ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে

স্বাধীনতা লাভের পরপর বাংলাদেশে মোট ১১টি ইউনিটবিশিষ্ট ৭টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল। এগুলি কাপ্তাই, শাহজীবাজার, সিদ্ধিরগঞ্জ, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী এবং বগুড়ায় অবস্থিত। পরবর্তীকালে আশুগঞ্জ, সিলেট, ফেঞ্চুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, হরিপুর, রাউজান, বাঘাবাড়ি, ভেড়ামারা, সৈয়দপুর, বরিশাল, রংপুর, ভোলা, চট্টগ্রাম ও শিকলবাহায় সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। তবে নববই দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে সরকার শিল্প-কারখানাগুলিতে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে যাতে লোড শেডিং-এর সময়ও কারখানাগুলিতে বিরতিহীন উৎপাদন চলতে পারে। বর্তমানে বিদ্যুতের সিস্টেম লস কমে গেছে, তাই বিদ্যুত খাতে সহায়তা বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাক। এর আগে সিস্টেম লসের কারণে বাংলাদেশের প্রয়োজন থাকলেও এই খাতে বিনিয়োগে তেমন আগ্রহ দেখায়নি সংস্থাটি। তবে এখন সিস্টেম লস সহনীয় পর্যায়ে আসায় আবারও ফিরে আসছে বিশ্বব্যাংক। এখন বিদ্যুত খাতে সিস্টেম লস সাড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। যা অত্যন্ত সহনীয় এবং ভারতে যে পরিমাণ সিস্টেম লস হয় তারচেয়েও কম। এর চেয়ে নিচে সিস্টেম লস নিতে চাইলে বিদ্যুত বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। সেখানে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে। চতুর্থ ইউনিটের বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে বিশ^ব্যাংক। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে আরও ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত। রি-পাওয়ারিংয়ের ব্যয় নতুন বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম। একই সঙ্গে রি-পাওয়ারিংয়ের সময় বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন হতে থাকে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুত সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক।

১ thought on “ঘোড়াশাল বিদ্যুত কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ছে

  1. ঘোড়াশাল-বিদ্যুৎ-কেন্দ্র সফল
    ঘোড়াশাল-বিদ্যুৎ-কেন্দ্র সফল হোক। উন্নয়নের চরম শিখরে পৌঁছে যাক বাংলাদেশের বিদ্যুতখাত।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *