স্বমূর্তিতে প্রকট জামাত-হেফাজত: হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই, বাড়িঘরে ও লাশে অগ্নিসংযোগ


নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরা গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা নুরুল হক মেম্বারের পরিবারসহ আশেপাশের আরও আট-দশটি বাড়ির চল্লিশ-পঞ্চাশজন ব্যক্তি ১৯৯৯ সাল থেকেই হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যারা জানেন না তাদের জন্য একটু বলে রাখা দরকার যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের কর্মীরা ইসলামের নামে চলমান সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে চলেছে।

যেহেতু এই আন্দোলন সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তাই স্বভাবতই এই আন্দোলনের কর্মীদেরকে এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ইন্ধনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হয়। ধর্মভীরু মানুষকে বোঝানো হয় হেযবুত তওহীদ খ্রিস্টান হয়ে গেছে। মসজিদের খুৎবায়, ওয়াজে-মাহফিলে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রাখা হয়। গ্রামবাসীকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ভুলভাল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করা হতে থাকে। এভাবে ধর্মভীরু মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নেয় ধর্মজীবী ষড়যন্ত্রকারীরা। তারপর একদিন সুযোগ বুঝে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর হামলা চালায় তারা। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আটটি বাড়ি। লুণ্ঠিত হয় টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র। পৈশাচিক ওই আক্রমণে সেদিন নারী-শিশুসহ হেযবুত তওহীদের অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়। পরিহাসের বিষয় হলো- বর্বরোচিত ওই হামলায় ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে তাদেরকে জেলে ঢোকানো হয়। আর আক্রমণকারী ষড়যন্ত্রকারীরা এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় নির্বিঘ্নে।

এরপর আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা পুনরায় তাদের আবাসভূমিতে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে বাড়ি নির্মাণ করে। তারা অতীতের দুঃসহ স্মৃতিকে মুছে ফেলে গ্রামের আর দশজনের মতই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারী জঙ্গিবাদী জামাত-হেফাজত-চরমোনাইদের অপপ্রচার বন্ধ থাকে নি এক দিনের জন্যও। তারা সুযোগ খুঁজতে থাকে নতুন কোনো ইস্যুর সন্ধানে যাতে করে আবারও ২০০৯ সালের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।

কিছুদিন আগে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। কাছে কোনো মসজিদ না থাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সমস্যা হত। তাই এ সিদ্ধান্ত। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, এমন একটি সাধাসিধে বিষয়েও স্থানীয় জামাত ও হেফাজতের পক্ষ থেকে ভয়ানক ষড়যন্ত্র শুরু হলো। হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই মসজিদের ইমাম-মুসল্লি বেশধারী জামাত-হেফাজত চক্র বিষয়টিকে নিয়ে এমন নির্জলা মিথ্যা ছড়াতে লাগল যা শুনে আমরা নিজেরাই হতবাক হয়ে যাই। তারা এলাকায় জোর অপপ্রচার চালাতে লাগল যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে কুফরী সংগঠন, এরা অনেক আগেই খ্রিস্টান হয়ে গেছে, এবার তারা গ্রামে গীর্জা নির্মাণ করতে চাচ্ছে। এদেরকে প্রতিরোধ করা সবার ঈমানী দায়িত্ব। এদেরকে হত্যা করা ফরজ। এদেরকে গ্রামে থাকতে দিলে কারও ঈমান থাকবে না ইত্যাদি।

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমান নিয়ন্ত্রণ করে ওই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোই। কাজেই মানুষকে এই ডাহা মিথ্যা কথা বিশ্বাস করাতেও তাদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। মাত্র একটি ঘরের ভিত্তি স্থাপন করা হচ্ছে, মাত্র খুঁটি গাড়া হয়েছে, এমন একটি চিহ্নও কেউ দেখাতে পারবে না যাতে ঘরটিকে গীর্জা ভাবার বিন্দুমাত্র যৌক্তিকতা থাকে, অথচ অনেকে ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মিথ্যাকে বিশ্বাস করে নিল। উল্লেখ্য, ঘটনার দুই দিন আগে থেকে হেযবুত তওহীদের নির্মাণাধীন ওই মসজিদে নিয়মিত আজান দেওয়া হচ্ছিল এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়া হচ্ছিল।

যাই হোক, গত কয়েকদিন আগে গ্রামের বাজারে ও আশেপাশের মসজিদগুলোতে মোটরসাইকেলে চেপে কোথা থেকে একদল টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত লোক আসে। তাদেরকে এলাকার মসজিদগুলোতে একটি ফতোয়াসম্বলিত হ্যান্ডবিল বিলি করতে দেখা যায়। কোথায় থেকে তারা এসেছে, কে তাদের পাঠিয়েছে, কে ফতোয়া প্রদান করেছে এখনও বিষয়টা রহস্যে ঘেরা। প্রশাসনিক সুষ্ঠু তদন্ত হলে আশা করা যায় তাদের নাম-পরিচয় জানা যাবে। তবে আমরা বিস্মিত হই যখন জানতে পারি তাদের উদ্দেশ্য ছিল- আর কিছু নয় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণকে উস্কে দেওয়া। তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধেই ওই ফতোয়ার কাগজ ছড়াচ্ছিল। ‘হেযবুত তওহীদ একটি কুফরী সংগঠন’ শিরোনামের যে নাম-পরিচয়হীন হ্যান্ডবিল তারা সর্বত্র বিলি করেছে তাতে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ নিজেদের মনগড়া কথা আমাদের নামে চালিয়ে দিয়েছে। হ্যান্ডবিলটি সংগ্রহ করে পড়ার পর তাদের মোটিভ বুঝতে আমাদের আর বাকি রইল না। তারা এমনভাবে হ্যান্ডবিলটি সাজিয়েছে যা খুব সহজেই একজন ধর্মভীরু মানুষকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করতে সক্ষম। এটা বোঝার পরই আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়। যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও প্রশাসন কেন আগে থেকেই সজাগ হলো না তার উত্তর আমরা আজও পাই নি।

অবশেষে গত ১৪ মার্চ ষড়যন্ত্রকারী লেবাসধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সুদিন এসে গেল। ওইদিন সকাল থেকে হাজার হাজার সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে মিছিল করতে থাকে এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের হত্যা করতে প্ররোচিত করে এমন উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ফর্মালিটি রক্ষার জন্য ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি পেশ করার উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও মূলত তাদের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজানো ছিল। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা প্রস্তুত রেখেই তারা মিছিল বের করে। এরই মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে এবং পুলিশ স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করবে বলে শান্তনা দিলে তারা পরিকল্পনা ভেস্তে যাবার আশঙ্কায় এবার তৎক্ষনাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ঘরবাড়ি অভিমুখে রওনা দেয়। অপপ্রচারের ষোলো কলা পূর্ণ হয় যখন তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় যে, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের উপর হামলা করেছে। ব্যস, এবার সবাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একযোগে আমাদের নিরাপরাধ কর্মীদের উপর হামলে পড়ে।

বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তারা খুব সহজেই হেযবুত তওহীদের মুষ্টিমেয় সদস্যের ক্ষুদ্র প্রতিরোধ ব্যর্থ করে দেয়। তারপর শুরু হয় নৃশংসতার নতুন ধারা। তারা আমাদের দুইজন সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে। তাদের চোখ উপড়ে নেয়, হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তারপর লাশের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা প্রায় সবাই আহত হয়ে শয্যাগ্রহণ করলে হামলায় নেতৃত্ব দানকারী জামাতপন্থী মসজিদের ইমামের নির্দেশে সন্ত্রাসীগুলো একের পর এক আমাদের সদস্যদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। সেই সাথে চলতে থাকে দেদারছে লুটপাট। দুঃখের বিষয় হলো- এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে কয়েকটি বাড়িকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখে সন্ত্রাসী হামলা চলছে, তবু ঘটনাস্থলে পুলিশ-প্রশাসনের পদচিহ্ন পড়ে নি। পুলিশের সাথে আমাদের সদস্যরা প্রথম থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছে, সাহায্য চেয়েছে বারবার। কিন্তু রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে রাখায় নাকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে নি। ফলে পর্যাপ্ত সময় পেয়ে বেশ নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ওই সন্ত্রাসী ধর্মোন্মাদরা।

অবশেষে পুলিশ পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তার আগেই দুইজন নিরাপরাধ সদস্যকে হারিয়েছি আমরা। প্রশাসন সতর্ক থাকলে হয়ত এই দুইটি প্রাণ বেঁচে যেত। পরিহাসের এখানেই শেষ নয়, হেযবুত তওহীদের যে সদস্যরা শেষাবধি প্রাণে রক্ষা পেলো, নিছক আত্মরক্ষা করার নিস্ফল প্রয়াস চালানোর অপরাধে উল্টো তাদেরকেই জেলে ঢোকানো হয়েছে।

হামলাকারী সন্ত্রাসীরা সমস্ত এলাকায় দিবারাত্রি যে নারকীয় তাণ্ডব চালালো, তিনজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করল, পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ চালালো, বাজারের দোকানপাট ভাঙচুর করল, রাস্তার গাছগুলো কেটে ফেলল, আগুন দিয়ে কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল, এমনকি থানায় পর্যন্ত আক্রমণ চালালো তারা আজ নির্বিঘ্নে বীরের বেশে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর যারা নিজেদের প্রাণ রক্ষা করার ব্যর্থ প্রয়াস চালাতে গিয়ে আহত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে তাদেরকেই পুলিশ আদালতে চালান করে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর উপযুক্ত প্রতিদান দিয়েছে বৈ কি।

ঘটনার বিবরণ এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমরা যা পাচ্ছি তা রীতিমত আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মনে হচ্ছে- আসল ঘটনার কিছুই এখনও ঘটে নি। যা ঘটার সবই সামনে পড়ে আছে। এখন প্রশ্ন উঠছে- আবারও ৫ মে’ শাপলা চত্বরের পুনরাবৃত্তি ঘটানো হবে কিনা?

হেযবুত তওহীদকে খ্রিস্টান আখ্যা দিয়ে সাধারণ ধর্মভীরু মানুষকে বিভ্রান্ত করে জামাত-হেফাজত-চরমোনাই একযোগে উঠেপড়ে লেগেছে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। এই নিশ্চিহ্নকরণ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে- জেহাদ।

জেহাদের নাম করে বিগত এক বছর ধরে ক্রমাগত হত্যাকাণ্ড চালিয়ে আসছে জঙ্গিরা। এখন তাতে শামিল হয়েছে জামাত-হেফাজত-চরমোনাই। ইস্যুসন্ধানী এই গোষ্ঠীগুলো অনেকটা দিন ইস্যু ছাড়া কাটানোর পর এবার হেযবুত তওহীদকে পেয়ে আশার আলো দেখছে। হেযবুত তওহীদকে বলির পাঠা হিসেবে ব্যবহার করে তারা নতুন আরেকটি ‘৫ মে’ সৃষ্টি করতে চায়। এ অভিসন্ধী বাস্তবায়নের জন্য তারা সেই পদ্ধতি অবলম্বন করছে যা 2013 সালে কথিত ‘নাস্তিকদের’ বিরুদ্ধে করেছিল। প্রথমে অপপ্রচার, উস্কানি; তারপর উস্কানিতে সংক্ষুব্ধ জনতাকে সংগঠিত করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। তাদের এই অপতৎপরতা দেদারছে চলছে। অনলাইনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে কী নগ্নভাবে সহিংসতার উস্কানি দেওয়া হচ্ছে তা বুঝতে নিচের স্ক্রিনশটটিতে লক্ষ করুন।

জনতা সেজে দুইজন হেযবুত তওহীদের কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করল জামাত-চরমোনাই-হেফাজতের জঙ্গিবাহিনী, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না, প্রতিবাদ করছে না, উল্টো বিশ্লেষন চলছে- হেযবুত তওহীদ কী চায়? তারা কারা? কেন তাদের ওপর ওরা এত ক্ষ্যাপা? ফলে বেপরোয়া ধর্মব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা এবার নোয়াখালী থেকে বেরিয়ে সারা দেশের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছে- যেখানেই হেযবুত তওহীদের কাউকে দেখা যাবে ধরে ধরে জবাই করবে। আসলে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এতকিছু বললেও তাদের মূল্য লক্ষ্য একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে চাপে ফেলা ও রাজনৈতিক সুবিধা হাসিল করা।

হেযবুত তওহীদ যেহেতু কোনো আইন ভঙ্গ করে না, কাজেই হেযবুত তওহীদের উপর আক্রমণ করলে সরকারি বাহিনী তাদের রক্ষা করতে যাবে এটা স্বাভাবিক। আর তখনই তারা ‘রা’ তুলে দিবে এই সরকার কাফের, এই সরকার মুরতাদ, ইসলামবিরোধী ইত্যাদি। ইতোমধ্যেই নোয়াখালীতে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। নোয়াখালীতে ব্যাপক হামলার শিকার মরণাপন্ন হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে কেন পুলিশ উদ্ধার করল এই অভিযোগ তুলে দাঙ্গাবাজ সন্ত্রাসীগুলো থানায় পর্যন্ত আক্রমণ করে বসে। তারা যেখানেই সুযোগ পাবে এভাবে রাষ্ট্রকে আক্রমণ করবে, হেযবুত তওহীদ তো উপলক্ষমাত্র।

পূর্বোক্ত একটি ক্রিনশটে যে লোকটি হেযবুত তওহীদের সদস্যকে দেখলেই মেরে জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে তাকে আমাদের কাছে বা আপনার কাছে যতই ধর্মান্ধ-গোড়া-মৌলবাদী মনে হোক, ধর্মব্যবসায়ীদের জগতে সে বিশাল সেলিব্রেটি। তার ফলোয়ার সংখ্যা দেখলাম ৩৮,০০০ এরও বেশি। তার এই সন্ত্রাসবাদী আহ্বান কিন্তু বেফাস মন্তব্য নয়। জেনে বুঝে ও নির্দিষ্ট অভিসন্ধী নিয়েই সে এভাবে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং মানুষকে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত করছে। তার সাগরেদদের কমেন্টগুলো দেখলে হয়ত আরও অাঁতকে উঠবেন। একটি কমেন্টে একজন উৎফুল্লচিত্তে জানাচ্ছে যে, তারা তাদের এলাকা থেকে হিন্দুদেরকে উচ্ছেদ করার জন্য কমিটি গঠন করতে চায়। এরকম স্ক্রিনশট শত শত আছে আমাদের সংগ্রহে। গত দুইদিন ধরে এগুলো সংগ্রহ করছি আমরা। কেউ দেখতে চাইলে দেখানো যাবে। প্রকাশ্যে যারা এভাবে হত্যার প্ররোচনা দিতে পারে গোপনে তারা কী না করতে পারে?

হেযবুত তওহীদের সাথে আপনার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতে পারে, এটা কোনো বিষয় নয়। হেযবুত তওহীদ ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই মতপার্থক্য যদি আপনাকে রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া থেকে বিরত রাখে তাহলে অপেক্ষা করতে হবে ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির জন্য। হেযবুত তওহীদের পক্ষে না দাঁড়ান, এই দেশের পক্ষে তো দাঁড়াবেন, জনগণের পক্ষে তো দাঁড়াবেন।

৪ thoughts on “স্বমূর্তিতে প্রকট জামাত-হেফাজত: হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই, বাড়িঘরে ও লাশে অগ্নিসংযোগ

  1. এভাবে চলতে থাকলে যারা
    এভাবে চলতে থাকলে যারা ধর্মব্যবসা, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধের দিকে অাহ্বান করছে তাদেরকে একের পর এক নৃশংসভাবে হত্যা করে এই উগ্রপন্থী শ্রেণিটি এদেশটাকে গোরস্থানে পরিণত করে দিবে, তারপর নিজেরা নিজেরাই মারামারি করে নিজেরাও লাশে পরিণত হবে । তাদের লাশ খাবে শকুন । সেই শকুনের গল্প ।

    অামাদেরকে অবশ্যই এই ব্যাপারে সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে । নইলে অাজকের নীরবতা অাগামী দিনে অারো জাতি ধ্বংসবিনাশী কার্যক্রম নিয়ে অাসবে ।

    ————————————————————————
    অাপনার ছবিগুলো সম্ভবত ফেসবুক লিংক দিয়ে এখানে যুক্ত করেছেন । যার কারণে ছবিগুলো প্রদর্শণ করছে না । ভালো হতো যদি সরাসরি অাপলোড করতেন ।

  2. পোস্ট দিয়ে চলে যাওয়া কি
    পোস্ট দিয়ে চলে যাওয়া কি দায়িত্বশীলতার পরিচয়? পোস্টের ছবিগুলো দেখা যাচ্ছে না। এমন পোস্ট দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাটা কি?

  3. তুমি কি এই ঘটনার প্রত্যক্ষ
    তুমি কি এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী?? নি:সন্দেহে খুনি জামাত হেফাজতি দের উগ্রতা আমি দেখেছি,, সাথে হিযবুত তাওহীদ এর উগ্রতা ও দেখেছি.. .. এরা সবাই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে..

  4. মানুষকে যারা হত্যা করে কিংবা
    মানুষকে যারা হত্যা করে কিংবা আগুনে পুড়িয়ে মারে তারা বনের পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট। আর এরা জারজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *