নবকালের নবদায়ঃ হরেক নব সম্প্রদায়… (পর্ব-৩)

কি হইল দেশখানার বুঝিয়া পাইনা। বেয়াল্লিশ বছর কাটিয়া গেল, কোন শালা জাগিল না। শাহবাগ স্বপ্ন দেখাইয়াছিল, কিন্তু ওস্তাদ কুঁতাইয়া কুঁতাইয়া স্বপ্নখানা ভাঙ্গিলেন। মধ্যিখান হইতে উলটা পথে হাঁটিয়া দেশখানাকে আরো বহু বছর পিছাইয়া দিবার নিমিত্তে কতগুলা হেফাজতি চেগাইয়া উঠিল। গণপশ্চাদ্দেশ এখন সত্যিকার অর্থেই গণ হইয়া উঠিয়াছে। যে যাহার মত আসিয়া মারিয়া যাইতেছে। কতিপয় ব্যাক্তিকে আনন্দে আটখানা হইয়া উঠিতে দেখিয়া হাত দুইখানা নিশপিশ করিতে থাকে। বিষয়খানা কিছুই নহে, ‘রাজায় কইছে চুদির ভাই, আনন্দের আর সীমা নাই’। সেক্যুলার নহে তাহারা মডারেট হইয়াই মার্কিনি সার্টিফিকেট বাগাইবার আনন্দে আত্মহত্যা করিয়া চলে দিবারাত্র। মডারেশনের যন্ত্রণায় অস্থির হইয়া আর সুশীল বুদ্ধিজীবিগুলার টকাং শৌতিঃ দেখিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের ছাদ হইতে লাফাইয়া পড়িতে প্রাণ চাহে। কিন্তু যাইবার সাহস পাইনা। হেফাজতের সমাবেশতো মতিঝিলেই হয়।
গতকল্য কহিয়াছিলাম, হেফাজতের চেগাইয়া উঠিবার পিছনে কয়েকখানা কারণ কাজ করিয়াছে বলিয়াই আমার মনে হইতেছে দিবারাত্র। কারনগুলা ছিল;
০১। জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করণ ইস্যু
০২। জয় বাংলা ইস্যু
০৩। তেল- গ্যাস- বিদ্যুৎ- জ্বালানী ইস্যু
০৪। নির্বাচন ইস্যু
০৫। তৃতীয় শক্তির উত্থানভীতি
০৬। আন্তর্জাতিক চাপ
০৭। অভ্যন্তরীণ চাপ
ইহার মধ্য হইতে আবার সবচাইতে বড় কারণ ঘুম চক্ষে লিখিতে গিয়া মিস করিয়াছিলাম। সেই অষ্টম এবং সবচাইতে বড় কারণখানা দিয়াই শুরু করিব আজিকার প্যাচাল। তাহা হইল ঈগল পাখির লালা নিঃসরণ। মাথা নষ্ট বলিয়া মনে হইতেছে? আইস তবে সহচরি, হাতে হাত ধরিয়া আমরা বিষয়খানা বুঝি।

ঈগল পাখির লালা নিঃসরণঃ

ঈগল পাখি মানে আমেরিকা। আকাশের বহু উচ্চস্থানে ঈগল পাখির বিচরণ। সর্বদা দৃষ্টিসীমার বাইরে থাকিয়া শিকারকে অবলোকন করা এবং সময় সুযোগ বুঝিয়া ছোঁ মারিয়া তুলিয়া লইয়া যাওয়াই ঈগল পাখির স্বভাব। আমেরিকা নামক রাষ্ট্রখানার স্বভাবও ঠিক একই প্রকারের। রাষ্ট্রের পর রাষ্ট্র আত্মসাৎ করিয়াও তাহাদের ক্ষুধা মিটিতে চাহেনা। আবার তাহাদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রতীকে ঈগল পাখিকে দেখিতেও পাওয়া যায়। সারা বিশ্বের সর্বত্র তাহাদের নৌ ঘাঁটি- বিমান ঘাঁটি রহিয়াছে। নাই এই গরীব গুর্বার দক্ষিণ আর দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়। তাহার উপর এই অঞ্চলে বাস করে মহাশক্তিধর চীন আর উদীয়মান শক্তির ভারত। সুতরাং, নজরদারি করিতে হইলেতো এই অঞ্চলে একখানা ঘাঁটি করিতে হয়। কোথায় করা যায়? কয়েক বর্ষকাল পূর্বে তাহারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপখানা ইজারায় লইতে চাহিয়াছিল। কিন্তু গণধোলাইয়ের ভয়ে সরকার আর দিতে পারে নাই। তাহা হইলে কি করণীয়? করণীয়, এই অঞ্চলে উপস্থিতি জায়েজ করিয়া লওয়া। তাহা কি করিয়া সম্ভব? উত্তর সহজ। টুইন টাওয়ারে হামলার পর, আমাদিগের মৌ-লোভীরা মিছিল দিয়াছিল, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান’। এই মৌ-লোভীরা যদি হেফাজত করিতে গিয়া দেশখানাকে আরেকখানা আফগানিস্তান বানাইয়া বসে, জগত মাতব্বর ঈগল পাখির ছোঁ মারা তখন প্রশ্নবিদ্ধ হইবার সুযোগ থাকেনা। কিছুই লাগিবেনা, খালি ভাগাভাগির সময়ে দাদাদিগকে তাহাদের ভাগ বুঝাইতে পারিলেই কেল্লা ফতে। আর আমাদিগের তেল-গ্যাসের উপর এই চোট্টা সম্প্রদায়ের লোভাতুর দৃষ্টিও সর্বজনবিদিত। আর তাহাদের স্বার্থসিদ্ধির উপায় করিয়া দিবার জন্য এই সময়ে হেফাজতদিগের হইতে উপযুক্ত আর কেহ আছে বলিয়া কি বিদগ্ধ পাঠক সমাজ মনে করিতে পারেন?

জামাত-শিবির নিষিদ্ধকরণ ইস্যুঃ

একখানা ভয়াবহ ইস্যু। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চেহারাই বদলাইয়া যাইবে এই একখানা ইস্যুতে। যুদ্ধাপরাধের দায়ভার লইয়া জামাত-শিবির নিষিদ্ধ হইলে তাহার রাজনৈতিক মিত্রকূলেরও বিপদ, শত্রুকূলেরও বিপদ। কারণ, যাহারা মুক্তিযুদ্ধের ঠিকাদারি করিয়া ক্ষমতার রাজনীতি করিয়া থাকে, জামাত-শিবির-যুদ্ধাপরাধী না থাকিলে তাহাদের পাবলিক সেন্টিমেন্ট আদায় করিবার জায়গা কোথায়? কি লইয়া রাজনীতি করিবে তাহারা? জামাত-নিষিদ্ধ করিবার সদিচ্ছা থাকিলে শাহবাগ আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই তাহারা করিতে পারিত। শাহবাগ হইতে যে আল্টিমেটাম দেওয়া হইয়াছিল তাহাতে কেহই কর্ণপাত করে নাই। না সরকার করিয়াছে, না ট্রাইবুন্যাল। বরং যেই দিন কাদের মোল্লার যাবজ্জীবনের রায় দেওয়া হইয়াছিল, হাম্বাদিগের ছাত্র সংগঠন ইহাকে স্বাগত জানাইয়া আনন্দ মিছিল করিয়াছিল। পরে শাহবাগে লোকে যাইয়া এই রায়খানা প্রত্যাখান করিতেই উহারা বুঝিল, বড় ভুল হইয়া গিয়াছে। সুতরাং, দাও পুলিশ দিয়া ঘিরিয়া। জনগণে আন্দোলন বলিতে বুঝিয়া থাকে পুলিশের লাঠির বাড়ি। সেই পুলিশের পাহারায় নিরাপদে বসিয়া বেলুন উড়াইলে জনগণতো জনগণ, আন্দোলনকারী নিজেই বিশ্বাস হারাইয়া ফেলে। হাম্বাগণ দ্বিতীয় সর্বনাশখানা করিল কাজের কাজ জামাত নিষিদ্ধ না করিয়া সংহতি সংহতি খেলিতে যাইয়া। লোকে ভাবিয়া লইল, এই আন্দোলনখানাও বুঝি হাম্বাগণের ভোটাভুটি নির্ভর রাজনীতির কোন খেলার অংশ। অথচ, ইহাদের গবুচন্দ্রগুলা শাহবাগে যাইয়া বোতল খাইয়া আসিবার পরও নির্লজ্জের মত বলিতে লাগিল, আইস আমরা সকলে মিলিয়া সংহতি সংহতি খেলি। তাহার পর কোন যাদুমন্ত্রবলে হাম্বাদিগের পোষা ছাত্র সংগঠন শাহবাগ মঞ্চে উঠিয়া বসিল, তাহা উহারাই জানে, আর জানে উহাদের যাহারা পুষিয়া রাখে তাহারা। মানিয়া লইলাম, ইহা সবার পরাণের দাবি, তাহা হইলে সেইদিন বিকালে রায়খানা স্বাগত জানাইয়া মিছিল করিতে গেলি কোন দুঃখে? থাকলি থাকলি, দলীয় পরিচয়ের জায়গা হইতে তোদের বক্তৃতা করিতে দিয়াছিল কোন গর্ধভ? এই আন্দোলনতো গণ মানুষের। গণমানুষের দাবি আদায় করিতে গিয়াও যদি দলীয় পরিচয় ছাড়িতে না পারিলি, কি করিয়া এই আন্দোলন তোর প্রাণের দাবি হয়? তোরা দাবি করিলি, তোদের লোক মরিতেছে। কিন্তু তোদের লোক মরিয়া যাওয়া স্বত্তেও দলীয় এজেন্ডার বাইরে গিয়া কাজ করিবার কথা একবারও ভাবিলিনা? বাইশে ফেব্রুয়ারি সারা দেশে গণজাগরণ মঞ্চগুলাতে হামলা হইল, শহীদ মিনার ভাঙ্গিল, জাতীয় পতাকা পুড়িল। এই হামলাগুলান সমন্বয় করা হইয়াছিল মসজিদে মসজিদে। পাড়ায় পাড়ায় যত মসজিদ আছে, সেই মসজিদগুলারতো একেকটা কমিটি আছে। সেই কমিটিগুলাতে তোদের লোক নাই? নাই বলিলে থাবড়া খাবি। কোথাও কমিটি হইতেছে শুনিলে ঝাঁপাইয়া পড়িবার স্বভাব তোদের চিরকালের। এই কমিটির লোকগুলাকি জানিত না হামলা হইতে যাইতেছে? তাহারা কি পারিতনা মোল্লাদের থামাইতে? না পারিলে আর কমিটিতে থাকিয়া লাভ কি? তোরা জাতীয় সেরা আবাল কমিটি হইলেও ঝাঁপাইয়া পড়িস। এখন পারবিকি পদ ছাড়িতে? তোরা স্পিচানোর পর স্পিচাইলি, আর জনগণ মনে করিল, কে জানে বাবা; রাজনীতির ভানুমতির খেলের মাঠে কত কিছুইতো ঘটিয়া থাকে। কাজ নাই আর এই ময়দানে দৌড়ঝাঁপ করিয়া। ধীরে ধীরে একখানা গণআন্দোলন হইয়া গেল গণবিচ্ছিন্ন। বিশ্বজিতের খুনের দৃশ্য আজিও টেলিভিশনে দেখায়। তাজরীন গার্মেন্টসের পুড়িয়া যাওয়া শ্রমিকগুলার কথা কেহ ভুলেনাই। আজিও তিতাস নামের নদীখানার বুকে দিয়া যখন ট্রাক যায়, তখনো লোকে তাকাইয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া ভাবে, একদা এইখানে ছিল এক প্রমত্তা নদী। আর যেই সুন্দরবন আইলা, সিডরের মত ভয়াবহ দূর্যোগে বুক পাতিয়া দেশখানাকে রক্ষা করিল, তাহাকে ধর্ষণ করিবার নিমিত্তে রামপালে বসানো হইতেছে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎ প্লান্ট। তাও করা হইতেছে দেশব্যাপী শাহবাগ আন্দোলন আর হেফাজতি গন্ডগোলের সুযোগ লইয়া। লোকে বিশ্বাস করিবে কি ঘোড়ার আন্ডা?
শহুরে মধ্যবিত্ত নির্ভর আন্দোলনে ফল কখনোই আসিবার নয়। গ্রামাঞ্চলের বাস্তবতা শহর হইতে একেবারেই ভিন্ন। মফস্বলের ইটভাটার যে শ্রমিক দিবারাত্র খাটিয়াও মজুরি পায়না, তাহার কাছে কাজ কাম থুইয়া যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে মাঠে নামিবার মামাবাড়ির আবদার লইয়া গেলে মাথায় দুই-দশখানা আধলার কোমলাঙ্গের আদর খাইবার সম্ভাবনা ব্যাপক। নিজের সন্তানখানাকে ইশকুলে পাঠাইবার পয়সা যাহার নাই, সেই ব্যাক্তি কওমী মাদ্রাসাতেই সন্তানকে পাঠাইবে। শাহবাগে নয়। তাহার কাছে না যাইয়া, শাহবাগে বসিয়া হাজার চিক্কুর পাড়িলেও জামাতী আদর্শ নামের ময়লার স্তুপখানা পরিষ্কার করিবার চিন্তা বাতুলতা বই কিছু নয়। জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করিবার কথা তুলিলে এই ব্যাক্তি মুহুর্তের চিন্তা না করিয়া তুড়ি দিয়া উড়াইয়া দিবে। কিন্তু, তাহাকে যদি বলা হয়, ধর্ম ভুগিতেছে অস্তিত্বের সংকটে; সব কিছু ভুলিয়া লাফাইয়া পড়িতে তাহার একবিন্দুও দ্বিধা থাকিবেনা। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাহার সন্তানের বিদ্যাশিক্ষার সুযোগ করিয়া দেয় নাই, ধর্ম দিয়াছে। কোলের বাচ্চাখানার চিকিৎসা বলিতে যাহার কাছে হুজুরের পানি পড়াই সম্বল, তাহাকে নতুন দিনের স্বপ্ন না দেখাইয়া মানবতা বিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা দিতে গেলে ফ্যালফ্যাল করিয়া তাকাইয়া থাকা ছাড়া আর কোন প্রতিক্রিয়াই পাওয়া যাইবেনা। যায়না। যেই মফিজেরা প্রত্যহ প্রত্যুষে ট্রাকে কিংবা বাসের ছাদে চড়িয়া অন্য শহরে দিনমজুরি করিয়া গভীর রাত্তিরে আবার ট্রাকে কিংবা বাসের ছাদে চড়িয়া চাল কিনিয়া বাড়ি ফিরিয়া আসে, তাহাকে মাঠে না নামাইতে পারিলে জামাতের অস্তিত্ব মুছিয়া ফেলা যাইবেনা। যাহারা মাঠে নামিয়া কাজ করিয়াছে, তাহারা এই অন্তর্জালেই ঘুরাঘুরি করিতেছে অনেকে। এই অধম লেখকও আগে মনে করিত, আগে রাজাকারের ফাঁসি দিয়া লই, জামাত নিষিদ্ধ করিয়া লই, তাহার পর বাকি সবকিছু দেখা যাইবে। কিন্তু, রাজাকারের ফাঁসি আর জামাত নিষিদ্ধ করিবার আন্দোলনে দুই মাস মাঠে থাকিয়া, কয়েকখানা অঞ্চলে সভা-সমাবেশ করিবার অভিজ্ঞতা হইতে বুঝিলাম, হাম্বারা ভোট চায়। গাম্বারা যেন মাঠে না নামিতে পারে, তাহার জন্য এই আন্দোলনকারীগুলানকে একস্থানে ঠায় বসাইয়া রাখিয়া সুশীল আন্দোলন করাও। গাম্বারা মাঠে নামিতে গেলেও যেন ময়দান ফাঁকা না পায়। কিন্তু সাবধান! ভুলেও গণমানুষের কাছে যাইতে দিওনা। সময়মতন গণবিচ্ছিন্ন করিতে না পারিলে যদি আন্দোলনের ময়দান হইতে রাজবিরোধী স্লোগান একবার উঠিয়া বসে, বিপদ সামলানো যাইবেনা। সুতরাং দাও উহাদের বাস্তবতা বিমুখ করিয়া মাঠে একস্থানে ঠায় বসাইয়া রাখিয়া। নড়িতেও দেওয়া যাইবেনা, চড়িতেও দেওয়া যাইবেনা। চড়িয়া বসিয়া একবার যদি চড়াইয়া দেয় এইসব নাদান পোলাপান, বেয়াল্লিশ বছরের ধান্দাবাজির রাজনীতির অতলান্তিকে তলাইয়া যাইবার সমূহ সম্ভাবনা।
রাজিব হায়দার শোভন মরিবার পর হইতেই সকলে লুঙ্গি উচাইয়া প্রমাণ করিতে ব্যস্ত হইয়া গেল, দেখিয়া যাও সকলে আমি নাস্তিক নহি। তাহাতে লাভের লাভ এইটুকু হইল, আস্তিক- নাস্তিক ইস্যুখানা হালে পানি পাইয়া গেল। হেফাজতের মাঠে নামিবার ক্ষেত্র আমরাই প্রস্তুত করিয়াছি। মাদক ব্যবসায়ী ধরা পড়িলে, যেইভাবে ফেন্সিডিলের বোতল সামনে সাজাইয়া পত্রিকায় ছবি দেওয়া হয়; সেইভাবে কতগুলা পোলাপানের কোমরে দড়ি বাঁধিয়া ডেস্কটপ আর ল্যাপটপ সাজাইয়া চলিল সরকারি ফুটোসেশন। আর হেফাজতিরা চিল্লাইয়া উঠিল, দাও এইগুলানের ফাঁসি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার চাহিয়া মাঠে নামিবার শাস্তি হাম্বাগুলান এই প্রকারে দিল। আর ধর্মপ্রাণ লোকে ভাবিল, কাজ নাই এই নাস্তিকগুলার সাথে মিশিয়া। সত্যিই আব্বাস, দেশ ভর্তি গাব গাছ। তুমি কে, আমি কে বলিলে আর কেহ কহিবেনা- বাঙ্গালী, বাঙ্গালী। স্লোগানখানা এখন হইতে হইবে- তুমি কে, আমি কে?- আস্তিক, আস্তিক। হেফাজতিরা মাঠে নামিবে না, তো কি বাল ছিঁড়িবে?
আজিকার মত এইটুকুই পোষ্টাইলাম। অনেক ক্লান্তি ভর করিয়াছে শরীরে আর মনে। লেখাখানা দীর্ঘ হইয়া উঠিতেছে। কিন্তু, সহৃদয় পাঠক বিশ্বাস করেন; জীবনে রাজনীতি করিনাই। এই কয়েক মাস একখানা রাজনৈতিক ইস্যু লইয়া মাঠে কাজ করিয়া বুঝিলাম, ঘাপলা না থাকিলে রাজনীতির ঘোড়া আন্ডা পাড়েনা। অনেক কিছুই বুঝিয়াছি। রাজনীতি বিষয়ক কয়েকখানা বই পড়িয়া, পঁচিয়া টক টক গন্ধ হইয়া যাওয়া সুশীলগুলার আবাল মার্কা বিশ্লেষণ শুনিয়া, সুয়োরানী-দুয়োরানীর জাতপাত উদ্ধার করিয়া, ফেসবুকে জামাতের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করিয়া ভাবিয়াছি; আমার রাজনৈতিক দায়িত্ব শেষ। কিন্তু মাঠে যাইয়া বুঝিলাম, ঘাপলা না থাকিলে রাজনীতির ঘোড়া আন্ডা পাড়েনা। আবার দেখা হইবে আগামীকল্য। শুভরাত্রি।

৯ thoughts on “নবকালের নবদায়ঃ হরেক নব সম্প্রদায়… (পর্ব-৩)

  1. খাসা লিখেছেন দাদা!
    খাসা লিখেছেন দাদা! :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

    1. লড়াইতো চলবেই ভাই। কিন্তু
      লড়াইতো চলবেই ভাই। কিন্তু প্রতিপক্ষগুলোকেও আগে ভালভাবে চিহ্নিত করে নেয়া দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *