বর্তমানে প্রচলিতি ধর্ম সমূহ :

ধর্ম হল লিপিবদ্ধ শৃঙ্খলিত প্রত্যাদেশ কে বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান (প্রথা ) এঁর উপর আনুগত্য , যা সাধারনত ” আধ্যাত্মিক ” ব্যাপারে ” দৃঢ় বিশ্বাস ” এঁর সাথে সম্পর্ক যুক্ত ; এবং বিশেষ পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত ঐতিহ্য , জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা , রীতি ও প্রথা কে মানা এবং গবেষণা করা যাতে মানবজীবন কে বোঝা যায় এবং সেভাবে চালানো যায় । বর্তমান পৃথীবিতে অনে ধর্ম মত প্রচলিত আছে । সাধারণত সকল বিশ্বাসীর নিকট তার নিজের বিশ্বাসই ‘প্রধান’। তথাপি – ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা এবং ধর্ম নিয়ে পন্ডিতদের দেওয়া সংজ্ঞার ভিত্তিতে এ ধরনের পার্থক্য করতে দেখা যায়।


ধর্ম হল লিপিবদ্ধ শৃঙ্খলিত প্রত্যাদেশ কে বিশ্বাস ও ধর্মানুষ্ঠান (প্রথা ) এঁর উপর আনুগত্য , যা সাধারনত ” আধ্যাত্মিক ” ব্যাপারে ” দৃঢ় বিশ্বাস ” এঁর সাথে সম্পর্ক যুক্ত ; এবং বিশেষ পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত ঐতিহ্য , জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা , রীতি ও প্রথা কে মানা এবং গবেষণা করা যাতে মানবজীবন কে বোঝা যায় এবং সেভাবে চালানো যায় । বর্তমান পৃথীবিতে অনে ধর্ম মত প্রচলিত আছে । সাধারণত সকল বিশ্বাসীর নিকট তার নিজের বিশ্বাসই ‘প্রধান’। তথাপি – ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা এবং ধর্ম নিয়ে পন্ডিতদের দেওয়া সংজ্ঞার ভিত্তিতে এ ধরনের পার্থক্য করতে দেখা যায়।

কোনো ধর্ম বা ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করাও কঠিন একটি কাজ। অনেক ধর্মের রয়েছে নানা ফেরকা এবং পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা। যেমন, ধর্মের তালিকায় খ্রিস্ট ধর্ম-উদ্ভূত বিভিন্ন ফেরকার কোনটি আলাদা ধর্ম হিসেবে ধরা হবে আর কোনটি খ্রিস্ট ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হবে সে বিষয় একমত হওয়া সহজ নয়। একইভাবে, আহ্‌মাদিয়ারা নিজেদের মুসলিম মনে করলেও অনেক ইসলামি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের ভিন্ন ধর্মানুসারী বলে দাবী করেন – এমতাবস্থায় আহ্‌মাদিয়াদের মুসলিম ধরা হবে কিনা সে বিষয়ও বিতর্ক থেকে যায়।

অনুসারীর সংখ্যার ভিত্তিতে ধমূসমূহ :
প্রধান ধর্ম নির্ধারণের সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হল ধর্মানুসারীদের সংখ্যার ভিত্তিতে তা নির্ধারণ। তবে এই সংখ্যা-উপাত্তও সবসময় যথেষ্ট যাচাই বা নির্ভরযোগ্য নয়। সাধারণত কোনো দেশের আদমশুমারি থেকে এই উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, বা ফ্রান্সের মত যেসব দেশে আদমশুমারিতে ব্যক্তির ধর্মীয় বিশ্বাস সংক্রান্ত তথ্য থাকে না, সেখানে জরিপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতার পেছনে অন্তরায়সমূহ হল – সকল আদমশুমারি বা জরিপে একই ধরনের প্রশ্ন করে ব্যক্তির বিশ্বাস সংক্রান্ত তথ্য না নেয়া, ধর্মের পরিধি বা সংজ্ঞা নিয়ে সর্বত্র একই মত না থাকা, জরিপকারী সংস্থার পক্ষপাত ও দৃষ্টিভঙ্গি। তারপরেও এই উপাত্তের সমাহার মোটা দাগে পৃথিবীর বৃহত্তম ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীগুলোকে সনাক্ত করে।

অনুসারীর সংখ্যার ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশ্বাসের তালিকা নিম্নে দেয়া হল। এখানে এমন বিশ্বাসী গোষ্ঠীও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের বিশ্বাস সার্বিকভাবে কোনো ধর্ম গঠন করে না, আবার তারা অন্য কোনো সংঘবদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠীরও অন্তর্গত নন।
1.) খ্রিস্ট ধর্ম – ২১০ কোটি (গোড়াপত্তন ২৭ খ্রিস্টাব্দ)
রোমান ক্যাথলিক চার্চ – ১২০ কোটি
প্রোটেস্ট্যান্ট মতবাদ (অ্যাঙ্গলিকান মতবাদ ও অন্যান্য ইভান্‌জালীয় বিশ্বাস সহ) – ৬৭ কোটি ৫০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৫২০ খ্রিস্টাব্দ)
অর্থোডক্স চার্চ, আসিরীয় চার্চ, মর্মন ও অন্যান্য খ্রিস্টীয় বিশ্বাস – ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ

2.) ইসলাম ধর্ম – ১৪০ কোটি (গোড়াপত্তন ৬২২ খ্রিস্টাব্দ)
সুন্নি ইসলাম – ১২৫ কোটি
শিয়া ইসলাম – ১৭ কোটি
সুফিবাদ ও অন্যান্য ইসলামি বিশ্বাস – ৮ কোটি

3.) নাস্তিকতাবাদ, অজ্ঞেয়বাদ, ইহবাদ, জুচে, ধর্মহীন ** – ১১০ কোটি

4) হিন্দু ধর্ম – ৯০কোটি (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৫ শতক)

5) বৈষ্ণব – ৫৮ কোটি

6 ) শৈব – ২২ কোটি
শাক্ত/স্মার্ত/আর্য সমাজ ও অন্যান্য হিন্দু বিশ্বাস – ১৫ কোটি

7.) চীনা লোকধর্ম – ৩৯ কোটি ৪০ লক্ষ

5) বৌদ্ধ ধর্ম – ৩৭ কোটি ৬০ লক্ষ (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতক)
মহাযান – ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ
থেরবাদ – ১২ কোটি ৪০ লক্ষ
বজ্রযান – অজানা

8) উপজাতীয়দের বিশ্বাসসমূহ – ৩০ কোটি
বিভিন্ন বিশ্বাস এর মধ্যে পড়ে, যেমন – উপজাতীয় বিশ্বাস, শামানবাদ এবং পেগান ধর্ম।
9) আফ্রিকীয় সনাতন বিশ্বাসসমূহ – ১০ কোটি

10 ) শিখ ধর্ম – ২ কোটি ৩০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৫ শতক)

11 ) আত্মাবাদ – ১ কোটি ৫০ লক্ষ (গোড়াপত্তন মধ্য ১৯ শতক)
কোনো একক সংঘবদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়।

12 ) ইহুদি ধর্ম – ১ কোটি ৪০ লক্ষ (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩ শতক)

13 ) বাহাই ধর্ম – ৭০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৯ শতক)

14) জৈন ধর্ম – ৪২ লক্ষ (গোড়াপত্তন ৬ শতক)

15) শিন্তো – ৪০ লক্ষ (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩ শতক)
যারা শিন্টোকে ধর্ম হিসেবে মেনে নিয়ে পালন করেন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, শুধু তারাই এখানে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ইতিহাস, জাতি ও ঐতিহ্যগতভাবে যারা নিজেদের শিন্টো মনে করেন, তাদেরকেও এখানে অন্তর্ভুক্ত করলে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১০ কোটি বা ততোধিক।
16) কাও দাই – ৪০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৯২৬)
17 ) জরথুস্ত্র ধর্ম – ২৬ লক্ষ (গোড়াপত্তন আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৬ শতক)
18 ) ফালুন গং – ২১ লক্ষ* (গোড়াপত্তন ১৯৯২)
বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থা একে কোনো আলাদা বিশ্বাস বা ধর্ম মনে না করায় এর অনুসারীদের প্রকৃত সংখ্যা অযাচাইযোগ্য রয়ে গেছে।
19 ) টেনরিকিও – ২০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৮৩৮)
20) নব্য-পেগান ধর্ম – ১০ লক্ষ (গোড়াপত্তন ২০ শতক)
21.) একত্ববাদী সর্বজনীনতাবাদ – ৮ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৯৬১)
22.) রাসটাফারি আন্দোলন – ৬ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৯৩০ এর গোড়ার দিকে)
23.) সাইন্টোলজি – ৫ লক্ষ (গোড়াপত্তন ১৯৫২)

ফালুন গং ব্যতীত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী-সংখ্যার উপাত্ত নেয়া হয়েছে ,
* ফালুন গং-এর উপাত্তটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ১৯৯৯ সালের উপাত্ত হতে পাওয়া; ২০০৪ সাল নাগাদ তাদের নেতৃত্ব অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি বলে দাবী করেছেন।

জুচে-কে আলাদা ধর্ম হিসেবে দেখানো হলেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই মতবাদ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস প্রচার করে না এবং ইহবাদী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিধায় এটিকে ধর্মীয় নয় এমন মতবাদের শ্রেণীতে রাখা হল।

ধর্ম গুলো সম্পকে জানতে এখানে click করুন

২ thoughts on “বর্তমানে প্রচলিতি ধর্ম সমূহ :

    1. এখনো 70% ভিজিটর আছে যারা
      এখনো 70% ভিজিটর আছে যারা উইকিপিডিয়া সর্ম্পকে কিছুই জানেনা , পোষ্ট টা তাদের জানার জন্য গুরুত্বপুর্ণ , আপনার মত তো আর সবাই মহাপন্ডিত না ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *