ISIS যোদ্ধাদের নিঃশ্বাসের ঘ্রাণে, তার নিজের অস্বস্তিকর শব্দ এবং তার শরীরজুড়ে বয়ে বেড়ানো ব্যাথাগুলো নিয়ে।

দু’বছর আগে, ২০১৪ সালে আগস্ট মাসের ৩ তারিখ, ইয়াজিদি সম্প্রদায়দের ভূমি ‘মাউন্ট সিঞ্জার’এ অভিযান চালানোর সময় এখানকার নারীদের বন্দী করে ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা। ইসলামিক স্টেটের নেতারা এই বন্দীদের যৌনদাসী বানিয়েছিল কারণ তারা বিশ্বাস করে মহানবী মুহম্মদ (সঃ) এর সময় হতেই এটা করা হত। এবং সে ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আইএস এর যোদ্ধারা এই দাসীদের কঠোর হাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি পালন করাত যখন এই বন্দীদের যৌনদাসী হিসেবে তাদের কাছে পাঠানো হত।

সাম্প্রতি ৩০-৩৫ জনের মত ইয়াজিদি মেয়ে আইএস এর হাত থেকে পালিয়েছে। এবং এ নিবন্ধ লেখার জনয তারা সাক্ষাতকার দিয়েছে যে কিভাবে আইএস যোদ্ধারা তদের উপর ধর্ষণ- নির্যাতন চালাত এবং কিভাবে তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা হত। অ্যাবরেশনের জন্য তাদের জোর করা হত যেন আবার তাদের সেক্সের জন্য পাওয়া যায়।
কয়েকজন বলে যে কিভাবে তারা বুঝতে পারত যে তাদের বিক্রি করা হচ্ছে, যখন hCG হরমোন প্রাপ্তির জন্য (প্রেগন্যান্সি টেস্ট) ইউরিন পরীক্ষা করার জন্য তাদের হাসপাতালে নেয়া হত তখন তারা ভীত হয়ে অপেক্ষা করত। একটি পজেটিভ ফলাফল মানে তারা শরীরে তাদের অত্যাচারীদের সন্তান বহন করছে এবং একটি নেগেটিভ ফলাফল মানে আইএস যোদ্ধারা আবার তাদের ধর্ষণ করার অনুমতি পাচ্ছে।

একজন বলে, সে সাতবার বিক্রি হয়েছিল। যখন ক্রেতারা প্রথমবার তাকে কেনার জন্য আসে এবং সে প্রেগন্যান্ট কিনা তা নিশ্চিত হতে চায় তখন তার মালিক প্রমাণ হিসেবে সেই পিলের বাক্স দেখায়। শুধু এটাতেই তারা সন্তুষ্ট হয় না। বরং তারা জানতে চায় তার শেষ মাসিক কবে হয়েছিল। এরপরো তারা সন্তুষ্ট না হয়ে তাকে একটি রুমে নিয়ে যায়। এরপর দরজা বন্ধ করে দিয়ে তার কাপড় খুলতে বলে। মেয়েটি ভয় পায় কারণ সে ধর্ষিত হতে চলেছে। তখন লোকটি একটি সিরিঞ্জ বের করে তার উপরের ঊরুতে পুশ করে। সেটা ছিল ১৫০ মিলিগ্রামের একটি Depo-Provera এর ডোজ, যেটি একটি কনট্রাসেপটিভ ইঞ্জেক্ট।

লোকটি বলে, “তুমি প্রেগনেন্ট হবা না এটা নিশ্চিত করার জন্য এটা।” এরপর সে তাকে বিছানায় ফেলে দেয় এবং তাকে প্রথমবারের মত ধর্ষণ শুরু করে।

___ State of Terror: To Maintain Supply of Sex Slaves, ISIS Pushes Birth Control

(গতরাতে প্রকাশ হওয়া “The New York Times” এ লিখিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ। আমি নিজেই করেছি। যেহেতু আমি অদক্ষ, সেহেতু ভুল- ক্রুটি মার্জনীয়। এটা লেখার মূল উদ্দেশ্য কোন ভয়ঙ্কর ধর্ষণের কেসের বর্ণনা না কিংবা আইএস এর কোন অ্যাজ ইউজুয়াল কর্মকাণ্ডের বর্ণনা না। এটা লেখার মূল উদ্দেশ্য যারা নির্যাতিত মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য দিলে ব্যাথা অনুভব করেন কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ২ লক্ষ নির্যাতিত মা- বোনদের জন্য দিলে কিছু অনুভব করেন না, তাদের জন্য। একটু শুধু অনুভব করুন, পাকি হানাদারেরা কিভাবে বেয়েনেটের খোঁচায় আবদ্ধ, নির্যাতিত করেছিল আমাদের বীরাঙ্গনাদের)

৩ thoughts on “একটি নেগেটিভ ফলাফল মানে আরেকটি ধর্ষণের সুযোগ

  1. আমাদের দেশের মোডারেট
    আমাদের দেশের মোডারেট মুস্লিমেরা শুধু বলবে যে ইহা সহি ইসলাম নহে।কিন্তু তারা আর কোন প্রতিবাদ করবে না।সাবলিল অনুবাদ হয়েছে।এরকম নির্যাতিতা নারীদের ঘটনা তুলে ধরা অবশ্যই প্রশংসনীয় কাজ।

  2. “(গতরাতে প্রকাশ হওয়া “The
    “(গতরাতে প্রকাশ হওয়া “The New York Times” এ লিখিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ। আমি নিজেই করেছি। যেহেতু আমি অদক্ষ, সেহেতু ভুল- ক্রুটি মার্জনীয়। এটা লেখার মূল উদ্দেশ্য কোন ভয়ঙ্কর ধর্ষণের কেসের বর্ণনা না কিংবা আইএস এর কোন অ্যাজ ইউজুয়াল কর্মকাণ্ডের বর্ণনা না। এটা লেখার মূল উদ্দেশ্য যারা নির্যাতিত মুসলমান ভাই-বোনদের জন্য দিলে ব্যাথা অনুভব করেন কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ২০ হাজার নির্যাতিত মা- বোনদের জন্য দিলে কিছু অনুভব করেন না, তাদের জন্য। একটু শুধু অনুভব করুন, পাকি হানাদারেরা কিভাবে বেয়েনেটের খোঁচায় আবদ্ধ, নির্যাতিত করেছিল আমাদের বীরাঙ্গনাদের)”
    আপনার প্রদত্ত পাদটীকা হুবহু পেস্ট করলাম এই জন্য যে আপনি ইয়াজিদি নারীদের দুর্দশায় ভারাক্রান্ত। কিন্তু নির্যাতিত মা-বোনের সংখ্যা উল্লেখ করলেন ২০ হাজার!!! এটা কি আপনার ২/৩ লক্ষেরও অধিক মা-বোনের ইজ্জতের বোঝা হালকা করার চেষ্টা নাকি ইতিহাসকে হালকা করার চেষ্টা?? :-/

    এই লিংকে যানঃ
    https://blog.mukto-mona.com/2014/10/07/43068/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *