সত্যিই তিনি সততার পরিচয় দিলেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের পদ থেকে পদত্যাগের পর আতিউর রহমান বলেছেন,তিনি সেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।তার উপর কোন চাপ ছিলনা। আসলে তিনি সত্যিই সততার পরিচয় দিলেন।এমন মানুষ এদেশে থাকা আরো প্রয়োজন। হয়তো তিনি এই ঘটনাটি গোপনীয় রেখেছিল।পরে কিছুটা সমস্যা কাটিয়ে গেলে ধীরে ধীরে প্রকাশ করে।তাকে দোষ দিতে পারেন।তিনি তো দেশের স্বার্থে এমন গোপনীয় রেখেছিলেন।কারণ, হঠাৎ প্রকাশিত হলে চুরির টাকা আরও উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকতো না। তিনি তার ব্যার্থতার দায় স্বীকার করে নিজের সেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন।যা বাংলাদেশের মতো দেশের উচ্চ পদ থেকে সরে দাড়ানোর ঘটনা বিরল।প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বার ব্যার্থতার দায়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কে 10 কোটি ডলার চুরির হয়ে যাওয়ার পর সরকারের ভেতরের বাইরে তীব্র সমালোচনার মধ্যে আতিউর রহমান গভর্ণরের পদ থেকে সরে দাড়ান।অথচ,হাসিনার তার দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়,খুন হয়,তার দেশে ধর্ষণ হয়,রানা প্লাজার মতো ভবন ধ্বসে নিরীহ শ্রমীক মারা যায়।এগুলো বড় ঘটনা নয়?জঙ্গি তান্ডবে দেশ অচল হয়,মন্দির,বিহার পুড়ে যায়।এগুলো রক্ষা করার দায়িত্ব কার? সেই রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমীকরা এখনো তাদের বিচার পাইনি।এগুলো সরকারের ব্যার্থতা নয়?এগুলো একটা মন্রীর ব্যার্থতা নয়? অথচ,সরকার এই দায়ও স্বীকার করেনি।উগ্রমী রয়ে গেছে তাদের মনে।তারা এই দায় নিতে চাইনি।সাধারণ জনগণ,সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন এগুলো সরকারের দায় নয়? এদেশের সরকার পরিচালনাকারীগণ লজ্জাহীন ।কতো ব্যর্থ রয়েছে তাদের কাছে।অথচ,নির্লজ্জভাবে এখনো বসে আছে।আমরা জানি,এই টাকা চুরি হওয়ায় কারওর ইচ্ছায় হয়নি। এটা ছিল একটা সাইবার আক্রমণ।অনেকটা সন্ত্রাসী হামলার মতো ।হয়তো কোন দিক থেকে আক্রমণ করা হয়েছে তা বুঝা যায়নি।অর্থমন্রী ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন নাকি আতিউর রহমানের উপর।অথচ,সেই সাধু মুহিতের তার কত ব্যার্থতা রয়েছে তা নিজে দেখেনি। হলমার্কের কেলেঙ্কারি ভুলে যায়নি। মুহিতের শিক্ষা নেয়া উচিত আতিউর রহমান থেকে।নিজেরটা না দেখে শুধু অপরেরটা দেখলে হবে না।আরও কত মন্রীদের এমন ব্যার্থতা রয়েছে।অথচ,তারা সেই ব্যার্থতার দায় স্বীকার করেনি ।নিজেকে পদত্যাগ করেনি।জেদীভাব দেখিয়ে নিজেদের ক্ষমতা প্রভাবে যোগ্যহীনভাবে বসে আছেন। সরকারের শিক্ষা নেয়া উচিত। সব মন্রীদের শিক্ষা নেয়া উচিত। এমনকি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্রীকেও।দেশের মানুষের কল্যাণে কিভাবে নিজের ব্যার্থতাকে স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হয়।এ সময়ে সরকারের উচিত হবে কারও উপর চাপাচাপি না করে আগে টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করা।যেহেতু,এটা সাইবার আক্রমণ ছিল তাই করার কিছু ছিল না।আপনাদের জেদীভাব যেন আগামীতে না থাকে।দায়িত্বকে যেন কর্তব্য মনে করেন,কোন ক্ষমতা হিসেবে নয়।ব্যার্থ হলে সরে দাড়ান।থাকার প্রয়োজন নেই। এই ব্যার্থতা কোন একতরফাভাবে আতিউর রহমানের নয়।এই ব্যার্থতা সরকারের,এই ব্যার্থতা অর্থমন্রীর ,এই ব্যার্থতা প্রধানমন্ত্রীর।তাহলে ওরা পদত্যাগ করবেন না? দীর্ঘ সাত বছর গভর্ণরের দায়িত্ব পালনের পর তার এই পদত্যাগ অত্যান্ত বিরল বলে আতিউর রহমান বলেছেন”সবাই এই কাজ করার সাহস পায় না,আর আমি সেই সাহসী কাজটি করেছি।

২ thoughts on “সত্যিই তিনি সততার পরিচয় দিলেন

  1. এমন একটা ঘটনা একমাস ধরে গোপন
    এমন একটা ঘটনা একমাস ধরে গোপন রেখে গভর্নর সাহেব বিরাট সততার পরিচয় দিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে।

  2. সরকারি কাজে কৌশলী হতে হয়।
    সরকারি কাজে কৌশলী হতে হয়। তাহলে ভুল কম হয়। আতিউর যোগ্য লোক। ইতিহাস তাকে স্থান দিবে। কিন্তু টাকা-লুটের সঙ্গে জড়িত সকল পাপিষ্ঠ ধরা পড়বে তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *