আজও রক্তাক্ত,শান্তিতে নেই পাহাড়ি জনপদ

জুম্মদের আগেকার জীবন জীবিকা অনেকটাই ভালো ছিল।এমন কাহিনী বয়োজ্যেষ্ঠোদের কাছ থেকে শুনতাম।তাদের এই পুরোনো কাহিনী শুনলে হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে যায়।কারণ,সুখ ছিল বটে,কিন্তু অনুকুল পাহাড়ে বসবাস করা বর্তমান সময় চাইতে অনেক কঠিন ছিল।জুমচাষ ছিল একমাত্র উপার্জনের উৎস।এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে স্থাপন। যাযাবর জাতিরুপ।পরিবেশ তেমন ভালো না হলেও হাসিখুশি নিয়ে চলছিল সেই দিন।আদিবাসীদের ঐতিহ্য,সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ সেই অতীত এখনো কাদিঁয়ে দেয়। তৎকালিন ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলেও প্রথাগত শাসনব্যবস্থাসহ বেশ একটা স্বাধীন জীবন জীবিকা আদিবাসীদের ছিল। মাত্র স্বাধীনতার ছেচল্লিশ বছর আগে সেই পাহাড়ে তাদের সমাজ,রাজনীতি,অর্থনীতি ও সংস্কৃতির স্বাধীন ও বাইরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ছিল।পাহাড়ের গাঁয়ে সরল জীধনধারা ও জনপদ শান্তিতে বিকশিত হচ্ছিল্ল।অথচ,বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর আদিবাসীদের উপর জাতিগত নিপীরণ তীব্র থেকে তীব্রতর পরিণত হয়েছে।স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় একটি গণতান্ত্রিক,প্রগতিশীল,ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র,অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিশ্বাসীর দেশ স্বপ্ন দেখা হয়েছিল।অথচ,স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশে জাতিগত নিপীরন আরো বেড়েছে।সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে প্রতিদিন।শাসকগোষ্ঠীরা নানা ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক সক্রান্তে জুম্ম সমাজকে কলুষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।দেশের এক দশমাংশ জায়গা হলেও সেখানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা মোতায়েন সহ 500 অধিক সেনা ক্যাম্প রয়েছে।নিরাপত্তার নামে সেনাক্যাম্প স্থাপন এখানে আদিবাসীদের কোন স্বার্থেই নয়।বরং জুম্মদের নিপীরণের উদ্দেশ্য মোতায়েন করা হয়েছে।যা বর্তমান পরিবেশ বলে দেয়।1941 সালে পাহাড়ের মোট জনসংখ্যার 97.5% ছিল আদিবাসী পাহাড়ি। বাঙালি জনসংখ্যা ছিল মাত্র 2.5%। পরে দেশ স্বাধীন হলে সমতল অঞ্চলের হতদরিদ্র বাঙালীদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থাপন করা হয় এবং সেই কার্যক্রম এখনো চলছে।বাংলাদেশ সরকার আদিবাসীদের তাদের নিজভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত করার হাতে নেয়।এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে বাঙালির জনসংখ্যা 55% দাড়িয়েছে।ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে 2.5%থেকে 55% শতাংশ হলো।তাহলে পাহাড়িরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে? এসব বাঙালী সেটেলার স্থাপনের দ্বারা আদিবাসীদের নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সেটেলার বাঙালীরা পাকিদের কায়দায় জুম্মদের উপর গণহত্যা চালিয়েছে এবং চালাচ্ছে।আদিবাসী মা বোনদের উপর ধর্ষণ,হত্যা ,নিপীরন চালাচ্ছে।নিরাপত্তা বাহিনীরা সেখানে নিরাপত্তা নামে থাকলেও নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।উল্টে তারাও এসব কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে।সরকারের পরিভাষায় তাদেরকে কখনো নৃগোষ্ঠী,উপজাতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। একদিকে আদিবাসীদের যেমন সংখ্যালঘু করা হচ্ছে ,অপরদিকে তাদেরকে নিজ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।কখনো সময় তাদেরকে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে। তাহলে বলতে চাই এই দেশ কি পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশ? এমন তো হওয়ার কথা ছিল না।আদিবাসীরা তো বেশি চাইনি।তারা তো শুধু নিজ ভুমিতে শান্তিতে থাকতে চেয়েছিল।তাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বুকে নিয়ে জীবন কাটানোর দাবি করেছিল।আদিবাসীরা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করেনি বরং শাসকগোষ্ঠী সরকার আদিবাসীদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।তাদের ধ্বংস করার মরিয়া হয়ে পড়েছে। মৌলবাদী ইসলামী দেশ গঠনের জোর ভুমিকা পালন করছে।পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা করে বিতারিত করা হচ্ছে।এবং পাহাড়ি অধ্যুষিত ভুমিকে ইসলামী করণ করার শাসকশ্রেণীর আজ উঠেপড়ে লেগেছে। হতে পারি আমরা পাহাড়ি, আপনাদের চালচলন ,ভাষা,ধর্ম থেকে আলাদা।কিন্তু আমরাও এই দেশের নাগরিক।দেশ কাঁদলে আমারাও কাঁদি।আমরাও এই ভুমিকে ভালোবাসি। অথচ,সেই নিরীহ জাতিদের আজও রেখেছেন রক্তাক্ত অবস্থায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *