আমি আস্তিক বা নাস্তিক নই , নই মৌলবাদী বা নারীবাদী ; আমি মানুষ হবার পথযাত্রী ।

কখনও নাস্তিক হতে চাই নি এবং হতেও চাই না । তাই বলে এটা নয় ধর্মের পদতলে মাথা নোয়াবো । আমি নাস্তিক নই আবার আস্তিকও নই কিংবা এ দুটো কোনটাই হতে চাই না বা হবার চেষ্টাও করি না । আমি মানুষ হতে চাই । ভিতরের পশুত্বকে মেরে ফেলে জাগিয়ে তুলতে চাই সুপ্ত থাকা মানুষটাকে । আমি প্রতি নিয়ত লড়াই করি মানুষ হবার জন্যে । আমার লড়াইটা মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্যে । কোন আস্তিক নয় নাস্তিক নয় কিংবা নারীবাদী বা মৌলবাদী নয় । একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্যে লড়াই হওয়া উচিত ।


কখনও নাস্তিক হতে চাই নি এবং হতেও চাই না । তাই বলে এটা নয় ধর্মের পদতলে মাথা নোয়াবো । আমি নাস্তিক নই আবার আস্তিকও নই কিংবা এ দুটো কোনটাই হতে চাই না বা হবার চেষ্টাও করি না । আমি মানুষ হতে চাই । ভিতরের পশুত্বকে মেরে ফেলে জাগিয়ে তুলতে চাই সুপ্ত থাকা মানুষটাকে । আমি প্রতি নিয়ত লড়াই করি মানুষ হবার জন্যে । আমার লড়াইটা মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্যে । কোন আস্তিক নয় নাস্তিক নয় কিংবা নারীবাদী বা মৌলবাদী নয় । একজন প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্যে লড়াই হওয়া উচিত ।

মাঝে মাঝে খুব হতাশ হই । হই মর্মাহত । চারপাশে তাকালে কিংবা কান পাতলেই দেখি কিংবা শুনতে পাই নাস্তিক খুন করেছে আস্তিক কিংবা মৌলবাদীদের মতবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে নারীবাদীরা । কিন্তু এখন পর্যন্ত দেখলাম কিংবা শুনলাম না আস্তিকতা নাস্তিকতা কিংবা মৌলবাদ নারীবাদের কথা বাদ দিয়ে কেউ মনুষ্যবাদ নিয়ে আন্দোলন করছে বা করার চেষ্টা করছে । দেখলাম না কোন মৌলবাদী মাওলানা বা নারীবাদী নেত্রী ফুটপাতে নগ্ন দেহে পরে থাকা মানুষের পাশে বসে দুটো কথা বলতে । দেখলাম না কোন আস্তিক বা নাস্তিককে রাস্তার পাশে থাকা অভূক্ত মানুষের এঁটো খাবার থেকে সামান্য খাবার হাসি মুখে নিজের মুখে তুলে নিতে ।

পৃথিবীতে সকলেই আস্তিক বা নাস্তিক কিংবা মৌলবাদী বা নারীবাদী খুব সহজেই হতে পারে । কিন্তু নিজের ভেতরের পশুবৃত্তিকে মেরে নিজেকে একজন প্রকৃত মানুষ রূপে কেউ প্রকাশ করতে পারে না । পারে না নিজের পোলাও কোরমা থেকে সামান্য কিছু ঐ ফুটপাতে থাকা অভূক্তের মুখে তুলে দিতে । পারে না বেডরুমের ম্যাট্রেস বিছানো বিছানায় চটের ভিতর ঘুমানো টোকাইকে এনে শোয়াতে । পৃথিবীতে অনেক বড় বড় আস্তিক বা নাস্তিক কিংবা বড় বড় মৌলবাদী বা নারীবাদী খুঁজে পাওয়া যাবে কিন্তু একটা মনুষ্য সমৃদ্ধ মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না ।

আমার এই লেখাটি পড়ার পরে আপনারা সকলেই অর্থাত্‍ আস্তিক-নাস্তিক কিংবা মৌলবাদী-নারীবাদী তৃক্ষ্ন নজরে তাকাবেন । হয়ত কড়া কথা লিখে ফেসবুক ব্লগে আমাকে ধুয়েও দিবেন । তাতে আমার কিছু যায় আসে না । আমি সত্যবাদী । সদা সত্য কথা বলি এবং বলতে প্রস্তুত থাকি । আমাদের সমাজে যারা জ্ঞান বিতরণ করে বেড়ায় অর্থাত্‍ নিজেদের বাম বা কমিউনিস্ট বলে বেড়ায় । গরিবের বন্ধু বলে বেড়ায় তারাই হচ্ছে সমাজের বড় সাম্রাজ্যবাদী-পুঁজিবাদী । আচ্ছা , ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি কি কখনও চটি পায়ে দিয়ে , কম দামি পাজামা-পাঞ্জাবি পরে , কাঁধে ব্যাগ ঝুঁলিয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে সংসদ ভবনে গিয়েছেন কিংবা কোন সমাবেশে গিয়েছেন ? অথবা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কি কখনও কোন টোকাইয়ের খাবারের প্লেট থেকে কিংবা রুটির প্যাকেট থেকে এক লোকমা ভাত বা এক টুকরো রুটি খেয়েছেন ? আমার দেখা বা জানা মতে , ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি কিংবা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কখনও চটি পায়ে , কম দামি পাজামা-পাঞ্জাবি পরে , কাঁধে ব্যাগ ঝুঁলিয়ে সংসদ ভবনে যান নি কিংবা টোকাইয়ের প্লেট বা রুটির প্যাকেট থেকে এক লোকমা ভাত বা এক টুকরো রুটি খায় নি । তারা অতি জ্ঞান বাক্য শোনান । সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের গুষ্টি উদ্ধার করে তারা এ.সি গাড়িতে চড়ে সংসদ ভবনে যান এবং থালা ভরা তরকারি আর ভাত নিয়ে বসে আয়েশ করে খেয়ে তৃপ্তি মেটান ।

যে যাই হন না কেন ভাল কথা । আস্তিক বা নাস্তিক হন কিংবা মৌলবাদী বা নারীবাদী তাছাড়া সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের গুষ্টি উদ্ধার করা কমিউনিস্ট হন না কেন আপনারা এক এক জন আস্তিক বা নাস্তিক কিংবা মৌলবাদী বা নারীবাদী অথবা সাম্রাজ্যবাদ-পুঁজিবাদের গুষ্টি উদ্ধার করা কমিউনিস্ট-ই , মানুষ নয় ।
মানুষ হতে হলে মানুষের মত চেহারা হওয়ার দরকার নেই বরং মনুষ্য সমৃদ্ধ একটা মানুষিকতাই যথেষ্ট ।

ফেসবুকে কিংবা পত্রিকার পাতায় অনেক নারীবাদীর লেখা দেখি । যেখানে নারীকে তারা এমনভাবে নারী বলে যে নারী হওয়াটা পাপ , মহাপাপ । আর আমাদের মস্ত বড় বড় জ্ঞানওয়ালা নারীরাও নিজেদের এমনভাবে নারী বলে উপস্থাপন করে যে নারী হয়ে তারা একটি পাপ কাঁধে করে বয়ে নিয়ে এসেছে । আমরা নারীকে নারী করে দেই , কেউ নারী হয়ে জন্মায় না । জন্মায় একজন মানুষ হয়ে । সমাজ , রাষ্ট্র , ধর্ম ও পুরুষ একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নারী করে তুলেন । ভিতরে সুপ্ত মানুষ বৃত্তিকে চাপা দিয়ে ধীরে ধীরে একটি জাতি তৈরি করে আর তা হল নারী জাতি । কিন্তু আমরা , এক একজন নারীবাদী হয়ে নারীর অধিকার চাই । কখনই চাই না একজন মানুষ নারীর অধিকার । কেননা আমরা ভুলে যাই নারী নারী নয় বরং মানুষ নারী । এদেরও অধিকার আছে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার । সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচবার । কিন্তু আমরা নারীবাদী হয়ে নারীর অধিকার চাইতে গিয়ে হত্যা করি মানুষ নারীকে । বঞ্ছিত করা মানুষ নারীকে তার অধিকার থে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *