কর্তার ভুত

“খোকা ঘুমালো পাড়া জুরালো”
হয়তো লাইনটা এখানেই শেষ হলে ভালো হত। কিন্তু পরের লাইনেই যে আসে
” বর্গী এলো দেশে”

“খোকা ঘুমালো পাড়া জুরালো”
হয়তো লাইনটা এখানেই শেষ হলে ভালো হত। কিন্তু পরের লাইনেই যে আসে
” বর্গী এলো দেশে”
নাহলে ছন্দ মেলেনা। আমরা বাঙ্গালিরা বরাবরই বুড়ো কর্তার উপর একটু বেশিই নির্ভরশীল। এই বুড়ো কর্তা আর কেউ নন, ইনি আমাদের “ধর্ম” ও ” সংস্কার” যাহা বহুযুগ আগেই ইন্তেকাল ফরমেছেন। এবং কালক্রমে “কর্তার ভুত” অর্থাৎ “ধর্মান্ধতা” ও “কুসংস্কারে” পরিনত হয়েছেন। এখন কর্তার প্রতি অতি আনুগত্যে আমাদের ভবিষ্যৎটা অনেকটা খুঁটিতে বাধা ভেড়ায় পরিনত হয়েছে। যে ভবিষ্যৎ ভ্যা ও করেনা ম্যা ও করেনা, চুপ করে পড়ে থাকে মাটিতে, যেনো সবই মাটি। এদিকে “ধর্ম” নামক “কর্তা” যিনি ইন্তেকালের পর “কর্তার ভুতে” পরিনত হয়েছেন, তিনি আমাদের অতি অনুগত্যের সুযোগ নিয়ে প্রতিস্টা করেছেন “ভুত শাষনতন্ত্র” এবং তার শাষনে পুরো দেশটাই পরিনত হয়েছে একটা অদৃশ্য জেলখানায়। যার দেওয়াল চোখে দেখা যায় না। সুতরাং দেওয়াল ভেঙ্গে পালানোর উপায়ও নেই। এছারা থার দারোগা হিসেবে নিযুক্ত আছেন ধর্মরক্ষকেরা। এবং তাদের নির্দেশে আমাদের মরনত্ত্বর ঘোরাতে হয় ঘানি। যা থেকে একছটাকও তেল ফের হয় না। যা বের হয় তা হল আমাদের রক্ত, যার পুরো অংশটাই ঢালা হয় “ধর্মভুত” থুক্কু “কর্তার ভুতের” খুলিতে। শরিরের রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় আমরা হয়ে পড়ি নিস্তেজ। ফলে ভুতের রাজত্বে আর কিছু থাক না থাক সদা শান্তি বিরাজমান। অথচ ভুতশাষনতন্ত্র নিয়ে কারো কোনো দ্বিধা নেই, নেই কোনো প্রশ্ন। কারন ভবিষ্যৎকে মানলেই তাকে নিয়ে যত ভাবনা, আর না মানলে সব ভাবনা ভুতের মাথায় চাপে।কিন্তু ভুতের মাথা নেই, সুতরাং কারো জন্য মাথা ব্যাথাও নেই। এভাবে চললেই হয়তো ভালো হত। কিন্তু পৃথিবীর অন্যসব দেশের মানুষকে তো আর ভুতে পায়নি, সুতরাং তারা ভয়ংঙ্কর রকম সজাগ আছে। তাদের দেশে ঘানি ঘুরিয়ে যে তেল উৎপন্য হয় তা তারা ভুতের খপ্পরে ঢেলে না দিয়ে তা তারা ব্যাবহার করে ভবিষ্যৎ এর রথচক্রকে সচল রাখতে। তাদের দেশে কখনও ভুতের উপদ্রব হলে তারা ধ্রুত ওঝার খোজ করে, কিন্তু আমাদের তার বালাই নেই, কারন এখানে শিক্ষিত নামক ওঝাদেরই আগে ভুতে ধরেছে। তবুও যারা স্বভাব দোষে নিজের ভাবনা ভাবনা ভাবতে যায় তারা খায় ভুতের কানমলা। এই প্রেক্ষাপটে ধার্মিক হুজুরেরা শোনান আপন অমৃতসম বানী-
“চোখ বুজে চলাই জগৎ এর আদিম চলন, গাছের মধ্যে, ঘাসের মধ্যে আজও এই চলন দেখা যায়। সুতরাং যারা বেহুশ তারাই আস্তিক, এবং যারা ভুত শাষনতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন করে তারা নাস্তিক”। এই মধুর অমৃত সুধা পান করে বাঙ্গালি আদিম আদিম আভিজাত্য অনুভব করে।
আসল কথা হচ্ছে কর্তা বেঁচেও নেই মরেও নেই আছে ভুত হয়ে। সে দেশটাকে নাড়েও না ছাড়েও না। দু একটা মানুষ যারা দিনের বেলায় ধর্মরক্ষকদের ভয়ে কিছু বলতে পারেনা, তারা গভির রাতে হাত জোর করে বলে
‘কর্তা এখনও যাওয়ার সময় হয়নি??
কর্তা বলেন
‘আমার ধরাও নেই ছাড়াও নেই, তোরা ছারলেই আমার ছারা’
তারা বলে
‘ভয় করে যে কর্তা!!’
কর্তা বলেন
‘ওই খানেই তো আমার বাস’
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “কর্তার ভুত” ছোঝো গল্প অবলম্বনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *