বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির তদন্ত ব্যর্থ হবে

এই ডিজিটাল যুগে মাত্র ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করা কোন ব্যাপারই না যদি আপনার প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকে। আর ধরা পড়তে না চাইলে অবশ্যই আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে। ব্যাস, এবার কাজে নেমে পড়ুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চুরি দেখে আমিও অনুপ্রাণিত হচ্ছি!


এই ডিজিটাল যুগে মাত্র ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করা কোন ব্যাপারই না যদি আপনার প্রযুক্তি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান থাকে। আর ধরা পড়তে না চাইলে অবশ্যই আপনাকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আইনশৃংখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ থাকতে হবে। ব্যাস, এবার কাজে নেমে পড়ুন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া চুরি দেখে আমিও অনুপ্রাণিত হচ্ছি!

ঠিক কাছাকাছি সময়ে এটিএম মেশিনে স্কেনার বসিয়ে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরি করে ক্লোন কার্ড বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া গ্রুপটাকে ধরতে পারলেও ততদিনে প্রায় এক বছর পার হয়ে গেছে। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে এর মধ্যে অপরাধীরা টাকা পাচার করেছে, খরচ করেছে এবং আরো অনেককে এই চক্রের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছে যেন প্রক্রিয়াটি চলতেই থাকে।

সেদিন গোয়েন্দা প্রধান মনিরুল ইসলাম জানালেন কিছু ব্যাংক ও পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও ব্যবসায়িরা এই চক্রের সাথে জড়িত ছিল। তিনি যা বলতে পারেননি তা হলো মূল হোতা বলে পরিচিতি পাওয়া পিটারের সাথে কয়েকজন ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেতার ভালো সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে একজন হলো ঢাকার সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম। এর আগে কিছু খুন, দখল ও দুর্নীতির ঘটনায় তার নাম এসেছিলো। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ছিলেন অষ্টম শ্রেণী পাস, আর ২০১৩-তে এসে তিনি হয়ে গেলেন বিবিএ-এর ছাত্র! এসব তদন্ত করা ও তাকে বিচারের আওতায় আনার সাহস আমাদের পুলিশ বাহিনীর নেই।

অপরাধীরা যে দেশেরই হোক না কেন তারা জানে কাদেরকে ম্যানেজ করতে হয়।

একদিকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক কয়েকটি অর্থ স্থানান্তর আদেশ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেনি, অন্যদিকে ফিলিপাইনের ব্যাংকটির শাখা ম্যানেজার অর্থ স্থানান্তর থামানোর নির্দেশ পাওয়ার পরেও তা করেনি। কেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের যে বিভাগ থেকে টাকা স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাচার/চুরি হয়েছে তার অন্তত ১২জনকে নজরদারীতে রেখেছে গোয়েন্দারা। কিন্তু তার আগে কম্পিউটার থেকে অনেক তথ্যই গায়েব হয়ে গেছে। সেই বিভাগের কর্মকর্তারা প্রিন্টার ও সার্ভারে গোলমালের বিষয়টি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জানাতে দুইদিন সময় নিয়েছিলেন। কেন?

সাবেক গভর্নর বিষয়টি জানার সাথে সাথে র‍্যাব ও এনএসআই-কে অবহিত করে সাহায্য চেয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে তারা কি পেয়েছিল তা মিডিয়ার মাধ্যমে জাতিকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি। কেন?

এরপর সাবেক গভর্নর পুরো বিষয়টি অর্থমন্ত্রীকে মৌখিকভাবে ও চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে তাকে “অন্ধকারে রাখা হয়েছে” মর্মে মুহিত মিথ্যা কথা বললেন। কেন?

ফিলিপাইনের পত্রিকা মারফত টাকা চুরির বিষয়টি প্রকাশিত হবার পরেও যখন কোন কর্মকর্তা কথা বলছিলেন না, তখন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সাইবার সিকিউরিটি প্রকল্পের পরিচালক তানভীর হাসান জোহা মিডিয়ার সাথে কথা বলায় “সে মন্ত্রনালয়ের কেউ না” মর্মে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলো। কেন?

বুধবার রাতে ডিজিএফআই অফিসে চায়ের দাওয়াত দিয়ে জোহাকে ডাকা হলো, আর বেরিয়ে যাবার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হলো। কেন?

এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সরকারের আজ্ঞাবহ সিআইডি-কে দায়িত্ব দেয়া হলো। কেন?

রাজনৈতিক সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে এ ধরণের চুরি যে অসম্ভব সেটা ন্যূন্যতম জ্ঞানের মানুষও বুঝবে। আর যে দেশে যুগ যুগ ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিরাজমান সেখানে এরকম চুরি আরো ঘটবে। সাময়িক লাভের আশায় অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনীতীকরণের ফলাফল যে কতটা বিস্তৃত ও ভয়াবহ হতে পারে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ।

এমন একটি দেশে হাজারটা অঘটনের পরেও মাতাল-গিরগিটি অর্থমন্ত্রী যে পদত্যাগ করবেনা সেটাই স্বাভাবিক।

৪ thoughts on “বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরির তদন্ত ব্যর্থ হবে

  1. রাষ্ট্রীয় বড় বড় ঘটনাগুলো তো
    রাষ্ট্রীয় বড় বড় ঘটনাগুলো তো আছেই, সামাজিক অপরাধগুলোতেও ৯০% উপর অপরাধ সংগঠিত হয় রাজনৈতিক নেতা ও দলের আশ্রয়ে। বাংলাদেশের মিডিয়া তো এখন তেল মারা ছাড়া কোন সংবাদ প্রকাশ করে না। সাংবাদিকরাও আছে দালালী দৌড়ে। এই ক্ষেত্রে ব্লগ হয়ে উঠছে বিকল্প সংবাদ মাধ্যম।

    এরকম আরো ব্লগ পোস্ট চলুক।

  2. রাজনৈতিক সরকার ও প্রশাসনের

    রাজনৈতিক সরকার ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জড়িত না থাকলে এ ধরণের চুরি যে অসম্ভব সেটা ন্যূন্যতম জ্ঞানের মানুষও বুঝবে।

    বিদেশে নতুন কোন হাওয়াভবন থেকে এই কাজ করা যে হয় নাই তার কোনো গ্যারান্টি কি আছে? আমাদের রাজনীতির ইতিহাস এমনটাই স্বাক্ষী দেয়। এতবড় একটা রাষ্ট্রীয় চুরি রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া সম্ভব নয় এটা এখন আমাদের কাছে পরিষ্কার।

    বুধবার রাতে ডিজিএফআই অফিসে চায়ের দাওয়াত দিয়ে জোহাকে ডাকা হলো, আর বেরিয়ে যাবার পরে তাকে গ্রেপ্তার করে অজানা গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হলো। কেন?

    এসব কিসের ইঙ্গিত? ৭৪-এ বাকশাল গঠন করার পরও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এমন গুম ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল। এতবড় চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর গভর্নর সাহেব রাজনৈতিক কায়দায় ও নির্দেশায় পদত্যাগ করলেন, কিছু অশ্রু বিয়োগের মাধ্যমেই ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার মধ্যেই সব কি শেষ? ঘটনা নিয়ে বিশ্লেষন করা কি পাপ? অবিলম্বে জোহাকে ছেড়ে দেওয়া হোক।

  3. দুলাল ভাই’র সাথে একমত।
    দুলাল ভাই’র সাথে একমত। সরকারের লোকজন যদি জড়িত না হবে তাহলে জোহা’কে ধরা হলো কেন? অপরাধী যদি শুধু বিদেশীরা হতো তাহলে তো জোহাকেই বরং মাথায় তুলত সবাই। কিন্তু আমরা দেখলাম উল্টো চিত্র

  4. আমেরিকায় জয় বাবাজী নাকি
    আমেরিকায় জয় বাবাজী নাকি ডিজিটাল ভবন করছে। সেই ভবনে এসব টাকাপাত্তি পাচার করা হইছে। রাজপুত্তর যদি জড়িত থেকে থাকে তবে এই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যেতে বাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *