কোন মানুষই মাদকাসক্ত/নেশাগ্রস্ত হয়না, তাকে মাদকাসক্ত করা হয় ।

মাদকাসক্ত মানেই নিঃসন্দেহে ঘৃনার পাত্র । আমরা সবাই মাদকাসক্ত ব্যাক্তিকে ঘৃনা করি । মাদক মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর , মাদক মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষর্ন করে, সবকিছু মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায় মাদক সবদিক থেকেই আমাদের ক্ষতি করে , কিন্তু কেন ?
………………………….কেন ?
………………………….কী কারন?

মাদকাসক্তির কারণ অনেক। কেননা মানুষ বিভিন্ন কারনে আবার একই মানুষ একাধিক কারণে মাদকাসক্ত হতে পারে। নিম্নে মাদকাসক্তির কারণগুলো দেয়া হলঃ-


মাদকাসক্ত মানেই নিঃসন্দেহে ঘৃনার পাত্র । আমরা সবাই মাদকাসক্ত ব্যাক্তিকে ঘৃনা করি । মাদক মানুষের স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর , মাদক মানুষের সামাজিক মর্যাদা ক্ষর্ন করে, সবকিছু মিলিয়ে দেখলে বুঝা যায় মাদক সবদিক থেকেই আমাদের ক্ষতি করে , কিন্তু কেন ?
………………………….কেন ?
………………………….কী কারন?

মাদকাসক্তির কারণ অনেক। কেননা মানুষ বিভিন্ন কারনে আবার একই মানুষ একাধিক কারণে মাদকাসক্ত হতে পারে। নিম্নে মাদকাসক্তির কারণগুলো দেয়া হলঃ-

১)অনেক পরিবারের অভিভাবকগণ নিজেদের ব্যবসা- বানিজ্য বা বৈষয়িক দায় দায়িত্ব পালনে এত বেশী মশগুল থাকেন যে, সন্তানদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রন করার অবকাশ তাঁদের থাকে না। ফলে এসব পরিবারের সন্তানেরা বাবা-মা’র অবাধ্য হয়ে উঠতে পারে এবং এ সুযোগে অভিভাবকগগনের অজ্ঞাতসরে সন্তানেরা অনেকসময় দুশ্চরিত্রবান যুবকেদের কবলে পড়ে ধংসের দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমে মাদকাসক্ত হয়।

কোন পরিবারের কোন ব্যাক্তি যদি মাদকাসক্ত হয়, তবে তার প্রভাব সে পরিবারের সন্তানদের উপর পরতে পারে। এরুপ বেশীরভাগ পরিবারের সন্তানেরা মাদকাসক্তিকে একটি অনুকরনীয় বিবেচনা করে মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে।

যেসব পরিবারের পিতা- মাতা দীর্ঘদিন ব্যাক্তিগত মনমালিন্যের কারণে স্বামী-স্ত্রী পৃথক পৃথক অবস্থান করেন অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, সেসব পরিবারের সন্তানদের মধ্যে হতাশা ও উদ্দেশ্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে, এসব পরিবারের সন্তানেরা বেশীরভাগ সময় মাদকাসক্ত হয়।

২) বাংলাদেশে বিভিন্ন কারনে ব্যর্থতা ও হতাশার পরিমান অনেক বেশী। যেমনঃ কেউ প্রেমে ব্যর্থ হচ্ছে অথবা প্রেমিক কতৃক প্রেমিকা প্রতারিত হচ্ছে অথবা প্রেমিকা কতৃক প্রেমিক প্রতারিত হচ্ছে, যোগ্যতা থাকা সত্তেও সংগত বা অসংগত কারনে কেউ হয়ত পাচ্ছে না নিয়োগ, অথবা পাচ্ছে না প্রমোশন, হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটেও পরিবারে নানা অভাব অভিযোগ ইত্যাদি নানা দুঃচিন্তা, ব্যর্থতা ও হতাশা থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য অনেকে ক্রমে ক্রমে মাদকাসক্ত হয়ে পরছে।

৩) অনেকে সঙ্গদোষের কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পরছে। কেউ নেশাগ্রস্ত হলে তার সঙ্গীদেরকেও নেশার জগতে নেয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালায়। আবার অনেকে মাদক দ্রব্যের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে শুনতে এবং কৌতুহল নিবারণের জন্য দুই-একবার মাদকদ্রব্য সেবন করতে আগ্রহী হয়ে উঠে। ফলে এ কৌতুহল করতে গিয়ে ক্রমে ক্রমে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পরে।

৪) আধুনিককালে বেশীরভাগ মানুষ ফ্যাশনের জন্য অস্থির। তাই অনেক ছেলে-মেয়ে বিদেশী পত্র-পত্রিকা পাঠ করে এবং সিনেমা দেখে মাদকাসক্তিকে বাহাদুরী ফ্যাশন বিবেচনা করে মাদকদ্রব্য সেবন করে থাকে।

৫) বাংলাদেশে ধর্মীয় অনুশাসনের অবক্ষয় ঘটেছে। তাই এদেশে মাদকাসক্তির হার বেশী পরিলক্ষিত হয়। আবার এদেশের সমাজে ইদানিং নানা কারনে মূল্যবোধের দারুণ অবক্ষয় ঘটেছে। আদর্শ ও মূল্যবোধহীন জীবন অর্থ বিশৃঙ্খল ও বলগাহীন জীবন। এ ধরনের জীবনে অভ্যস্তরা মাদকদ্রব্য সেবন করতে এতটুকু কুণ্ঠাবোধ করেনা।

৬) আন্তজাতিক মাদকদ্রব্য চোরাচালানের সংযোগের ফলে ভারত, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, নেপাল সীমান্ত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান হতে এদেশে বহু মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে, ফলে ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য পাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে পরেছে। ফলে এদেশের অধিক লোক মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

৭) বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের ওপর কোন কঠোর আইনের ব্যবস্থা করা হয়নি। “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ১৯৯০” এদেশে কঠোরভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়া প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের প্রবেশ পথগুলো দিয়ে ক্রমেই বেশী বেশী পরিমাণে মাদকদ্রব্য আসছে। ফলে মাদকদ্রব্য হয়ে পড়েছে সহজলভ্য। এ ছাড়া, যেসব এলাকায় মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় সেসব এলাকায় প্রশাসন অধিকতর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে বলে মনে হয় না।

উপরোক্ত কারণ ছাড়াও আরো অনেক কারনে বাংলাদেশের কিশোরসমাজ, যুবসমাজ ও জনগন ক্রমে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *